কোন দেশ কি ইচ্ছে করলেই নোট বা মুদ্রা প্রস্তুত করতে পারে?

jiggasha

 

কোন দেশ কি ইচ্ছে করলেই নোট বা মুদ্রা প্রস্তুত করতে পারে? এরজন্য কী নিয়ম প্রযোজ্য?


 

ইচ্ছে করলেই বা প্রয়োজন হলেই কোন দেশ বা দেশের সরকার মুদ্রা/নোটের প্রচলন করতে পারে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তা তহবিল সংরক্ষণের পর একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা প্রকাশ করে। এটি একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ। অথবা বলা যায়, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক অধিকার।

 

যেসব নিয়ম প্রযোজ্য:

নোট/মুদ্রার বিপরীতে আইন অনুযায়ি সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু করে। দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নোট ইস্যু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ি নোট/মুদ্রার মূ্ল্যের শতকরা ত্রিশ ভাগ স্বর্ণ, রৌপ্য বা বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে (রিজার্ভ) রাখতে হয়।

 

বাংলাদেশ যা করে:

নোটের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরাপত্তা হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রাখে, কারণ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্বর্ণ-রৌপ্য বাংলাদেশের নেই।

 


সূত্র: ডায়েরির পাতা থেকে, ১৮ জানুয়ারি ২০০১।

কঠোর কর্মজীবন কি আমাদের হৃদয়কে শক্ত করে তুলছে? কোমলতার ১২টি দীক্ষা।

stay_soft

বয়স বাড়ছে আর অপরাধবোধগুলো তীব্রতর হচ্ছে। প্রকল্প লক্ষ্যমাত্রা বিক্রয়লক্ষ্য প্রতিবেদনের ডেডলাইন লন্চিং প্রোগ্রাম ইত্যাদি সময় ও লক্ষ্যসূচক বিষয়গুলো আমাদের কর্মজীবনে গতি আনে, তেমনই হৃদয়ের কোমলতাকে হরণ করে। পরিস্থিতি সমাজ প্রেক্ষিত পদবী ইত্যাদির ছাঁচে পড়ে আমাদের আচরণের স্বাভাবিকতা লোপ পাচ্ছে। পেশাগত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কায় হৃদয়ের উষ্ণতা আচরণে দেখাতে পারি না।

পেশাদারিত্ব আর দক্ষতার পেছনে ছুটতে ছুটতে মানবিক বিষয়গুলো পেছনে পড়ে যাচ্ছে। ফলে যোগাযোগ দক্ষতা, সফট স্কিল ইত্যাদি নামে প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে।

পেশাদার হবার পর্বে মানবিক হবার প্রয়োজন। নম্রতা বা কোমলতা একটি মানবিক গুণ, যা লোপ পেলে ফিরে পাওয়া কঠিন।

 

কোমলতা নম্রতা বিনয় অথবা ভদ্রতা প্রাকৃতিকভাবেই থাকার কথা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের যাতাকলে পড়ে এসব বিষয়ের গুরুত্ব কমে যায়। তখন ‘সফট স্কিল’ বলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না।

কোমলতা সম্পর্কে ১২বিষয় আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। পাঠকের জন্য সেগুলো তুলে ধরছি:

  1. নিষ্টুর পৃথিবীতে একটি কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া কোন দুর্বলতা নয়, সাহসিকতা। (ক্যাথরিন হেনসন)
  2. কোমল হৃদয়ের ব্যক্তিরা বোকা নন, মানুষ তাদের প্রতি কী করেছে তারা সেটা বুঝেন। কিন্তু তবু তারা বারবার ক্ষমা করে যান, কারণ তাদের আছে সুন্দর একটি হৃদয়।
  3. কোন কারণ ছাড়াই মানুষের প্রতি কোমল হোন। (এনথনি গুকিয়ার্ডি)
  4. কোন মানুষ অথবা পরিস্থিতির কারণে হতাশ হবেন না, আপনার প্রতিক্রিয়া ছাড়া উভয়ই শক্তিহীন। (এনথনি গুকিয়ার্ডি)
  5. আমি একজন সাধারণ মানুষ, যে সহস্র অনুভূতিকে আনন্দপূর্ণ হাসির পেছনে লুকিয়ে রাখে। (লুসিয়ানো পাবারতি)
  6. আপনার কেবলমাত্র একদিনের উপযোগী আবেগিক শক্তি রয়েছে। গুরুত্ব নেই এমন বিষয়ে উত্তেজিত হবেন না। (জোয়েল অস্টিন)
  7. কণ্ঠস্বর উচ্চে তুলবেন না, যুক্তিকে উন্নত করুন।
  8. কোন বিষয়কে নিয়ে চাপাচাপি করবেন না, সময় হলে সেটি ঘটবেই।
  9. আপনি কী বলেছেন মানুষ তা ভুলে যাবে, আপনি কী করেছেন তাও ভুলে যাবে, কিন্তু আপনি তাদের অনুভূতিকে কীভাবে স্পর্শ করেছেন, সেটি তারা কখনও ভুলবে না। (মায়া এনজেলু)
  10. মেনে নিন, তারপর শুরু করুন। বর্তমান সময়ে যা আছে, তা এমনভাবে মেনে নিন যেন আপনিই বেছে নিয়েছেন। সবসময় সাথে থেকে কাজ করুন, বিপক্ষে গিয়ে নয়। (একার্ট টোল)
  11. একটি সুগঠিত জীবন গেঁথে তুলতে সময় লাগে। (অ্যাডাম ব্রাইট)
  12. বিনয় ধরে রাখুন, আপনার ভুলও হয়ে থাকতে পারে।

 

‘আমার জীবনে আরেকটু বিনয় থাকলে আমি স্বর্গদূত হতে পারতাম’ – একজন খ্যাতিমান লেখকের উক্তি এটি। বিনয়, নম্রতা ও কোমলতা আমাদেরকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তাতে আমরা আরও বেশি মানুষের সাথে মিশতে ও কাজ করতে পারি। কোমলতা এভাবে আমাদের সামাজিক দক্ষতাকে বাড়িয়ে তোলে।

আপনার ক্লাসে কেন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি? শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনার কয়েকটি প্র্যাকটিকেল টিপস।

[ছবটি s3.amazonaws.com এর সৌজন্যে]

[ছবিটি s3.amazonaws.com এর সৌজন্যে]

ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগের বহুমাত্রিকতার ফলশ্রুতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শিক্ষাদান, শিক্ষকতা, শ্রেণীকক্ষ, পাঠ্যপুস্তকগুলো কি ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? আমাদের শ্রেণীকক্ষগুলো কি প্রজন্মের চাহিদাকে ধারণ করতে পেরেছে? অথবা আমাদের শিক্ষকেরা? শিক্ষার্থীরা কেন বিশেষ কোন শিক্ষকের ভক্ত, অথবা কিছু বিশেষ ক্লাসে কেন তাদের উপস্থিতি বেশি, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? কিছু শিক্ষার্থী কেন একটি ক্লাসে আন্তরিকভাবেই  অংশ নেয়, তা নিয়ে কখনও কি আলাদাভাবে চিন্তা করেছেন? নিজের পাঠদানের মান, কৌশল অথবা এর কার্যকারিতা নিয়ে কখনও ভেবেছেন কি? কঠিন বিষয়ের পাঠদানও উপভোগ্য হয় এবং শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে উপকৃত হয়। সবই শিক্ষকের সৃজনশীল পাঠ ব্যবস্থাপনার কারণে। শিক্ষককে বলা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ পাঠ্য উপকরণ।

অন্যদিকে শিক্ষককে আমরা একটি রাজ্যের সম্রাট বলতে পারি। সেই রাজ্যটি হলো তার শ্রেণীকক্ষ, যেখানে সবকিছু তার ইচ্ছায় হয়। তিনিই সর্বময় কর্তা – সবা্ই তার অনুসারী অথবা অনুগামী। একটি নির্দিষ্ট সময়ে তিনি কীভাবে শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনা করে সর্বাধিক সুফল নিশ্চিত করবেন, এটি একান্তই শিক্ষকের দায়।

ক্লাসরুমকে শিক্ষকের আঁতুরঘরও বলা যায়, কারণ একমাত্র এখানেই তিনি নিজেকে ষোলকলায় প্রকাশ করতে পারেন।  পাঠদান অথবা বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতার এই শিল্পকে তিনি এখানে চর্চা করতে পারেন। এখানে আছে নির্লোভ নির্মোহ শিক্ষার্থীরা, যারা তার পাঠদান শিল্পের বিচারক, মূল্যায়ক এবং ভোক্তা তো বটেই।

 

ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট/ শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কয়েকটি প্র্যাকটিকেল টিপস:

 

>বছর/ সিজন/ টার্মের শুরুটা আনুষ্ঠানিকভাবে করুন। উদ্বোধনী ক্লাস নিন। তাতে জানিয়ে দিন কী করা যাবে, কী করা যাবে না। কোন্ কোন্ ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য, কোন্ সময়ে নয়। আপনার প্রত্যাশাগুলো জানিয়ে দিন। গত টার্মে কোন ব্যতিক্রম/নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিন এবার কেন সেটি আর করা যাচ্ছে না। জানিয়ে দিন পরীক্ষা/ ক্লাস টেস্ট/মূল্যায়ন কেমন হবে।

>শিক্ষার্থীর মনে আশা জাগিয়ে তুলুন। কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মনে অনেক হতাশা আর ভয় থাকে। যদি তারা গণিতের শিক্ষার্থী হয়, বলুন গণিতের দফারফা হবে  এবার। আর কোন ভয় নেই, কারণ আপনি আছেন তাদের সঙ্গে।

>নির্ধারিত সময় শেষ হবার পূর্বে প্রস্তুত/সতর্ক করুন, জানিয়ে দিন। তবে একটু নরম করে। “বাচ্চারা তোমাদের আর মাত্র ৫মিনিট সময় আছে! গো ফাস্ট!” সবসময় এরকম কঠোর না হলে ভালো। একটু কৌশল করে বলতে পারেন, “বাচ্চারা, তোমরা যদি এখনও শেষ না করতে পারো, ঠিক আছে। চালিয়ে যাও। আর ৫মিনিট পর দিলেই হবে।”

>বিশেষ সময়গুলো বিশেষভাবে বলুন এবং বিশেষভাবে শুরু করুন। সাইলেন্ট মোমেন্ট/ ডু নাউ/ নিজে করো সেশন ইত্যাদি। এসবের উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে মনোযোগী রাখা। তারা সাধারণত বিশেষ কোন কারণ ছাড়া কিছু করতে ভালোবাসে না।

>শিক্ষার্থীদের বয়সানুপাতিক আচরণগুলো বুঝার চেষ্টা করুন। শিক্ষার্থীরা মাঝেমাঝে খুশগল্পে মেতে ওঠতে পারে/ নিজেদের মধ্যে হুসহাস আলোচনায় ডুবে যেতেই পারে। আপনি যা করবেন, তা হলো প্রথমতো মেনে নেওয়া। তারপর একটি পদ্ধতি বের করুন, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আবার ক্লাসে ফিরে আসতে পারে: হাততালি/ ওয়ান-টু-থ্রি ইত্যাদি।

>নেতিবাচক শিক্ষার্থীকে সাবধানে হ্যান্ডল করুন! সব শিক্ষার্থী সব শিক্ষককে পছন্দ নাও করতে পারে। এরকম অপছন্দের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোন দায় নাও থাকতে পারে।  এমনও হতে পারে, কোন শিক্ষার্থী এমনিতেই উদাসীন। কিন্তু শিক্ষকের চাই একসঙ্গে সবার মনযোগ। আপনার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে বলুন, “বাচ্চারা, দেখো! আমাকে বা আমার কথায় তোমরা সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে এমন কথা নেই। আমি এমনটা আশাও করি না। কিন্তু শ্রেণীকক্ষে এর ব্যতিক্রম করা যায় না। সেটি তোমাদেরই কল্যাণে। অতএব এখন থেকে আমাকে পছন্দ না হলেও, অন্তত পছন্দ করার/ মনযোগ দেবার ভাণ করো। দেখো চেষ্টা করে।”

>শিক্ষার্থীদের ক্লাসওয়ার্ক টাইমে শ্রেণীকক্ষে হাঁটুন। দেখুন তাদেরকে। বুঝুন তাদের দক্ষতার নমুনা। দেখুন তাদের ব্যক্তিত্ব। দেখান আপনারও ব্যক্তিত্ব। দেখিয়ে দিন আপনিই শ্রেণীকক্ষের শাসক। কিন্তু ঘটঘট করে শব্দ করে হাঁটবেন না। তাদের ডিসটার্ব হয়!

>প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আপনার মনযোগটুকু (teacher’s attention) দিন। প্রত্যেককে। কেউ যেন বাদ না যায়। এটিই শিক্ষকের প্রধান কাজ, যা বইয়ে নেই কিন্তু আপনি দিতে পারেন। দুর্বলকে শক্তি দিন, লাজুককে সুযোগ দিন। তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলুন।

>স্পষ্ট ভাষায় এবং উচ্চস্বরে কথা বলুন। স্পষ্টস্বরে প্রতিটি শব্দ নিক্ষেপ করুন। এটি পবিত্র শ্রেণীকক্ষ, জ্ঞানগৃহ। অধিকাংশ বিষয়ে আপনিই প্রথম তাদেরকে ধারণা দিচ্ছেন। এখানে মানুষ তৈরি হয়। শিক্ষকের বক্তব্য পবিত্রগ্রন্থ থেকে ‘মাত্র সামান্য একটু’ পিছিয়ে আছে। (অবশ্য কেউ কেউ সমানই বলে থাকেন।) তাই কণ্ঠে রাখুন পবিত্র আত্মবিশ্বাস। কথা জোরে বলুন। তবে রুক্ষস্বরে নয়, তাদের কানের ক্ষতি হয়!

>শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অগ্রগতি দেখান। গত পরীক্ষার চেয়ে এবারের পরীক্ষায় তারা কীভাবে ভালো করেছে, সেটি নিজেও দেখুন, তাদেরকেও দেখতে দিন। তাদেরকে বুঝিয়ে দিন যে, আপনিই পারেন তাদেরকে দুর্বলতা থেকে ওঠিয়ে নিয়ে আসতে। তাতে তাদের বিশ্বাস বেড়ে যাবে, নিজেদের প্রতি এবং আপনার প্রতিও।

>শ্রদ্ধা দেখান শিক্ষার্থীদের প্রতি। গুরুজনদের যেভাবে দেখায় সেভাবে নয়। তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তাদের প্রচেষ্টা, তাদের আত্মসম্মানকে শ্রদ্ধা করুন। সবসময়। নির্ভুল না হলেও তাদেরকে উত্তর দেবার চেষ্টাকে স্বীকৃতি দিন।

>স্বভাব একটু পাগলাটে হলে তাতে অপরাধবোধ নেবেন না। শিক্ষার্থীরা কেতাদুরস্ত শিক্ষক চায় হয়তো, কিন্তু ভালোবাসে না। ভালোবাসে তাদেরকেই যারা একটু তাদের মতো দুরন্ত, অবোঝ, পাগলাটে এবং যাদের কিছু-না-কিছু ঘাটতি আছে। উইয়ার্ড এর বাংলা কি ‘কিম্ভুতকিমাকার’? সেটি হলেও মন্দ নয়।

 

mmmainul_teachingtips

 

 


পুনশ্চ: আপনারা যারা শিক্ষকতা করছেন, তারা হয়তো সবাই ভেবেচিন্তে এপথে আসেন নি। ব্যাপার না। সব পেশাতেই এরকম উল্টোপথে-চলা মানুষ আছে। এপেশায় একটু বেশি, এই যা! কেউ কেউ আবার দারুণ মানিয়ে নিতে পারেন। তারা জিনিয়াস! অনেকেই পারেন না। ভালো শিক্ষক হতে চাইলেও চলমান দৃষ্টান্তগুলো প্রেরণাদায়ক ততটা প্রেরণাদায়ক নয় বলে আবার পিছিয়ে আসেন। ফলে আরলি ড্রপআউট, অর্থাৎ চাকরি বদল অথবা প্রতিষ্ঠান বদল। অথবা দেখা গেলো যে, প্রতিষ্ঠানই আপনাকে বদল করে দিলো!  চাকরি গ্রহণের শুরুর কয়েক বছর এরকম চলে। সবাই তো আঁকাবাঁকা পথকে সোজা করতে পারেন না। পরিস্থিতিও ভালো থাকে না। যেমন ধরুন, শিক্ষার্থীদের অবাধ্যতা। পাঠে অমনোযোগ। অনুপস্থিতি। দেরিতে আসা। বারবার বলে দেবার পরও ভুলে যাওয়া, বা বুঝতে না পারা। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা। এসব পরিস্থিতিতে মেজাজ খিটখিটে থাকে, যা বাসায় ফিরলেও ঠাণ্ডা হয় না। তারপরও শিক্ষকতাকে যারা মনেপ্রাণে মেনে নিয়েছেন, শিক্ষাদানে তারা অপার আনন্দ লাভ করেন। তারা সৃজনশীল। তারা সৃজনকারীও।

শিক্ষাদানের সময়টি এখনও আমি অনুভব করি। এই ভিডিওটি আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে

 

জন আব্রাহামকে কেন আমাদের অনুসরণ করা উচিত?

johnabraham_fitness

 

জন আব্রাহামকে কেন আমাদের অনুসরণ করা উচিত?


 

ভারতীয় সিনেমা স্টার জন অব্রাহামের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ আগে আমার ছিলো না। চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবে এখনও নেই। জন ছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্রে আরও অনেকেই আছেন যাদেরকে চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবে আমার পছন্দ। জন অনেকেরই হয়তো প্রিয় অভিনেতা নন। কিন্তু প্রেরণাদায়ক ফিটনেস কোচ এবং সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে জন অব্রাহাম অন্যদের চেয়ে আলাদা।

 

 

কথাগুলো একটু পড়ুন:

ফিট থাকুন, ফিট অবস্থায় মৃত্যুবরণ করুন। পরিশ্রম অস্থায়ি, গৌরব চিরস্থায়ি। ব্যায়াম আমার নেশা!

প্রতি রাতে আমি পার্টি করি না, অপচয় করি না, আমি বোতলের কর্ক খুলি না। আমি ব্যায়াম করি: দেহের ভারসাম্য ঠিক রেখে আমি নিজেকে সামনে ঠেলি, তারপর আরও কঠিনভাবে ধাক্কা দেই এই দেহকে, মিউজিক ছেড়ে দেই, ঘাম ঝড়াই, দেহকে কষ্ট দেই; ব্যথা আমার পছন্দ কিন্তু শুকনো দেহ অপছন্দ।

আমি বিরক্তির কারণ হই না, আমার সমালোচনা করবেন না: আপনারা ক্লাবে যেতে পারেন, জীবনকে চকচকে করে তুলতে পারেন; জিমের অন্ধকারই আমার ভালো লাগে, সারাদিন, প্রতিদিন।

 শুধু সুস্থরাই (ফিট) বেশিদিন বেঁচে থাকবে।

 

যখন জানলাম কথাগুলো ভারতীয় চলচ্চিত্রাভিনেতা জন অব্রাহামের, তখনই অবহেলায় আমার মন ভরে গেলো। ‘ও আচ্ছা’ ভুতের মুখে রাম নাম!  আমার দৃষ্টি চলে গেলো তার অভিনীত সিনেমাগুলোতে। বিভিন্ন মুভিতে তার সৌষ্ঠব দেহ এবং স্থিরচিত্রে তার উজ্জ্বল সুস্থতার চিত্র আমার কল্পনায় ভেসে ওঠলো।

সুস্থ দেহ কে না প্রত্যাশা করে? একটি নিরোগ দেহ কে না চায়? সুস্থতার ওপরে আর কী সুখের বিষয় থাকতে পারে?

 

 

আরও কিছু কথা:

“আমি অনেকটাই অজ্ঞেয়বাদী, দেহই আমার ধর্ম। দেহের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে কিছুই নেই, তাই আমি ব্যায়াম করি। আমার উদ্দেশ্যে হলো সিক্স-প্যাক নিয়ে বাঁচা এবং সিক্স-প্যাক নিয়েই মৃত্যুবরণ করা।”

“আমার ফিটনেস মন্ত্রটি তিনমুখী: ভালো খাবার, ভালো ঘুম এবং পরিমিত ব্যায়াম।”

ফিট দেহ আর সুস্থ মনই তার দিবারাতের উপাসনা- ফিটনেসই জন অব্রাহামের ধর্ম। ব্যাপারটি পুরোপুরি অনুকরণীয় না হলেও তার কিছু বিষয়কে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই!

 

ভালো কথা, আমি (এই পোস্টের লেখক) কোন ফিটনেস এক্সপার্ট  নই! তবে ‘আনফিটনেস অাবাটার’ বলতে পারেন! তবে একটি সুস্থ দেহ খুবই চাই।

 

 

যারা আরও জানতে যান:

ফিটনেস টিপস এবং জন অব্রাহামের আত্মসাক্ষ্য।

জন অব্রাহামের ফিটনেস/ ডায়েট চার্ট

‘আমি একজন মাছ-খাওয়া সব্জিভোজী’!

 

সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ ও গুজবের মাধ্যম। ছটি গ্র্যাবহাউজ ডট কম থেকে নেওয়া।

 

 


The ideology that John Abraham tries to promote:

  1. Live fit… die fit
  2. Pain is temporary… pride is forever
  3. WORKING OUT IS MY DRUG
  4. I don’t party every night, I don’t get wasted, I don’t pop bottles 
  5. I WORK OUT… I push my body to its limit, then I push harder, 
  6. I blast my music, I sweat, I ache, I love pain and I hate skinny.
  7. I don’t bother you, DON’T JUDGET ME, you can have the clubs and and the flashy life
  8. I’ll take the darkness of the gym, all day, everyday… 
  9. Only the fit survive 

 

ম্যানেজার হিসেবে আপনি কতটুকু দক্ষ?

banner9

প্রজেক্ট ম্যানেজার থেকে ড্রিম ম্যানেজার, পর্ব ৯।  ব্যবস্থাপনা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নয় যে, পাশ করার পর আর উন্নয়নের প্রয়োজন নেই।  আইনজীবী চিকিৎসক ইত্যাদি পেশার মতো এখানেও নিরন্তর অধ্যাবসায় প্রয়োজন। পেশাদারিত্ব একটি ব্যক্তিগত দায়। প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি সম্পর্ককে পর্যালোচনা করতে হয়। এমন একটি পর্যালোচনার জন্য আজকের পর্বটি।

 

নিচের কুইজটি মাত্র দশ মিনিটে ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি চমৎকার মানসিক অবস্থান তৈরি করে দেবে। ম্যানেজারের দক্ষতা সম্পর্কে এই উচ্চতর মূল্যায়নটি একটি ইংরেজি ম্যাগাজিন থেকে পাওয়া। বিষয়গুলো এতোই চিন্তা-জাগানিয়া যে, সহকর্মীদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না।

১. ভালো ব্যবস্থাপক… ক) সিদ্ধান্ত নিতে পারে; খ) সহকর্মীদের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানে সময় দেয়; গ) নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আলোচনা করে।

২. ভালো ব্যবস্থাপক দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে… ক) কর্মীদের একক কাজের মূল্যায়নে; খ) উর্ধতন কর্মকর্তার প্রত্যাশা পূরণে; গ) সহকর্মীদেরকে প্রশিক্ষণদানে।

৩. একজন ব্যবস্থাপকের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো… ক) প্রত্যাশারও বেশি কাজ করা; খ) বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন; গ) সহকর্মীর মাধ্যমে কাজের বাস্তবায়ন।

৪. একজন ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে যা গ্রহণযোগ্য নয়, তা হলো… ক) সহকর্মীকে সহানুভূতি দেখানো; খ) মেজাজ বিগড়ে যাওয়া; গ) কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত প্রশংসাপত্র তৈরি।

৫. কর্মীদের দায়বদ্ধতা মুহূর্তেই কমে যায় যখন ব্যবস্থাপকেরা… ক) একই মেজাজে থাকেন না; খ) নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করেন; গ) অফিসের দরজা বন্ধ রাখেন।

৬. নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রথমেই যা করতে হয়, তা হলো… ক) আপনার প্রকল্প থেকে প্রেরণযোগ্য প্রতিটি প্রতিবেদন মনযোগ দিয়ে দেখা; খ) সহকর্মীকে কাজের নির্দেশ (ডেলিগেট) দিতে শেখা; গ) সহকর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা।

৭. আপনার প্রকল্পটি যখন কর্তৃপক্ষের রোষাণলে পড়ে, তখন… ক) ব্যবস্থাপক সকল অভিযোগের ধারক হবেন; খ) সমস্যাটি বের করে সমাধান খুঁজবেন; গ) শান্ত থাকবেন।

৮. ব্যবস্থাপককে অবশ্যই বুঝতে হবে যে... ক) কর্মীরা প্রশংসা এবং স্বীকৃতি পেলে বেশি কাজ করে; খ) কাজ না থাকলে কর্মীদের আগ্রহ কমে যায়; গ) অর্থনৈতিক সুবিধা থাকলে প্রত্যাশার বেশি কাজ করে।

৯. যখন কোন কিছু শেখাতে হয়… ক) অফিসের বাইরে আয়োজন করুন; খ) কর্মীদের চেষ্টা ও শেখার আগ্রহকে পুরস্কৃত করুন; গ) একাধিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিন।

১০. সহকর্মীরা যখন ভিন্ন একটি উপায়ে কাজটি করতে পারে, তখন… ক) সেটি গ্রহণ করা উচিত, কারণ সহকর্মীদের থেকেও শেখার সুযোগ হয়; খ) এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, কারণ তারা ভুল করতে পারে; গ) পরিস্থিতি অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

skill_test_dreammanager
নম্বর মূল্যায়ন: প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১০ বিবেচনা করুন
৮০-১০০: আপনি একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক।
৬০-৭০: যেসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করুন।
৬০ এর নিচে: বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন, হয়তো ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আপনার উন্নয়ন জরুরি!

ব্যবস্থাপনা একটি সহজ কাজ একথা কেউ কখনও বলে নি। কাজের উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে কর্মীর চাহিদা নিয়ে আরও ভাবতে হবে। প্রত্যেক ব্যবস্থাপক তার অধীনস্থ কর্মীর অভিভাবক। তাদেরকে গেঁথে তোলার মধ্যেই রয়েছে তার প্রকল্পের উন্নয়নের সম্ভাবনা।

 

 


আপনার ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা কতটুকু?
[ উত্তর ও পর্যালোচনা ]

১/ক ] সিদ্ধান্ত নিতে হলে সাহসের প্রয়োজন। সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য হয়তো আপনার নেই। তাই ভুল হতেই পারে। ভীতু বা দায়িত্ব-এড়িয়ে-চলা নেতাকে কোন কর্মীই পছন্দ বা শ্রদ্ধা করে না।

২/গ ] কর্মীর উন্নয়ন করা ব্যবস্থাপকের প্রধান দায়িত্ব। বাস্তবে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের সময় পাওয়া কঠিন। তবু কৌশলে সময় বের করে নিতে হবে, কারণ এটি কর্মীর এমন এক চাহিদা যা পূরণ হলে প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়।

৩/গ ] কর্তৃপক্ষ চায়, ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে প্রকল্প/দলটি দক্ষতা এবং গতিশীলতার সাথে কাজ করুক। কর্মীকে কাজে সম্পৃক্ত করা মানে হলো দলের সবাই কর্মতৎপর হওয়া। ব্যবস্থাপক যত নিজের কাজে ব্যস্ত, তদারকি ততই দুর্বল এবং দলের কার্যকারীতা ততই কম।

৪/খ ] হতাশ হওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং মানবিক। এমন পরিস্থিতির জন্যই ব্যবস্থাপক, কিন্তু মেজাজ বিগড়ে যাওয়া মানসিক অপরিপক্কতার লক্ষণ। আবেগ দমনে রাখতে পারা একটি বড় গুণ এবং কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিচয়।

৫/ক ] ব্যবস্থাপক যখন একদিন থাকেন খোশমেজাজে, অন্যদিন চরমভাবে ক্ষিপ্ত – এটি কর্মীর মনেও খারাপ ধারণার সৃষ্টি করে। ব্যবস্থাপকের সংযত এবং অভিন্ন আচরণ কর্মীর মনে প্রেরণা যোগায়।

৬/খ ] সুদক্ষ ব্যবস্থাপক নিজেই যখন কাজটি করেন, সেটি হয় সঠিক এবং দ্রুত। সুদক্ষ ব্যবস্থাপকেরা যখন অভিজ্ঞতার অভাবে থাকেন, তখন তারা কর্মীকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করতে পারেন না। নতুন ব্যবস্থাপকের প্রথম কাজ হলো, কর্মীকে কাজের নির্দেশনা দিতে শেখা এবং একই সাথে তাদেরকে শেখানো। এতে তার জন্য ব্যবস্থাপনার কাজটি সহজ হয়।

৭/ক ] পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেলে কাঁধ শক্ত করে দলের দায়িত্ব নিন। সমস্ত তপ্ত বাক্য আপনিই গ্রহণ করুন, এটিই ব্যবস্থাপকের দায়। অধিনস্ত কর্মীকে চাপমুক্ত রাখুন, যেন তারা স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে। ব্যবস্থাপক যখন দায় এড়িয়ে কর্মীর ওপর তুলে দেয়, কর্মীরা তার প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য সবই হারায়।

৮/ক ] প্রশংসা পেতে এবং নিজেদেরকে ‘আলাদা’ ভাবতে সকল কর্মীই পছন্দ করে। কর্মীর কর্মদক্ষতার সর্বোচ্চ সুফল পেতে এরকম পরিস্থিতির খুবই প্রয়োজন। কর্মমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখা ব্যবস্থাপকের প্রধান কাজ।

৯/গ ] নতুন ধারণা রপ্ত করানোর জন্য প্রশিক্ষণার্থীর বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গুলোর ব্যবহার করুন। আপনার বিষয়টিতে তাদেরকে শুনতে দিন, বুঝতে দিন, দেখতে দিন করতেও দিন। সবাই একভাবে শেখে না।

১০/ক ] নতুন কিছু শেখার জন্য মানুষের কোন নির্ধারিত বয়স-সীমা নেই। সহকর্মীর বিশেষ গুণ থেকে শিখলে ব্যবস্থাপকের মান ক্ষুণ্ন হয় না, বরং বাড়ে। একই সাথে কর্মীরও সংশ্লিষ্ট ভালো দিকটি থেকে প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়।

 

লেখাটি প্রজেক্ট ম্যানেজারের পেশাদারিত্বের উন্নয়নে শুধু একটি অধ্যয়ন/অনুসন্ধানের জন্য। কোন উত্তরই অকাট্য/অখণ্ডনীয় হিসেবে বিবেচনার করার জন্য নয়।

 


প্রজেক্ট ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ম্যানেজার/ পূর্বের পর্বগুলো:

▶ পর্ব ৮: পেশাদারিত্বের ৭টি বিষয়

▶ পর্ব ৭: এ দুই রকমের ম্যানেজার থেকে সাবধান থাকুন

▶ পর্ব ৬: ১৩ উপায়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে রাখুন হাতের মুঠোয়!

▶ পর্ব ৫:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনা: পেশাদারিত্ব কার দায়?

▶ পর্ব ৪:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ৫টি প্রক্রিয়া: পেশাদারিত্বের শুরু

▶ পর্ব ৩:  ৯টি তত্ত্বে প্রকল্পের সংজ্ঞা এবং সহজ কিছু দৃষ্টান্ত

▶ পর্ব ২:  যে ৫টি কারণে দৈনন্দিন জীবনে প্রকল্প আমাদেরকে উপকৃত করে

▶ পর্ব ১:  প্রকল্প ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ব্যবস্থাপক: কেন এবং কীভাবে

প্রজেক্ট ম্যানেজার: পেশাদারিত্বের ৭টি বিষয়

professionalism-mmmainul

প্রজেক্ট ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ব্যবস্থাপক, পর্ব ৮। ব্যাকগ্রাউন্ড যা-ই হোক, প্রজেক্ট ম্যানেজারকে পেশাদারিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করতে হয়। প্রজেক্ট ম্যানেজারের পেশাদারিত্ব কীভাবে গড়ে ওঠে এবিষয়ে পঞ্চম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজার পদ একটি নেতৃত্ব প্রয়োগের স্থান। এখানে ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হয়। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করা যায় না। কর্মীদের সামনে নিজেকে আদর্শ হিসেবে দেখাতে হয়। তাকে হতে হয় পেশাদার। এপর্বে ‘পেশাদারিত্ব’ বিষয়টিতে আলাদাভাবে আলোকপাত করা হবে।

 

পেশাদারিত্ব মানে হলো:

১) এমন কিছু করতে পারা, যা শুধু বেতনে/অর্থে পরিশোধ করা যায় না

পেশাদাররা অর্থের বিনিময়ে মানসম্পন্ন পণ্য বা সেবা দান করেন। কিন্তু এর মানে অর্থ উপার্জনই তাদের উদ্দেশ্য নয়, অর্থের সর্বোচ্চ মূল্য প্রদান করা। পেশাদারিত্ব মানে শুধু ভালো একটি চাকরি/ব্যবসায় করা নয়। পেশাদারিত্ব মানে এমন কিছু যা শুধু বেতনে বা অর্থে পরিশোধ করা যায় না। পেশাদারিত্ব মানে ভালো/মজার কাজ করা নয়, পেশাদারিত্ব হলো কাজ থেকে ভালো/মজাকে খুঁজে পাওয়া।

 

২) আত্ম অনুসন্ধান ও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি করার সামর্থ্য

পেশাদরিত্ব যেন ‘অন্ধের হাতি দেখার মতো’ অস্পষ্ট একটি বিষয়। প্রফেশনালিজম/পেশাদারিত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাগুলো খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা আমরা রাখি না, অথচ নিজ নিজ সুবিধামতো একে ব্যবহার করি। ফলে প্রকৃত পেশাদারিত্ব অনেকের কাছে অধরা থেকে যায়। এবিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে, নিজেদের পূর্বধারণাকে ভালোমতো যাচাই করে নেওয়া দরকার। দরকার আত্ম অনুসন্ধান এবং নিজের পেশায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিতে পারার সামর্থ্য।

 

৩) নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা ও একনিষ্ঠতা

পরিশ্রম করলে এমনিতেই সবাই তা দেখতে পায়। তখন স্বীকৃতি আপনাআপনিই চলে আসে। আমরা নিজেদেরকে পেশাদার হিসেবে পরিচিত করতে পারি না, কারণ এটি এমন গুণ যা অন্যেরা আমাদের মধ্যে দেখতে পাবে বলে আশা করি। পেশাদারিত্ব আসে নিজ পেশার প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা থেকে। কোন কারণে নিজ পেশা বা কাজের প্রতি আগ্রহ/মনোযোগ কম থাকলে, সে কাজে আমরা পেশাদারিত্ব অর্জন করতে পারি না।

 

৪) দক্ষতার সাথে আবেগ ও ব্যক্তিত্বের মিশ্রণ

পেশাদারিত্বকে অনেকে ‘দক্ষতার’ সাথে ‘আবেগ’ ও ‘ব্যক্তিত্বের’ মিশ্রণ বলে মনে করেন। দক্ষতা চেষ্টা করলেই অর্জন করা যায়, কিন্তু পেশাদারিত্ব পেতে হলে সেই দক্ষতাকে নিজের আবেগ ও চেতনার সাথে সংমিশ্রণ ঘটাতে হয়। তখন কাজকে আর ‘শ্রম’ বলে মনে হয় না, কাজ হয়ে যায় আত্মসিদ্ধির মাধ্যম। পেশাদারিত্ব এমন একটি বিষয়।

 

৫) ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা

বড় কাজে কেউ আমাদের ওপর আস্থা করলে আমরা সম্মানিত বোধ করি। এজন্য দরকার দায়িত্বশীলতা। শুধু কাজ করলে তাতে মজা পাওয়া যায় না, যদি তাতে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও আবেগের যোগসূত্র না থাকে। তখন কেবলই মায়না বা মুজুরির সাথে ওজন করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। এই প্রবণতা পেশাদারিত্ব অর্জনের বড় বাধা। যারা কাজ শেখান এবং যারা কর্মগুরু (মেন্টর), তারা শিষ্যকে অর্থের আকর্ষণ থেকে দূরে থাকার দীক্ষা দেন। পেশাদাররা নিজ কাজে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায়। তারা কখনও নিজের পবিত্র সময় ও শ্রমকে অর্থের পাল্লায় মাপে না।

 

৬) নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠা এবং জীবনের উদ্দেশ্যকে খুঁজে পাওয়া

পেশায় আত্মতৃপ্তি পাওয়া একটি সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু সৌভাগ্য নাকি পরিশ্রমীদের জন্যই বরাদ্দ। জীবনের জন্য অর্থসম্পদ একটি দরকারি উপকরণ। ব্যক্তি জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাবার জন্য অর্থ খুবই প্রয়োজন। কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন, ব্যক্তির পেশাদারিত্ব এবং নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠা। পেশাদারিত্ব হলো, কাজের মধ্যে জীবনের উদ্দেশ্যকে খুঁজে পাওয়া। পেশাদাররা অর্থকে অবহেলা করেন না, কারণ কাজ উত্তম হলে অর্থ আসে স্বাভাবিকভাবেই।

 

৭) আত্মসম্মান দ্বারা অনুপ্রাণিত জীবন

পেশাদারিত্ব হলো আত্মসম্মান দ্বারা অনুপ্রাণিত কর্মজীবন। যাদের আত্মসম্মানবোধ আছে, তাদের লক্ষ্য থাক সবসময় নিজের সেরাটুকু প্রয়োগ করা। এজন্য তারা অন্যের সহযোগিতা নিতে অথবা অন্যের মতামত নিতেও দ্বিধা করে না। মানুষ সম্মান ও সুনাম পেতে চায়। এটি খুবই স্বাভাবিক একটি চাওয়া। এই আকাঙক্ষাটি যাদের তীব্র, তারা নিজ নিজ কাজকে একাগ্রতার সাথে সম্পাদন করতে চায়। তারা চায় সকলে তাদের কাজের প্রশংসা করুক যা তাকে আরও উন্নততর কাজ পাবার সুযোগ করে দেবে। যার আত্মসম্মান আছে, সে জীবন ও কর্মজীবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।

professionalism_mmmainul2

পেশাদারিত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে।

 


পূর্বের পর্বগুলো:

▶ পর্ব ৭: এ দুই রকমের ম্যানেজার থেকে সাবধান থাকুন

▶ পর্ব ৬: ১৩ উপায়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে রাখুন হাতের মুঠোয়!

▶ পর্ব ৫:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনা: পেশাদারিত্ব কার দায়?

▶ পর্ব ৪:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ৫টি প্রক্রিয়া: পেশাদারিত্বের শুরু

▶ পর্ব ৩:  ৯টি তত্ত্বে প্রকল্পের সংজ্ঞা এবং সহজ কিছু দৃষ্টান্ত

▶ পর্ব ২:  যে ৫টি কারণে দৈনন্দিন জীবনে প্রকল্প আমাদেরকে উপকৃত করে

▶ পর্ব ১:  প্রকল্প ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ব্যবস্থাপক: কেন এবং কীভাবে

হুন্ডি কেন অবৈধ?

jiggasha

 

 

হুন্ডি কি?  হুন্ডি প্রথার উৎপত্তি কোথা থেকে? এটি কেন অবৈধ?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

হুন্ডি একটি  নীতিবহির্ভূত এবং দেশের আইন দ্বারা নিষিদ্ধ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর ব্যবস্থা। Bill of Exchange বা বিনিময় বিল নামেও পরিচিত। বাণিজ্যিক লেনদেন এবং ঋন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। এখনও হয়। তবে তা অবৈধভাবে এবং অবৈধ উদ্দেশ্যে।

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

বাণিজ্যিক আদান বা ঋণ সশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত লিখিত  এবং শর্তহীন দলিল, যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে নির্দেশিত পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়। এই ব্যবস্থা মুগল আমলে পরিচিত লাভ করে, কিন্তু ব্রিটিশ আমলে জনপ্রিয়তা পায়। এখনও প্রবাসী চাকুরিজীবীরা একে আড়ালে ব্যবহার করছেন।

বর্তমান বিশ্বের ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করে হয় না বলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। তাই হুন্ডি ব্যবস্থাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইতিহাস সূত্র:

মুগল আমলে প্রতিষ্ঠিত অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থাটি ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। তারা একে দেশীয় ব্যবস্থা বলে মেনে নেয়। তবে বৈধতা দেবার জন্য রানীর সিলসহ স্ট্যাম্প ব্যবহারের প্রচলন করে।

Hundi Stamp (British India)

“হুন্ডি অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ার কারণে এর আইনগত অবস্থান নেই এবং সরকারের আওতাধীন আলোচনার কোন বিধিও নেই। হুন্ডি সাধারণত বিনিময় বিল হিসেবে বিবেচিত হলেও তা প্রায়শ দেশজ ব্যাংকার্স দ্বারা ইস্যুকৃত পে-অর্ডার চেকের সমমান হিসেবে ব্যবহূত হয়। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে শাখা অফিস অথবা প্রধান ব্যাংকিং হাউসগুলিতে কুঠির মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসা চলত। বলা হয়, বাণিজ্যিক ভারতের সকল অংশে জগৎ শেঠের ব্যাংকের শাখা অফিস ছিল। কিন্তু বাংলায় উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রভাবে তাঁদের আর্থিক শক্তির পতন শুরু হয় এবং আঠারো শতকের শেষে দেউলিয়া হয়ে পড়ে।” [বাংলাপিডিয়া]

 

সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

“গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার অর্থ এসেছিল হুন্ডির মাধ্যমে”। দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ সেপটেম্বর

 


সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বেশতো এবং হেল্পফুলহাব ডট কম। ব্রিটিশ সময়ের হুন্ডির ছবিটি ইন্ডিয়াস্ট্যাম্প ডট ব্লগস্পট ডকম থেকে।

ডার্ক মুভি ব্ল্যাক কেন? ব্ল্যাক মুভি ডার্ক কেন?

jiggasha

 

ডার্ক মুভি ব্ল্যাক কেন? ব্ল্যাক মুভি ডার্ক কেন?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

ডার্ক মুভি বা কমেডিতে অন্ধকার মানে হলো মন্দ, ভয়ংকর, নোংরা…. এবং অবশ্যই অন্ধকারও।  

মূল থিমটি ‌’খারাপ‘ ‘নেতিবাচকএবংআঁধার  হরর (ভয় জাগানো) চলচ্চিত্রগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হতেই পারে

এর উপজীব্য হলো: রহস্য, ভয়, ত্রাশ, নোংরামি, যাদুমন্ত্র, অযাচার লৌমহর্ষক দৃশ্য, রক্ত, হত্যা ইত্যাদি। মোটেই ভালো কিছু নয়, তবে সৃজনশীল এবং স্পেশাল ইফেক্ট নির্ভর।

 

dark= evil, nasty, frightening….

 

দৃষ্টান্ত: সেশন নাইন, দ্য টাইম অভ্ দ্য উল্ফ, সাইলেন্ট হিল ইত্যাদি….

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

ডার্ক মুভি/কমেডিতেওডার্কঅর্থ প্রায় একই: অর্থাৎ বিষাদময় ব্যঙ্গ।  চরিত্রে থাকে হারানোর বেদনা…. যে হারানোর কোন ক্ষতিপূরণ নেই

 

ব্ল্যাক কমেডি সাথে এর অনেকটাই মিল আছে:  ব্ল্যাক কমেডিতে থাকে ধর্ষণ, গণহত্যা, মানুষের মানুষ খাওয়া ইত্যাদি বিষয়।  অনেকে ব্ল্যাক কমেডি আর ডার্ক কমেডিকে একসাথে দেখে

 

দৃষ্টান্ত:  টাফ গাইস ডোন্ট ডান্স, দ্য বেইকার, দ্য গার্ড, ব্যাড সান্টা ইত্যাদি

অন্য টার্মগুলো নাম থেকেই সাধারণ দর্শক আঁচ করতে পারেন। তবে যারা গভীরভাবে এর সাথে যুক্ত আছেন, তাদের কাছে গভীর অর্থ আছে

 

ডার্ক বা ব্ল্যাক থেকে একশমাইল দূরে থাকুন!  মানুষ যা দেখে তা-ই শেখে, অথবা অবচেতনে গ্রহণ করে। মানুষ যা দেখে, তার ওপর তার চরিত্র গঠন অনেকটাই নির্ভরশীল। মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এরকম বিষয়গুলো দেখতে রোমাঞ্চকর, কিন্তু স্লো পয়জনের মতো চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। 

 

ইতিহাস সূত্র:

ডার্ক বা ব্ল্যাক মুভি টার্মটি মূলত ‘ডার্ক কমেডি’ থেকে এসেছে। ডার্ক কমেডি একটি অতি প্রাচীন বিষয়, যা গ্রিক ও ইংলিশ সাহিত্য ও থিয়েটার থেকে গৃহীত। বিষয়টির সাথে এরিস্টটল, শেইকসপিয়র প্রমুখের নাম জড়িয়ে আছে।  ডার্ক কমেডি’র উদ্দেশ্য ছিল ভয়ংকর, মারাত্মক বা গুরুতর বিষয়কে হালকা উপস্থাপনায় চটুল বা বোধগম্য করে তোলা। বিষয়ের কারণেই ব্ল্যাক কমেডিটি একটি বিতর্কিত বিষয়।  [উইকিপিডিয়া]

 

 

ব্লগ/ সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

সাইফ সামির/ সামহোয়্যারইন ব্লগ: দি ডার্ক নাইট, মুভি রিভিউ

 

সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

ফেলানী রোডের সেই দূতাবাসটিতে একদিন…

হরতাল আর অবরোধের দিনেও বিশাল লম্বা লাইন। এতো মানুষ ভারতে গিয়ে কী করবে? কেউ বলে ফরম নেওয়া শুরু করেছে, কেউ বলে, এখনও দেরি আছে। অথচ ঘড়িতে প্রায় দশটা! একজন মহিলা এসে দালালি করার সুযোগ চাচ্ছিলেন বার বার। “আসুন আমার সাথে, একদম প্রথমে জমা পড়বে আপনার আবেদন।” অন্যান্য কর্মসংস্থানের মতো দালালিতেও নারীদের অংশগ্রহণ দেখে উৎসাহিত হবো নাকি হতাশ হবো, ভাবছি। আমি প্রথমে না শুনার ভান করলাম। অফিস থেকে এসেছি – একটু তাড়া তো ছিলোই। তবু মনের সাথে যুদ্ধ করে অন্য সকল প্রার্থীদের মতো দাঁড়িয়ে থাকলাম লাইনে। খুব ‘সিরিয়াস প্রার্থী’ হলে হয়তো তাই করতাম। আধা ঘণ্টার পার না হতেই আমার পেছনে অনেক দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হলো। হঠাৎ একজন হিন্দু বৃদ্ধ এসে আমার সামনে দাঁড়ালেন। “বাবা, আপনার সাথে আমাকে নিন। বুড়ো মানুষ বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।” একবার পেছনে তাকিয়ে অন্যদের প্রতিক্রিয়া দেখে নিলাম। অতএব শান্ত হয়ে মেনে নিলাম প্রাচীনকে।

 

 

এশিয়ার অনেক দেশ ঘুরেছি অথচ কলকাতাকে দেখা হয় নি আজও। অবিভক্ত বাংলার প্রাচীন শহর কলকাতাকে দেখার সখ সেই ছোট কাল থেকে। ছেচল্লিশ, সাতচল্লিশ আর একাত্তরের বাংলাদেশের সাথে কত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে স্মৃতির শহর কলকাতা! বিগত দশকগুলোতে সুনীল বাবুর ‘পূর্ব-পশ্চিম’, এম আর আখতার মুকুলের ‘আমি বিজয় দেখেছি’ এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের Era of Sheikh Mujibur Rahman পড়ার পর কলকাতাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে ছিলাম। একসময় চিটাগং যাবার মতোই কলকাতায় যেতো এদেশের মানুষ। চিকিৎসা, বিয়ের বাজার বা শিক্ষার জন্য দক্ষিণবঙ্গের মানুষগুলো তো ঢাকায় না এসে কলকাতায় যাওয়াকেই সহজ মনে করতো। ‘হাত মে বিড়ি মু মে পান- লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ করতে করতে আমরাই এক সময় পাকিস্তানকে নিয়ে আসি। বাঙালি মুসলমানের সমর্থন না থাকলে পাকিস্তান হতে পারতো না। সে পাকিস্তান খরগ হয়ে আমাদের ওপরে চড়ে বসলো। আবার সেই আমরাই ‘জয় বাংলা’ বলে স্বাধীন করলাম বাংলাকে – পেলাম একান্ত নিজের বাংলাদেশকে। এতো দীর্ঘ ইতিহাস দু’বাক্যে বলে শেষ করা যায় না।

 

 

নাহ্ ভেবেছিলাম লাইন শেষ হলেই বুঝি ‘তাদের’ দেখা পাবো। প্রবেশ মুখেই সিকিউরিটি ডোর: সেটি পার হবার পর দেওয়া হলো ৫৯৯ নম্বর সিরিয়াল নম্বর। ভেতরের কক্ষে আমার মতো সিরিয়াল নম্বর নিয়ে অনেককে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে দেখলাম। অনিশ্চয়তা কমলো না। সাড়ে ন’টায় যদি আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হলো, তবে এতো মানুষের ভীড় কেন? সকলেই কি সাড়ে ন’টার প্রার্থী? নাহ্, তা তো হবার কথা নয়। খুঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, যার এপয়েন্টমেন্ট বারোটায় তিনিও সকালেই এসে উপস্থিত। ফেলানী রোডের কতৃপক্ষ কাউকেই নাখোশ করছেন না। তবে বসিয়ে রেখেছেন অনিশ্চিত অপেক্ষায়।

 

 

প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর আমার নম্বর ডাকা হলো। ভেবেছিলাম, এবার বুঝি পাবো ‘তাহার’ দেখা; মানে, যারা আমার কাগজপত্র গ্রহণ করে ভিসা দেবার প্রতিশ্রুতি দেবেন। কিন্তু এবারও হবে না। যুক্ত হলো আরেকটি সিরিয়াল ১৪২ নম্বর। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে আদিষ্ট হয়ে তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখি, এলাহী কাণ্ড। এতো মানুষ কখন এসেছে? আরেকটি আবদ্ধ কক্ষ। শীতের দিনের গরমে কারও অনুকম্পা পাওয়া যায় না। এসি তো বন্ধই, ফ্যানও বন্ধ! উঁচু সিলিং ও দরজায় ভিনদেশী কারুকার্য। মানুষগুলোর ভাষা ও বসনে ‘ভারত-ভারত’ ভাব! ভিসা-প্রার্থীদের প্রস্তুতি ও আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত কাগজপত্রের বহর দেখে আমি ভড়কে গেলাম। কেউ কেউ বগলেও একটি ফাইল নিয়ে এসেছেন, যেন ভারত যাওয়াই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। অথচ আমি যে মাসখানেক আগে আবেদন করেছিলাম সেটিই প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম! গরম আর অনিশ্চয়তায় সবকিছু ঝাপসা লাগছে।

 

 

আরও প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকার পর আমার ডাক আসলো। সব কাগজের মধ্যে বিদ্যুতের বিলই হলো তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র। ঠিকানা নিশ্চিত না হয়ে ভিসার আবেদন গ্রহণ করবে না। যা হোক, সব দাবি মেটানোর পর গৃহীত হলো আমার আবেদন ও পাসপোর্ট। খুব সম্ভব সামনের সপ্তাহের শুরুতেই পেয়ে যাবো কলকাতা যাবার ছাড়পত্র। ফেলানীসহ অগণিত সীমান্ত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ভারতকে হয়তো কখনও ক্ষমা করতে পারবো না। তবু ‘পরদেশে আত্মীয়ের’ মতো কলকাতাকে একবার দেখে আসতে চাই। চোখের দেখা! কলকাতায় ‘থাকা ও ভ্রমণ’ সম্পর্কে অভিজ্ঞ সহব্লগারদের পরামর্শ চাই।

 

আরও পড়ুন:  একদিন কলকাতায়


 

[প্রথম প্রকাশ ও পাঠক প্রতিক্রিয়া/ ২৯ নভে ২০১৩: সামহোয়্যারইন ব্লগ]

এ দুই রকমের ম্যানেজার থেকে সাবধান থাকুন…

banner7-crop

প্রজেক্ট ম্যানেজার থেকে ড্রিম ম্যানেজার, পর্ব ৭। প্রকল্প ব্যবস্থাপককে সফল হতে হলে শুধু ভালো পরিকল্পনা আর পরিশ্রম করলেই চলবে না, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সাথে মানানসই হতে হয়। তাকে জানতে হয় প্রতিষ্ঠানের স্বভাব সংস্কৃতি ও আন্ত:বিভাগীয় যোগাযোগ। জানতে হয় বিষক্রিয়াশীল জৈষ্ঠ্য ব্যবস্থাপকদের ক্ষতিকারক প্রবণতা, যা প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব জানতে হয় শেখার জন্য নয়, কিন্তু নিজেকে ও প্রকল্পকে রক্ষা করার জন্য। ভয়ানক কিছু ব্যবস্থাপক বা পরিচালক আছেন, যারা মিড-লেভেল ম্যানেজারদের মনে প্রভাব ফেলে ‘মন্দকে ভালো’ বলে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারা উচ্চ পর্যায়ে কিছুই করতে পারেন না বা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, কিন্তু নিম্নপর্যায়ের কর্মীদের অন্দরমহল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে চান। অধীনস্ত কর্মীর জন্য একটাকা বেতন বাড়াতে পারেন না, কিন্তু পান থেকে চুন কষলে শো’কজ লেটার দিয়ে জীবন নরক করে তোলেন। কাজ শেখাবার বেলায় কিছুই করতে পারেন না, কিন্তু কাজে ভুল হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন অধীনস্ত কর্মীর ওপরে। এসব হিপোক্রিটদের দৌড় বেশি দূর যায় না! এপর্বে আলোচনা করবো ওসব বিষক্রিয়াশীল কর্মকর্তাদের স্বভাব ও প্রভাব নিয়ে। উভয়পক্ষই সচেতন থেকে যেন নিজেদেরকে উৎপাদনমুখী আচরণে উন্নয়ন করতে পারেন, এ উদ্দেশ্যেই লেখাটি।

প্রতিষ্ঠানের জৈষ্ট্য ব্যবস্থাপকরা অভিজ্ঞ; তারা সিনিয়র এবং তারা জানেন অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের কর্মীর সাথে তাদের যোগাযোগ থাকে। একারণে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা-বিধির অপপ্রয়োগ করে অথবা ঊর্ধ্বতর কর্তৃপক্ষের অজ্ঞতা/শৈথিল্য/অযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীল পরিবেশকে খারাপ করে তোলেন। শুরু হয় আন্ত:বিভাগীয় ক্ষমতার রাজনীতি, যা ‘খালি চোখে’ দেখা যায় না, কিন্তু নিরবে কর্মীদের মনে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিকে ব্যহত করে।

একই ভাবে এবং একই উদ্দেশ্যে, মাঝারি পর্যায়ের ম্যানেজাররাও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেন তাদের প্রকল্প কার্যালয়ে। দলাদলি, তোষামোদি, স্বজনপ্রীতি এবং হিংসাহিংসি যখন প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিতে গেঁথে যায়, সেটি সকলকে প্রভাবিত করে। এখানে অপেক্ষাকৃত ভালো যারা, তারা হয় পরিবর্তিত হয়, অথবা সকলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, নয় তো প্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালায়।

 

toxic_managers

আজ দু’প্রকার ম্যানেজার নিয়ে আলোচনা করা যাক:

১) দ্য ফ্রেন্ডলি ডেন্জারাস বস্: অসম্ভব বন্ধুত্ব দিয়ে তিনি কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন

এধরণের ম্যানেজারদের সম্পর্কে ফোর্বস ডট কমের নিয়মিত লেখক ট্রাভিস ব্র্যাডবেরি বলেছেন, “এরা অসম্ভব রকমের বন্ধুত্বের ভাণ করেন, যা মজার নয় গঠনমূলকও নয়। কাজের সময় নষ্ট করে অফিস আড্ডায় মেতে ওঠেন এবং নিজের প্রভাব খাটিয়ে সবাইকে আটকে রাখেন। তিনি তার প্রিয়ভাজনদেরকে বিভিন্ন কাজে বেছে নেন এবং কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন। তিনি প্রয়োজনের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।” অন্যের দুর্বলতা নিয়ে দুর্বোধ্য ভাষায় মজা করা, অথবা প্রতিপক্ষের কোন ঘটনা নিয়ে খুশখুশ হাসিতে মেতে ওঠা অথবা অসংখ্যবার বলা হয়েছে এমন কিছু কৌতুক বলা, এসব কখনও কর্মীকে গড়ে তুলতে পারে না।

এধরণের অসম বন্ধুত্ব কখনও ভালো ফল দেয় না। চায়ের টেবিলের আড্ডা দিয়ে এসব ম্যানেজার বুঝাতে চান যে, তার সাথে সময় কাটালে সেটি সময়ের অপচয় নয়, কারণ তিনিই তো সব নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনিই প্রতিষ্ঠানের সব এবং কর্মীর বিপদের কাণ্ডারি, এরকম কিছু মিথ্যা প্রত্যাশার সৃষ্টি করেন কর্মীর মনে। ম্যানেজার যা করেন, যা বলেন, কর্মী সবই গলাধকরণ করেন। একসময় নিজের কাজে মনসংযোগ না করে, কেবল খোসামোদিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। তাতে কাজ ও সম্পর্কের মধ্যে অপেশাদারি মনোভাব সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের গতিশীলতায় সৃষ্টি হয় ‘এক মধুর প্রতিবন্ধকতা’ যা শুরুতে বুঝতে পারা যায় না।

তারা এমন ভাণ করবেন যে, আপনার জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। অফিসের টাকায় উদারতা দেখাবে, খাওয়াবে। সিদ্ধান্ত অথবা দিকনির্দেশনা দেবার ক্ষেত্রে তারা প্রধানত দুর্বল, কারণ মৌলিক জ্ঞানের ঘাটতিই এসব ম্যানেজারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কিন্তু তারা সেটি আপনাকে বুঝতে দেবেন না, কারণ ‘আপনি যা করেন, সেটিই উত্তম হবে বলে তার বিশ্বাস’। এর পরিণতি খুবই খারাপ। কাজের ফল যদি ভালো হয়, তবে ম্যানেজার তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একাই কৃতীত্ব নেবেন। যদি ফলাফল খারাপ হয়, তবুও তার কোন দায় নেই; এবং আপনিও তাকে দায় দিতে পারবেন না। তিনিও তার বসকে বলবেন যে, এটি আপনিই একা করেছেন, তার সুযোগ হয়নি চেক করে দেখার। সবাই এসব মারপেঁচ বুঝে না, বরং ‘কাজের স্বাধীনতার জন্য’ মনে মনে ওই ম্যানেজারের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়।

কমপ্লেক্স ম্যাট্রিক্স-এর প্রতিষ্ঠানে, যেখানে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ক্রয়, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ রয়েছে, এধরণের দলীয়পনা খুবই ক্ষতিকারক। কারণ এসবের উদ্দেশ্য হলো, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কর্মীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার করা।

এখানে আশঙ্কার বিষয়টি হলো প্রতিষ্ঠানের নতুন কর্মীদের নিয়ে, যারা প্রতিষ্ঠানের কালচারের সাথে পরিচিত হন নি অথবা এধরণের জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের মতিগতি সম্পর্কে অবগত নন। তারা এধরণের ম্যানেজারদের দেবতা-জ্ঞান করেন এবং নিজের মনের সব কথা বলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

 

এদের থেকে বাঁচার উপায়?

  • এবিষয়ে ট্রাভিস ব্র্যাডবেরি বলেছেন, প্রথম কাজ হলো ওই ধরণের কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ। চেষ্টা করতে হবে, যেন ম্যানেজার/পরিচালক তার পজিশন দিয়ে আপনাকে আতঙ্কিত না করতে পারেন।
  • বস তো বসই, নিজে বিপদে পড়লে কখনও তিনি আপনাকে অস্বীকার করতে দ্বিধা করবেন না। অতএব নিজের দায়িত্বের প্রতি অবহেলা নয়। সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি যখন ‘না’ বলার সময় আসে তখন বিনয়ের সাথে সেটি প্রকাশ করা উচিত।
  • প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা কখনও ষোলআনা বন্ধু হবেন না, হতে পারেন না। বন্ধুত্ব হয় সমান্তরালে। একজন উঁচু আরেকজন অনেক নিচু অবস্থানে থাকলে সম্পর্কের খারাপ পরিণতি জুনিয়রকেই বহন করতে হয়।
  • পেশাদারিত্ব হলো সবাইকে উপযুক্তভাবে মূল্যায়ন করা। অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা অথবা তাকে নিকে মজা করা, কোন পেশাদারিত্বের পর্যায়ে পড়ে না।
  • যত দ্রুত সম্ভব নিজের প্রতিষ্ঠানের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড জেনে নেওয়া একটি  উত্তম দক্ষতা। জৈষ্ট্য কর্মকর্তাদের আচরণ ও মনোভাবকে বুঝার জন্য এর চেয়ে ভালো কোন পন্থা নেই।

 

 

২) দ্য মাইক্রোম্যানেজার: এরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ‘প্রতিষ্ঠানের মুসোলিনি’ হতে চায়

নিজের পদ নিয়ে সদা সন্ত্রস্ত এসব ব্যবস্থাপক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চান: অফিসের স্ন্যাকস আইটেম থেকে শুরু করে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সবকিছুতে তাদের অনুমতি নিতে হয়, অবগতিতে রাখতে হয়। সবাইকে মনে করেন তার প্রতিপক্ষ। ক্ষুদ্রকে ধরে রাখেন, বৃহৎ থাকে অধরা। কাজের ‘উদ্দেশ্য’ নয়, কাজের ‘প্রক্রিয়া’ নিয়ে তার মাথাব্যথা। উৎপাদন যা-ই হোক, তিনি চান ‘তার নির্দেশের সফল প্রয়োগ’।

তিনি ফল যদি না-ও চান, প্রতিবেদন থাকতে হবে পাকা। তিনি অর্জনের তথ্য চান না, তিনি চান তার প্রতিবেদন ছকের পরিপূর্ণ ব্যবহার। তারা বৃহৎ আকৃতিতে বিষয়টুকু দেখতে পারেন না, পারেন না ভবিষ্যত সম্পর্কে পরিকল্পনা করতে।

তিনি কাজকে কখনও সহজ করতে পারেন না, অথবা চান না। প্রতিবেদন ছক সৃষ্টি করা, নতুন নির্দেশ জারি করা এবং এসব করে প্রতিষ্ঠানের কর্মচঞ্চলতাকে তার দিকে ‘নিবিষ্ট রাখা’ তার দৈনন্দিন কাজ। তাতে তার স্বাক্ষর দেবার সুযোগ বেড়ে যায়, বেড়ে যায় প্রভাব খাটানোর সুযোগ।

প্রতিষ্ঠানের কাজ যা-ই হোক, এদের কাজ হলো কর্মী ব্যবস্থাপনা। সেটি নিশ্চয়ই ভালো পথে নয়, ধ্বংসাত্মক পথে। সব পর্যায়ের কর্মীকে তার ভয়ে ভীত রেখে এসব ম্যানেজার আনন্দ লাভ করেন।

মাইক্রোম্যানেজাররা কর্মীর জন্য সমান সুযোগে বিশ্বাসী নন। তারা জানেন না, অথবা জানতে চান না যে, সুযোগ আর স্বাধীনতা পেলে সবাই তার সর্বোচ্চটুকু দেবার চেষ্টা করে।

তারা ক্ষমা করতে পারেন না, কারণ সেই নৈতিক জোর নেই। কর্মীর ক্ষুদ্র বিচ্ছুতিটুকু তারা মনে ধরে রাখেন এবং প্রতিশোধপরায়ন হয়ে ওঠেন। তারা মানেন না, এটি কর্মক্ষেত্র। কর্মীর প্রতি ইতিবাচক থাকলে সে সংশোধন করে এগিয়ে যাবেই। এখানে কর্মই সবকিছু নির্ধারণ করে। কিন্তু মাইক্রোম্যানেজার চান তোষামোদ আর অন্ধ ভক্তি। কর্মী নয়, তিনি চান ভক্ত।

তারা চেইন-অভ্ কমান্ড ভাঙার ওস্তাদ, যদি সেটি হয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা সুযোগ। ছলে-বলে-কৌশলে অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা তার সখ। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ, অথবা প্রতিপক্ষের প্রতিপক্ষ তৈরিতে তার জুরি নেই। সব কাজ বাদ দিয়ে, কাগজপত্র তৈরি বা ফাইলদস্তাবেজ সংরক্ষণে এসব কর্মকর্তারা দিনভর শ্রম দেন অথবা অধিনস্ত কর্মীকে চাপের ওপর রাখেন।

 

এদের থেকে বাঁচার উপায়?

  • একজন পেশাদার প্রকল্প ব্যবস্থাপকের জন্য এসব কোন সমস্যা নয় – এমনিতেই সবকিছু অনুকূলে চলে আসে। বসের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে কীভাবে নিজেরটুকু পুরোপুরি প্রয়োগ করতে হয়, পেশাদাররা সেটি জানেন।
  • মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তার জন্য বলছি, ভুলেও এদের কোন কথার প্রতিবাদ করে ‘প্রকাশ্য প্রতিপক্ষ’ হতে যাবেন না; আপনার কর্মজীবনকে ধ্বংস করে দেবে। আবার পক্ষেও যাবেন না, কারণ সকলেই এদের মন্দ দিক সম্পর্কে অবগত এবং যথা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখে। আপনিও তা-ই করুন।
  • নিজেকে ভিকটিম হতে দেবেন না। পরিস্থিতি কতটুকু খারাপ হবে তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে/কতটুকু প্রতিক্রিয়া করেন। অতএব ভাবাবেগ থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • মাইক্রোম্যানেজাররা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অযোগ্য/অদক্ষ হয়ে থাকে। ফলে তাদের প্রধান ভয় হলো নিজের পদ ও মর্যাদা নিয়ে – প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নিয়ে নয়। তাই নিজের প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের আস্থা অর্জন করতে পারলে ফলাফল আপনার পক্ষে থাকবে।
  • সবাইকে খুশি করার অসম্ভব চেষ্টা থেকে দূরে থাকুন। দেখুন আপনি কিসে খুশি। নিজের মূল্য বুঝুন এবং কাজের মধ্যে সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করুন।
  • নিজের সততার জন্য কারও কাছে দুঃখিত হতে যাবেন না এবং অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রার পেছনে দৌড়াতে যাবেন না। দেখে নিন আপনার প্রজেক্টকে প্রভাবিত করে এমন কিছু বাদ পড়ছে কিনা। বিনয় ধরে রাখুন, কিন্তু ‘না’ বলতে শিখুন।

 

 

প্রজেক্ট মানে হলো একটি মিশন, যারা বাস্তবায়নের জন্য শ্রম, মূলধন ও যন্ত্রপাতির সুব্যবস্থাপনা করতে হয়। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকল্পের পক্ষ/বিপক্ষকে সনাক্ত করতে পারা। প্রকল্পের অগ্রগতিতে কার প্রভাব ইতিবাচক বা নেতিবাচক, এটি জানতে পারলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পঞ্চাশ শতাংশ সহজ হয়ে যায়। তাই অন্য যেকোন কাজের চেয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বেশি দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন হয়।

বিষক্রিয়াশীল ম্যানেজারদের নিয়ে আরও দু’একটি পর্ব লেখার ইচ্ছে আছে।

 

 


পূর্বের পর্বগুলো:

▶ পর্ব ৬: ১৩ উপায়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে রাখুন হাতের মুঠোয়!

▶ পর্ব ৫:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনা: পেশাদারিত্ব কার দায়?

▶ পর্ব ৪:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ৫টি প্রক্রিয়া: পেশাদারিত্বের শুরু

▶ পর্ব ৩:  ৯টি তত্ত্বে প্রকল্পের সংজ্ঞা এবং সহজ কিছু দৃষ্টান্ত

▶ পর্ব ২:  যে ৫টি কারণে দৈনন্দিন জীবনে প্রকল্প আমাদেরকে উপকৃত করে

▶ পর্ব ১:  প্রকল্প ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ব্যবস্থাপক: কেন এবং কীভাবে