Tagged: কর্মজীবন

কর্মসংস্থান: পৃথিবী ভিতুদের জন্য নয়…নিয়ম ভাঙ্গুন, চাকরি ধরুন!

কর্মসংস্থান নিয়ে অনেক দিন কিছু লেখা হচ্ছে না। এদিকে অনেক কথা জমে আছে পেটে! চাকুরির বাজারটা ক্রমেই ‘ট্রিকি’ হয়ে আসছে। চাকুরি প্রত্যাশী এবং চাকুরি দাতা উভয়েই এখন মহাসংকটে! আস্থার সংকট তো আছেই, চিরাচরিত সংকট হিসেবে আছে একে অপরকে না বুঝার সংকট। এটি যেন আকারে-প্রকারে শুধুই বড় থেকে বিকটতর হচ্ছে। এরকম একটি কঠিন সময়ে আমি প্রশাসন থেকে বিযুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে এসে ল্যান্ড করলাম। এ বিষয়টি এর আগে প্রশাসনেরই অংশ ছিল। নতুন বোতলে পুরাতন জুস আর কী! সবই কর্তার ইচ্ছা!

আস্থার সংকটটি বুঝতে পারা যায় যখন বিধি মোতাবেক সমস্ত শর্ত মেনে আবেদন করার পরও ইন্টারভিউ কলটি আসে না। অথবা ইন্টারভিউ পর্যন্ত মোটামুটি ভালো করেও যখন, পরবর্তিতে কোন খবর আসে না, তখনই বুঝা যায় উভয়ের মধ্যে আস্থার অভাব আছে। এসময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো, রেফারেন্স ছাড়া চাকরি না হওয়া। অথবা প্রথম ব্যক্তিটিকে ডিঙ্গিয়ে দ্বিতীয় তৃতীয় বা চতুর্থ এমনকি দশম ব্যক্তিটিকে চাকরি দেওয়া।

একে অন্যকে না বুঝার ব্যাপারটি আরও স্বাভাবিক – তবে দুঃসহনীয়। দু’টি পক্ষ অত্যন্ত আনুষ্ঠানিক পরিবেশে প্রার্থী নির্বাচন বা ‘চাকরিটি পাইতেই হবে’ – এরকম চাপ নিয়ে রোবটিক আলোচনায় লিপ্ত হলে, এখানে ‌’আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ না হবারই কথা। প্রথাগতভাবে ‘না বুঝার পরিস্থিতিটি’ সৃষ্টি করেন নিয়োগকর্তা এবং এর কুফল ভোগ করেন উভয়ই। এরকম পরিস্থিতিতে চাকরি প্রার্থী আত্মবিশ্বাসী হলে, পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারেন।

 

একটি কেইস স্টোরি শেয়ার করছি। রাইসুল হাসান স্বভাবত উগ্র না। কিন্তু একটি সিনিয়র পদে চাকরির ইন্টারভিউতে সে বুঝতে পারে নিয়োগকর্তাদের কথায় কোন ফাঁক আছে। ইন্টারভিউয়ারদের সামনে বসেই সে রাগে ফুঁসতে থাকে। সে সমস্ত নির্দেশ অনুসরণ করেছে এবং প্রত্যাশিত যোগ্যতার প্রায় সবগুলোই তার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সাথে মিলে গেছে। টেস্টেও সে ভালো করেছে। তবু ইন্টারভিউয়ারদের একজন তাকে যা বললেন, তা হাসান মেনে নিতে পারছে না। ‘মি. হাসান, ফ্রাংকলি স্পিকিং… আপনার এভরিথিং ওকে। কিন্তু কিছু বিষয় আমাদেরকে প্রসিড করতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’ কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে হাসান করণীয় নির্ধারণ করে। হাসান জানে, চাকরিটা তার এমনিতেই হচ্ছে না। তাই রাগের মাথায় রাইসুল হাসান বেশকিছু প্রশ্ন করে বসলেন নিয়োগকর্তাদের নাক বরাবর! প্রশ্নগুলোর অধিকাংশই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, কাজের ধরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো স্বভাবতই কিছুটা আক্রমণাত্মক এবং স্পর্শকাতর হয়ে যায়। আর তাতে ‘ডিফেন্স’ করতে এগিয়ে আসেন বোর্ডের নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকা ভদ্রলোকটি। হাসান ধারণা করেছে, তিনিই হবেন প্রতিষ্ঠানের সিইও, কারণ উত্তরগুলো খুবই জুতসই এবং দায়িত্বশীল হচ্ছে। আইসব্রেকিং পর্ব শেষ! আস্তে আস্তে ইন্টারভিউর গোমট পরিবেশ হালকা হয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থায় চলে আসে। অন্যান্য ইন্টারভিউয়াররা ক্রমে কক্ষ ছাড়তে থাকেন। সিইও তার দুপুরের খাবার পিছিয়ে দেন। প্রায় দু’ঘণ্টার আলাপচারিতার বিস্তারিত সকল তথ্য এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। প্রাসঙ্গিক হলো, নিয়মভঙ্গ করে হাসান সেদিন রোবটিক আলোচনাকে ‘মানবিক সমঝোতায়’ রূপ দেয়। প্রশ্ন-উত্তর আর প্রতিপক্ষ-মুখী জিজ্ঞাসাবাদকে সমঝোতামুখী সংলাপে পরিণত করে। হাসানকে সাহায্য করেন প্রতিষ্ঠানের সিইও নিজে। রাইসুল হাসানের সরল কিন্তু তীক্ষ্ণ ও প্রত্যক্ষ প্রশ্নগুলোকে কর্তৃপক্ষ সততা ও পেশাদারিত্বের চিহ্ন হিসেবে দেখেছে। সঙ্গতকারণেই এর ফলাফল হাসানের পক্ষে চলে যায়।

রাইসুল হাসানের ঘটনায় অনেক প্রতিষ্ঠিত কিছু প্রথার ব্যতিক্রম হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যে নিয়মটি হাসান লঙ্ঘন করেছে, তা হলো ইন্টারভিউ বোর্ডে বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা। চাকরির ইন্টারভিউতে একটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো, নিয়োগকর্তাদের সাথে বিতর্ক সৃষ্ট হয় এমন কথা বলা বা এমন প্রশ্ন করা যাবে না। তাতে সব ভেস্তে যাবে। কিন্তু হাসানের ব্যক্তিত্বে এবং কণ্ঠস্বরে এমন কিছু ছিলো, যার কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেও নিজের পক্ষে তা কাজে লাগাতে পেরেছে।

অফিস এবং আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও নিজের স্বকীয়তা তুলে ধরার বিষয়টি অনেক প্রার্থী মনে রাখতে পারে না। নিজস্বতা তো নেই-ই, নিজের সর্বনিম্নটুকু তুলে ধরতে ব্যর্থ হয় অনেকে। এই সমস্যার গোড়া অনেক গভীরে। যেতে হবে আমাদের স্কুলজীবনে, যেখানে নিজস্ব কিছু করা মানেই শিক্ষকের বেত আর মায়ের বকুনি। ইংরেজি অথবা গণিতকে ছোটকাল থেকেই ‘কঠিন বিষয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকের কাছে জিম্মি থেকে আমাদের শিক্ষা জীবন শেষ হয়। তাই ব্যতিক্রম আমরা প্রায় জানি না।

 

এরকম সমাজ ব্যবস্থায় টিকে থাকা এবং নিজেকে অতিক্রম করা খুবই কঠিন। তবু কয়েকটি নিয়ম লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। পৃথিবীর যাবতীয় বিধান, নীতিমালা আর চুক্তিনামা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে – চাকরি প্রার্থীর পক্ষে কেবল একজনই থাকে। তাই চাকরি প্রার্থীর পক্ষ থেকে কয়েকটি ব্যতিক্রম তুলে ধরা চেষ্টা করলাম। এগুলোই সব নয় – কেবলই দৃষ্টান্ত:

১) প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছকে আবেদনপত্র ব্যতিত আর কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না -এনিয়মটি মানতেই হবে এমন নয়। ঘোষিত পদ এবং দায়িত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট ট্রেনিং বা অভিজ্ঞতার সনদ থাকলে তা যুক্ত করা যায়। প্রথম দর্শনই সেরা দর্শন।

২) সিভিতে ‌’আমি’ শব্দটি একদমই ব্যবহার করা যাবে না, এটিও খোঁড়া যুক্তি। চাকরির আবেদন মানেই হলো নিজেকে নিয়ে মার্কেটিং করা। যেখানে ব্যক্তিগত যোগ্যতাই প্রধান নিয়ামক, সেখানে অন্তত ৪/৫বার ‌’আমি’ ব্যবহারে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না। আমি ব্যবহার করলে আবেদনপত্রটিকে বরং একটু ‘মানবিক’ দেখাবে। মানবিক হওয়াটা জরুরি। মানুষ যা পছন্দ করে, তার সবই প্রকাশ করতে পারে না! নিয়োগকর্তারা সকলে জানেন না, তারা কিসে সন্তুষ্ট হবেন।

৩) ‘আপনার সমস্ত কাজের/চাকুরির বিবরণ দিন।’ কী দরকার আছে এত কিছু বলার? সমস্ত কর্মজীবনের ইতিহাস তাদেরকে জানিয়ে কী লাভ! তার পরিবর্তে এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা/ কর্মসংস্থানের বিবরণ তুলে ধরা যায়।

৪) ‘আগ্রহীদেরকে নিম্নের ঠিকানায় আবেদনপত্র পাঠাতে অনুরোধ করা হলো।’ এভাবে নিয়ম পালন করে অনেকেই তার সিভিখানি প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যক্তির হাতে পৌঁছাতে পারে নি। দোষ দিয়েছে ডাকবিভাগের অথবা নিজ কপালের। পরামর্শ হলো, তাদের নির্দেশিত ঠিকানা ছাড়া আরও কোন সরাসরি পথ আছে কিনা, তা খুঁজে বের করতে হবে। অনেকে নিয়োগকর্তার নামটি সংগ্রহ করে একদম তার নাম উল্লেখ করে আবেদনপত্র পাঠায়। ইন্টানেটের যুগে নাম বেরা করা খুব কঠিন নয়। নিয়োগকর্তা যদি সত্যিই উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করতে চান, তবে বিশেষ মাধ্যমে পাঠানোর কারণে আপনার আবেদনপত্রটি বাতিল হবে না। বরং আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।

৫) ‘অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ প্রার্থীর অযোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে।’ হতেই পারে। তবে পরিস্থিতি বুঝে এখানেও কিছু কৌশল খাটানো যায়। কোন রেফারেন্স না দিয়ে নিজের যোগ্যতার বিবরণ দিয়ে এবং কোন পদের উল্লেখ না করে – নিয়োগকর্তাকে একটি ইনফরমাল চিঠি পাঠানো যায়। গৃহীত হলেও চমৎকার, না হলেও প্রার্থীর ফাঁসী হবে না!

৬) ‘আপনার বেতনের ইতিহাস তুলে ধরুন।’ বললেই হলো? সংশ্লিষ্ট পদে তারা কী পরিমাণ বেতন দিয়েছেন, তা কি তারা কখনও জানাবেন? কখনও না। তবে কেন নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নেগোশিয়েটিং স্ট্রেংথ কমানো? এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বিবরণ দিলে কিন্তু বুমেরাং হতে পারে। তবে সত্যটি গোপন করা যায়।

৭) ‘আমরা প্রশ্ন করবো, আর আপনি শুধু উত্তর দেবেন’ এরকম একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু নিয়োগকর্তাদেরকে এতো সুযোগ দিয়ে নিজেকে ‘ভেড়া’ বানাবেন না। একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরবর্তি প্রশ্নটির জন্য বোকা হয়ে বসে থাকবেন, সেটি না করলেও চলবে। উত্তর দিন, তবে সুযোগমতো প্রশ্নও করুন। অনেক সময় প্রশ্নকর্তাদের মধ্যেও বিরতি থাকে। বিনয়কে অস্ত্র হিসেবে ধারণ করে সেসব বিরতিতে নিজেকে প্রবেশ করাতে হবে। সাধারণত, প্রশ্ন যে করে, চালকের আসনে সে-ই থাকে।

 

ইন্টারভিউ বোর্ডে ‘সবই ঠিক আছে’ বা ‘আমি রাজি’ গায়ে পড়ে এমন মনোভাব দেখানোর চেয়ে নিজের সামর্থ্যটুকু দেখানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন, ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্ন বা কোন প্রকার জিজ্ঞাসা করলে তাতে কাজটির প্রতি প্রার্থীর অনীহা প্রকাশ পাবে। অথবা, নিয়োগকারী নাখোশ হতে পারেন। নিয়োগকারীকে খুশি করার চেষ্টা না করে, সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে। তারা আনন্দ পেতে বসেন নি, উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাবার জন্য বসেছেন।

কাজটি পেলেই করবো। নির্বাচিত হলেই ওই বিষয়ে পড়াশুনা শুরু করে দেবো। এরকম শর্তে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে, পছন্দের প্রতিষ্ঠান/কাজটিকে লক্ষ্য করে আগে থেকেই কিছু জেনে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ। ‘আপনার কোন জিজ্ঞাসা আছে?’ এরকম সুযোগে তখন কার্যকর কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে। তাতে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রার্থীর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পায়। নিয়োগকর্তাদের মনে আস্থার সৃষ্টি হয়। প্রশ্নে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। উত্তরের মধ্য নয়, প্রশ্নের মধ্য দিয়ে মানুষকে চেনা যায়।

একটি সফলতা পরেরটিকে এগিয়ে নিয়ে আসে। ইন্টারভিউ বোর্ডে বেয়াদবি করার দরকার নেই, সেটি যোগ্যতার অংশ নয়। নিয়োগকারীর প্রশ্ন আক্রমণাত্মক হলেও মনে করতে হবে, এর অন্য কোন অর্থ আছে। রেগে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করলে, সেটি ভালো ফল নিয়ে আসবে না। বরং নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হবে, যা পরবর্তি প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশ্নের উত্তরে যথাযথ আচরণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর জানতে হবে এমন কোন কথা নেই, সেক্ষেত্রেও নিজেকে ধরে রাখতে হবে। এখানে লজ্জার কিছু নেই। আবার অতি বিনয়কে তারা লাজুক বা অন্তর্মুখী স্বভাব হিসেবে ধরে নিতে পারেন। তাই বিনয়ের অবতার হয়ে জানা বিষয়টিকেও এড়িয়ে গেলে কোন ফল হবে না। একেকটি প্রশ্ন একেটি সুযোগ।

যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আত্মবিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বায়বীয় বিষয়। মনস্তাত্ত্বিকদের কাছে আত্মবিশ্বাস হলো বিশ্বাসের মধ্যে। আপনি ততটুকুই আত্মবিশ্বাসী যতটুকু আপনি মনে করেন। আরেকটি নিয়ম হলো, আত্মবিশ্বাস কেউ দিয়ে দেয় না, নিজে থেকেই অর্জন করতে হয়।

সমাজে প্রকৃত নেতার খুবই অভাব। কিন্তু আত্মবিশ্বাস নেতৃত্বদানের জন্য প্রধান নিয়ামক। চাকরি প্রার্থীকে মনে রাখতে হবে যে, ইন্টারভিউ বোর্ডে আত্মবিশ্বাস তার যোগ্যতারই অংশ। ওটি না দেখাতে পারলে, উত্তর সঠিক হলেও তা পালে বাতাস পাবে না।

চাকুরির বাজার যেন একটি গ্ল্যাডিয়েটরস থিয়েটার! যোগ্যতা দেখিয়ে চাকরি পাওয়া একটি নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া, তাতে সন্দেহ নেই। বর্তমান চাকরির বাজারটি আরও অমানবিক হয়ে যাচ্ছে। প্রার্থীর প্রচেষ্টা থাকবে মানবিক হবার এবং যতটুকু সম্ভব ঘরোয়া পরিবেশ ফিরিয়ে আনার।

এসব ক্ষেত্রে যেসব বিধি-বিধান বা নিয়ম-নীতি আছে, তার প্রায় সবই নিয়োগকারীর অনুকূলে। বুদ্ধিমান প্রার্থীরা দু’টি কাজ করেন: ১) নিজের মতো করে সেগুলো অনুসরণ করেন অথবা/এবং ২) সুযোগমতো এড়িয়ে চলেন। ভুলে গেছি, ব্যস্ততার কারণে সার্কুলারটি ভালোভাবে পড়ার সুযোগ হয়ি নি অথবা আমি তো কেবল আজই জানলাম – সাথে সাথে আবেদন করলাম। এসব বলেও কিছু বিধান এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন অনেক প্রার্থী। প্রার্থীকে শুধু মানবিক হবার চেষ্টা করলেই, অনেক নিয়মকে তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন।

 

শেষ কথা: বিষয়টিতে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে। কর্মসংস্থানের মৌলিক সমস্যাগুলো এই পোস্টে পর্যাপ্ত আলোচিত হয় নি। কর্মসংস্থান বা চাকুরি পাবার সাথে জড়িত প্রধান বিষয়গুলো হলো: দক্ষতা, যোগ্যতা এবং ব্যক্তিত্ব। সম্পূর্ণ বেকারত্বের চাপ নিয়ে ভালো চাকুরির জন্য নেগোশিয়েশন করা যায় না। তাই নতুনদের কাছে পরামর্শ হলো, প্রারম্ভিক কোন কাজে যুক্ত হয়ে প্রাথমিক কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। আত্মবিশ্বাস এবং সংশ্লিষ্ট চাকরিটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকলে প্রার্থী যেকোন ব্যতিক্রম করতে পারেন। ব্যতিক্রমের লক্ষ্য হতে হবে: মানবিক এবং নৈকট্য সৃষ্টি করা। নিয়মের ব্যতিক্রম করাই যেন একমাত্র লক্ষ্য না হয়।

 

৩ সেপটেম্বর ২০১৪। পাবলিক ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া

কর্মস্থলে অপ্রত্যাশিত প্রতিবন্ধকতা ও গঠনমূলক সমালোচনা

 

কয়েক বছর আগে আমার এক বন্ধু তার কোম্পানির কিছু সিনিয়র কর্মকর্তার ব্যাপারে আমার কাছে অভিযোগ করছিলেন।  কোম্পানীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তাদের পদগুলোতে নতুন লোক নেওয়া হয়েছে। “সবগুলো ছিল একেকটি অপদার্থ” আমার বন্ধুটি বলতে লাগলেন।  “এরা কেউই আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে নি।”

আমি জানতাম আমার এই বন্ধুটি একজন পারফেক্শনিস্ট, অর্থাৎ খুঁতখুঁতে – সবকিছুই নিখুঁতভাবে করার জন্য তিনি সবসময়ই চেষ্টা করেন। তার পদচ্যুত কর্মকর্তাদের অযোগ্যতার বিবরণ শুনার পর আমার মনে হলো, সেই কর্মকর্তাদের মধ্যে খুব সমস্যা নেই, বরং তাদেরকে যিনি নিয়োগ দিয়েছেন তার মধ্যেই সমস্যা।

আমার বন্ধুটি যখন তার সাবেক কর্মীদের সম্পর্কে তার নেতিবাচক মূল্যায়ন শেষ করলেন, আমি যথাসম্ভব বিচারকের ভূমিকায় না যাবার চেষ্টা করলাম। সরাসরি সমালোচনা না করে আমি বললাম, “কর্মীদের ব্যর্থতার পেছনে আমি শুধু একটি কারণই প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখতে পাচ্ছি।” আমি যে তাকেই ইশারা করছি, আমার বন্ধুটি তৎক্ষণাৎ তা বুঝে নিলেন। তিনি আমার মন্তব্যটি ইতিবাচকভাবেই নিলেন এবং কর্মীর প্রতি তার ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো পুনর্বিবেচনা করলেন।  আমার এই মৃদু ভর্ৎসনার জন্য আমার এই বন্ধুটি একদিন আমাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন।

হয়ত সেদিন আমি চুপ করে থাকতে পারতাম। কোন কথা না বলে তার অভিযোগগুলো আমি শুধু শুনেই যেতে পারতাম।  কিন্তু আমি মনে করলাম সমস্যাটি একটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার জন্য তাকে সাহায্য করা উচিত। যদিও কাউকে দুঃখ না দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা কঠিন, কিন্তু বন্ধু বন্ধুর কাছ থেকে আন্তরিক সমালোচনা পেতে পারে।

জ্ঞান সাধকেরা বলে থাকেন: যে লোক খোসামুদে কথা বলে তার চেয়ে যে সংশোধনের কথা বলে, সে শেষে বেশি সম্মান পায়।

এধরণের পরিস্থিতির আরেকটি দিক হলো, অন্য ব্যক্তিটি কীভাবে পরামর্শটি গ্রহণ করলো এবং কীভাবে তা কাজে প্রয়োগ করলো।  কর্মীদের অযোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে আমার বন্ধুটি হয়ত মনে মনে আমার মতামতটি প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন। হয়তো তিনি বিনয়ের সাথে আমার মন্তব্যটি গ্রহণ করে গোপনে সংশোধন হতে পারতেন। এবিষয়ে নিচে আরও কিছু দিক তুলে ধরা হলো।

সংশোধনের কথা গ্রহণের মনোভাব সফলতা নিয়ে আসে। একটি আন্তরিক সমালোচনা শৃঙ্খলার পূর্বশর্ত। কারণ সমালোচক তার সংশোধনমূলক কথা দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে সহায়তা দিতে পারেন। তাতে সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হন।  প্রবাদে বলা হয়েছে: যে শাসন মানে সে জীবনের পথে চলে, কিন্তু যে সংশোধনের কথা অগ্রাহ্য করে সে বিপথে যায়। প্রবাদে আরও আছে: যে লোক শাসন অগ্রাহ্য করে সে অভাবে পড়ে ও লজ্জা পায়, কিন্তু যে লোক সংশোধনের কথায় কান দেয় সে সম্মানিত হয়।

ইতিবাচক সমালোচনা গ্রহণ না করা বোকামী।  কর্মক্ষেত্রে প্রায়ই আমরা সমস্যার এত নিকটে অবস্থান করি যে সঠিক সমাধান খুঁজে পাই না। আস্থাভাজন বন্ধু বা সহকর্মীর চিন্তা থেকে এমন তথ্য বের হয়ে আসে যা সরাসরি উপেক্ষা বা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। “যে লোক শাসন ভালবাসে যে জ্ঞান ভালবাসে, কিন্তু যে লোক সংশোধনের কথা ঘৃণা করে সে পশুর সমান।” (প্রবাদ)।

একটি সময়োচিত বিরোধিতা ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে রক্ষা করে। আপনি যদি অপরিচিত রাস্তায় চলে কোন বিপদের মুখে পড়েন, তখন আপনি এমন ব্যক্তির সহযোগিতা চাইবেন যিনি ওই রাস্তায় হেঁটেছেন। একই কাজ করবেন আপনি কোন বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেবার পূর্বেও। “জ্ঞানী লোকের দেওয়া শিক্ষা জীবনের ঝর্ণার মত; তা মানুষকে মৃত্যুর ফাঁদ থেকে দূরে রাখে।” (প্রবাদ)।

 

আলোচনা এবং আত্মমূল্যায়নের জন্য কিছু বিষয়:

১)      সংশোধন বা সমালোচনার কথায় আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করেন? আপনি কি আত্মরক্ষামূলক আচরণ করেন? আপনি প্রত্যাখ্যানমূলক আচরণ করেন, নাকি গ্রহণমূলক মনোভাব দেখান? আপনার উত্তরের পক্ষে ব্যাখ্যা দিন।

২)       অন্য দিক দিয়ে বিবেচনা করলে, আপনি যখন দেখেন কেউ কোন ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করা কতটুকু সহজ বা কঠিন বলে আপনার মনে হয়? সম্ভব হলে দৃষ্টান্ত দিন।

৩)      প্রবাদের কথামতো তোষামোদকারী নয় অবশেষে সমালোচনাকারীই পুরস্কৃত হন। এবিষয়ে আপনার মতামত কী? আপনার মতামতের পক্ষে যুক্তি দিন।

৪)      প্রবাদের কোন্ কথাগুলো আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য বলে মনে হয়?

 

(ফটো সংগৃহীত)

 

 


[মূল ধারণা: রিক বক্স – বিশ্বব্যাপী পেশাজীবীদের পথপ্রদর্শক।  লেখাটি পাঠক প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশিত। ১০ সেপটেম্বর ২০১৪]

১১টি দক্ষতা, যা শেখা কঠিন কিন্তু জীবনের জন্য দরকারি

বাজারে অনেক রকমের দক্ষতার সদাই হয়।  মানুষ আজ কত দক্ষ হয়ে ওঠছে, সেটি বিশ-ত্রিশ বছর আগের মানুষের সাথে তুলনা করলেই বুঝা যায়।  কিন্তু পরিতাপের বিষয়টি হলো, মানুষ একদিক দিয়ে দক্ষ হচ্ছে, অন্যদিক দিয়ে সম্পর্কগুলো নষ্ট হচ্ছে।  বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পরিবার ভেঙ্গে যাচ্ছে, ডিভোর্সের হার বেড়ে যাচ্ছে।  উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষের বড় ক্ষতিটি হলো, নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে পড়ে যাচ্ছে। তাই তথাকথিত দক্ষতাগুলো থেকে নিজেকে একটু ভিন্ন অবস্থানে রাখা উচিত।

পুনরাবৃত্তি হলেই দক্ষতা চলে আসে।  অথবা বাস্তব জীবনে চর্চার মাধ্যমে আসে।  কিন্তু কিছু দক্ষতা আছে, যা কর্মজীবীদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে তেমন নেই।  কিছু বিষয় আছে, যা প্রচলিত অর্থে দক্ষতা নয়, কিন্তু দক্ষতার চেয়েও বেশি সুফল এনে দেয়।  সেগুলো একটু কঠিন, কারণ শুধু পুনরাবৃত্তি দিয়ে হয় না, উপলব্ধি আর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে আসে।  কঠিন হলেও এসবের অনেক উপকারিতা আছে।

 

-চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা-

-অপ্রয়োজনীয় আলাপ বা অন্যের সম্পর্কে গালগপ্পো নিয়ন্ত্রণ করতে পারা-

-নিজের কাজে মনসংযোগ রাখতে পারা-

-অন্যকে শোনা-

-কোন সময় চুপ থাকতে হয় সেটি বুঝতে পারা-

-নিজের সাথে ইতিবাচক কথোপকথন-

-অভ্যাসের ধারাবাহিকতা-

-অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া-

-সময় ব্যবস্থাপনা-

-অন্যের প্রতি সহানুভূতি থাকা-

-ঘুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা-

✿✿✿✿✿✿✿

 

 

1313-crop

১১)  চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা

আমরা আমাদের চিন্তারই ফসল। আমরা যা ভাবি যেভাবে ভাবি, আমাদের আচরণ তা-ই প্রকাশ করে। প্রথমত চিন্তাকে যাচাই করতে হয়, যেন সেখানে ক্ষতিকারক কিছু না থাকে।  চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, আমরা যা করতে চাই তা করতে পারি।

কিন্তু সকলেই যা করতে চায় তা করতে পারে না। এজন্য বলা হয়, সবাই ভালোভাবে ভাবতে পারে না।  অথবা, সবাই ভালোভাবে তাদের চিন্তাকে প্রকাশও করতে পারে না। চিন্তাকে সুষ্টুভাবে প্রকাশ করতে পারলেই একে নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা চলে আসে।

এর সাথে আরেকটি দক্ষতা জড়িয়ে আছে: সকল অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকার দক্ষতা।  এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দক্ষতা।  মিথ্যা আত্মসন্তুষ্টি নয়, কিন্তু পরিস্থিতিকে ঠাণ্ডা মাথায় মূল্যায়ন করে করণীয় নির্ধারণ করতে পারা।

অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে শুদ্ধ করাই হলো ভালো চিন্তার ফল।

 

১০)  অপ্রয়োজনীয় আলাপ বা অন্যের সম্পর্কে গালগপ্পো নিয়ন্ত্রণ করতে পারা

মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্পর্ক।  টাকাকড়ি সবই হারালে পাওয়া যায়, কিন্তু সম্পর্ক হারালে তা কখনও পূর্বের অবস্থায় পাওয়া যায় না। তাই সম্পর্ক গড়া এবং রক্ষা করা জীবনের জন্য খুবই দরকারি।

সম্পর্ক রক্ষার জন্য প্রথম শর্ত হলো আস্থা। অনেকের মতে, এই আস্থাকে নষ্ট করে ফেলার জন্য প্রথমে দায়ি হলো, পেছনে কথা বলার অভ্যাস।  কারও অনুপস্থিতিতে তার বিষয়ে নেতিবাচক আলোচনা করলে তাতে আস্থা নষ্ট হয়ে যায়।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, অন্যের পেছনে কথা বলা খুবই মজার এবং তাতে দ্রুত কারও বন্ধু হয়ে যাওয়া যায়। প্রবাদে আছে, দু’জনের শত্রু একই ব্যক্তি হলে সেই দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব অনিবার্য। কিন্তু সম্পর্ক ও আস্থার দিক থেকে এটি খারাপ একটি অভ্যাস। একজনের সাথে শত্রুতা অনেকের সাথে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে।  তাই অন্যের পেছনে আলাপ নিয়ন্ত্রণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

এসব পরিস্থিতিতে যা করতে হয়, তা হলো নিশ্চুপ থাকা।  কৌশলে অন্য বিষয়ে আলোচনাকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। অথবা বলা যায়, “আমরা কি বিষয়টি বদলাতে পারি?”  ক্রিড়া বা রাজনীতির মতো জনপ্রিয় অথবা গরম ইস্যু ছেড়ে দেওয়া যায় আলোচনার টেবিলে।

 

৯)  নিজের কাজে মনসংযোগ রাখতে পারা

মনসংযোগ ধরে রাখা কঠিন কাজ। এ দক্ষতা অর্জন করতে কারও কারও জীবন শেষ হয়ে যায়।

নিজের কাজে লেগে থাকা কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা।  কারণ বর্তমান যোগাযোগ প্রচুক্তির এদিনে বাড়তি বিপত্তির শেষ নেই।  মোবাইল ফোন, মেসেজ এলার্ট, সোস্যাল নেটওয়ার্কিং, ইমেইল, ইন্টারকমে সহকর্মী, বসের কল ইত্যাদি লেগেই আছে।  যারা নিজের অবস্থানকে উন্নত করতে চান, তারা এসবকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটকে রাখেন।

মনযোগ নষ্ট করার আরেকটি সহজাত প্রবণতা হলো অন্যের কাজে নাক গলানো। অন্যের দুর্বলতা নিয়ে মেতে থাকা। নিজের কাজে মনোযোগ দিলে অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব।

অন্যের ভুলত্রুটি থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিজের দুর্বল দিকগুলোতে মনোযোগ দিলেই কেবল উন্নয়ন সম্ভব।  মনসংযোগ ধরে রাখতে পারা একটি মূলবান দক্ষতা।

 

৮)  অন্যকে শোনা

কিছু মানুষ আছে যারা শুনে অর্ধেক, বুঝে চারভাগের একভাগ এবং চিন্তা করে শূন্য পরিমাণ, কিন্তু প্রতিক্রিয়া করে দ্বিগুন।  তারা কথা না বলে শুনতে পারে না। কিন্তু শোনা মানে হলো ‘চুপ থাকা’।

মানুষের সাথে সম্পর্কের শুরু হয় তাকে শোনার মধ্য দিয়ে।

শোনার মধ্য দিয়ে অনেক পেশাগত ও সামাজিক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যায়।

একটি ব্যস্ততম কল সেন্টারের ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে তিনি অগণিত অভিযোগের নিষ্পত্তি করেন। ব্যবস্থাপক শুধু সংক্ষেপে জানালেন যে, ৮০% অভিযোগ শুধু শুনে এবং লিখে রাখাতেই সমাধান হয়। বাকি ১০% অভিযোগ শেষ হয় অপেক্ষায়। অর্থাৎ কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখলেই ১০% অভিযোগের সমাধান হয়। মাত্র ১০% অভিযোগ নিয়ে বাস্তবিকভাবে তাদেরকে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো, গ্রাহকের অভিযোগগুলো পূর্ণ মনযোগ এবং সহানুভূতির সাথে শুনে যাওয়া।

শোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দক্ষতা যেটি নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আয়ত্ত করা যায়।  এর নিজস্ব কিছু কৌশল আছে যা ব্যক্তিগত আগ্রহের মাধ্যমে নিজের আচরণে অন্তর্ভুক্ত করা যায়

 

 

 

1212

৭)  কোন্ সময় চুপ থাকতে হয় সেটি বুঝতে পারা

কোন বিষয়ে রাগ অথবা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না।  আমাদের চারপাশে অনেক সমস্যা আছে, যা একার পক্ষে সমাধান করা যায় না।  আমাদের দরকার শুধু চুপ থাকা।  অথবা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করা।

অনেক সময় কথা বলার চেয়ে নিশ্চুপ থাকাই সঠিক অবস্থান। তা না হলে পরে পস্তাতে হতে পারে। নিরবতাই উপযুক্ত উত্তর, এমন পরিস্থিতিতে আমরা সকলেই পড়ি।  শুধু দরকার সেটি বুঝতে পারার।

চুপ থাকা মানেই দায়িত্ব এড়িয়ে চলা নয়, অন্যকে করার সুযোগ করে দেওয়া।

চুপ করা মানে অন্যকে কথা শেষ হতে দেওয়া।

চুপ করা মানে নিজের সঠিক মেজাজটুকু ফিরে পাবার জন্য সময় নেওয়া।

অনেক বিষয় আছে যা নিজের মধ্যে রাখাই উত্তম।  আমরা যখন রাগ করি, অথবা যখন হতাশ হই, বা যখন বিরক্ত হই, তখন কিছু না বলাই ভালো। তাতে অপ্রয়োজনীয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত মুখ থেকে বের হয়ে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে চুপ করে চিন্তা করাই উত্তম। মেজাজ স্বাভাবিক হলে সঠিক পদক্ষেপটি গ্রহণ করা যায়।

যখন আমরা উত্তেজিত হয়ে পড়ি, সেটা চরম দুঃখে অথবা চরম আনন্দের কারণে হতে পারে, তখন নিজের মুখকে বন্ধ রাখলে ভবিষ্যত আক্ষেপ থেকে নিজেকে বাঁচানো যেতে পারে।

কাজটি খুবই কঠিন, কিন্তু যারা এটি আয়ত্ত করতে পেরেছেন তারাই শুধু জানেন এর কত উপকার।

 

৬)  নিজের সাথে ইতিবাচক কথোপকথন

অন্যেরা আমাদের সম্পর্কে কী ভাবে, অবশেষে সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় না।  গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা নিজেরা নিজের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করি।

নিজের সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সময় লাগে।  কিছু অমূল্য গুণ আছে যা অনেকেরই থাকে না।  অথচ সেটি আমাদের দরকার। এজন্য নিজেদের সাথে ইতিবাচক থাকা খুবই প্রয়োজন।

ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আত্মসমালোচনা করলে অভাবনীয় ফল আসে।  এটি মূলত নিজের সাথে ‘নেতিবাচক কথা’ বলা। চর্চা করলে আস্তে আস্তে সেটি ইতিবাচক এবং প্রেরণামূলক আত্মকথনে রূপ নিতে পারে।

 

৫)  অভ্যাসের ধারাবাহিকতা

কোন একটি  বিষয়ে ধারণা নিতে চাইলে প্রয়োজন নিয়মিত চর্চা।

তাই প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিষয়টি সময় দেবার মতো কি না।  তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে কি না।

যদি উত্তর হ্যাঁ-সূচক হয়, তবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে।  একেবারে বাদ দেবার চেয়ে বরং অনিয়মিতভাবে করাও উত্তম।

অনেকে নিজের অবস্থান ভালো করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, কিন্তু সেখানে পৌঁছে অথবা কাছাকাছি গিয়ে আন্তসন্তুষ্টিতে ভোগে। অথবা অলসতায় পড়ে যায়। এসবকে অতিক্রম করার জন্য যা কিছু করা হয়, সেটিই অভ্যাসের ধারাবাহিকতা।

 

 

৪)  অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া

একটি চাকরির সাক্ষাৎকারে নিয়োগকর্তারা সাফ জানিয়ে দিলেন যে, “আপনি একাজটি করতে পারবেন না যদি অন্যের সাহায্য নেবার ইচ্ছা বা দক্ষতা না থাকে।” নিজের কাজে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে পারা একটি দারুণ দক্ষতা।

চাকরিতে যোগদানের পর দেখা গেলো পূর্বে ব্যক্তি তার চাকরিটি হারিয়েছিলেন শুধু এজন্য যে, তিনি সমস্যাকে গোপন করতেন এবং কারও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতেন না।

অন্যের সাহায্য নেওয়ার মধ্যে অতিরিক্ত যে জিনিসটি পাওয়া যায় তা হলো, কাজের মধ্যে অংশীদারিত্ব বেড়ে যায়। এর সফলতা ও ব্যর্থতায় সকলেই ভাগ পায়। কাজটি হয়ে যায় সকলের। কিন্তু কৃতীত্ব একজনেরই, যিনি সকলকে সম্পৃক্ত করতে পারলেন।

এখানে আরেকটি বিষয় হলো, ঠিক ‘কখন অন্যের সাহায্য নেবার প্রয়োজন’ সেটি বুঝতে পারা। অন্যের অংশগ্রহণ কখন দরকার, সেটি পরিমাপ করতে পারা আরেকটি বিশেষ গুণ।

অন্যের সাহায্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমরা অন্যের সামর্থ্যকে যেমন মাপতে পারি, তেমনি পারি নিজের নেতৃত্বদানের যোগ্যতাকে যাচাই করতে।

বিষয়টি একই সাথে অন্যের আস্থা অর্জনেরও সুযোগ করে দেয়। তাতে ক্রমেই আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। এটি একটি দক্ষতা বটে!

 

৩)  সময় ব্যবস্থাপনা

সময় ব্যবস্থাপনার কোন  সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা পথনির্দেশ আজও আবিষ্কৃত হয় নি। বিষয়টি পুরোপুরি ব্যক্তির একক সৃজনশীলতার ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে একটি প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র থেকে সিনিয়র পদের ব্যক্তি সবারই সময় সীমাবদ্ধতাকে মেনে চলতে হয়।

ফলে সময় ব্যবস্থাপনা যারা ভালোমতো করতে পারেন, তারা সকলের মনযোগ আকর্ষণ করেন সহজেই। চাকরিদাতারাও এ গুণটিকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন এবং এটি কর্মী মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একজন জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তা বলেছিলেন, কাজটি করা নয়, কাজটির ‘পরিকল্পনা করাই’ আমার কাছে সবচেয়ে বেশি কঠিন লাগে। এর একটিই কারণ, কাজ অনুযায়ি সময়কে উপযুক্তভাবে ভাগ করতে পারা।

সময় ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি দক্ষতা হলো, অগ্রাধিকার বুঝতে পারা। কোন্ কাজটি আগে, এবং কোন্ কাজটি পরে করতে হবে।

একটি ‘টু-ডু লিস্ট’ এখানে সহজ উপায়।  তাহলে নিজের কাজগুলো ‘দৃশ্যমান পরিকল্পনায়’ রূপ নেয় এবং সময় ব্যবস্থাপনা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

 

 

২)  অন্যের প্রতি সহানুভূতি থাকা

আমরা যত দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং চৌকস কর্মকর্তা হই না কেন, অন্যের অনুভূতির প্রতি যত্নশীল না হলে ওসব যোগ্যতা কোন কাজেই আসে না।  ওগুলি বরং আত্মঅহংকারে ফুলিয়ে তোলে আমাদেরকে।

অন্যের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব না থাকলে ‘নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা’ কেবলই প্রতিপক্ষ তৈরি করে।

নিজেদের যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আমরা মানুষকে মুগ্ধ করতে পারি, কিন্তু তারা আমাদের আচরণ দ্বারাই কেবল প্রভাবিত হয়।  মানুষ আমাদের কথা শুনে, কিন্তু আচরণকে অনুভব করে।  এই অনুভবই তাদের বেশি মনে থাকে।

অন্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকলে, জীবনের অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।  সবচেয়ে বেশি সহজ হয় যেটি, তা হলো সম্পর্ক।

অন্যকে আপন করতে পারা একটি বিরল মানবিক গুণ, যা মুহূর্তে আমাদেরকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে।

অন্যের প্রতি সহানুভূতি একটি বিশেষ গুণ।  কর্মক্ষেত্রে একে দক্ষতা বলা হয়, কারণ নিজের চেষ্টা দিয়েই কেবল একে অর্জন করা যায়।

 

১)  ঘুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা

যোগ ব্যায়াম মানুষের দেহ ও মনকে সতেজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।  কিন্তু দালাই লামা বলেছেন, ঘুমই সর্বোত্তম যোগ ব্যায়াম।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, যারা ঘুমের রুটিন মেনে চলতে সমর্থ হয়েছেন তারা শোয়া মাত্রই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন।  এবং সময়মতো ঘুম থেকেও ওঠতে পারেন।  কর্মজীবীরা জানেন, এই অভ্যাস কত মূল্যবান।

যারা দিনের সময়টিতে সতেজ এবং ক্লান্তিহীন থাকতে চান, কেবল তারাই জানেন পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারা কত ভালো একটি গুণ।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই ব্যক্তির অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে।  যারা রাতে ভালো ঘুমাতে চান, সাধারণত তারা বিকালের পর ক্যাফেইনযুক্ত কিছু পান করেন না। বিভিন্নভাবে শারীরিক খসরত বাড়িয়ে দেন। তাদের ধূমপানের অভ্যাস তাদের কম, অথবা নেই।  তারা ঘুমের বেশ আগেই টিভি অথবা কম্পিউটারটি বন্ধ করে দেন।

কেউ কেউ বিছানার পাশে বই রাখেন।  ঘুমের আগে প্রিয় বইটি পড়লে ঘুম আসতে পারে।

কিছু কারণ আছে প্রাকৃতিক।  যেমন: কাজের চাপ থাকা, কোন ডেডলাইন সামনে থাকা, ব্যবসায়িক লোকসান। ইত্যাদি নানাবিধ দুশ্চিন্তা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কম ঘুমের কারণেই মানুষের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। আবার দুশ্চিন্তা বেড়ে যাবার কারণেই কম ঘুম হয়।

যারা ঘুমকে দৈনন্দিন সকল কাজের মধ্যে মিলিয়ে নিতে পেরেছেন, তারাই কাজ এবং বিশ্রামকে আলাদা করতে পারেন। তাই আধুনিক কর্মজীবীরা ঘুমকে একটি দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

 

 

 

 


বিজনেস ইনসাইডার এবং লেখকের আরেকটি পোস্ট অবলম্বনে।

ছবিগুলো গুগল অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত।

 

আত্মউন্নয়ন: এই সময়টি আপনার

১)  আপনার ধারণার চেয়েও নিকটে অবস্থান করছেন

কলোরেডোতে ছুটি কাটানোর সময়, একদিন ভোরে ওঠে গেলাম পাহাড়ে চড়ার জন্য। বিভার ক্রিক পর্বতের চূড়ায় যাওয়া পর্যন্ত তিনমাইলের খাড়া পথ। চূড়ায় পৌঁছুতে অন্তত তিনঘণ্টা লাগবে বলে সমতলে টানানো সাইনবোর্ডটিতে লেখা আছে।

গন্তব্যের কথা চিন্তা করে আমি ভরকে গেলাম। রাস্তাটি পুরোপুরি খাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সমতলের উচ্চতা আট হাজার ফুট। চূড়ার উচ্চতা হবে এগারো হাজারের বেশি।

প্রথম দিকের ধাপগুলোতে হেঁটেই আমি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় হাঁপাতে লাগলাম। আমার মনকে আগেই বুঝাতে হতো, যেন সহজভাবে বিষয়টিকে নেই।  হুস্টনে আমার নিজ এলাকায় প্রতি সপ্তাহে বেশকয়েক মাইল আমি হাঁটতাম এবং প্রচুর বাস্কেটবল খেলতাম। কিন্তু ওই এলাকাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র পঞ্চাশ ফুট উঁচুতে।  কলোরেডো পর্বতের চিনচিনে বাতাস পর্বতশিখরে যাওয়া সম্পর্কে আমার মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিলো।

সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন আর এক বোতল পানি নিয়ে আমি হাঁটতে শুরু করেছিলাম।  শক্ত মন নিয়ে মোটামুটি ভালো গতির সঞ্চার করলাম।  প্রথম পনেরো মিনিট সময় বেশ ভালোই লাগলো।  পরের পনেরো মিনিট কঠিন হয়ে আসলো।  মনে হচ্ছিল, আমি অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলেছি। নিঃশ্বাস ছাড়ার জন্য আমি একটু পরপরই থামছিলাম।

আমার পর্বতারোহনের পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর রাস্তাটি ভয়ঙ্কর খাড়া হয়ে আসলো – একদম ওপরে ওঠছি বলে মনে হচ্ছিলো।  রাস্তাটি সাপের মতো এসপেন ও পন্ডেরোসা পাইনের ঘণ বনের ভেতর দিয়ে আকাশের দিকে ওঠছিলো।  দৃশ্যটি ছিলো একই সাথে সুন্দর এবং ভয়ঙ্কর। নিয়মিত দৌড়ানো এবং বাস্কেটবল খেলার পর আমার যে শারীরিক গড়ন হয়েছিল, তা নিয়েও আমার পাগুলো ব্যথায় জ্বলছিলো এবং বুকের ভেতর ধপধপ করছিলো।

একটি ঢাল অতিক্রম করার পর নিঃশ্বাস নেবার জন্য আমাকে থামতে হলো।  শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল। মনে মনে ভাবলাম, আরও দু’ঘণ্টা হাঁটতে হলে আমি হয়তো সেখানে পৌঁছাতেই পারবো না।

ওই পর্যন্ত গিয়ে আমি আর কাউকে ঢালুপথে দেখতে পেলাম না।  হঠাৎ এক বৃদ্ধলোক বাঁকাপথ বেয়ে এসে  নামলেন। টি-শার্ট গায়ে পড়নে হাফপ্যান্ট এবং পায়ে পর্বতারোহনের জুতো। হাতে একটি ছড়ি। তাকে শান্ত এবং স্থির মনে হলো। আমার অবস্থা তিনি ভালোমতোই আঁচ করেছেন।

আমরা একে অন্যকে অতিক্রম করছিলাম। তখন তিনি এমন কিছু বললেন যা আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিলো। আমার দিকে স্নেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্তস্বরে বললেন, “আপনার ধারণার চেয়েও কাছে চলে এসেছেন।”

কথাগুলো শুনে আমি পুনরায় শক্তি পেলাম। মনে হচ্ছিলো তিনি যেন আমার ফুসফুসে নতুন নিঃশ্বাস দিয়ে গেলেন। সেই শক্তি আমার সমস্ত দেহে সঞ্চারিত হলো।  পা গুলো যেন শক্তিশালী হয়ে ওঠলো। আমি দ্বিতীয়বার বায়ূ গ্রহণ করলাম।  ওই স্থান থেকে ওঠে আসার পর থেকে প্রতিটি প্রচেষ্টায় আমি কথাগুলো বলে নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছিলাম। “আমি অবশ্যই যাবো। আমার ধারণার চেয়েও বেশি কাছে এসেছি।”

পাহাড়-চড়ার কাজটি কঠিন হলেও, এবং আমার পেশি ও ফুসফুসে যন্ত্রণা করলেও আমি বলতে থাকলাম: “আমি প্রায় চলে এসেছি। আমি জানি আমি পারবোই।” এবং সত্যিই, মাত্র দশ মিনিট পর দু’টি ধাপ অতিক্রম করে এক অভাবনীয় দৃশ্য সামনে পেলাম। আমি পর্বত শীর্ষে!

সমতলে দেখা সাইনবোর্ড মোতাবেক পর্বত চূড়ায় পৌঁছাতে আমার তিন ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু আমি এক ঘণ্টা আগেই পৌঁছে গেছি!  যখন বৃদ্ধ ভদ্রলোকটিকে অতিক্রম করছিলাম, তখন সত্যিই আমি আমার ধারণার চেয়ে নিকটবর্তী ছিলাম। কিন্তু তবু তার প্রেরণাদায়ক কথাগুলো না পেলে ওখান থেকে হয়তো ফিরেই যেতাম। উচ্চে ওঠার পথ থেকে নিজেকে থামিয়ে দিতাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আরও দু’ঘণ্টা লাগবে।

বৃদ্ধ পর্বতারোহীকে না পাওয়া পর্যন্ত আমার ধারণাটি ছিলো সীমিত। আমার ভাবনাও ছিলো আবদ্ধ। সাইনবোর্ডে কী পড়েছিলাম শুধু সেটিই আমার মনে থাকতো। বৃদ্ধলোক যখন জানালেন আমি নিকটেই আছি, তখন তিনি জানতেন যে, আমি মাত্র দশ মিনিট দূরে আছি। তিনি আমার লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য দিলেন। পর্বতে চড়ার রাস্তা সম্পর্কে তিনি আমার আগেই জানতেন। ঠিক সেভাবে ঈশ্বর জানেন, আপনার সামনে কতটুকু রাস্তা পড়ে আছে।

আমি জানি না আপনার লক্ষ্য কী; আপনার স্বপ্ন কী; অথবা কতটুকু বাধা আপনাকে অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু আমি চাই, এই কথাগুলো আপনার আত্মার গভীরে গিয়ে পৌঁছাক। বিশ্বাস নিয়ে সেটি গ্রহণ করুন: “আপনার ধারণার চেয়েও কাছে চলে এসেছেন।”

২)  কঠিন লাগছে মানে হলো আমি সমাধানের কাছে চলে এসেছি

বিশ্বমন্দার পরিস্থিতি অনেকের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। আপনি হয়তো আপনার চাকরিটি হারিয়েছেন। হয়তো আপনার সঞ্চয়টুকু শেষ করে ফেলেছেন অথবা নিজের ভিটেটুকুও বিক্রি করেছেন। হতে পারে যে, শারীরিক বা সম্পর্কগত সমস্যায় আছেন। অথবা এমন হতে পারে যে, আপনার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছতে খুব বেশি দেরি হয়ে যাচ্ছে। তবুও আপনার লক্ষ্য এবং আপনার স্বপ্ন থেকে সরে আসার সময় হয় নি। এখনই নিরুৎসাহিত হবার সময় আসে নি। আমার পর্বতে চড়ার কথা মনে করে আপনারা হয়তো বলবেন যে, আপনি তার অর্ধেকও পৌঁছাতে পারেন নি। মনে হতে পারে, আপনার অনেক পথ বাকি।  কিন্তু সত্য হলো, আপনি সেটি জানেন না। এমনও হতে পারে, আপনার স্বপ্নটি সেই কোনায় গেলেই পাওয়া যাবে। আপনার মনে হবে, সেটি আরও দু’বছর দূরে পড়ে আছে।  কিন্তু আপনি যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন, তবে কে জানে, হয়তো দু’মাস পরই আপনার স্বপ্নটি বাস্তবায়ন হবে। আপনার ধারণার চেয়েও কাছে অবস্থান করছেন। আমি বিশ্বাস করি, সময়টি আপনার।

তিন ছেলেমেয়ের জননী এমবার করসন ছিলেন একজন গৃহিনী। আর্থিক মন্দার কারণে তার স্বামীর ফ্লোরিডার নির্মাণ কাজটি চলে যায়। তখন এমবারকে পরিবার চালানোর জন্য রাতের শিফটে কাজ নিতে হলো।

চার সপ্তাহ ধরে সে রাতের শিফটে কাজ করে আসছিলো।  একরাতে সে ক্লান্ত এবং উদ্বিগ্ন অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলো। সন্তানদের সাথে বেশি দেখা হচ্ছে না। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমবার ভাবছিলো। তার পরিবারকে নিয়ে নিশ্চয়ই ঈশ্বরের বড় কোন পরিকল্পনা আছে বলে তার বিশ্বাস ছিল। সেদিন গাড়িতে সে প্রার্থনা করছিলো। “হে ঈশ্বর, দয়া করে তুমি আমাকে বলো এই পরিবার নিয়ে আমি কী করবো।”

যেন ‘নিঃশ্বাসের মতো’ সে একটি সাড়া পেলো। “আমি তোমাকে একটি উপহার দিচ্ছি। তুমি গিয়ে বাগান শুরু করো। তাতে সমস্ত অন্তর দিয়ে পরিশ্রম করো।”

উদ্যানতত্ত্বে এমবারের একটি ডিগ্রি ছিলো, যা সে কখনও কাজে লাগায়নি। সে এতই প্রতিভাবান ছিল যে, চৌকস গার্ডেনার হিসেবে একবার সনদও পেয়েছিলো। কোন কিছু থেকে ফল জন্মানো ছিলো তার প্রকৃতি-দত্ত গুণ। সেই রাতে তার অন্তরে যে উপলব্ধি পেয়েছিলো, সেটি তার স্বামীকে জানালো। এটি নিয়ে সে প্রার্থনা করলো। সে বলেছিল যে, পরবর্তি কয়েকটি সপ্তাহে ‘সবকিছু এমনভাবে ঘটে যাচ্ছিলো যে, মনে হয়েছিলো আগে থেকেই এসব ঠিক করা ছিলো।’

বাগান ও বাড়ির সৌন্দর্য ব্যবস্থানাকে লক্ষ্য করে সে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এমবার। প্রতিষ্ঠানটি বেড়ে ওঠে। এত তাড়াতাড়ি খ্যাতি পায় সেটি, যা ছিলো তার স্বপ্নেরও বাইরে। এটি ছিলো তার সময়!

আপনার স্বপ্নের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর চান একটি নতুন জীবন দান করতে। আপনার অন্তরে তিনি নতুন আশা দিতে চান। আপনি হয়তো একটি বিয়ের সম্বন্ধ বা শিশুর অসুস্থতা বা জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে অল্পেই আশাহত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু ঈশ্বর জান আপনি লেগে থাকুন। তিনি বলতে চান যে, যদি আপনি দ্বিতীয়বার সুযোগ নেন, যদি আপনি মনোভাবে পরিবর্তন আনেন এবং নিচে নেমে যাবার গতিতেই সামনে এগিয়ে যান, তবে তিনি আপনাকে বিস্ময়কর ফল দেখাতে পাবেন।

নেতিবাচক কথাগুলো মন থেকে ছেঁটে ফেলুন। “আমি আর কখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো না। এই নেশাটি আর ছাড়তে পারলাম না। আমার দ্বারা ভালো চাকরি করা হবে না।” এধরণের কথা বলা বন্ধ করুন।

বরং আপনার প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত এরকম: “আমার ধারণার চেয়েও বেশি কাছে এসেছি। এই শিশুকে আমি বড় করবোই। এই অসুস্থতা থেকে আমাকে সুস্থ হতে হবেই। এই ব্যবসায়কে আমি দাঁড় করাবার সামর্থ্য আমার আছে। আমার বিশ্বাস, আমি একটি নতুন কাজ বের করতে পারবোই। বিষয়টি ক্রমেই কঠিন হয়েছে; মানে হলো আমি সমাধানের নিকটে”

৩) আজই সেই দিন

ফ্লোরিডা দ্বীপাঞ্চলে একজন গুপ্তধন শিকারি ছিল, যার ব্যক্তিগত স্লোগানটি ছিল এরকম: “আজই সেই দিন”। নাম তার মেল ফিশার। ষোলটি বছর ধরে প্রতিদিন মেল ফিশার তার ডুবুরিদেরকে ওই কথাগুলো দিয়ে প্রেরণা দিয়ে এসেছে।  ১৬২২ সালে ডুবেছিল এরকম একটি স্প্যানিশ জাহাজ তারা খুঁজে চলেছে। সে তার পরিবারকে নিয়ে একটি লিক-হয়ে-যাওয়া হাউজবোটে বাস করতো আর ডুবুরিদেরকে দিতো প্রতিশ্রুতির জপমালা। জাহাজের ভেতরে সম্পদ খুঁজতে খুঁজতে তার এক ছেলে ও ছেলের বউ হারিয়েছে, তবু ফিশারের স্বপ্ন হারায় নি।

ফিশার আশা ছাড়ে নি।  সে তার স্বপ্নের পিছু ছাড়ে নি। সমালোচকদের ও সন্দেহবাদীদের কাছে হেরেও যায় নি। সে ঘোষণা দিয়ে বলতো, যেকোন দিন ‘সেই দিন’ হতে পারে। তারপর ১৯৮৫ সালের একদিন, স্পেনের এক ভাঙ্গা জাহাজের তলা থেকে ফিশারের ডুবুরিরা সোনা ও রুপার এক মাতৃভাণ্ডারের খোঁজ পায়। তিরিশ বছর পর আজও ডুবুরিরা সেখান সেখান থেকে সম্পদ উদ্ধার করছে।

আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য, একটি স্বপ্নের চাকুরির জন্য, আপনার জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পাবার জন্য অথবা আপনার সুস্বাস্থ্য ফিরে পাবার জন্য আজই কি ‘সেই দিন’ হতে পারে না? উন্নততর জীবন, ভালো একটি সম্পর্ক অথবা সুস্বাস্থ্যের জন্য আপনি হয়তো নিজের ধারণার চেয়েও নিকটে অবস্থান করছেন।  নিজের ওপর বিশ্বাসে স্থির থাকলে, পুরস্কার আসবেই।

আপনার আশাবাদি মনকে সন্দেহবাদীদের কথায় নষ্ট করে দেবেন না। কেউ যদি বলে, “তোমার কী আছে? সবকিছু তুমিই করে ফেলবে, কেন তোমার এমন মনে হয়? তুমিই শুধু সফল হবে, তা কি তুমি সত্যিই বিশ্বাস করো?”

তাদেরকে উত্তরে শুধু এটুকু বলুন: “আমি মনে করি না তা হবে। বরং আমি বিশ্বাস করি তা হবে। আমি আশার কাছে বন্দি এবং ওটা থেকে বের হতে আসতে পারি না। নিজেকে নৈরাশ্যবাদি হতে দিতে পারি না। আমি অভিযোগ করতে পারি না।  আশা আমার বিশ্বাসকে ধরে রেখেছে আর প্রেরণাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”

সন্দেহবাদীরা তখন হয়তো বলবে: “যা হোক, আমি জানি না কীভাবে তুমি এত আশা পাও। আমি তোমার মেডিকেল রিপোর্ট দেখলাম। তাতে তোমার স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভালো খবর পাওয়া যায় না।”

তাদেরকে বলতে পারেন: “হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু আমার কাছে আরেকটি রিপোর্ট আছে।  তাতে বলা আছে যে, ঈশ্বর আমার স্বাস্থ্য পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।”

আপনি ভয় আর নৈরাশ্যের কাছে বন্দি? অথবা অন্তর্দ্বন্দ্বের কাছে? হীনমন্যতার কাছে? তাহলে শেকল ভাঙ্গুন। ফিরে আসুন আশার কাছে। বন্দি হোন আশার কাছে। উত্তম কিছুর প্রত্যাশা করুন। এখনই!

.

.

————————

নতুন প্রজন্মের প্রেরণাদায়ী মার্কিন লেখক জোয়েল অস্টিনের ‘ইটস ইয়োর টাইম’ (২০০৯) অবলম্বনে।

।। দ্য প্রমোশন টেস্ট ।।

:::দ্য প্রমোশন টেস্ট

(এক) বিখ্যাত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিসের কর্মকর্তারা ইদানিং বড় বড় ভুল করছেন স্টেইকহোল্ডারদের সাথে। সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বড় বড় ক্রেতা ও সাপ্লাইয়ারের সাথে। কারণ হিসেবে অনেক তথ্যই আসছে। এর মধ্যে অধৈর্য্য এবং অমার্জিত ব্যবহার অন্যতম। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েকটি কনট্রাক্ট হারিয়েছে। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় আদেশ হারানোর পথে। নিয়মিত বেতন, ক্যারিয়ার ডিভেলপমেন্ট, মূল্যায়ন-ভিত্তিক প্রমোশন, সার্ভিস এওয়ার্ড, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ইনস্টিউট থেকে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং, বোর্ড মিটিংয়ে অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ – এতকিছুর পরও কর্মকর্তাদের মোটিভেশন কমে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ বিভাগকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হলো সিইও’র অফিস থেকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথিপত্রে হামলা চালিয়ে বিশেষ কোন কারণ পাওয়া গেলো না। সিইও তাতে অসন্তুষ্ট হলেন মানবসম্পদ বিভাগের ওপর। পেশা, শিক্ষা এবং পারিবারিক তথ্যগুলো নিয়ে একটি গোপনীয় বিবৃতি তৈরি করতে ফের নির্দেশ দিলেন। কনফিডেনশাল রিপোর্টটি অফিস সময়ের মধ্যেই সিইও’র দপ্তরে পৌঁছানো হলো।

এরপর কয়েক মাস কেটে গেলেও সিইও কিছুই বললেন না মানবসম্পদ বিভাগকে। ডিসেম্বর মাসের স্বাভাবিক এক কর্মব্যস্ত দিনে প্রমোশন টেস্ট-এর নোটিশ এলো কর্মকর্তাদের স্মার্টফোনে: ‘প্রমোশন টেস্ট: বিকাল ৪টা, বল রুম।’ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তাদের জন্য প্রমোশন টেস্ট-এর আয়োজন করতে বললেন সিইও। তিনি নিজেও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানালেন।

প্রার্থীদের নিজ নিজ ল্যাপটপে ইন্টারএকটিভ পদ্ধতির টেস্টটি শুরু হলো। শুরু হলো ক্লিক ক্লিক উত্তর প্রদান। প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত প্রশ্নগুলো তাদের কাছে ডালভাত। প্রমোশন প্রার্থীরা একটির পর একটিতে উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন। তৃপ্তির ছবি ফুটে ওঠলো তাদের চোখে-মুখে। মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চন। কফি মাগে চুমুকের সাথে মাউসের এক ক্লিক। চুমুক আর ক্লিকের শব্দে আন্দোলিত হলো বল রুম। মিটিমিটি হাসছেন সিইও। তিনি ঠায় দাঁড়িয়ে প্রত্যেকের দিকে দৃষ্টি বিতরণ করে যাচ্ছেন।

সেকশন এ: প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত বিষয়। এটি শেষ হয়ে গেলো কফিভর্তি মাগ শেষ হবার আগেই।

সেকশন বি: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আচরণ। ওপেন-এন্ডেড কোয়েশ্চন। ছোট ছোট বাক্যে কিছু লিখতে হবে এবার। প্রশ্ন মাত্র পাঁচটি। সিলি কোয়েশ্চনস! প্রমোশন প্রার্থীরা মনে মনে বললেন। কিন্তু নড়ে-চড়ে বসলেন। কেউ এক চুমুকে বাকি কফিটুকু শেষ করে নিলেন। কেউ কেউ দু’হাত মাথার পেছনে নিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে। কেউ বা মাউসের কারসর নাড়াচাড়া করছেন রুপালি মনিটরের গায়ে। উত্তর নেই; ক্লিকের আওয়াজ নেই; কফিতে চুমুক দেবার আওয়াজও বন্ধ। ৬০-৫৯-৫৮ এভাবে একেকটি মিনিটের সাথে প্রশ্নগুলো বিনা-উত্তরে বাঁদিকে সরে যাচ্ছে।

প্রার্থীদের মনের চোখে ভেসে ওঠছে তাদের পারিবারিক জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র-

“বাবা, আমি একজন নতুন বন্ধু পেয়েছি। নাম….. । খুব ভালো গান করে…”
“বাবা, রাতে কখন ফিরেছিলো? তুমি কি আজও দেরিতে আসবে?”
“বাবা, তুমি কবে ছুটি পাবে।”
‘বাবা, আমি কিন্তু তোমার মুখ ভুলে যাবো একদিন!”
“বাবা, আমি এবারও পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি।…”
“বাবা, বলতো আমি কোন্ ক্লাসে পড়ি?”
“বাবা, দেখো তোমার ও মা’র একটি ছবি এঁকেছি।”
“বাবা, আমাদেরকে তুমি বেড়াতে নিয়ে যাবে না।”
“বাবা, তুমি কী চাকরি করো?”

অবশেষে প্রমোশন টেস্টটি বেশ কঠিনভাবেই শেষ হলো। কেউ কেউ নিজেদের মধ্যে একে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলছেন। কিন্তু পরীক্ষা শেষে একজন প্রার্থী প্রতিবাদ করে ওঠলেন।

ক/১. আপনার সন্তানের তিনজন বন্ধুর নাম লিখুন।
খ/২. প্রথম সন্তানের উচ্চতা লিখুন।
গ/৩. সন্তানের প্রিয় খাবারটি কী?
ঘ/৪. আপনার সন্তান কোন্ ক্লাসে পড়ে? অথবা, ক্লাসে তার অবস্থান কী?
ঙ/৫. আপনার সন্তান কোন্ বিষয়টিতে সাধারণত কম নম্বর পায়?

এসব কি প্রমোশনের সাথে প্রাসঙ্গিক? উত্তরে এইচআর ম্যানেজার স্মিত হেসে শুধু বললেন, সব প্রশ্ন সিইও তৈরি করেছেন। এবং তিনি সেকশন বি’তে ৮০% নম্বর নির্ধারণ করেছেন।

(দুই) প্রতিষ্ঠানের সিইও একজন কেতাদুরস্ত এবং নিয়মনিষ্ঠ মানুষ। বিকেল পাঁচটা বাজলে তাকে আর অফিসে পাওয়া যায় না। সকলকে সময়মতো অফিস ছাড়ার সুযোগ করে দিয়ে তিনি লাপাত্তা হয়ে যান। তিনি মনে করেন, তিনি থাকলেই বাকিরা থাকতে বাধ্য হবে। “পাঁচটার পর যারা অফিসে থাকে, তাদের বউয়ের সাথে ঝামেলা আছে।” এই বলে তিনি টিপ্পনি কাটেন ডিপুটি ডিরেক্টরদের সাথে।

-“কিন্তু স্যার, সবাই তো কাজের জন্যই দেরিতে বের হতে বাধ্য হয়। কেউ কি ইচ্ছে করে রাত পর্যন্ত অফিসে থাকে?” ডিরেক্টরদের যুক্তি।
-“আট ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সাবঅর্ডিনেটদেরকেও সেভাবে উৎসাহিত করুন।” বিস বসের সাফ জবাব।

তার মতে পারিবারিক জীবন আর কর্মজীবন আলাদা হলেও এগুলো একটি অন্যটির ওপর নির্ভরশীল। পারিবারিক জীবন সুখের হলে তা কর্মজীবনকে আলোকিত করে। স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে ক্লায়েন্ট-এর সাথে কত ভদ্রতা করা যায়! সন্তানের প্রতি উদাসীনতা স্ত্রীর প্রতি উদাসীনতার একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেবল। দাম্পত্য জীবনে ভালো সম্পর্ক না থাকলে সন্তানের সাথেও ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। সম্পর্কের দূরত্ব অবচেতনে মনের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ ও হতাশাবোধ সৃষ্টি করে। এরই পরোক্ষ প্রভাব গিয়ে পড়ে কর্মজীবন ও কর্মস্থলে। সিইও জানতেন এসব বিষয় কখনও বক্তৃতা দিয়ে বুঝানো যাবে না – দরকার ডেমোনস্ট্রেশন। তাই তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই কর্মকর্তাদের পারিবারিক জীবনকে উন্নত করতে চাইলেন। তাতে যদি কর্মস্পৃহা এবং পেশাদারিত্ব বাড়ে!

(তিন) সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম করপোরেট প্রতিষ্ঠান গুগল ইনকর্পোরেশনে একটি মজাদার ঘটনা হয়ে গেলো এক শিশুকে নিয়ে। সংবাদটি পেয়েছি বাংলানিউজ ডট কম থেকে।

ক্যাটি নামের এক শিশু সরাসরি গুগলকে চিঠি লিখে বসে। তার বাবাকে ছুটি দিবে হবে! কারণ এটি তার বাবার জন্মদিন! সাপ্তাহিক ছুটি দু’দিন হলেও তার বাবার মাত্র একদিন ছুটি ভোগ করেছেন। অতএব, এক দিন বিবেচনা করে তার বাবার কিছু ছুটি পাওনা হয়েছে। কন্যা সন্তানের সরাসরি বক্তব্য: বাবাকে ছুটি দিতে হবে, কারণ এটি তারও গ্রীষ্মকালীন ছুটি। গুগল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ক্যাটির চিঠির উত্তর দেয় এবং তার বাবার জন্য ছুটিও নিশ্চিত করে।

গুগলকে ক্যাটি’র চিঠি:

ক্যাটিকে গুগল-এর উত্তর:

চিঠিটি আমার কাছে পৃথিবীর সমস্ত ক্যাটি’র পক্ষ থেকে তাদের পিতার প্রতি একটি স্মারণলিপির মতো মনে হয়েছে।

—————————————
* প্রমোশন টেস্টের বিষয়টি একটি বিদেশি বিজ্ঞাপন দ্বারা অনুপ্রাণিত। শততম পোস্টটি বৃহস্পতিবার উপলক্ষে শিশুদের জন্য উৎসর্গিত।

** শততম পোস্টে প্রিয় সহব্লগারদেরকে প্রীতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলোতে মন্তব্য বা ইমো এমনকি একটি ক্লিকও দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। এতো ভালোবাসা আর এতো প্রেরণা পেয়েছি যে কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও কিছু লিখার প্রচেষ্টায় আনন্দ পাই। যেন বিনিময়ে আরও অধিক পড়া ও মিথষ্ক্রিয়ার সুযোগ পাই। নাম প্রকাশ করে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চাই না, কিন্তু ‘লেখায় লেখায়’ অনেক গুণী লেখক ও প্রেরণাদায়ক বন্ধু পেয়েছি, আমি যাদের ভক্তও। বন্ধু পাওয়াকে আমার জীবনের সেরা অর্জন বলে মানি। শুভেচ্ছা বন্ধুগণ!

.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.

[লেখাটি প্রথম আলো ব্লগে প্রথমে দেওয়া হয়েছিল]

৭২ টি মন্তব্য

pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক২৬ জুন ২০১৪, ২০:২১

১ম

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৩৬

ধন্যবাদ

Mzarin31আরজু মুন জারিন২৬ জুন ২০১৪, ২০:২৩

পারিবারিক জীবন আর কর্মজীবন আলাদা হলেও এগুলো একটি অন্যটির ওপর নির্ভরশীল। পারিবারিক জীবন সুখের হলে তা কর্মজীবনকে আলোকিত করে। স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে ক্লায়েন্ট-এর সাথে কত ভদ্রতা করা যায়! সন্তানের প্রতি উদাসীনতা স্ত্রীর প্রতি উদাসীনতার একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেবল। দাম্পত্য জীবনে ভালো সম্পর্ক না থাকলে সন্তানের সাথেও ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। সম্পর্কের দূরত্ব অবচেতনে মনের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ ও হতাশাবোধ সৃষ্টি করে। এরই পরোক্ষ প্রভাব গিয়ে পড়ে কর্মজীবন ও কর্মস্থলে। সিইও জানতেন এসব বিষয় কখনও বক্তৃতা দিয়ে বুঝানো যাবে না – দরকার ডেমোনস্ট্রেশন। তাই তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই কর্মকর্তাদের পারিবারিক জীবনকে উন্নত করতে চাইলেন। তাতে যদি কর্মস্পৃহা এবং পেশাদারিত্ব বাড়ে!

অসাধারণ লিখা। আমি পুরা টা আবার পড়ব মইনুল ভাই। তারপর বিশদ মন্তব্য। না আপনাকে আমার সালাম জানাতে হয়। এই লিখা শুধু আপনার কলম থেকে আসবে।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

আপনাকে সালাম জানাই..
কারণ আপনি প্রথম পাঠেই আমার লেখার কেন্দ্রকে বের করেছেন ধন্যবাদ, আরজু মুন জারিন আপা….

fardoushaফেরদৌসা২৬ জুন ২০১৪, ২০:২৪

১০০তম পোস্টের জন্য অভিনন্দন

লেখায় লেখায় এবং বাস্তবে আপনার মত একজন বন্ধু পেয়ে আমিও ভাগ্যবান

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪০

হুম… লেখক আমি নই। বন্ধু পেয়েছি… তাতেই আমি খুশি
ফুলেল শুভেচ্ছার জন্য বান্ধবীকে ধন্যবাদ।

pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক২৬ জুন ২০১৪, ২০:২৪

এসব কি প্রমোশনের সাথে প্রাসঙ্গিক? উত্তরে এইচআর ম্যানেজার স্মিত হেসে শুধু বললেন, সব প্রশ্ন সিইও তৈরি করেছেন। এবং তিনি সেকশন বি’তে ৮০% নম্বর নির্ধারণ করেছেন।

ধন্যবাদ মাঈন উদ্দিন ভাই।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪০

হাহাহা, ধন্যবাদ প্রামানিক ভাই
এটি বিশেষ এক প্রমোশন টেস্ট।

Mzarin31আরজু মুন জারিন২৬ জুন ২০১৪, ২০:২৪

বন্ধু পাওয়াকে আমি ও আমার জীবনের সেরা অর্জন বলে মানি। শুভেচ্ছা ।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪১

//বন্ধু পাওয়াকে আমি ও আমার জীবনের সেরা অর্জন বলে মানি।//

বন্ধুকে আমি শ্রদ্ধা করি… যেমন করি মানবতাকে ধন্যবাদ, প্রিয় আরজু মুন জারিন আপা

pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক২৬ জুন ২০১৪, ২০:৩১

শততম পোষ্টের জন্য
শুভেচ্ছা জানাই
কেমন আছেন ব্লগ প্রিয়
মাঈনউদ্দিন ভাই।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪২

প্রিয় প্রামানিক ভাই, আপনার একাধিক মন্তব্যে আমি সম্মানিত বোধ করছি…

আমি ভালো আছি…
আপনাকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা

baganbilas1207কামরুন্নাহার২৬ জুন ২০১৪, ২০:৩১

প্রথমেই শততম পোষ্টের জন্য শুভেচ্ছা——-

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪৩

ধন্যবাদ, প্রিয় সহব্লগার… অসাধারণ সুন্দর ছবি

pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক২৬ জুন ২০১৪, ২১:১৭

কবুতর সাদা গোলাপ চিনল কেমনে?

baganbilas1207কামরুন্নাহার২৬ জুন ২০১৪, ২০:৩২

ক/১. আপনার সন্তানের তিনজন বন্ধুর নাম লিখুন।
খ/২. প্রথম সন্তানের উচ্চতা লিখুন।
গ/৩. সন্তানের প্রিয় খাবারটি কী?
ঘ/৪. আপনার সন্তান কোন্ ক্লাসে পড়ে? অথবা, ক্লাসে তার অবস্থান কী?
ঙ/৫. আপনার সন্তান কোন্ বিষয়টিতে সাধারণত কম নম্বর পায়?
এসব কি প্রমোশনের সাথে প্রাসঙ্গিক? উত্তরে এইচআর ম্যানেজার স্মিত হেসে শুধু বললেন, সব প্রশ্ন সিইও তৈরি করেছেন। এবং তিনি সেকশন বি’তে ৮০% নম্বর নির্ধারণ করেছেন।কেমন হলো

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪৩

তাই কই,,,,, এইডা কেমন হইলো

তবে এটি আসল প্রকৃতপক্ষে ঘটেছে কিনা, আমি নিশ্চিত নই

ধন্যবাদ, প্রিয় কামরুন্নাহার আপা

neelsadhuনীল সাধু২৬ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন মঈনুল ভাই।
ব্লগে আপনার উপস্থিতি আমাদেরকে আনন্দিত করে।
আপনার পোষ্ট মানে অন্যান্য সকল পোষ্ট থেকে অনেকটাই ভিন্ন।
মনে ভাবনার খোরাক তৈরি করে।
আপনি আমাদের ব্লগরত্ন।
ভালোবাসা জানবেন।

ফেসবুকে নিউজে গুগলের এই কাহিনীটি আমি পড়েছি।
আমি নিজেও চমৎকৃত হয়েছি।
এ ছাড়া কর্পোরেট লাইফ নিয়ে যা বলেছেন সেখানেও সহমত জানাই।
আমরা অনেকেই বুঝতে বা মানিয়ে নিতে পারিনা কর্ম এবং জীবনের নানা অনুষঙ্গগুলোকে
যা পারা উচিত সকলেরই
কারণ জীবন একটি।
আর কোন ২য় জীবন আমরা কেউই পাবো না

ভালো থাকুন। নিরন্তর শুভকামনা।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪৬

আরেব্বাহ… বিশাল বড় প্রশংসা… কবিতার মতো লাগলো, নীলসাধু ভাই
আপনার উপস্থিতিও আনন্দের। সেটি যেমন ব্লগে, তেমনি বাস্তবেও কর্পোরেট লাইফ নিয়ে আপনার অবস্থান আমি জানি। এবং মানিও দ্বিতীয় জীবন কেউ পাবে না… শতভাগ ঠিক!
অতএব ভালো থাকবেন, প্রিয় কবি

Kabirsalma123সালমা কবীর২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪৭

‍ শততম পোষ্টের জন্য শত শত শুভেচ্ছা । সাথে সাথে ম‍‍নে পড়ল ব্যাংকের লিখিত ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে প্রশ্ন পেলাম বাংলাদেশে শাড়ী লুড্গী আমাদের (জাতীয়!) পোষাক কেন?
ভাল লাগল।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৬ জুন ২০১৪, ২০:৫০

//সাথে সাথে ম‍‍নে পড়ল ব্যাংকের লিখিত ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে প্রশ্ন পেলাম বাংলাদেশে শাড়ী লুড্গী আমাদের (জাতীয়!) পোষাক কেন?//

হাহাহা, মজা পেলাম সালমা কবীর আপা
ধন্যবাদ!

ব্যাংকের চাকরিতে রাজনৈতিক দলের নেতা ও দেশগঠনে তার অবদানের কথা জিজ্ঞেস করা এখন মোটামুটি প্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে….

Kabirsalma123সালমা কবীর২৬ জুন ২০১৪, ২১:১০

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:২৯

abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক২৬ জুন ২০১৪, ২০:৫১

মইনুলভাই, সালাম জানবেন। পরে পড়ব। এখন দৌড়ের উপরে আছি

pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক২৬ জুন ২০১৪, ২১:১৯

আব্দুল হাক ভাই আপনার দৌড় কতক্ষণ?

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩০

ওয়ালাইকুম সালাম…. আব্দুলহাক ভাই

অনেক ধন্যবাদ….

দৌড়ের শেষে দেখা হবে আশা করছি

প্রামাণিক ভাইকে শুভেচ্ছা

aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম২৬ জুন ২০১৪, ২১:০১

প্রথমে শত কোটি সালাম নিবেদনপূর্বক শততম পোস্টের জন্য অভিনন্দন। পর সমাচার এই যে, আমরা আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর শুনিয়া হুদাহুদি হাত তালি দেই। কর্পোরেট হাউসগুলির অভ্যন্তরে কত কী ঘটে তাহা আমাদের মতো নাদানদের বোধগম্যতার অতীত। প্রমোশনের প্রশ্নগুলি পড়িয়া বহু বছর আগে আমার আক্কেল দাঁত গজাইবার সময় যে ব্যথা হইয়াছিল অনুরূপ অনুভূতি হইল, এতটুকু বলিতে পারি।

ধন্যবাদ, মাঈনউদ্দীন মইনুল ভাই।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩১

//পর সমাচার এই যে, আমরা আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর শুনিয়া হুদাহুদি হাত তালি দেই। কর্পোরেট হাউসগুলির অভ্যন্তরে কত কী ঘটে তাহা আমাদের মতো নাদানদের বোধগম্যতার অতীত। প্রমোশনের প্রশ্নগুলি পড়িয়া বহু বছর আগে আমার আক্কেল দাঁত গজাইবার সময় যে ব্যথা হইয়াছিল অনুরূপ অনুভূতি হইল, এতটুকু বলিতে পারি।//

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা প্রিয় আবুহেনা ভাই

diponkar07দীপংকর চন্দ২৬ জুন ২০১৪, ২১:৩৭

শততম পোস্টটি বৃহস্পতিবার উপলক্ষে শিশুদের জন্য উৎসর্গিত।

প্রিয় মইনুল ভাই,

শত শুভেচ্ছা ।

শততম ধাপ স্পর্শ করার ক্ষণটি অসাধারণভাবে সাজানো মনে হলো আমার কাছে।
ক্যাটির চিঠির মতো স্বর্গীয় হোক জীবন।

ইতি, আমি।

পুনশ্চ: শুভকামনা অনিঃশেষ জানবেন।

পুন: পুনশ্চ: ভালো থাকবেন। সবসময়।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩২

//ইতি, আমি।
পুনশ্চ: শুভকামনা অনিঃশেষ জানবেন।
পুন: পুনশ্চ: ভালো থাকবেন। সবসময়।//
হাহাহা…. ক্যাটি’র দৃষ্টান্ত বেশ মজার, তাই না?প্রিয় দীপংকর চন্দ ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা

shahidulhaque77শাহিদুল হক২৬ জুন ২০১৪, ২১:৪১

আপনার শততম পোস্টের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। আজ হঠাৎ করেই এখানে চলে আসা। আপনার পোস্ট বিধায় অনেক গুরুত্বসহকারে পড়লাম। অভিব্যক্তিটা ভিতরেই থাক। শুভকামনা রেখে গেলাম।

neelsadhuনীল সাধু২৬ জুন ২০১৪, ২১:৪৮

শাহিদুল ভাই যে!
শুভেচ্ছা

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩৫

কবি শাহিদুল হক ভাই, সালাম জানবেন।
আপনাকেও শুভেচ্ছা… এবং মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা
দীর্ঘদিন পর আপনাকে পেয়ে আনন্দিত…ভালো থাকবেন…. অন্য একটি লেখায় আপনার একটি দীর্ঘ মন্তব্য দেখে চিন্তিত হলাম।
ধর্মীয় হোক অথবা দার্শনিক হোক, মত প্রকাশের প্রতিবন্ধকতায় সমবেদনা জানাই।নীলসাধু ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা….

MirHamidহামি্দ২৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৫

১০০তম পোস্টের জন্য অভিনন্দন মইনুল ভাই…………………..

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩৬

প্রিয় হামিদ ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ….

ভালো থাকবেন

BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা২৬ জুন ২০১৪, ২২:১১

শততম পোস্ট
অভিনন্দন।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩৬

কৃতজ্ঞতা জানবেন, প্রিয় সহব্লগার

BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা২৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৪

ব্লগরত্ন মইনুল ভাইয়ের শততম পোস্ট
শত পোস্টের চেয়ে বেশী ভারী এ শততম পোস্টটি । ক্যাটি আর গুগলে চিঠি চালাচালি সারা বিশ্বের জন্য মডেল হয়ে থাকলো।
আশা করি শিশু ক্যাটির এ চিঠি অনেক বাবাদের ভেতরের চোখ খুলে দিবে। এ ক্ষেত্রে গুগলকে ধন্যবাদ দিতে পারি।
তবে একটি বিষয়— অনেক বাবা আছেন প্রবাসী। জীবিকার কারণে তাদের বিদেশ যাত্রা। যতটুকু জানি অধিকাংশ কঠোর পরিশ্রম করেন আর দেশে আসেন দু-তিন বছর পর পর। এ ক্ষেত্রে প্রভাব আরো বিরূপ হবে বলে মনে হয়। দুয়েকটি পরিবারের কাহিনি নিজে দেখে ব্যথিত হয়েছি।
ক্যাটিরা সচেতন আছে তারা বাবাদের মিস করে। এখন বাবাদের সচেতন হবার পালা। না হলে Sweet Home আর থাকবে না হয়ে যেতে পারে Hellish Home.
আবারো অভিন্দন।
শুভকামনা থাকলো আগামী সব লেখার জন্য।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৩৯

//অনেক বাবা আছেন প্রবাসী। জীবিকার কারণে তাদের বিদেশ যাত্রা। যতটুকু জানি অধিকাংশ কঠোর পরিশ্রম করেন আর দেশে আসেন দু-তিন বছর পর পর। এ ক্ষেত্রে প্রভাব আরো বিরূপ হবে বলে মনে হয়। দুয়েকটি পরিবারের কাহিনি নিজে দেখে ব্যথিত হয়েছি।// আমিও সমব্যথিত।

কেবলমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য ঘরসংসার স্ত্রী-পুত্র রেখে বছরের পর বছর প্রবাসে থাকার বিপক্ষে আমি আজীবন।
তাদের জন্য হেলিশ হোমই কেবল অপেক্ষা করবে…

সুন্দর মন্তব্য দিয়ে লেখাটিকে সজ্জিত করার জন্য আপনার কাছে সবসময়ই আমি কৃতজ্ঞতা, প্রিয় বাবলা ভাই

ভালো থাকবেন আর আলো রাখবেন ধরে ….

lnjesminলুৎফুন নাহার জেসমিন২৬ জুন ২০১৪, ২৩:২৮

প্রথমে অভিনন্দন জানাই শততম পোস্টের জন্য । ফুলের ছবি কিন্তু আমার নিজের হাতে তোলা

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৪১

//ফুলের ছবি কিন্তু আমার নিজের হাতে তোলা//
-মনে রাখবো, জেসমিন আপা সুন্দর ফুল এবং সুন্দর ছবি। মাঝে মাঝে ফটোগ্রাফার হতে ইচ্ছে হয় আপনার মন্তব্য, সেটি যত ছোটই হোক না কেন, আমার পোস্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনেক কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা

narunabdনাসরিন চৌধুরী২৭ জুন ২০১৪, ০২:১০

শ্রদ্ধা মইনুল ভাই—আপনার পোষ্ট বলে কথা।

আগে শততম পোষ্টের জন্য অভিনন্দন।

পারিবারিক জীবন আর কর্মজীবন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেকে বাবা’রাই রেসের ঘোড়ার মত ছুটেই চলি কিন্তু নিজের সন্তান কোন ক্লাসে পড়ে সেটার খবর জানিনা–এমন উদাহরন দেয়া তেমন কষ্টকর কিছুনা। আবার অনেক বাবা’রা সত্যিই অনেক হতভাগ্য বাবা যারা জীবনের প্রয়োজনে পরিবার ও সন্তান থেকে দূরে–যে কথাটি বাবলা ভাই বলেছেন।

আমার মনে হয় আমরা সবই বুঝি –জানি , কিন্তু মানতে চাইনা।

সন্তানের আকুলতা –বাবার ভালবাসা –স্বামী স্ত্রী’র সম্পর্ক ইত্যাদি বেশ ফুটিয়ে তুলেছেন আপনার লেখাটিতে।
আমি বিশ্বাস করি আপনার সন্তান’রা অনেক ভাগ্যবান–তেমনি ভাবীও।

আমরা আমাদের জীবনে ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করবো–সেটাই করা উচিত।
আপনার পোষ্টে আমি ভয়ে ভয়ে কমেন্ট করি —পাছে যদি ভুল করে ফেলি !!!!

ধন্যবাদ অনেক –বেশ ভাল একটি পোষ্ট পড়ে ঘুমুতে যাচ্ছি

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৪৫

//আমার মনে হয় আমরা সবই বুঝি –জানি , কিন্তু মানতে চাইনা। //

-অনেক সময় মানতে পারিও না। মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা তো আছেই

//সন্তানের আকুলতা –বাবার ভালবাসা –স্বামী স্ত্রী’র সম্পর্ক ইত্যাদি বেশ ফুটিয়ে তুলেছেন আপনার লেখাটিতে।
আমি বিশ্বাস করি আপনার সন্তান’রা অনেক ভাগ্যবান–তেমনি ভাবীও।//

-জানি না। তবে তাদের জন্য আমি যে বড় ভাগ্যবান, তাতে আমি নিশ্চিত

সুন্দর মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কবি নাসরিন চৌধুরী

ভয় কেন? আমরা একই সময়ে বাস করছি এবং লেখালেখিতে আপনি কিন্তু আমার চেয়েও ভালো।
নির্ভয়ে লেখে যান

অনেক শুভেচ্ছা

CHOWDHURY88সাঈদ চৌধুরী২৭ জুন ২০১৪, ০৯:৩৬

আপনার শততম পোষ্টের জন্য অভিনন্দন । আরো ভালো লেখার অপেক্ষায় রইলাম । অসাধারন লেগেছে এই লেখাটি । ধ্যণবাদ । পাশে আছি সবসময় ।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৪৬

হুম, মনে রাখবো।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, সাঈদ চৌধুরী

Rabbaniরব্বানী চৌধুরী২৭ জুন ২০১৪, ১০:০৪

অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানবেন প্রিয় মইনুল ভাই

শততম পোস্টে প্রিয় সহব্লগারদেরকে প্রীতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

শততম পোষ্টের জন্য আপনারকে আমাদের অভিনন্দন ও অসংখ্য শুভেচ্ছা।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৪৮

অভিনন্দন পেয়ে মনে হচ্ছে, আমি হিমালয় জয় করেছি…

ঠিক সেরকম একটি আন্তরিকতার স্থান হলো প্রথম আলো ব্লগ…
যার অন্যতম প্রাণশক্তি হলেন আপনার মতো আন্তরিক ব্লগাররা…

শততম পোস্টে আপনাকেও শুভেচ্ছা জানাই, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই

Rabbaniরব্বানী চৌধুরী২৭ জুন ২০১৪, ১০:১৫

শততম পোস্টটি বৃহস্পতিবার উপলক্ষে শিশুদের জন্য উৎসর্গিত।

শততম পোস্টটি বৃহস্পতিবার উপলক্ষে শিশুদের জন্য উৎসর্গিত করার জন্য সঠিক কি ভাবে আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে হবে তা আমার অন্ততঃ জানা নেই, এ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা আপনাকে জানানো অন্তরের অনেক গভীর থেকে তা আপনি নিিজের অন্তর দিয়ে অনুভব করে নিবেন আশা রাখি।

প্রসংগতঃ কথাটি ভিন্ন মতের সৃষ্টি করতে পারে তবুও আমার ধারণা, আমরা আমাদের নিজের সন্তানকে বা শিশুদেরকে যতটুকু স্নেহ ভরা দৃষ্টিতে, হৃদয় দিয়ে দেখি থাকি ঠিক তেমন করে অন্যের সন্তানকে বা শিশুদেরকে ঠিক তেমন ভাবে দেখি না।

আমার ধারণা দৃষ্টি ভংগি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সকল শিশুকে আমারা নিজেদের মধ্যে সম্পৃক্ত করতে পারি- এমনই একটি বার্তা আপনার পোষ্টটিতে পাওয়া যাচ্ছে।

অনেক অনেক ভালো থাকবেন মইনুল ভাই।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৫১

//আমার ধারণা, আমরা আমাদের নিজের সন্তানকে বা শিশুদেরকে যতটুকু স্নেহ ভরা দৃষ্টিতে, হৃদয় দিয়ে দেখি থাকি ঠিক তেমন করে অন্যের সন্তানকে বা শিশুদেরকে ঠিক তেমন ভাবে দেখি না।//

শতভাগ একমত।
কিছুক্ষেত্রে আমার মনে হয়, নিজ সন্তানকেও আমরা ভালোভাবে যত্ন করতে পারি না

আপনার পরের কথাগুলোও বেশ চিন্তা-জাগানিয়া। শিশুকে একটি স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠতে দেওয়া কোন মহামানবের কাজ নয় – এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক গুণ। এদেরকে নিয়ে পর্যাপ্ত কথা হয় না, প্রচার হয় না, চলচ্চিত্র/নাটক হয় না। এদেশের ভবিষ্যত কীভাবে আপনি মূল্যায়ন করবেন, বলূন!

আপনার কথায় আমার কথাও বেড়ে গেলো

অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানবেন, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই।

shohel121পরানের কথা২৭ জুন ২০১৪, ১০:১৭

ভালো লিখতে পারিনা আমি। অভিনন্দন জানানোতেও তাই আমি পিছিয়ে । সংখ্যা ও গুণ– দুদিক থেকেই। তবু হৃদয় থেকে শুধু এটুকুই বলছিঃ আমার খুব ভালো লাগছে। সংখ্যায় ১০০ আমার কাছে মূখ্য ঠেকছে না; আমি আপনার লেখার গুণের কথাই বলতে চাচ্ছি শুধু। প্রতিটি পোস্ট স্বকীয়তায় অনন্য; উর্বরতায় অনন্যসধারণ। ইংরেজিতেই বলতে হচ্ছে;;; আঊটস্ট্যান্ডিং।

অভিনন্দন মইনুল ভাই।

ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স নিয়ে ১০০তম পোস্টটি পরান ছুঁয়ে যাওয়া। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করি আমি। এখানে অবস্থা আরো খারাপ। করুণ বলতে পারেন। কষ্ট নিয়ে আমি লিখেছিলামঃ

গাছ লাগিয়ে এক ধরন;ফল চাই যে সব
মাল্টিটাস্কিং-এর নামে এইতো প্রাইভেট জব
রাইটস আর নট শিউরড
প্রিভিলিজেস আর লিউরড
ফিটফাট লেবাসে সব; মনে শূন্য অনুভব।।

আপনার জন্য ভালোবাসা আর শুভকামনা ।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৫৫

//গাছ লাগিয়ে এক ধরন;ফল চাই যে সব
মাল্টিটাস্কিং-এর নামে এইতো প্রাইভেট জব
রাইটস আর নট শিউরড
প্রিভিলিজেস আর লিউরড
ফিটফাট লেবাসে সব; মনে শূন্য অনুভব।//
রাইটস আর নট শিইউরড… প্রিভিলিজেস আর লিউরড…
অন্তত ৫০০,০০০ প্রবৃদ্ধি না হলে, কর্মীকে কেউ ৫০,০০০ টাকা বেতন দেবে?
এই হলো কর্পোরেট নীতি সুন্দর একটি মন্তব্য পেলাম। তাতে কখনও মনে হয় নি যে, আপনি লিখতে পারেন না।
আমি আপনার লিমেরিকের ভক্ত, তা তো জানেন

অনেক শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা জানবেন, প্রিয় পরানের (কথা) ভাই

Rabbaniরব্বানী চৌধুরী২৭ জুন ২০১৪, ১১:৪৬

বিখ্যাত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিসের কর্মকর্তারা ইদানিং বড় বড় ভুল করছেন স্টেইকহোল্ডারদের সাথে। সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বড় বড় ক্রেতা ও সাপ্লাইয়ারের সাথে।

আমার ধারণা মানুষ যখন অফিসে কাজ করতে এসে অফিস ও বাসাকে এক করে ফেলেন তখন এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২০:৫৬

//মানুষ যখন অফিসে কাজ করতে এসে অফিস ও বাসাকে এক করে ফেলেন তখন এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।//

খাঁটি কথা!
বাসাকে তার অধিকার না দিলে তো সেটি অফিসে গিয়ে গড়াবেই

Rabbaniরব্বানী চৌধুরী২৭ জুন ২০১৪, ১১:৫৯

বিষয়টি নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ বিভাগকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হলো সিইও’র অফিস থেকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথিপত্রে হামলা চালিয়ে বিশেষ কোন কারণ পাওয়া গেলো না।

আমারও কোন ধারণা নেই, তবে অফিসে কাজ করতে এসে নিজে বেশ কয়েকজন মানবকে খুঁজে পেয়েছি, যেমন, অফিস মানব, কর্ম মানব, অর্থ মানব, পারিবারিক মানব, সামাজিক মানব ইত্যাদি নানান মানব।

– যিনি অফিস মানব তিনি সারাক্ষণই শুধু অফিসের কথা বলেন, অফিসের মালিকের কথা বলেন, অফিসের নিয়ম নীতির কথা বলেন ও মেনে চলেন। এর বাইরে যে আরও কিছু জগৎ আছে তা ভেবে দেখে না।

– যিনি কর্ম মানব তিনি সারাক্ষণই শুধু অফিসের কাজ নিয়ে মহা ব্যস্ত থাকেন, অফিসের কাজের কথা বলেন, অফিসের নিয়ম নীতি মেনে সারা ক্ষণ কাজ করেন। এর বাইরে যে আরও কিছু কাজ করার আছে তা ভেবে দেখে না।

– যিনি অর্থ মানব তিনি সারাক্ষণই শুধু কী ভাবে অর্থ আয় করবেন বা কিছু বাড়তি আয় এই নিয়ে মহা ব্যস্ত থাকেন, অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু বাড়তি আয়ের কথা ভাবেন, বাড়তি আয়ের কথা ভেবে সারা ক্ষণই কাজ করেন। অর্থ আয় ছাড়া যে বাইরে আরও কিছু কাজ করার আছে তা ভেবে দেখে না।

– যিনি পারিবারিক মানব তিনি সারাক্ষণই শুধু তার পারিবারিক ভাবনা নিয়ে মহা ব্যস্ত থাকেন, এরা খুব গুছানো মানব বাসা থেকে খাবার এনে খায় অফিস থেকে বার হয়ে সোজা বাসায় চলে যায় বা বাসায় ফিরার পথে দোকানে ঘরের কিছু সওদা এই সব বা পরবিরকে নিয়ে ডাক্তার আত্মীয় স্বজনের বাসায়, সময় মত ঘুমিয়ে পড়া সকালে অফিসে আসা। অফিস -বাসা ছাড়া বাইরে যে আরও কিছু কাজ করার আছে তা ভেবে দেখে না।

– যিনি সামাজিক মানব তিনি সারাক্ষণই শুধু নানান সামাজিক বিষয়ের ভাবনায় মহা ব্যস্ত থাকেন যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি সমাজের নানান বিষয়ে বেশ পন্ডিত ধরনের, এরা বেশ অগুছানো মানব বাসার খাবার খায় না, সকলের সাথে খায়, অফিস থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় না গিয়ে অন্য জায়গা ঘুরে বাসায় যায় নিজের পরিবারকে তেমন সময় দেয় না।

তবে আমার ধারনা উপরের প্রতিটি মানবের সাথে আরো কতকগুলি মানের বৈশিষ্ঠ নিযে চলা উচিত যেমন অফিস মানব হিসবে ১৫ ভাগ, কর্ম মানব হিসিবে ১৫ ভাগ, অর্থ মানব হিসাবে ১৫ ভাগ,…………. এই ভাবে।

তবেই হয়তো তার প্রতিটি কাজে সে গুরুত্ত্ব পূর্ণ হয়ে উঠবেন, পোষ্টের সিইও যা যাচ্ছেন তার কিছু অংশ হয় তো পাওয়া যাবে।

ধন্যবাদ মইনুল ভাই পোষ্টটি আমার কাছে এই গুরুত্ত্ব পূর্ণ যে আমার এখানে অনেক কিছুই লেখার আছে তবে নানান ব্যস্তার কারণে তেমন ভাবে লেখা হচ্ছে না।

অনেক অনেক ভালো থাকবেন প্রিয় মইনুল ভাই।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২১:০৪

দারুণ বলেছেন! আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যটি একটি পরিপূর্ণ পোস্ট হতে পারে।

“অফিস মানব, কর্ম মানব, অর্থ মানব, পারিবারিক মানব, সামাজিক মানব” – এদের নিয়েই আমাদের কর্ম পরিবেশ। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা এবং ব্যক্তিগত নীতিবোধ থাকলে এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা যায়।

আমার মতে এই সমন্বয়ের মধ্যেই সুপ্ত হয়ে আছে মানুষ হিসেবে আমাদের সার্থকতা।

লেখার বিষয়টিকে এভাবে গুরুত্ব দেওয়ায় আমি সত্যিই সম্মানীত বোধ করছি।

আবারও ধন্যবাদ, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই

AhmedRabbaniআহমেদ রব্বানী২৭ জুন ২০১৪, ১২:০৪

আমি মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় পড়লাম।অভিনন্দন জানাতে তাই একটু দেরী হয়ে গেল প্রিয়।

ছোট্ট কেটি আর গুগলের চিঠিটি সত্যি অসাধারণ।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২১:০৫

কবি আহমেদ রব্বানী ভাইকে অনেক ধন্যবাদ….
আপনার উপস্থিতি আমার জন্য বিশেষ আনন্দ নিয়ে আসে।

AhmedRabbaniআহমেদ রব্বানী২৮ জুন ২০১৪, ০০:০৭

আমিও আপনার লেখার একজন অন্ধ ভক্ত প্রিয়।

missildhakaভোরের মিছিল২৭ জুন ২০১৪, ১৪:৫৫

আমি আপনার লেখার একজন ভক্ত, অনেক ভাল লেখেন আপনি, ভাল থাকুন সব সময়

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২১:০৫

ভোরের মিছিলকে অনেক ধন্যবাদ
ভালো থাকুন

jadobযাদব সূত্রধর২৭ জুন ২০১৪, ১৯:০০

ব্যতিক্রমী পোস্ট আপনারী পক্ষেই সম্ভব।
পড়ে অনেক ভাল লাগলো।শততম পোস্টের জন্য শুভেচ্ছা।আরও অনেক লিখুন।
শুভকামনা.

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২১:০৬

প্রিয় যাদব সূত্রধর, লেখাটি পড়ে আন্তরিক মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ…

শুভেচ্ছা জানবেন

fardoushaফেরদৌসা২৭ জুন ২০১৪, ২০:৫৭

যাদের নিজের সংসার ঠিক তাদের সব কিছুই ঠিক। সবখানেই তারা আনন্দে কাজ করতে পারে

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৭ জুন ২০১৪, ২১:০৭

//যাদের নিজের সংসার ঠিক তাদের সব কিছুই ঠিক। সবখানেই তারা আনন্দে কাজ করতে পারে//

লেখার সারকথা এক লাইনে বলে দিলেন, ফেরদৌসা আপা।
আপনি যে এবিষয়ে অনেক চিন্তা করেন এটি বুঝা গেলো

bn15ukউদয়ের বাণি২৮ জুন ২০১৪, ০০:১৩

শততম পোষ্টের জন্য
শুভেচ্ছা জানাই
.
ব্লগ রতন মাঈন ভাই

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০

প্রিয় উদয়ের বাণী, আপনাকে অনেক কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা

ভালো থাকুন…. এবং শুভ ব্লগিং

bn15ukউদয়ের বাণি২৮ জুন ২০১৪, ০০:১৪

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ জুলাই ২০১৪, ২১:৩১

PulakBiswas67পুলক বিশ্বাস২৮ জুন ২০১৪, ১১:৩৪

ব্যতিক্রমধর্মী পোস্ট যা আপনার সহজাত। এসব না হলে আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হই। ব্লগটাকে বনস্পতির ছায়ায় রেখেছেন বলে আমরা শ্যামল ছায়া পাচ্ছি।

আশা করছি রুঢ়তা পাবো না কোনোদিন।
অনেক অনেক শুভকামনা মইনুল ভাইয়ের প্রতি।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ জুলাই ২০১৪, ২১:৩১

অনেক বড় প্রশংসা। কৃতজ্ঞতা জানবেন, পুলক বিশ্বাস ভাই

tmboss172তৌফিক মাসুদ২৬ জুলাই ২০১৪, ১৩:১৮

আপনার লেখা পড়ে আপ্লুত হলাম। কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও এমন লেখা উপহার দিয়েছেন আমাদের। যারা জীবনের এই সময়টা পার করছেন তাদের পারিবারিক সমস্যাগুলো মিটে যাক।

যারা এখনো ইউনিভারসিটি তে আছেন তারা এই লেখার উপরে ভিত্তি করে দারুন এস্যাইনমেন্ট তৌরী করতে পারেন, আর যারা প্রতিষ্ঠানের এইচ আর এ আছেন তারা এমন একটা টেষ্ট নিয়ে নিতে পারেন।

চাকুরী হাড়ালে মইনুল ভাই দায়ী থাকবেন না।

অগ্রিম ঈদ মোবারক।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ আগস্ট ২০১৪, ১২:১৭

//চাকুরী হাড়ালে মইনুল ভাই দায়ী থাকবেন না।// হাহাহা

একদম বাঁচিয়ে দিলেন, ভাই

ধন্যবাদ এবং
অনেক শুভেচ্ছা, তৌফিক মাসুদ

আলি আহমদ: কর্মজীবনে পাওয়া একজন মেনটর

ছাত্রজীবনের এক কঠিন বাঁকে এসে একটি খণ্ডকালীণ চাকরির যখন খুবই দরকার ছিলো, তখন এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক স্বর্গদূতের মতো এসে আমাকে উদ্ধার করলেন। ইন্টারভিউর আগের দিনও তিনি আমাকে চিনতেন না। আমাকে দেখেই কী ভেবে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের বিব্রত মুখের সামনে বলে দিলেন, এই ছেলেটিকে নিন। সকলকে স্তম্ভিত করে দিয়ে আমার সামনেই তিনি রায় দিয়ে দিলেন। পরবর্তি দু’টি বছর ছিলো আমার জীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তখনও আমার স্নানকোত্তর শেষ হয় নি। মজার ব্যাপারটি হলো এই চাকরিটি প্রথমে খণ্ডকালীণ ছিলো না। এই ভদ্রলোকের সহায়তায় তিনমাসের আমার চুক্তিটিকে পূর্ণকালীণ থেকে খণ্ডকালীণে পরিবর্তন করতে সমর্থ হই।

চাকরি জীবনের প্রাথমিক দিনগুলোতে এই জৈষ্ঠ সহকর্মীকে পেয়েছিলাম, যিনি কখনও তার জৈষ্ঠতার কথা মনে করাতেন না। সকলের সাথে মিশতেন এবং প্রায় সকল কথাই বলতেও দিতেন। ফলে অন্যরা যেমন বেশি আশকারা পেতো, তেমনি তিনিও তাদের সহযোগিতা পেতেন সবচেয়ে বেশি। এজন্য অন্যান্য জৈষ্ঠরা তাকে খুব হিংসা করতেন, কিন্তু বিপদের সময়ে তারই নম্বরে ইন্টারকমের কলটি যেতো। এর মূলে ছিলো, অনেক মানুষের সঙ্গে তার মিশার ক্ষমতা এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য অলৌকিক কিছু কারিশমা।

বলছি আলি আহমদ সাহেবের কথা। এক দিলখোলা মানুষ। এর আগে এরকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অবসর জীবনে এসে বর্তমান কাজটি করছেন। তার নেতৃত্ব এবং প্রতিনিধিত্ব করার গুণাবলী দিয়ে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানটিকে তিনিই ধরে রেখেছেন বলা যায়। তিনি সহকর্মীদেরকে এতই উৎফুল্ল রাখতেন যে, তিনি কোন কারণে ছুটিতে থাকলে সেদিন অফিস থাকতো অন্ধকার। দেরিতে আসলেও অফিসের সকলে তার অনুপস্থিতি সবাই টের পেতো। বেশি টের পেতো সবুজ। অফিসের পিওন। সে একটু পরপর বলতে থাকতো, ‘আহমদ স্যারের আজ অইলো কী?’

আহমদ সাহেব ছিলেন অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। দেখা গেলো, অফিসের কর্মীরা কোন বিশেষ ডেডলাইনের পেছনে কাজ করছে। কিন্তু রাতদিন কাজ করেও যখন ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না, তখন উদ্ধারকারী হিসেবে তিনিই পথ বাতলে দিতেন। তিনি বলতেন, ‘আসুন…এক কাপ চা খান। আরে ভাই… শুনুন ডেডলাইন হলো দু প্রকার: একটিকে বলে ডেডলাইন; আরেকটিকে বলে ‘আসল’ ডেডলাইন। ডেডলাইনেরও একটি ডেডলাইন আছে। অতএব, চা খেয়ে পূর্ণোদ্দমে আবার লেগে যান। যতক্ষণ কাজে থাকবেন, ততক্ষণ ডেডলাইন আপনার জন্য লাইফলাইন।’

সবসময় বলতেন, ‘কাজ করবেন আনন্দ নিয়ে, তাই বলে জীবন দিয়ে দেবেন না। জীবন একটাই।’ আড্ডা দিতেন সুযোগ পেলেই। পান খাবার কারণে মুখে বিষণ্নতা দেখা যেতো না, থাকলেও। পান খেয়ে ঠোঁট তো লাল করতেনই, হাতও লাল করে রাখতেন। অফিসের পিয়নের সাথে ছিলো তার আলাদা ভাব। ইশারা করলেই পান হাজির।

আড্ডার সুযোগে জুনিয়ররা মাঝে মাঝে দু’একটা অভিযোগের কথা শুনিয়ে দিতেন। অভিযোগগুলো অধিকাংশই বড় বসকে নিয়ে। অথবা অন্য কোন জৈষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে। তিনি শুধু হাসতেন, কিছুই বলতেন না। শেষে শুধু বলতেন, ‘শুনুন, বসকে নিয়ে এতো ঘ্যানর করবেন না। তাকে নিয়ে এতো ধ্যানের কী আছে? কাজ নিয়ে ধ্যান করুন। বস একদিন আপনাকে নিয়ে ধ্যান করবেন।’ অথবা বলতেন, ‘বসের কথা শুনবেন, কিন্তু শুনবেন না।’ সময় থাকলে তার রহস্যময় কথাগুলো ভাঙিয়ে বলতেন। বসের আদেশের বাইরেও নিজের কমন সেন্স ব্যবহার করতে হবে। খালি শুনলেই চলবে না, মাঝে মাঝে না শুনেও অফিসের উপকার করা যায়।

তার অনেক উক্তির মধ্যে মনে রাখার মতো উক্তিটি হলো, ‘অত বেশি চিন্তা করবেন না। চিন্তা করলে কার্যক্ষমতা কমে যায়।’

একবার হলো কী, তার প্রাণপ্রিয় অফিসের পিওন সবুজ মিয়ার মুখের হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। সাধারণত সবুজ থাকতো হাসির আগে আর খাবারের পরে। অর্থাৎ হাসির কোন বিষয় হলে, সবুজের উচ্চস্বরে হাসি থেকেই তা বুঝা যেতো; কিন্তু অফিসের খাবারের আয়োজনে পদাধিকারের বলেই সবুজ থাকতো সবার পেছনে! তো, সবুজ হঠাৎ হাসি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরাও চিন্তিত। কী ব্যাপার, সবুজ? কোন উত্তর নেই। আলি আহমদ সাহেব দু’দিন ধরেই বিষয়টি খেয়াল করলেও, তিনি সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করছেন না । কিন্তু তৃতীয় দিনে আমাদেরকে চমকে দিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করে বসলেন:

-তোর কী হয়েছে রে? অফিসের পরিবেশ গোমট করে রেখেছিস কেন?
-স্যার, আমার অনেক বড় সমস্যা।
-কী সমস্যা, বলবি তো? কী এমন হয়েছে যে তোর হাসি বন্ধ?
-স্যার, ঋণের কিস্তি দিতে ভুলে গেছি।
-তাতে কী হয়েছে? জরিমানাসহ পরের মাসে দিয়ে দিবি?
-স্যার, এর আগেও ভুলে গিয়েছিলাম। এখন আমার অনেক সমস্যা।
-আরে এতে তোর সমস্যা হবে কেন?
-(সবুজ হা করে দাঁড়িয়ে আছে।)
-তুই টাকা দিতে না পারলে তোর সমস্যা হতে যাবে কেন? ওটি তো ব্যাংকের সমস্যা।

আমরা যারা তাদের এই কথোপকথনের শ্রোতা ছিলাম, স্মিত হেসে কাজে মনযোগ দেই। কত সহজেই না তিনি পরিস্থিতিকে হালকা করতে পারেন। আমাদের হাসি থামলে পর তিনি এই বলে শেষ করলেন, ‘ওদের টাকা। ওরাই তোকে পথ বাতলে দেবে। এখন এক দৌড়ে গিয়ে একটি পান নিয়ে আয় তো!’

বাস্তব অভিজ্ঞতার জীবন্ত ভাণ্ডার ছিলেন, আলি আহমদ সাহেব। মাঝে মাঝে অফিসে যখন মন খারাপ হয় অথবা কোথাও কোন স্বস্তি খুঁজে পাই না, তখন তাকে খুবই মিস করি। আমি জানি না তিনি কোথায় আছেন, অথবা আদৌ বেঁচে আছেন কি না। শহর ছেড়েছিলাম আমরা ১২/১৩ বছর আগে। তারও ২/৩ বছর আগে ওই চাকরিটি ছেড়েছিলাম। মোবাইলের তত প্রচলন না থাকায় এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু তার সাথে চেতনার যোগাযোগটি কখনও আলাদা হতে পারে নি।

কীভাবে মানুষকে আরও ভালোভাবে শুনা যায়/ শোনা The Art of Listening

১) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই আপনি একটি পরিস্থিতিতে বিয়ে করেছেন।সেটি করেছেন প্রেম করে এবং পরিবার-পরিজনকে না জানিয়ে। এর যথাযথ কারণ এবং যুক্তি আপনার কাছে হয়তো আছে। কিন্তু ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিয়ে হবার কারণে পরিবার এবং সমাজও আপনার প্রতিপক্ষ হয়ে আছে। ভীষণ মানসিক চাপে আপনি একেকটি ঘণ্টা অতিক্রম করছেন। এপরিস্থিতিতে আপনার বাবাই, যিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও, আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হলো আপনার বাবা কখনও আপনাকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে মেনে নেন নি। এবং এক্ষেত্রেও বাবা হবেন আপনার প্রধান সমস্যা। আপনার ধারণা আপনার কঠোর বাবা যদি আপনার যুক্তিগুলো শুনেন, তবে অবশ্যই আপনাদেরকে মেনে নেবেন। তিনি যদি তা মেনে নেন, তবে কেউ আর আপনাদেরকে বিপদে ফেলতে পারবে না। অন্যদিকে যদি কথাগুলো না শুনাতে পারেন, তবে পরিস্থিতি হবে সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু যদি আপনার বাবা আপনাকে না শুনেন তবে কেমন হতে পারে পরিস্থিতি?

আপনি মন-প্রাণ দিয়ে যাচ্ছেন কেউ আপনার কথাটি অন্তত শুনুক। আপনার ভেতরে অনেক কথা/ অভিমত/ তথ্য জমে আছে, আপনি যাচ্ছেন নির্দিষ্ট ব্যক্তিটি সেটি শুনুক। সে আপনার কথায় সম্মতি দিক অথবা না দিক, অন্তত আপনার কথাগুলো শেষ হতে দিক – এরকম পরিস্থিতি আপনার কি কখনও মনে হয়েছে? আপনার কি কখনও মনে হয়েছে যে, কেউ আপনার কথায় কর্ণপাতই করে নি? অথবা শুনেও শুনে নি? অনেক চেষ্টা করে কারও মনযোগ আকর্ষণের কথা কি আপনার মনে পড়ে? এরকম অসহায় পরিস্থিতিতে আপনার কেমন লাগে?

২) একটা সময় ছিল যখন বলা হতো, মানুষের অন্তরের প্রবেশের পথটি হলো তার পাকস্থলি। অর্থাৎ, মানুষকে ভালোভাবে ভোজন করিয়ে তার অন্তরে প্রবেশ করা যায়। কিন্তু আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় যোগাযোগের মাধ্যম যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে মানুষের অন্তরের প্রবেশের রাস্তা! এই ব্যবস্থায় মানুষের অন্তরে প্রবেশের পথটি হলো তার কথায় কর্ণপাত করা। মানুষ যত রাবিশ বলুক, সে চায় তার কথা শুনাতে। তার কথা যে শুনবে, সেই পাবে তার অন্তরে প্রবেশের গোপন চাবি। বর্তমান সমাজে একজন ভালো শ্রোতা মানেই হলো ভালো বোদ্ধা। “ভালো একজন শ্রোতা শুধুই জনপ্রিয় নন, অবশেষে দেখায় যায় যে, চূড়ান্ত কথাগুলো তার কাছে জমা হয়ে আছে।” (উইলসন মিজনার) আজকের লেখাটি পৃথিবীর ভালো শ্রোতাদেরকে উৎসর্গ করছি, যারা বিশেষ কিছু করে নয়, শুনেই মানুষের মনে শান্তি এনেছেন।

একটি ব্যস্ততম কল সেন্টারের ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে তিনি অগণিত অভিযোগের নিষ্পত্তি করেন। ব্যবস্থাপক শুধু সংক্ষেপে জানালেন যে, ৮০% অভিযোগ শুধু শুনে এবং লিখে রাখাতেই সমাধান হয়। বাকি ১০% অভিযোগ শেষ হয় অপেক্ষায়। অর্থাৎ কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখলেই ১০% অভিযোগের সমাধান হয়। মাত্র ১০% অভিযোগ নিয়ে বাস্তবিকভাবে তাদেরকে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো, গ্রাহকের অভিযোগগুলো পূর্ণ মনযোগ এবং সহানুভূতির সাথে শুনে যাওয়া।

দেশের ডাক্তারদের নিয়ে যখন সমালোচনা হয়, তখন একজন সুদক্ষ শ্রোতা এবং ব্যতিক্রমী ডাক্তারের কথা আমি স্মরণ করি। তাতে ডাক্তারদের প্রতি আমার অসন্তুষ্টি থাকে না। কর্মজীবনে আমি এই ডাক্তারকে পেয়েছি, যিনি আমার প্রকল্পে কাজ করেছেন আমার টিমমেট হিসেবে। সুন্দর হাতের লেখায় তার প্রেসক্রিপশনও ছিলো ব্যতিক্রম – সবাই পড়তে পারতো। তার কাছে রোগী আসতো অন্যের কাঁধে হাত দিয়ে আর ফিরে যেতো একা হেঁটে। এটি কোন বিস্ময়কর বিষয় নয়, অথবা ডাক্তারেরও যে খুব বেশি হাতযশ ছিলো তা নয়। বিষয়টি হলো সম্পর্কের। তিনি সবার সাথে মিশতে পারতেন এবং আন্তরিকভাবে শরীর সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারতেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, তিনি ছিলেন একজন উত্তম শ্রোতা। তার সাথে কথা বলে রোগী মানসিক শক্তি তখনই ফিরে পেতো। বাকিটুকু ওষুধ আর বিশ্রামের বিষয়।

৩) আমি তোমাকে শুনি = ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’

আমাদের সমাজের অবস্থা হলো এরকম: বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, নিয়েছে আবেগ। পাশাপাশি বসে স্মার্টফোনে আঙ্গুল চালাচ্ছি, অথচ পাশে বসা আপন মানুষটির কথা শুনছি না। এত কাছে থেকেই আজ আমরা কত দূরে চলে গেছি। ইমেলের পর যেমন চিঠিলেখার প্রচলন চলে গেছে, তেমনি স্মার্টফোনের ফ্রি-চ্যাটিং এর যুগে কথা বলা ও কথা শোরনার প্রচলন কমে যাচ্ছে। মানুষ হয়ে যাচ্ছে দারুণভাবে আত্মকেন্দ্রিক। এরকম এক ধ্বংসায়মান সমাজ ব্যবস্থায়, ‘অন্যের কথা মনযোগ দিয়ে শোনা’ একটি বিরল মানবিক গুণে পরিণত হচ্ছে। শুনলেও অন্যকে চেনা যায়, সম্পর্ক গড়া যায়; এগিয়ে যাওয়া যায়। এখন ‘তোমাকে আমি শুনি’ হলো ‘তোমাকে আমি ভালোবাসি’ বলার আধুনিক রূপ। (অবশ্য, ব্লগীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি হতে পারে একটু অন্যরকম: ‘আপনার লেখা আমি পড়ি’।)

‘ভালোবাসার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে শোনা।’ (পল টিলিচ) কিন্তু এবিষয়ে আমার ব্যক্তিগত দুর্বলতাটি অত্যন্ত সহজাত। তাহলো আমি কোনকিছুতে যখন মনযোগ দেই, তখন আমার দেহ-মন-প্রাণ চলে যায় সেটিতে। কী বই, কী কম্পিউটার, কী টিভির সংবাদ অথবা নাটক। তখন অন্য কোনকিছু আমার কানেও আসে না, চোখেও ভাসে না। ধরুন টিভিতে খবর দেখছি, তখন আমার সঙ্গীনীটি কোন বক্তব্য বা অভিমত বা অভিযোগ নিয়ে আসলেন, প্রথমমত সেটি আমার কর্ণেই প্রবেশ করে না। অভ্যাসগতভাবে হুম বা হ্যাঁ দিয়ে অনেক বার ধরা পড়েছি। কিন্তু আমার সঙ্গীনীটি খুব অভিমানী। যখনই প্রমাণিত হয়েছে যে, আমি না শুনেই জবাব বা সম্মতি দিয়েছি অথবা যখন সাব্যস্ত হয়েছে যে, তার গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা আমি শুনি নি, তখন থেকেই ‘অবরোধ’ শুরু। মানে তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অন্তত বেশ কিছু সময় চলে যাবে, স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে। তার যুক্তিটি হলো, আমি তার কথায় গুরুত্ব দেই না। অথচ সে যে আমাকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাকার পরও কথা বলেছে, তার কোন দোষ নেই! এ নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রায়ই খুঁনসুঁটি হয়। তার হিসাবটি খুব সোজা, তার ধারণা তার কথা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সামান্য একটি শোনার বিষয় থেকে সম্পর্ক অবনতির দিকে যেতে পারে, যদি অন্যান্য বিষয়ও অনুকূল না থাকে।

সম্প্রতি একটি টিভি শো’তে অনুষ্ঠানের পরিচালক পুরস্কার বিজয়ী শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলেন,
-তো, তুমি বড় হলে কী হতে চাও?
-বড় হয়ে আমি পাইলট হতে চাই।
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের হারিয়ে-যাওয়া বিমানটির কথা মনে করে দর্শকরা হেসে ওঠলো। তাতে শিশুটিকে আড়ষ্ট দেখাল।

সঞ্চালক একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ফের জিজ্ঞেস করলেন,
-ভালো কথা। ধরো তোমার বিমানটির সকল মেশিন একসাথে বন্ধ হয়ে গেলো। তখন তুমি কী করবে?
-সকলকে বলবো সিটবেল্ট বেঁধে শক্ত হয়ে বসে থাকতে।
-আর তুমি?
-আমি সাথে সাথে প্যারাশুট পড়ে বিমান থেকে জাম্প দেবো।
এবার দর্শকদের হাসিতে সঞ্চালক নিজেই প্রায় থেমে গেলেন। কিন্তু দর্শকদের হাসির মধ্যে শিশুটি তখন কাঁদছে। শিশুটির প্রতি সঞ্চালক তার মনসংযোগ কমালেন না।
-কেন তুমি জাম্প দেবে?
-আমি তো তাদেরকে ফেলে যাবো না! আবার ফিরে সাহায্য নিয়ে আবার ফিরে আসবো।

শেষ কথাটি না শুনে আমরা প্রায়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, অথবা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যের কথা বিচার করি। ঠিক এই বিষয়টি মানুষকে ভালো শ্রোতা হতে দেয় না। আমরা অর্ধেক শুনি, এক চতুর্থাংশ বুঝি এবং প্রতিক্রিয়া করি দ্বিগুণ। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলেছেন, “কেউ কিছু বললে তাকে পুরোপুরি শুনুন। কিছু মানুষ আছে তারা কখনও অন্যের কথা শুনে না।”

৪) ভালোভাবে শোনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

শোনার অভ্যাস ‘সম্পর্ক তৈরি ও রক্ষায়’ দারুণ সহায়তা করে।
•তাদের আস্থা বেড়ে যায়
•তারা সম্মানীত বোধ করে
•সহজেই আপন হয়
•শ্রোতার প্রতি আনুগত্য বেড়ে যায়
•ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়
•সম্পর্ক গড়ে ওঠে/ বৃদ্ধি পায়

অন্যের কথা শুনলে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রোতা যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন:
•বক্তার মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
•শ্রোতা সম্পর্কে কোন নেতিবাচক অনুভূতি থাকলে সেসম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
•ভবিষ্যতে কীভাবে তার সাথে আচরণ করতে হবে, তা জানা যায়
•ব্যক্তিগত দুর্বলতা/সবলতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
•শ্রোতার প্রতি শ্রদ্ধা/আনুগত্য সৃষ্টি হয়

শোনার জন্য যেসব মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন:
•নিজের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করা
•সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা দূর করা
•বিষয়টির সাথে মানসিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়া
•ভেতরের বাধাগুলো দূর করা;
•মনকে উন্মুক্ত করে দেওয়া;

বাহ্যিক প্রস্তুতি:
•যে কথা বলে, তার দিকে তাকানো;
•স্বাভাবিক এবং স্বস্তিতে থাকা – অস্থিরতা না দেখানো;
•চোখে চোখ রাখা (ভুল প্রয়োগ যেন না হয!);
•বাইরের বাধা-বিপত্তিগুলো সরিয়ে রাখা;
•সঠিকভাবে ‘সারা’ দেওয়া;
•অভিযোগ শুনলেও কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা;
•একই অভিমত বা একই অভিজ্ঞতা থাকলেও সেটি এখন বলার দরকার নেই;
•বক্তার কথায় মনযোগ দেওয়া, অন্য কোন কথা বলার প্রস্তুতি বন্ধ করতে হবে;

আচরণগত বিষয়গুলো:
•স্মিত হাস্যে বক্তাকে কথা বলা চালিয়ে যেতে দেওয়া
•পরিস্থিতি বুঝে ‘আচ্ছা/ তাই নাকি/ হুম/ বুঝতে পেরেছি/ বলতে থাকুন’ ইত্যাদি বলা
•মুখমণ্ডলে একই বক্তব্য রাখা: বিরক্তি বা অস্বস্তির চিহ্ন না রাখা
•‘আপনার কথা আমি যাচাই করে দেখছি/ দেখবো’ এরকম মনোভাব না দেখানো
•বক্তার কথাকে বুঝার জন্য অথবা আরও স্পষ্ট হবার জন্য প্রশ্ন করা যায়
•কিছু বলতে/ যোগ করতে চাইলে, কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

সাবধানতা:
•‘আপনি কি নিশ্চিত?’ এরকম বক্তব্য না দেওয়া
•‘পরিস্থিতি এত খারাপ না’ এরকম কথা না বলা
•কোনভাবেই বিতর্ক বা বক্তার কথাকে চ্যালেন্জ না করা
•বিষয় পরিবর্তন না করা, বা অন্য বিষয়ে জাম্প না করা
•কোনভাবেই কথায় বাধা সৃষ্টি না করা
•কোনভাবেই বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হওয়া
•‘অধিকাংশ মানুষই শুনে বলার জন্য।’ বলার সুযোগের অপেক্ষায় শুনবেন না।

অন্যের কথা শুনতে যেসব বিষয় বাধার সৃষ্টি করে:
•মানুষটি (বক্তা) সম্পর্কে নেতিবাচক পূর্বধারণা
•আগে থেকেই কিছু ধারণা করে ফেলা
•অন্যমনষ্কতা
•বক্তা সম্পর্কে অসম্মানবোধ
•বক্তা সম্পর্কে গোপন অভিযোগ/অভিমান
•আত্মঅহমিকা

অন্যের কথা শুনতে পারা একটি শিল্প: অভিজ্ঞদের পরামর্শ:

•কাজ বন্ধ করুন – যে কথা বলতেছে তার দিকে দৃষ্টি দিন
•তার কথা শুনুন এবং শান্ত হয়ে বসুন/দাঁড়ান
•হ্যাঁ বলে অথবা মাথা দিয়ে সাড়া দিন
•না বুঝলে অথবা আরও পরিষ্কার হবার জন্য প্রশ্ন করুন
•গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিশ্চিত হবার জন্য আবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন।
(উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন হতে পারে।)

৫) ‘শোনা’ সম্পর্কে বিখ্যাত কয়েকটি উক্তি:

ভালোবাসার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে শোনা। -পল টিলিচ

•শুনতে আমি পছন্দ করি। শোনা থেকে আমি অনেক শিখেছি। অধিকাংশ মানুষ শুনতে চায় না। -আরনেস্ট হেমিংওয়ে

•যেসব সফল ব্যক্তির কথা আমি শুনেছি, তারা অধিকাংশই বলেছেন কম, শুনেছেন অনেক বেশি। -বারনার্ড বারুচ

শোনার জন্য চেষ্টা লাগে। শুধুই শুনে যাওয়ার মধ্যে কিছু নেই – হাসেরাও শুনে। -আইগর স্ট্রাভিনস্কি

ভালো একজন শ্রোতা শুধুই জনপ্রিয় নন, অবশেষে দেখায় যায় যে, চূড়ান্ত কথাগুলো তার কাছে জমা হয়ে আছে। -উইলসন মিজনার

•মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রয়োজনটি হচ্ছে অন্যকে বুঝা এবং বুঝতে দেওয়া। অন্যকে বুঝার সবচেয়ে উত্তম পথটি হচ্ছে, তাদের কথা শুনা। -ড. র্যা লফ নিকোলস

ভালো শ্রোতা হতে মহৎ মানুষ হতে হয়। -ক্যালভিন কুলিজ

আমাদের কান দু’টি কিন্তু মুখ একটি। অর্থাৎ আমাদেরকে বলার চেয়ে বেশি শুনতে হয়। -জেনো অভ সিটিয়াম

অধিকাংশ মানুষই বুঝার ইচ্ছা নিয়ে শুনে না; তারা বলার প্রস্তুতি নিয়ে শুনে। -স্টিফেন আর কোভি

শোনার বিষয়টি হৃদয় হতে আসে; অন্যের কাছে আসার অকৃত্তিম ইচ্ছা, যা উভয়কেই আকর্ষিত করে এবং শান্তি দেয়। -সারা হার্ট

৬) সর্বাঙ্গে শুনা

চোখ রাখুন বক্তার চোখে – এদিক ওদিক তাকাবেন না, আকাশের তারা গুণবে না
কর্ণযুগল সদা প্রস্তুত – অনেক কিছু না শুনতে চেয়ে শুধু কথা শুনায় মনোযোগ দিন
মুখ থাকুক বন্ধ – গুণ গুণ করে গান গেয়ে ওঠবেন না!
হাতগুলো শান্তভাবে কোলে/টেবিলের ওপর রাখুন – পকেটেও রাখতে পারেন!
পদযুগল – মেঝেতে রাখুন – কটকট করে ফ্লোরে সুর তুলবেন না
দেহখানি বক্তা বরাবর ধরে রাখুন – তবে যথা দূরত্বে!
মস্তিষ্ক – মহাদুষ্টু। একে একান্তই আলোচ্য বিষয়ে ধরে রাখুন!
হৃদয় – বক্তার বিষয়ের প্রতি আন্তরিক হোন। শোনার বিষয়টি হৃদয় হতে আসে

*** কর্মজীবন/জীবন দর্শন নিয়ে সামু’তে প্রকাশিত অন্যান্য পোস্টগুলো:

সাউথপোলার/ স্বশিক্ষিত ক্ষণজীবীরা
কর্মক্ষেত্রের শুরুর দিনগুলো কেমন হওয়া চাই
ইনার পিস – আত্মার শান্তি
কৃত্তিম উপায়ে হাসুন!

—————–
পরিশিষ্ট:

ক. ‘অন্যকে শোনা’ নিয়ে ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের একটি লিখিত রূপ এটি। লেখক নিজেও এবিষয়ের শিক্ষার্থী!
খ. বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়িয়ে থাকা তথ্যগুলো একসাথে করে উপস্থাপন করা হলো। কিছু কিছু কনসেপ্ট সংগৃহীত হলেও ভাষাগত সত্ত্ব লেখকের নিজের।
গ. ইংরেজি বক্তব্যের ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
ঘ. বাংলা বক্তব্যের ছবিগুলো লেখকের নিজের।
ঙ. অন্যকে শোনা নিয়ে লেখকের অনুসন্ধান চলতেই থাকবে।

 

[সামহোয়ারইন ব্লগে প্রথম প্রকাশ এবং পাঠক প্রতিক্রিয়া: ২৪ মে ২০১৪]

The First Impression: কর্মক্ষেত্রে শুরুর দিনগুলো কেমন হওয়া চাই

এবিষয়ে প্রচলিত ইংরেজি প্রবাদটির মানে করলে এরকম দাঁড়ায়: প্রথম চমক দেবার দ্বিতীয় সুযোগটি পাবেন না। ফার্স্ট ইম্প্রেশন কীভাবে ভালো করা যায় এবিষয়ে টিপস ও পরামর্শের অভাব নেই বাজারে। যে কেউ চাইলেই পাবেন আর উপদেশের সাগরে ভাসতে পারবেন; কূল খুঁজে পাবেন না। হঠাৎ একটি বিষয়ে নানামুখী নসিহত পেয়ে মানসিক চাপ বেড়ে যায়। শেষে নিজের যতটুকু ছিলো তা-ও হারাতে হয়। টিপস গ্রহণ করার ব্যাপারে প্রথম টিপস হলো: সবই গলাধকরণ না করা। সবকিছু সবার জন্য সবসময় প্রযোজ্য হয় না। তবে পড়ার জন্য পড়া যায় – রিডিং ফর প্লেজার! কোন ডেডলাইন সামনে নিয়ে পরামর্শ নেওয়া আর পরীক্ষার পূর্বে ভোর রাত পর্যন্ত পড়া একই কথা।

কর্মজীবনের শুরুর দিনগুলো ভালোভাবে অতিক্রম করতে পারলে, এবং প্রথম চাকরিতে সুনাম অর্জন করতে পারলে – তা পরবর্তিতে মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অনেকে ইনটার্ন বা শিক্ষানবীশ বা স্বেচ্ছাসেবকের কাজকে অবহেলায় শেষ করেন। সেটিও প্রথম চাকরি হিসেবে ধরলে, তা থেকে পরে অনেক সুফল পাওয়া যায়। বলছি শুরুর দিনগুলোর কথা:

• ভালো দিয়েই হোক শুরু:
অলৌকিক বা অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে, শুরুর দিনেই কোন প্রতিষ্ঠানে সুপারম্যান হিসেবে আবির্ভূত হওয়া কঠিন। নিজের মতো থাকাটাই বেশি দরকার! তবে কিছু বিষয়ে বিশেষ ফোকাস দিলে, অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে প্রারম্ভিক অস্বস্তিগুলো কাটিয়ে ওঠা যায়। প্রথম দিনের স্কুলের মতো প্রথম দিনের উত্তেজনা সবকিছুতেই থাকে – কর্মস্থলে একটু বেশি থাকে। তাই দেহ মন এবং আপনার আউটলুককে ভালো মতো প্রস্তুত করে নিন। রাতের বিশ্রাম, সকালের নাস্তা, পরিপাটি পোশাক – এসব হলো অতি ব্যক্তিগত প্রস্তুতি যা স্বাভাবিকভাবেই সকলে করে। পোশাকের ক্ষেত্রে শালীনতার পাশাপাশি আপনার আরাম ও স্বস্তির বিষয়টিকে উপেক্ষা করবেন না। পরিচয়ের সময়ে স্বাভাবিক থাকুন এবং পরিবেশ অনুকূল হলে নিজেই উদ্যোগী হয়ে ডেস্ক-টু-ডেস্ক গিয়ে করমর্দন করুন দৃঢ়তার সাথে। কণ্ঠে বিনয় থাকুক, তবে আত্মবিশ্বাসকে যেন হারিয়ে না ফেলেন।

• নোট নিন:
হয়তো শুধু রাশেদ নামেই অন্তত ৩জনের সাথে পরিচয় হবে। কেউবা হবেন আপনার ক্লাসমেটের বন্ধুর বড়ভাই বা বড় বোন। কেউ হতে পারেন আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই। প্রথম দিনের মিটিংয়ে চোখ ছাড়াবড়া হতে পারে। হাতে পাবেন একগাদা নিয়মাবলী আর পলিসিপত্র। একদিনের তুলনায় অনেক তথ্য আপনার ওপর ওইদিন ঝাঁপিয়ে পড়লেও সকল তথ্যেরই ভবিষ্যত মূল্য আছে। তাই নোট রাখুন, দেখবেন পরে নিজেকে এজন্য বাহ-বাহ দেবেন। এ অভ্যাসটি পরেও ধরে রাখতে পারেন।

• নম্র ভদ্র পরিপাটি ও সময়নিষ্ঠ:
নম্রতা-ভদ্রতা-নিয়মনিষ্ঠতাই কর্মজীবনের চাবিকাঠি নয়, তবু এসব যাদের থাকে, তারা একটু একস্ট্রা লিভারেজ পেয়ে থাকেন। অফিসে সময়মতো আসাকে অভ্যাসে পরিণত করুন কর্মজীবনের শুরুতেই। সম্ভব হলে পনের-বিশ মিনিট হাতে রাখুন, কিন্তু দেরিতে আসাকে শুরু থেকেই এড়িয়ে চলুন, তাতে সকালের অস্বস্তি থেকে অন্তত আপনি রক্ষা পাবেন। কাজে ভুল হলে বা দেরি হলে, এবং তাতে আপনার সিনিয়র বিরক্ত হলে, শুরুতেই কারণ দাখিল করবেন না। আগে তাকে বলতে দিন। কাজে ও আচরণে নিজেকে পছন্দনীয় করে তুলুন সিনিয়র-জুনিয়র-পিয়ার সকলের কাছে।

• বুঝে নিন বাতাস কোন্ দিকে বয়:
কল্পিত পূর্বধারণা নিয়ে বর্তমান কর্মস্থলকে বিচার করা যায় না। প্রথম দিনেই সহকর্মীদের আড্ডায় হট্টহাসিতে মেতে ওঠবেন না, আরও দেখুন। প্রতিষ্ঠানের স্বভাব এবং পলিসি জানতে সময় লাগে। তেমনি সময় লাগে সহকর্মীকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য। এজন্য পর্যাপ্ত ধারণা না নিয়ে কোন বৃহৎ বিষয়ে মতামত বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করা হবে উত্তম। জেনে নিন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও কাজের ধারা এবং অফিসে কাদের প্রভাব বেশি। শুরুতে অনেকেই একটু স্মার্টনেস দেখানোর সুযোগ নেবে, কিন্তু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। গসিপিং বা সমালোচনামূলক আড্ডায় কোন কনট্রিবিউশন না করাই হবে বিচক্ষণ পেশাদারের কাজ। কৌশলে এড়িয়ে চলুন – সম্ভব না হলে বিষয় পরিবর্তন করুন।

• নিজেকে মেলে ধরুন:
শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি তো হয়ে গেলো, এবার সময় নিজেকে গড়ে তোলা। তাই শিক্ষা জীবনের উচ্ছ্বাস বা হতাশার বিষয়গুলো যেন আপনাকে আর পিছু না টানে। বেতন এবং পদবির ব্যাপারে যদি আর কিছুই করার না থাকে, তবে ওসব বিষয় যেন আপনার কর্মস্পৃহায় আর বাধা না সৃষ্টি করে। এবার সময় নিজেকে মেলে ধরার। কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করতে চাইলে, কাজেই নিজেকে শতভাগ নিয়োজিত করুন। মিটিং বা প্রেজেন্টেশনে যথাযথ পূর্ব প্রস্তুতি নিন – স্টাডি করুন প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। হিনমন্যতাকে জয় করে নিজের মতামত বিনয়ের সাথে তুলে ধরুন, যখনই সুযোগ আসে। আপনি যে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ভাবছেন, তা কর্তৃপক্ষকে বুঝতে দিন। আপনাকে তুলে ধরার দায়িত্ব আর কেউ নেবে না – এই ‘গিয়ানের কথাটি’ মনে রাখুন।

• সম্পর্ক গড়ুন, শতভাগ না মিললেও:
ব্যক্তিগতভাবে কাওকে পছন্দ না হতেই পারে। কিন্তু এসবকে ভিত্তি করে তাদের সাথে ‘কাজের সম্পর্ক’ যেন বিনষ্ট না হয় খেয়াল রাখতে হবে। যদিও কর্মস্থলে খুব বেশি ঘনিষ্ট হওয়াকে অনেকেই সমর্থন করেন না, কিন্তু পৃথিবীর সব আরাধ্য বিষয় তাদের কাছেই চলে আসে, যারা সম্পর্ক গড়তে এবং ধরে রাখতে পারেন। চাটুকারিতা এবং নেকামি এড়িয়ে সততা এবং আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলুন – ঘনিষ্ট না হলেও সেটি কাজে আসবে।

• শ্রম দিন, চ্যালেন্জ নিন: 
কর্মজীবির জন্য কাজই জীবন। কাজের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সবসময় প্রত্যাশার চেয়ে একটু বেশিকিছু করার প্রচেষ্টা আপনার কাজে উৎকর্ষতা এনে দেবে। অন্যকে সহযোগিতা দিতে পারা একটি মূল্যবান যোগ্যতা। যারা বেশি শ্রম দিতে জানে, তারা নিজের কাজ শেষে অন্যকে সাহায্য করারও সময় পায়। আপনি কাজ এবং চ্যালেন্জ নিতে পছন্দ করেন, এরকম ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে, আপনার কর্মস্থল হবে হাওয়াও ওড়ে বেড়ানোর মতো সহজ।

• কতৃপক্ষকে স্বস্তিতে রাখুন: 
পেশাদারিত্বের এযুগে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। আপনার জৈষ্ঠ্য সহকর্মী অবশ্যই কিছু বিষয়ে আপনার চেয়ে বেশি জানেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি আপনার বিষয়ে প্রতিবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষ আপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে তার কথায় প্রথমে গুরুত্ব দেবে। তাছাড়া, তার কাজকে সহজতর করার জন্যই আপনার পদটি সৃষ্ট হয়ে থাকতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে, কীভাবে নিজের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সিনিয়র বসের কাজকে সহজতর এবং আরামপ্রদ করে দেওয়া যায়। তাতে আপনার সিনিয়র আপনার কাজের ধরণ সম্পর্কে অবগত থাকবেন। তাছাড়া, এর মধ্য দিয়ে আপনি হয়তো, তার কাজের পদ্ধতি এবং প্রকার জেনে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। তাই শুরুতেই এবিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিলে নিঃসন্দেহে এতে উপকার আছে।

• দ্বিধা ছাড়ুন; নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করুন, কিন্তু সমালোচনার দরজাও খুলে রাখুন: 
কিছু না বুঝলে প্রশ্ন করতে দ্বিধা করবেন না। তাছাড়া, প্রথম দিনগুলোতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করার ‘লেজিটিমেট’ সুযোগ আপনার থাকবেই! উপযুক্ত চ্যানেলের মাধ্যমে নিজের উপলব্ধিকে সততা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রকাশ করুন। হয়তো সবসময় সঠিক হবে না, কিন্তু অন্তত নিজেকে যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন। কাজ করলে ভুল হবে, তাতে সমালোচনাও হবে। সমালোচনাটি সঠিক বা প্রাসঙ্গিক না হলেও সেটি ইতিবাচক আচরণ দিয়ে গ্রহণ করুন। সময় এবং স্থানটি উপযুক্ত না হলে ডিফেন্স করার প্রয়োজন নেই – সময়ের অপেক্ষায় থাকুন।

কর্মক্ষেত্রে ভালো পারফরমেন্স করতে চায় না, এরকম মানুষ খুব কমই আছে। শুধু শুরুর দিনে নয়, ক্যারিয়ার ডিভেলপমেন্ট-এর জন্য সমস্ত কর্মজীবন জুড়েই একরকম প্রচেষ্টা থাকতে হয়। তবে শুরু ভালো হলে নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী কর্মজীবনে এর প্রভাব গিয়ে পড়ে। (সমাপ্ত)

সূত্র: ১) ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ২) ডেইলি স্টার সহ বিভিন্ন মাধ্যম।

[প্রাত্যাহিক জীবনের একটি বৃহৎ অংশ জুড়ে রয়েছে আমাদের অফিস লাইফ। তাই এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে। কর্মক্ষেত্রে অযোগ্যতা বা অনিয়মকে দুর্নীতির জননী বলা হয়। এর সাথে সফল শিক্ষাজীবনের সরাসরি কোন যোগসূত্র নেই: চরম মেধাবী শিক্ষার্থীটিও কর্মস্থলে গিয়ে ভিমরি খেতে পারে। কর্মজীবন বা কর্মস্থলের উন্নয়ন তথা পেশাদারিত্ব নিয়ে বাংলায় পর্যাপ্ত লেখালেখি হচ্ছে না। আমি অনুরোধ করবো কর্মজীবি সহব্লগারদেরকে, তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। সেটি মন্তব্য বা ‘আলাদা পোস্ট’ আকারেও আসতে পারে। তাতে নবাগত বা ভবিষ্যৎ পেশাদাররা উপকৃত হবেন আর উন্নত হবে আমাদের কর্মস্থল।]

============================================
**কর্মসংস্থান ও কর্মজীবন নিয়ে অন্যান্য পোস্টগুলো:

১)) বাজার বুঝে কর্মসংস্থান খোঁজা

২)) কর্মসংস্থানে আত্মশক্তির গুরুত্ব

৩)) কর্মজীবনে উন্নতির জন্য সোস্যাল নেকওয়ার্কিং

যে কারণে চাকুরি প্রার্থীদের জন্য সময়টি কঠিন

cccc

আমরা তো বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায়ই ‘জীবনের লক্ষ্য’ নিয়ে রচনা লিখি। অবশ্য ডাক্তার, প্রকৌশলী, পাইলট বা ব্যারিস্টার ছাড়া আমাদের আর কোন লক্ষ্যও থাকে না। কিন্তু কতজনে তার লক্ষ্য মতো জীবনকে গড়তে পারে? তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে বিষয়ে পড়া হয়, সেবিষয়ে কি সকলেরই চাকরি হয়? মাঝে মাঝে ভাবি আসলেই কি পেশা নির্বাচন করার ক্ষমতা আমাদের আছে? ডাক্তার, আইনজীবি আর প্রকৌশলী ছাড়া, আর কোন বিষয়ে কি ‘নিজের পছন্দমতো’ চাকরি হয়? এখন তো মনে হয় ডাক্তার-উকিল-প্রকৌশলীদেরও সে সুযোগ কমে যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার ডাক্তার বের হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে।

এমন পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য মাত্র দু’টিই পথ: নিজের পছন্দের বিষয়ে সর্বোচ্চ দখল, না হয় যেকোন বিষয়ে কাজ করার মতো ‘অনুকূল’ মানসিকতা। হয় যেকোন চাকরিতে নিজেকে মানিয়ে চলতে হয়, না হয় নিজের বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। হয় চাকরি করো, না হয় চাকুরি সৃষ্টি করো। মাঝের জায়গাটি বড়ই ‘আরামহীন’: অনেকে একে ‘বেকার’ নামে চেনেন!

.

মানুষ দু’প্রকার: চাকুরি প্রার্থী েএবং চাকুরি দাতা

আগেই বলে রাখা ভালো ‘লেখক হওয়া’ কিন্তু একটি আত্মকর্মসংস্থানের নাম। তবে কর্মজগৎকে বিবেচনায় আনলে দু’রকমের কর্মজীবি আছে: নির্ধারক nominator এবং নির্ধারিত nominee । এক দল চাকরি দেয়, আরেক দল চাকরি করে। অথবা বলা যায়, এক দল পরিচালনা দেয়, আরেক দল ‘পরিচালিত হয়’।

যারা বিচক্ষণ, দূরদর্শী এবং নেতৃত্বদানে দক্ষ, তারা সাধারণত ‘নির্ধারকের’ ক্ষমতা ও সম্মান লাভ করেন। তারা অনেকটা প্রাকৃতিকভাবেই মেধাবী এবং স্বাধীনচেতা। চাকরি হোক অথবা ব্যবসায়, তারা হলেন নিজ বিষয়ের ওস্তাদ এবং চাকুরিদাতা।  এখানে প্রধান চ্যালেন্জ হলো মানুষকে পরিচালনা দেওয়া। তবে তারা সাধারণত চ্যালেন্জ-পিপাসু হয়। তারা নিয়তি বা ভাগ্যে খুব একটা বিশ্বাসী নয় – নিজেই নিজের ভাগ্যের নির্মাতা। নিজের পথের নির্দেশ নিজেই বের করে। গাড়ির ড্রাইভারের মতো।

পক্ষান্তরে ‘নির্ধারিতদের’ ভাগ্য লেখা থাকে ‘নির্ধারকদের’ হাতে। প্রতিশ্রুতিহীন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন মনোভাব তাদের এপরিস্থিতির জন্য দায়ি। তারা কখনও সৃজনশীল হতে পারে না, যেমন পারে না দায়িত্বশীল হতে। নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে আর থাকে বসের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনেকে একে নিজের নিয়তির সাথে মিলিয়ে নেয়। তারা যেমন জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে পারেন না, তেমনি পারেন না পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে। এখানে চ্যালেন্জের সীমা নেই, মানিয়ে চলতে পারলে উত্তম কর্মী। যেভাবে চালানো যায়, সেভাবেই তারা চলে। গাড়ির যাত্রীর মতো।

.

bbbb

“Never depend on single income. Make investment to create a second source.”  

-Warren Buffet, the World’s Richest Man

কর্মজগৎ মূলত দু’টি জনগোষ্ঠির হাতে আটকে আছে: নির্ধারক এবং নির্ধারিত। অনেকেই আত্মসচেতনতা আর ‘ব্যক্তিগত জেদের’ শক্তিতে এগিয়ে আসে। Success is a matter of choice – সময় থাকতে যারা টের পেয়ে যায়, তারা মাইগ্রেট করতে পারেন দ্রুত।

.

.

*কর্মসংস্থান নিয়ে প্রাসঙ্গিক আরেকটি লেখা

________________________________________________________________________

পুনশ্চ: প্রায় ন’টি বছর প্রতিষ্ঠানের ‘অপারেশন’ বিভাগে থাকার পর এবছরের শুরুতে ‘এডমিনিস্ট্রেশন’ বিভাগে স্থানান্তরিত হই। অর্থ, সম্পদ ও কর্মী সম্পর্কে অর্জিত হয় বিরল অভিজ্ঞতা। মানুষের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে অনেক সংকীর্ণ ধারণা বিস্তৃত করার সুযোগ পাই। মানুষ পারে না, এমন কাজ পৃথিবীতে কমই আছে। শুধু একটু অন্তর্মুখী রাগের প্রয়োজন!

কর্মসংস্থান ব্যবসায় : একটি অনাবিষ্কৃত শোষণ ব্যবস্থা

Eye Opener-crop

“শহিদুল সাহেবের সাথে এতগুলো বছর অতিক্রম করে আমি আমার ক্যারিয়ারটাকে শেষ করে দিয়েছি। সারাটি জীবন ম্যানেজারই থেকে গেলাম। অথচ বিএ পাশ করার পর একাজটি পেয়ে আমি কত খুশি হয়েছিলাম। তখন দয়া করেই তৎকালীন ম্যানেজিং ডিরেক্টর শহিদুল সাহেব আমাকে ম্যানেজারের কাজটি দিলেন। চিঠিলেখা, কারখানার সাথে প্রডাকশন ফলো-আপ করা, হিসাব করা, বিদেশি ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করা ইত্যাদি কাজে আমি দারুণ মজা পেতাম। এমএ’টা করারও আর প্রয়োজন বোধ করলাম না। ১৯৯৮ সালে আমার বেতন ছিলো ৬০০০ টাকা। বছর গড়ালেই কাজ বাড়তো, কিন্তু বেতন বাড়তো না। অনুযোগ করলেই বলা হতো, ‘তোমার তো কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। এখানে কাজ শিখার যে সুযোগ পেয়েছো, সেটারও তো একটু মূল্য আছে। কাজ শিখো, বেতন তুমি পাবে।’ সেই সেই সময় আর এলো না আজ ২০১৩ সালেও আমার বেতন মাত্র ২০,০০০ টাকা। এদিকে সংসারের সদস্য বেড়ে ৬জনে দাঁড়িয়েছে। মেয়ের স্কুলের বেতন ও প্রাইভেটের পড়ানোর খরচ।

“শহিদুল সাহেব এখন একই প্রতিষ্ঠানসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। অথচ আমি ম্যানেজারেই রয়ে গেলাম! আজ ভাবছি, কী ভুলই না করেছিলাম, তার আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে! কত চাকরির প্রস্তাব দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে প্রত্যাখ্যান করলাম, তার হিসেব নেই। আজ আমিও প্রতারিত, সে সাথে আমার স্ত্রী-সন্তানকেও প্রতারনার ভুক্তভোগী বানালাম।”

.

.
গল্পটির সব বলা হয় নি। দরকারও নেই, কারণ এরকম গল্পের অভাব নেই আমাদের সমাজে। যা হোক, তরুণ ভাইবোনদেরকে আমি আগে বলতাম, যাচাই-বাছাই না করে প্রথমে যে কোন একটি কাজে ঢুকে পরতে। তাতে বেকারত্বও কাটবে, আবার অন্য একটি চাকরির জন্য যোগাযোগ করার খরচও জুটবে। বেকারকে কেউ চাকরি দিতে চায় না। এক সময় দেশের নতুন পাশ-করা গ্রাজুয়েটরা চাকরি বলতে শুধুই সরকারি চাকরিকেই মনে করতো। তাই, পাশ করেই একটি সরকারি চাকুরির জন্য আদা-জল খেয়ে লেগে যেতো আর পায়ের জুতা ক্ষয় করতো।

কিন্তু এখন ভিন্ন কথা। সময় পাল্টেছে, প্রতিযোগিতা বেড়েছে কর্মস্থলে। যোগ্যলোকের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে চাকরির সংস্থানও। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে ব্যাংক-বীমা, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য-পযুক্তির কল্যাণে নানাবিধ কাজের একটি বিশাল দরজা উন্মুক্ত হয়েছে। প্রাইভেটাইজেশনের কারনেও ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে সংখ্যাতীত ভাবে। ফলে চাকুরির খাতও বেড়েছে, সংখ্যাও বেড়েছে।

যোগ্য ব্যক্তিকে এখন আর বসে থাকতে হয় না। চাকুরির একটা ব্যবস্থা হয়েই যায়। চাকুরির রকম, স্থান, মান ইত্যাদি আপনার পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু চাকুরি আছে বাজারে।

এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, দেখে-বেছে চাকুরি গ্রহণ করা এবং অধিকতর ভালো সুযোগ পেলে বর্তমান চাকুরির মায়া ত্যাগ করাই হলো উত্তম। কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ আছে, বেতনও ভালো, কিন্তু পদোন্নতি বা যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। চাকুরি করেই যদি খেতে হয়, তবে পেশাদারি আচরণ নিতেই হবে, এবং নিজের ক্যারিয়ার ডিভেলপমেন্ট-এর বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

কর্মসংস্থান আর ‘সুযোগ দেবার’ নামে নব-আবিষ্কৃত শোষণ ব্যবস্থাটি হলো, কম বেতনে এবং কম সুযোগে কোন প্রতিশ্রুতিশীল কর্মীকে ধরে রাখা। তাকে এমনভাবে সম্মোহন করা, যাতে সে অন্য চাকুরির সন্ধান না করে। পাঁচ-দশ বছর যাবার পর তার কর্মশক্তি যখন একটি কাজেই আটকে যায়, তখন প্রতিষ্ঠান তাকে আর আটকায় না। কিন্তু তখন তার আর কিছুই করার থাকে না।

তাই এখন সেই পরামর্শ আর আমি নতুন প্রজন্মকে দিই না। তাদেরকে একটিই কথা বলতে চাই: আপনি যে কাজ বা যে পেশা নিতে চান, সেই পেশার সাথে সম্পৃক্ত কাজেই যুক্ত হোন – বেতন না থাকলেও সেটি আপনাকে ক্যারিয়ান গঠনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অগত্যা কোন অড জবে আটকে গেলে, যত দ্রুত সম্ভব ওখান থেকে বের হয়ে আসুন। অনুসন্ধান করুন নিজের যোগ্যতা-ভিত্তিক কাজের।

Do What You Love and
Love What You Do!