Tagged: জীবন উক্তিময়

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ৩।

মানুষের কথায় তাকে চেনা যায়। তার প্রতিটি সচেতন উক্তিতে আছে দর্শন। রয়েছে ভাবনার বিষয়, চিন্তাকণা। এবারের পর্বটি একটু অম্লমধুর হবে। রস আছে। সে রসে আছে তীক্ষ্ণতা। সবগুলো কথাই চিন্তা খাবার যোগাবে, তাতে আমি নিশ্চিত। বলে রাখছি, এগুলো প্রথমত লেখকের নিজেরই জন্য। কিন্তু পাঠক মজা পেলে লেখক ধন্য।

 

————

কাউকে বিয়ে করার পূর্বে তাকে একটি ধীরগতির কম্পিউটার ব্যবহার করতে দিন। এবার দেখুন সে আসলে কেমন।  (উইল ফেরেল)

আমি যা কিছু করতে পছন্দ করি, সেগুলো হয় অনৈতিক, না হয় অবৈধ অথবা শরীর মোটা হয়ে যায় এমন কাজ। (আলেকজান্ডার উলকট)

আমি এমন একজনকে চিনি যে ধূমপান, মদ্যপান, নারীসঙ্গ এবং উচ্চমানের খাবার খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। আত্মহত্যার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে সুস্থ ছিল। (জনি কারসন)

সে নিজেই শুধু একঘেয়ে নয়, সে অন্যদের মধ্যেও একঘেয়েমির কারণ। (স্যামুয়েল জনসন, ১৮ শতকের লেখক)

ঈশ্বর যে আমাদের ভালোবাসেন তার একটি অকাট্য প্রমাণ হলো মদ। তিনি আমাদেরকে আনন্দে রাখতে পছন্দ করেন। (বেন্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্থপতি)

স্বাস্থ্য বিষয়ক বই পড়ার সময় সাবধান থাকবেন। ছাপার ভুলের কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে। (মার্ক টোয়েন)

ভালো মেয়েরা স্বর্গে যায়, খারাপ মেয়েরা সবখানে যায়।  (হেলেন গার্লি ব্রাউন)

রাগ নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। জেগে থাকুন, ঝগড়ায় লেগে থাকুন। (ফিলাস ডিলার)

রাজনীতিতে যদি কাউকে দিয়ে কিছু বলাতে চান, তবে একজন পুরুষকে বলুন। যদি কিছু করাতে চান, তবে একজন নারীকে বলুন। (মার্গারেট থ্যাচার, দ্য আইরন লেডি)

———–

 

এবারের পর্বটির জন্য রিডার্স ডাইজেস্ট-এর কাছে ঋণী। অনুবাদ লেখকের।


রসাত্মক ধনাত্মক উক্তির দ্বিতীয় পর্ব।

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ২।

বিখ্যাত হোক, অথবা কুখ্যাত হোক, মানুষের কথায় অনেক কিছু শেখার বা ভাবার থাকে। মানুষের মনের মূল্যবান কথাগুলোকেই বানী বা উক্তির মর্যাদা দেওয়া হয়। সেটি মজারও হতে পারে, আবার চিন্তার খোরাকও হতে পারে। পছন্দের হতে পারে, আবার প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। সবকিছুর একটি উদ্দেশ্য থাকে। ঘৃণার সৃষ্টি হলেও সেখানে পাঠকের চিন্তা বা সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

 

১)  আমি নিজের সাথে কথা বলি, কারণ মাঝেমাঝে বিশেষজ্ঞের অভিমত নেবার দরকার হয়।

২)  চিপস-এর প্যাকেট কেনার আগে আমি ভাবতাম বাতাস বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

৩) জীবন একটি বাঁশ বাগান। শুধু বাঁশ আর বাঁশ!

৪) হ্যাঁ ম্যাডাম আমি মাতাল।  কিন্তু সকালে যখন আমি শান্ত থাকবো, আপনি তখনও কুৎসিতই থাকবেন।  (চার্চিল)

৫) মানুষ বলে তুমি প্রেম ছাড়া বাঁচবে না। আমি মনে করি অক্সিজেন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৬) বেঁচে থাকার জন্য আমাদের কী করা উচিত? নিঃশ্বাস গ্রহণ এবং নিঃশ্বাস ছাড়া উচিত।

৭) জীবনে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সে কাজটি করা যা মানুষ বলে আপনি করতে পারবেন না। (ওয়াল্টার বেইজহট)

৮)  চাকরিটাকে আমার তখনই ভালো লাগে, যখন আমি ছুটিতে থাকি।

৯)  কিছু মানুষ মেঘের মতো। তারা সরে পড়লেই স্পষ্ট নীলাকাশ।

১০) তোমার জন্য আমার পরামর্শ হলো, বিয়েটা করো। ভালো স্ত্রী পেলে তো সুখে থাকবে। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে তুমি একজন দার্শনিক হবে। (সক্রেটিস)

 

কিছু কথার মালিক খুঁজে পেলাম না। কিন্তু তাই বলে তো ফেলে দিতে পারি না। তবে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, কথাগুলো আমার নয়।


রসাত্বক ধনাত্মক উক্তির প্রথম পর্ব

 

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ১।

সেটা গতবছরের সেপটেম্বরের কথা। প্রতিবেশী দেশের একজন প্রসিদ্ধ আধ্যাত্মিক-কাম-রাজনৈতিক নেতার বিপক্ষে কিছু ক্রেইজি পিপল ক্ষেপে আছে। তাকে তারা আর ‘সেই সম্মান’ দিতে চান না, কারণ তিনি নাকি সেই সম্মানের উপযুক্ত ছিলেন না।

একজন উক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি আমার কাছে বহুল পরিচিত। ‘উক্তি বিশেষজ্ঞ’ বলছি কারণ, জীবদ্দশায় তিনি কেমন ছিলেন, সে সম্পর্কে তেমন ধারণা পাবার সুযোগ পাই নি। আমার বিশ্বাস তিনি অন্তত প্রকাশ্যে ভালোই হয়ে থাকবেন, অন্যথায় কিছু বইয়ে ব্যতিক্রম থাকতো।

তার উক্তিগুলো খুবই কোমল এবং শ্রুতিমধুর। স্বর্গদূতেরাও এমন পুতপবিত্র উক্তি দিতে পারতেন কিনা, আমার সন্দেহ আছে। সন্দেহের কারণ একটিই, স্বর্গদূতদের উক্তিগুলো তেমন পড়ার সুযোগ পাই নি!

এদিকে উক্তিতে উদ্ধৃতিতে জ্ঞানালয় (মানে টেক্সটবুক, ফেইসবুক ইত্যাদি) পূর্ণ। আজকাল ফেইসবুকাররাও দৈনিক উক্তি ছাড়ে। জ্ঞানসাধকদের কাজই তো উদ্ধৃতি বিবৃতি ইত্যাদি দেওয়া। কিউরিয়াস মাইন্ড জানবার চায়, তাদের জীবন কেমন ছিলো?

যা হোক, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু চালাক কিছিমের ছিলেন বলে আমার ধারণা হয়। বলে কিনা: “আমি যা করি তাতে মনোযোগ দিও না, যা বলি তা মেনে চলো!” মেনে চলি বা না চলি, এই উক্তিকে আমি সততার দৃষ্টান্ত বলে মনে করি, যদিও সেটি সর্বনিম্ন পর্যায়ের।

যা হোক, চলে যাই উক্তি পরিবেশনে। আগেই বলে নিচ্ছি, সেগুলো রসাত্মক হলেও জ্ঞানাত্মক হবে না হয়তো। বরং কিছুটা পীড়াত্মক (পীড়াদায়ক) হতে পারে।

 

১)

উন্নত করো শির, শক্তি করো জড়ো; 

অভিনীত হাসি নিয়ে আগে তুমি বাড়ো।

Head up, stay strong.  Fake a smile, move on.

 

২)

শোনো, হাসো এবং একমত হও। তারপর তুমি যা করতে চেয়েছিলে সেটিই করো।

Listen, smile, agree. And then do whatever the fuck you were gonna do anyway.

 

৩)

যেখানে আছো সেখানে যদি ভালো না লাগে, তবে সরে যাও। তুমি তো আর গাছ না!

If you don’t like where you are, move.  You are not a tree.

 

৪)

মাঝেমাঝে আফসোস করি, যদি আরেকটু কোমল স্বভাবের হতে পারতাম!

তারপর একটু হাসি। তারপর দিনের কাজ শুরু করি।

Sometimes I wish I were a nicer person, but then I laugh and continue my day.

 

৫)

স্বপ্ন কখনও ছাড়বেন না। ঘুম থেকে ওঠবেন না।

Don’t give up on your dreams.  Keep sleeping.

 

৬)

মাঝেমাঝে আমার কাঁধের শয়তানটিও (আমাকে দেখে বিস্মিত হয়) কাঁধে হাত দিয়ে বলে, ‘কীসব কচু করছো তুমি?’

Sometimes even the devil on my shoulder asks, ‘what the hell are you doing?’

 

৭)

পাঁচ মিনিট ধরে ওয়াইফাই নেই। ফলে বাবামা’র সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে হলো। তারা দেখলাম খুবই ভালো মানুষ। 

Wi-Fi went down for five minutes, so I had to talk to my family. They seem like nice people.

 

৮)

আমি শুধু তোমাকে জানাতে চাই যে, কেউ একজন তোমার কথা ভাবে। আমি নই, কিন্তু কেউ একজন।

I want you to know that someone cares.  Not me, but someone.

 

 

funny_quote


পাঠক হয়তো একমত হবেন যে, ওপরের কিছু উদ্ধৃতি বাংলার চেয়ে ইংরেজিই বেশি মজার! কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এসব মহান উক্তিগুলোর দাতাকে পাই নি। নিজেকে গ্রহীতা হিসেবে গর্বিত মনে হচ্ছে। আপনিও কি গর্বিত নন?!

 

‘পর্ব ১’ লেখেছি। মানে আরও কিছু সংগ্রহ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। কিন্তু কখন, সেটি বলা যাবে না!