Tagged: কোডমিক্সিং

কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ: বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ

-তুই কি সালমান খানের লাস্ট ফিল্মটা দেখেছিলি? সিমপ্লি অউসাম। মাই গ্যড, আই জাস্ট কাআন্ট বিলিভ মানুষ কীভাবে এতো শক্তিধর হতে পারে। টউটালি আনবিলিভেবল!
-রিয়েলি? ওহ্ আই মিসড দ্যাট ফিল্ম। এনি ওয়ে, তুই কখন এলি? লান্চ করেছিস?….ওকে, নো প্রব, লেট্স হেভ লান্চ টুগেদার।

 

টিচিং প্রফেশনটা আমি একদম ঘৃণা করি….আই জাস্ট কাআন্ট স্ট্যান্ড দিস। কেন রে বাবা পড়াশুনা করে অন্যের সন্তানকে মানুষ করতে হবে? আর কি কোন পেশা নেই প-িতি ছাড়া? তাছাড়া কতটুকু প-িত তুমি হয়েছো যে অন্যকে পথ দেখাবে?
-আমার কাছে কিন্তু এর চেয়ে উত্তম কোন প্রফেশন আছে বলে মনে হয় না। জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি মানবসেবা। আই লাইক দিস প্রফেশন ভেরি মাচ এন্ড যারা এই পেশায় জড়িত তাদেরকেও আমি শ্রদ্ধা করি।

 

ভাষামিশ্রণ বা কোড মিক্সিং

‘আই এম একদম ফেডাপ’ আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের এই বাণীটি ভাষামিশ্রণের উত্তম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে অনেক দিন। একটি ভাষার ভেতরে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিদেশী ভাষার শব্দ জুড়ে দেওয়াকে ভাষামিশ্রণ বলা যায়। ভাষাবিজ্ঞানে একে বলে কোডমিক্সিং। বর্তমান প্রজন্মের ভাইবোনেরা অনেকটা অবচেতনেই এই ভাষামিশ্রণে জড়িয়ে গেছেন সগৌরবে! কোডমিক্সিংকে প্রতিষ্ঠিত রূপ দিয়েছে বলগাহীন বিজ্ঞাপন, আউলা-ঝাউলা টকশো এবং আমাদের এফএম রেডিও সম্প্রদায়। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এরা প্রায় সকলেই ভাষামিশ্রণের পৃষ্ঠপোষক। ওহ্ আচ্ছা, আসে আসে দিন বলতে এদেশে একখান দৈনিক পত্রিকা আছে। তারা সাপ্তাহিক থাকাকালেও ইংরেজি ভাষার প্রতি তাদের অগাধ প্রেমের পরিচয় দিয়ে গেছে অকাতরে! ভাষার প্রতি এ দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোন আইন এদেশে আছে কিনা, আমি জানি না। যদিও সকল আইনই সকলে মানে না, তবু অন্তত বলা যেতো যে ওটি বে-আইনী।
ভাষার বিষয়ে মৌলবাদিরা এ বিষয়টিকে চরম সীমালঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। তারা একে নিজ ভাষার প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। ভাব প্রকাশের জন্য যখন বিদেশী ভাষার সাহায্য নিতে হয়, তখন তাতে আমাদের রক্তে-অর্জিত মাতৃভাষার দৈন্যতাই প্রকাশ পায়। ভাষা সদা প্রবাহমান, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ভাষাকে হাত-ধরে পাহাড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত করতে হবে। মাতৃভাষার শব্দাবলীকে পাশ কাটিয়ে ভিনদেশী শব্দের আশ্রয় নিয়ে, নিজভাষা সহজাতভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। ক্রমান্বয়ে তা পরভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ল্যাংগুয়েজ শিফ্ট তখন অনিবার্য হয়ে যায় আর এভাবে একটি আগ্রাসী ভাষার কাছে আরেকটি ভাষার মৃত্যু হয়।
একটি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে আচমকা অন্য ভাষা থেকে শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করলেন। এটি আপনার কাছে যতই স্বাভাবিক বা অভিজাত মনে হোক, আপনার শ্রোতার কাছে সে রকম না-ও হতে পারে। অনেক সময় সেটি চরম বিরক্তি এবং সীমালঙ্ঘনেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু তো সম্ভাবনাময় এক প্রার্থীকে সেদিন চাকুরিটাই দিলেন না, কথার মধ্যে ইংরেজি বাক্য ঢুকিয়ে দেওয়ার অপরাধে!

 

কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ
লেখার মধ্যে বিদেশি ভাষার প্রয়োগ করে যাঁরা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন, সবার আগে তাঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাই। কায়কোবাদ-নজরুলেরা বিদেশি ভাষাকে খাটিয়েছেন, বলা যায়। আশ্রয় নেন নি। এরকম মিশ্রণ সকল ভাষায়ই আছে, ইংরেজি ভাষার ৯০ শতাংশ শব্দ এসেছে জার্মান ফ্রেঞ্চ, ল্যাটিন, গ্রিক এবং ইটালিয়ান ভাষা থেকে। একে কখনও কোডমিক্সিং এর অজুহাত হিসেবে নেয়া যায় না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলা ভাষায় ইংরেজি শব্দ বা বাক্যাংশ জুড়ে দেয়ার অভ্যাসটি এসেছে আমাদের ঔপনিবেশ আমলের সমাজ থেকে, যখন ইংরেজি লেখা ও বলা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং পশ্চিমা দেশের সাহায্যের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল এই উপমহাদেশের মানুষগুলো এখনও ইংরেজি বলাকে সমান আভিজাত্যের বিষয় বলে বিশ্বাস করে। এশিয়ার যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল, বিশেষত যারা ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিলো না, তারা নিজ ভাষায় ইংরেজি মিশ্রণকে রীতিমতো ঘৃণার চোখে দেখেন। এটি কোনভাবেই মর্যাদার বিষয় হতে পারে না: হয় নিজের ভাষায় কথা বলো নয়তো ইংরেজিতে, মাঝামাঝি কোন পথে তারা বিশ্বাস করেন না। এতে পশ্চিমা দেশের সাথে দূর-প্রাচ্যের ওই দেশগুলোর স্বার্থের কোন ক্ষতি হয়েছে বলে খবর আসে নি।
প্রতিবেশী হিন্দি চ্যানেলগুলোর কল্যাণে (?) নতুন প্রজন্মের অনেকে হিন্দি বাক্যও আজকাল ছুড়ে মারে। আমাদের মুরুব্বিরা আগের দিনে এভাবে ছুঁড়ে মারতেন উর্দু। আরেকটি ভাষা আছে যা অত্যন্ত ‘আরামছে’ আমাদের ভাষাকে দূষিত করে যাচ্ছে, আমরা তা পবিত্র বলেই মেনে নিয়েছি। সে বিষয়ে আপাতত মন্তব্য করছি না। নিজ ভাষা ছাড়া অন্য যে কোন ভাষা আমাদের কাছে যেন উপাদেয়। যেন বাংলা এই ভাষাটি আমরা বিনামূল্যেই পেয়েছিলাম পৃথিবীর অন্য দশটি ভাষাভাষীদের মতো। যেন বাংলা ভাষার কোন ঐতিহ্য নেই, ইতিহাস নেই, জন্ম নেই, দেশ নেই!
পাশ্চাত্য সংস্কৃতি নিয়ে আমরা যত চিল্লাচিল্লি করছি, পার্শ্ববর্তী দেশের অপসংস্কৃতি নিয়ে ততই আমরা চুপ মেরে আছি। প্রতিবেশী একটি দেশে দেদারসে ইংরেজি ব্যবহৃত হচ্ছে, এর প্রধান কারণ হলো তারা আমাদের মতো একভাষার দেশ নয়। তারা নিজ ভাষায় কথা বললে একই দেশের মানুষের সাথে তাদের সামাজিক যোগাযোগ ব্যাহত হবে। অথচ তাদের ওই অক্ষমতাকেই ক্ষমতা হিসেবে ধরে নিয়ে তাদেরকে অনুসরণ করে যাচ্ছি। তাদের প্লাস-মাইনাস চ্যানেলগুলোর তৃতীয় শ্রেণির নাটক অনুকরণ করে, গর্বের সাথে বাংলিশ বলে যাচ্ছি।

একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপে দেখা গেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের কথামালার প্রায় ৪০ শতাংশ শব্দ বিদেশি, প্রধানত ইংরেজি, ভাষা থেকে সংগৃহীত। বলাবাহুল্য এদের মধ্যে যুবসম্প্রদায়ের কথোপকথনের ৫০ শতাংশ শব্দ ইংরেজি। মজার বিষয় হলো, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায় নি এমন জনগোষ্ঠীর কথায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার প্রায় নেই। ‘বিদেশী শব্দ’ বলতে যেসব বিদেশী শব্দ এখনও বিদেশী হিসেবে গণ্য করা হয়। ভাষাবিজ্ঞানের স্বাভাবিকতায় বিদেশী শব্দ থাকবেই, তবে তা কালপরিক্রমায় একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল ভাষায় আত্তিকৃত হয়ে যায়, যা প্রজন্মের ব্যবধানে আর বিদেশী মনে হয় না।

 

কোডমিক্সিং- এর দু’একটি দৃষ্টান্ত
*জাস্টিফাই/যাচাই করা *কনফিউজ/বিভ্রান্ত করা *একসিডেন্ট/দুর্ঘটনা করা *কমপেটিবল/যান্ত্রিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া *শিওর/নিশ্চিত হওয়া *এজাস্ট/যুক্ত করা *এটেন্ড করা/উপস্থিত হওয়া *কনশান্স/বিবেককে আক্রান্ত করা *মাইন্ড করা/মনে আঘাত পাওয়া *স্টপিজ দেওয়া/থামা *অউসাম/চমৎকার হওয়া
কিছু মজার কোডমিক্সিং (পাঠক এ তালিকাটি সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে আসুন!)
*রহিম মিয়া এজ এ ম্যান হিসেবে মানুষ ভালো।
*গাড়িটা টার্ন নিয়ে ঘুরে চলে গেলো।
*নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ইলেকশন করা!
*রাজনীতির ভেতরে পলিটিক্স ঢুকে যাওয়া! (ক্রেডিট: আসাদুজ্জামান নূর)
*রিটার্ন করে পুনরায় ফিরে আসা!
*ডাউনলোড হয় কিন্তু ইন্টারনেট থেকে নামানো যায় না!

 

কোডমিক্সিং-এর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত
১) সঠিক বাংলার অনুপস্থিতি বা সঠিক বাংলাটি না জানাকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোডমিক্সিং-এর প্রধান কারণ হিসেবে আমি দেখছি।
২) একটি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কোডমিক্সিং একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখানে একে ক্ষতিকর হিসেবে দেখা যায় না।
৩) সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, মানুষ সামাজিক কারণেই তার ভাষা ও বসনে পরিবর্তন এনেছেন। বলা যায়, এখানে একটি মনো-সামাজিক ব্যাপার জড়িত।
৪) পেশাগত ক্ষেত্রে ইংরেজির ব্যবহার ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে উচ্চ ধারনার সৃষ্টি করে। কিন্তু অনেকেই পুরোপুরি ইংরেজি বলতে অসমর্থ হয়ে কোডমিক্সিং-এর আশ্রয় নেন। তাতে তিনি যা পারেন তা-ই দেখাতে পারেন।
৫) নতুন প্রজন্ম, বিশেষত যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করেছে, স্বতস্ফূর্তভাবেই ইংরেজিতে কোডমিক্সিং এবং পরে কোড-সুইচিং করছে। তারা জানে না, সামাজিক জীবনে কোডমিক্সিং করাতে বাংলা ভাষার কী সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হচ্ছে।
৬) সমাজের উচ্চতর শ্রেণির মানুষজন বেশ স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজিতে কোডমিক্সিং এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোড-সুইচিং করছে। বিশেষত, সামরিক বাহিনীর কর্মকতাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। আভিজাত্য আর ইংরেজি কথা বলা তাদের কাছে অবিচ্ছেদ্য বিষয়।
৭) অন্যকে মুগ্ধ করা বা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ইংরেজি শব্দের জুড়ি নেই- সেটি চাকরি হোক কিংবা প্রেম। বিশেষ করে, বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকৃষ্ট করার কাজে ইংরেজির মিশ্রণ তো অনিবার্য।
৮) আপাত দৃষ্টিতে একটি নিম্নশ্রেণীর জনগোষ্ঠী থেকে নিজেকে আলাদা বা উচ্চমানের দেখানোর জন্য ইংরেজিতে কোডমিক্সিং করা হয়।
৯) অপ্রীতিকর অর্থ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্য আমাদের সমাজের অনেকেই ইংরেজি বা বিদেশি শব্দ ব্যবহার করেন। যথা: আমার স্ত্রী কনসীভ করেছেন; আপনাদের ওয়াশরুমটা কোন্ দিকে; ওর সাথে আমার এফেয়ার ছিলো; ডালমে কুচ কালা হ্যায়; কুচ কুচ হোতা হ্যায় ইত্যাদি।

 

কোনটি ভালো: ভাষামিশ্রণ নাকি ভাষাবদল?
আপনি পুরোপুরি বাংলা ভাষায়ই কথা বলছেন কিন্তু আপনার বিদেশি বন্ধুটি হয়তো ঠিকমতো অনুসরণ করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই বন্ধুর ভাষায় (ধরুন, ইংরেজিতে) কথা চালিয়ে গেলেন। অথবা ধরুন, আপনার স্বদেশি বন্ধুটি গোপনীয়তার স্বার্থে তার আলোচ্য বিষয়কে ইংরেজি বা ইটালিয়ানের পরিবর্তে হঠাৎ বাংলায় প্রকাশ করতে শুরু করলেন। ভাষাবিজ্ঞানে একে কোড-সুইচিং, বাংলায় ‘ভাষাবদল’ বলা যায়।
আপনার কথোপকথনকে যখন সম্পূর্ণভাবে অন্যভাষায় স্থানান্তর করলেন, তখন সেখানে দূষণ প্রায় থাকলো না। হয়তো বিদেশি ভাষায় আপনার সহজাত দুর্বলতা থাকতে পারে, তবু সেটা ভাষামিশ্রণের চেয়ে উত্তম বলা যায়। কেউ যদি আপনাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই তাকে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়া উচিত। আবার ওই ব্যক্তিটি যদি বাংলায় ফিরে আসেন, তবে আপনারও উচিত হবে বাংলায় কথা বলতে শুরু করা। তাতে সৌজন্যতার লঙ্ঘন হয় না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে আপনার শ্রোতা এর জন্য প্রস্তুত কি না। অতএব, অনেক ক্ষেত্রেই কোডমিক্সিং এর চেয়ে কোড-সুইচিং করা বরং উত্তম এবং বাঞ্ছনীয়।

 

কোডমিক্সিং এবং আমাদের প্রিয় বাংলার ভবিষ্যৎ

কোডমিক্সিং এর কথা বললে, আমাকেও পাওয়া যাবে এর সাথে জড়িত। অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি যে, যারা এর সমালোচনা করেন, তারাও এ ভুলের উর্ধ্বে নন। এটি একটি সার্বজনীন অনিয়ম যা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। বিশেষত, পারিভাষিক শব্দ ছাড়া আমাদের উচিত যথাসম্ভব বাংলা শব্দ ব্যবহার করা। এজন্য দরকার প্রচুর সচেতনতা এবং নিজ ভাষায় আরও দক্ষতা ও নির্ভরশীলতা।
উপরোক্ত সামাজিক কারণে যদি আমাকে ইংরেজি বলতেই হয়, তবে পুরোপুরিভাবেই আমি ইংরেজি বলবো- বাংলার মধ্যে ইংরেজির মিশ্রণ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর বাংলা রূপটি আমার জানা আছে। অনেক সময় ইংরেজি শব্দটি আমাদের কাছে সহজ হয়ে আসে: ইউনিভার্সিটি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় যা হয়! এজন্য, কাউকে বুঝানোর জন্য যদি ইংরেজি শব্দটি ব্যবহার করতে হয়, সেটি আলাদা বিষয়।
যোগাযোগ প্রযুক্তির এ যুগের শুরুতে কমপিউটারের ভাষা এবং ইন্টারনেটের ভাষা ইংরেজি হবার কারণে ইংরেজির আগ্রাসনকে স্বীকার করতেই হয়। কিছু কিছু শব্দকে ভাষান্তর করা প্রায় অসম্ভব এবং করলেও তা হাস্যকর শুনায়। এগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরে নিয়ে নিজ ভাষায় মনোনিবেশ করা উচিত। দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলো এবং বাংলাভাষার বিশেষজ্ঞরা নিরন্তর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন প্রযুক্তি আইন এবং বিজ্ঞান বিষয়ক বিদেশি শব্দরাজিকে একটি পারিভাষিক রূপ দিতে। প্রাচ্যের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদেরও উচিত সেসব পরিভাষাকে নিজেদের কথায় ও লেখায় স্থান করে দেওয়া। এছাড়া একটি ভাষা টিকবে কীভাবে?

 

[ডিসেম্বর ২০১২]  পাবলিক ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া।

 

 

*পরিভাষা:
পরিভাষাগত কারণে এবং সকলের বুঝার সুবিধার্থে, কোডমিক্সিং এবং কোড-সুইচিংকে ইংরেজিতেই ব্যবহার করতে হলো। এর বাংলা যথাক্রমে ‘ভাষামিশ্রণ’ এবং ‘ভাষাবদল’ লেখকেরই অনুমিত বাংলা নাম, যা হয়তো সঠিক নয় অথবা আত্তিকরণ হয় নি। ল্যাংজুয়েজ শিফ্টও এমনই একটি পরিভাষা।

 

**উৎস ও গ্রন্থপঞ্জি:
১) ২০১১, বিভিন্ন মাধ্যমে লেখকের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন;
২) ১৯৮৫, জ্যাক-জন-হেইডি, লংম্যান ডিকশনারি অভ্ এপ্লাইড লিংগোয়িস্টিক্স;
৩) ২০০৬, “উইথ হুম কোডমিক্সিং অকারস” শিরোনামের স্ন্যাপশটটি নেওয়া হয়েছে সুরাইয়া আলমের গবেষণাপত্র থেকে, সিডিআরবি পাবলিকেশনস;
৪) ১৯৯২, জ্যানিট হোমস, ইন্ট্রোডাকশন টু সোশিও লিংগোয়িস্টিক্স।

 

***পুনশ্চ:

উপরোক্ত শিরোনামে লেখাটি একটি প্রাথমিক খসড়া। ভাষার বহমানতার মতো এ লেখাটিও ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হবে আরও দৃষ্টান্ত এবং তথ্য দিয়ে। পাঠকের গঠনমূলক মতামত এখানে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

Advertisements