Category: শিক্ষা

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ৪।

 

প্রতিষ্ঠানকে আপনার শিক্ষার ওপর হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না।  (মার্ক টোয়েইন)

কিছু মানুষ পঁচিশেই মারা যায় এবং দাফন করতে পঁচাত্তর বছর লেগে যায়।  (বেন্জামিন ফ্রাঙ্কলিন)

তাড়াতাড়ি আমাকে কিছু মদ ঢেলে দাও, যেন মনকে সিক্ত করে মহৎ কিছু বলতে পারি। (এরিস্টোফিনিস)

বিজয়ীরা মদ যোগ্যতায় লাভ করলেও, ব্যর্থদের জন্য সেটি অত্যাবশ্যক! (নেপোলিয়ান)

হয় আরেকটু মদ ঢালো, নয়তো সামনে থেকে সরো! (রুমি)

ডায়েটের প্রথম দিন:  সব চর্বিযুক্ত খাবার বাসা থেকে খালি করে দিলাম। অনেক মজা লেগেছিল! (বেনামী)

ছুটির দিনগুলোতে আমার একটাই লক্ষ্য থাকে। তা হলো, মাঝে মাঝে নড়াচড়া করা, যেন কেউ মনে না করে যে আমি মারা গেছি। (বেনামী)

জীবনে সবসময় দ্বিতীয় একটি সুযোগ থাকে, যার নাম হলো, আগামিকাল। (নিকোলাস স্পার্কস)

আমার মানিব্যাগটি পেঁয়াজের মতো – খুলতে খুলতে চোখে পানি চলে আসে। (বেনামি)

মনে রাখবেন ‘আজই’ হলো সেই ‘আগামিকাল’, যাকে নিয়ে ‘গতকাল’ আপনি চিন্তিত ছিলেন। (ডেল কার্নেগি)

 

এবারের পর্বটির অধিকাংশ ‍উদ্ধৃতির জন্য রিডার্স ডাইজেস্ট-এর কাছে ঋণী। অনুবাদ লেখকের।


রসাত্মক ধনাত্মক উক্তির তৃতীয় পর্ব।

Advertisements

পাঠপরিকল্পনা বা লেসন প্লানিং করা শিক্ষকদের জন্য কতটুকু আবশ্যক?

পাঠ্যবই বা সমাধান দেখে পড়িয়েছেন এমন শিক্ষক যেমন দেখেছি, তেমনই দেখেছি আত্মনির্ভরশীল তুখোড় শিক্ষক। ক্লাসের প্রতিটি মিনিটকে তারা প্রয়োগ করেছেন পরিকল্পিত উপায়ে। তাদেরকে আমি কর্মজীবনেও ভুলতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পর্যন্ত আমি পাঠপরিকল্পনার প্রচলন দেখেছি। আমার চোখে যারা সফল শিক্ষক ছিলেন, তাদেরকে প্রত্যেককেই পরিকল্পনামাফিক ক্লাস নিতে দেখেছি। কিন্তু হালে অনেকেই আমাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং করতে পেরেছেনও। তারা বলছেন, এটি অহেতুক কালক্ষেপন – শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করার পর শিক্ষক আর পাঠ্যপুস্তক এ দু’য়ে মিলে সৃষ্টি হয় জীবন্ত পাঠপরিকল্পনা। সেখানে আরেকটি লিখিত পরিকল্পনা মানে কী! এসব বিতর্ক নিয়েই বর্তমান লেখাটি।

কার্যকর পাঠদান মানেই হলো পরিকল্পনাভিত্তিক পাঠদান। পৃথিবীর সফল ক্লাসরুম টিচিংগুলো সম্পন্ন হয়েছে পরিকল্পনামাফিক পাঠদানের ফল হিসেবে। কিন্তু আমাদের দেশে ‘প্রদর্শনী বা ডেমোনস্ট্রেশন ক্লাস’ ছাড়া পরিকল্পনাভিত্তিক পাঠদানের প্রচলন খুবই কম। শিক্ষকতাকে পেশাদারী মনোভাব নিয়ে গ্রহণ না করার কারণে অনেকে পাঠপরিকল্পনাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন না। বিএড অথবা এমএড পর্যায়ে পাঠপরিকল্পনার ছবক পেলেও নিজ নিজ শ্রেণীকক্ষে সেটি প্রয়োগ করার অভ্যাস অনেক শিক্ষকের নেই।

ইতিবাচক কারণেই অনেকে পাঠপরিকল্পনা করতে চান না। একটি কারণ হলো, অতি আত্মবিশ্বাস। কেউ কেউ আবার দু’এক বছর শিক্ষকতা করে মনে করেন, পাঠপরিকল্পনা করার মতো নিম্নস্তরে তারা আর নেই।

পাঠপরিকল্পনা মূল বিষয়গুলো হলো:

  • কী পড়াবেন
  • কীভাবে পড়াবেন এবং
  • কীভাবে মূল্যায়ন করবেন

এসব দ্বিধা্দ্বন্দ্বের সঠিক উত্তর না নিয়ে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করার মানেই হলো আত্মপ্রবঞ্চনা। শিক্ষার্থীর প্রতিও প্রতারণা।

কিন্তু এই পাঠপরিকল্পনা বা লেসনপ্লান নিয়ে পেশাদার শিক্ষকদের মনে আছে প্রচণ্ড দ্বিধা আর সিদ্ধান্তহীনতা। কেউ কেউ মনে করেন সুদক্ষ শিক্ষকদেরকে পাঠপরিকল্পনা করতে হয় না। কিন্তু অন্যরা বলেন, দক্ষতার শুরুই হয় পরিকল্পনাভিত্তিক পাঠদানের ফলে। পেশাদারিত্বের কোন্ স্তরে গেলে পাঠপরিকল্পনা ছাড়া পাঠদান করা যায়, এবিষয়ে আছে অনেক মতভেদ।

 

লেভেল ১/ অনেক গুরুত্বপূর্ণ:

আপনি যদি নতুন শিক্ষক হন, তবে পরিকল্পনাহীন শ্রেণীকক্ষকে মনে হবে একটি নরক অথবা অপরিচিত জঙ্গল। কীভাবে পথ অতিক্রম করবেন আগে থেকে ছক কাটা না থাকলে নির্ঘাৎ বাঘের মুখে। মিশ্র সামর্থ্যের একটি শ্রেণীকক্ষে পরিকল্পনাহীন শিক্ষাদান আপনার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা, পূর্বজ্ঞান ইত্যাদি সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখলেন না, অকষ্মাৎ শুরু করলেন আপনার বক্তৃতা। এটি শিক্ষার্থীর মনে বিভ্রান্তি, প্রশ্ন, অযাচিত কৌতূহল এবং বিব্রতকর প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে।

শ্রেণীকক্ষে প্রবেশের পূর্বে কী পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের অর্জন যাচাই করবেন – এ সম্পর্কে পুরোপুরি একটি ধারণা নিতে হবেই। পাঠপরিকল্পনায় বা লেসনপ্লানে ঠিক ওই বিষয়গুলোই একটি কাঠামো আকারে পরিকল্পনা করতে হয়। পরিকল্পনা থাকলে নিশ্চিন্তে আপনি পথ অতিক্রম করতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দিতে অথবা অযাচিত প্রশ্নকারীকে থামিয়ে দিতে আপনাকে কালক্ষেপণ করতে হবে না।

পরিকল্পনা মতোই পাঠদান চলবে, সেটি নয়। পাঠদানের সময় আংশিক অথবা পুরোপুরিই পরিবর্তন হতে পারে। সেটিও করতে আপনাকে সাহায্য করবে একটি পূর্বপ্রস্তুত পাঠপরিকল্পনা।

আপনি একজন পুরাতন এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক হলেও পাঠপরিকল্পনা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর একটি কারণ হলো, পাঠদান পর্যবেক্ষণ। আপনার পাঠদানকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে অথবা অন্যদের জন্য সেটিকে আদর্শ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে – সে রকম পাঠদানের জন্য একটি পূর্বপরিকল্পনা অত্যাবশ্যক। পাঠপরিকল্পনা দেখে আপনি একজন শিক্ষকের অনেককিছু বলে দিতে পারবেন। তার শিক্ষাদানের কৌশল, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামর্থ্য, শিক্ষার্থীর প্রতি তার মনোভাব – অনেক কিছু।

পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট পাঠ্যবইটিও শিক্ষার্থীর সার্বিক সামর্থ্য বা চাহিদা চিন্তা করে প্রণীত হয় না। সেখানে শিক্ষককে কিছু-না-কিছু করতেই হয়। শিক্ষককে সহজীকরণ করতে হয়, দৃষ্টান্ত প্রস্তুত করতে হয়, মূল্যায়নের জন্য পর্যায়ক্রমিক প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হয়। এগুলোর কোনটাই হয়তো পাঠ্যবইয়ে নেই। এসব ক্ষেত্রে নতুন-পুরাতন, অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ সবার জন্যই পাঠপরিকল্পনা আবশ্যক।

 

লেভেল ২/ তত গুরুত্বপূর্ণ নয়

দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃসংস্করণ, পরিবর্ধন ইত্যাদি কারণে কিছু কিছু পাঠ্যবই নিজে থেকেই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব হয়ে থাকে। সেখানে শিক্ষকের কাজ শুধুই অনুসরণ করে যাওয়া।

কিছু পাঠ্যবইয়ের সাথে ‘শিক্ষক সহায়িকা’ থাকে। শিক্ষক যদি আন্তরিকভাবে সেই শিক্ষক সহায়িকা পড়েন এবং প্রাসঙ্গিকভাবে শ্রেণীকক্ষে প্রয়োগ করতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে পাঠপরিকল্পনার প্রয়োজন কমে আসে।

অভিজ্ঞতার এই পর্যায়ে শিক্ষক পার্বিক বা টার্মিনাল লেসনপ্লান করতে পারেন। তাতে একটি সেশনে/টার্মে যাবতিয় পাঠ ও পার্বিক পরীক্ষার পরিকল্পনা অন্তর্ভূক্ত থাকে। এই দৈনিক পাঠপরিকল্পনার সমন্বিত রূপ। টার্মিনাল লেসন প্লানে গৃহীত সিলেবাস মোতাবেক পাঠ্যবিষয় সংক্রান্ত যাবতিয় পরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে রাখেন। এসব ক্ষেত্রে দৈনিক পাঠপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যায়।

অল্প সময়ের নোটিসে আপনাকে একটি ক্লাস নিতে হলো, অথবা অন্য কোন শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে তার ক্লাসটি আপনি নিচ্ছেন, সেক্ষেত্রে পাঠপরিকল্পনা করা কঠিন। এরকম পাঠদান থেকে আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশাও হয়তো কম থাকে।

একই বিষয়ে পাঠদান করে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলে লিখিত পরিকল্পনা না থাকলেও পাঠদান বাধাগ্রস্ত হয় না। শুরুতে ৯০% সময় ব্যয় করতেন আর ১০% সময় ব্যয় করতেন শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনায়। অভিজ্ঞতার সাথে এখন সময় বদলেছে। আপনি ৯০% সময় ব্যয় করেন ব্যবস্থাপনায় এবং মাত্র ১০% সময় নিয়ে আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকের মস্তিষ্কে একটি পাঠপরিকল্পনা তৈরি হয়ে যায়।

 

লেভেল ৩/ একদম গুরুত্বপূর্ণ নয়

একই বিষয়ে একই পাঠ্যবই নিয়ে পাঠদান করে আসছেন বহুদিন। হয়তো শুরুর দিনগুলোতে পাঠপরিকল্পনাও করেছিলেন। এখন আপনি জানেন, কোন্ অধ্যায়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয় এবং কোন্ অধ্যায়গুলোতে তত সময় দিতে হয় না। আপনি জানেন, পাঠ্যবই এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক এবং ধারণাগত পার্থক্য; জানেন তাদের উপলব্ধি করার সামর্থ্য। এসব ক্ষেত্রে লিখিত পাঠপরিকল্পনায় সময় নষ্ট না করে সরাসরি পাঠদানের প্রতি মনোনিবেশ করা জরুরি।

এমন একটি পর্যায়ে শিক্ষকদের আসতে পারাটাও একটি শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এটি অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ স্তর। শিক্ষকতার প্রাথমিক পর্যায়ে যারা প্রচুর পাঠপরিকল্পনা করেছেন, তারাই এক সময় পাঠপরিকল্পনাকে অগ্রাহ্য করতে পারেন।

লেসনপ্লান ‘একদম গুরুত্বপূর্ণ নয়’ এরকম স্তর নিয়ে একাডেমিশিয়ানদের মধ্যেও মতভেদ আছে। সবাই পাঠপরিকল্পনার পক্ষে – সেটি লিখিত হোক কিংবা অলিখিত, দৈনিক হোক কিংবা মাসিক বা পার্বিক। লেসনপ্লান ছাড়া লেসন দেওয়ার চিন্তা করা যায় না।

 

বর্তমান পোস্টের চিত্ররূপ

 

লেসনপ্লান কি শিক্ষকের পেশাদারিত্ব অর্জনের প্রতিবন্ধতা?

দিনে অনেকগুলো ক্লাস নিয়ে অথবা একাধিক বিষয়ে পাঠদান করলে প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা পাঠপরিকল্পনা করা কঠিন। প্রতিটি বিষয়ের পাঠদান নিয়ে আলাদাভাবে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত পীড়াদায়ক হয়ে পড়ে ব্যস্ততম শিক্ষকদের জন্য। যেসব শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত জ্ঞান, পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারার ক্ষমতা আছে, তারা প্রাথমিকভাবে লেসনপ্লানের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন না। অল্প সময়ে বেশি শিক্ষার্থীকে মনোযোগ দেবার জন্য তারা মানসিক শক্তির ওপর নির্ভর করেন। তারা ভুলক্রমে একে পেশাদারিত্ব অর্জনের অন্তরায় হিসেবেই দেখেন।

কিন্তু লেসনপ্লান পেশাদারিত্ব অর্জনের সোপান। এটি ৫টি সুস্পষ্ট উপায়ে শিক্ষককে উন্নততর পর্যায়ের নিয়ে যায় – ১) বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে এটি সাহায্য করে; ২) প্রয়োগ, অংশগ্রহণমূলক এবং মূল্যায়ন-ভিত্তিক পাঠদানে শিক্ষককে প্রস্তুত করে; ৩) পাঠ্যবিষয় এবং শিক্ষার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড ও ধারণ ক্ষমতার মধ্যে যথোপযুক্ত সেতুবন্ধন করা যায়; ৪) শিক্ষক পূর্ব থেকেই পাঠ্যবিষয় সম্পর্কে নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে উদ্দিষ্ট শিক্ষার্থীর জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে পারেন; ৫) নিয়মিত পরিকল্পনা করার এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক এক পর্যায়ে লেসনপ্লানের ঊর্ধ্বে ওঠে যেতে পারেন। তিনি প্রতিটি বিষয়ের মানসিক লেসনপ্লান সৃষ্টি করতে পারেন।

 

তথ্যসূত্র: বিভিন্ন উৎস; ব্যক্তিগত অনুসন্ধান এবং শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা।

 

▶প্রাসঙ্গিক কয়েকটি পোস্ট:

যেসব কাজ করে আমাদের শিক্ষকেরা শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করছেন

শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনার ১২টি উপায়

 

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ৩।

মানুষের কথায় তাকে চেনা যায়। তার প্রতিটি সচেতন উক্তিতে আছে দর্শন। রয়েছে ভাবনার বিষয়, চিন্তাকণা। এবারের পর্বটি একটু অম্লমধুর হবে। রস আছে। সে রসে আছে তীক্ষ্ণতা। সবগুলো কথাই চিন্তা খাবার যোগাবে, তাতে আমি নিশ্চিত। বলে রাখছি, এগুলো প্রথমত লেখকের নিজেরই জন্য। কিন্তু পাঠক মজা পেলে লেখক ধন্য।

 

————

কাউকে বিয়ে করার পূর্বে তাকে একটি ধীরগতির কম্পিউটার ব্যবহার করতে দিন। এবার দেখুন সে আসলে কেমন।  (উইল ফেরেল)

আমি যা কিছু করতে পছন্দ করি, সেগুলো হয় অনৈতিক, না হয় অবৈধ অথবা শরীর মোটা হয়ে যায় এমন কাজ। (আলেকজান্ডার উলকট)

আমি এমন একজনকে চিনি যে ধূমপান, মদ্যপান, নারীসঙ্গ এবং উচ্চমানের খাবার খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। আত্মহত্যার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে সুস্থ ছিল। (জনি কারসন)

সে নিজেই শুধু একঘেয়ে নয়, সে অন্যদের মধ্যেও একঘেয়েমির কারণ। (স্যামুয়েল জনসন, ১৮ শতকের লেখক)

ঈশ্বর যে আমাদের ভালোবাসেন তার একটি অকাট্য প্রমাণ হলো মদ। তিনি আমাদেরকে আনন্দে রাখতে পছন্দ করেন। (বেন্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্থপতি)

স্বাস্থ্য বিষয়ক বই পড়ার সময় সাবধান থাকবেন। ছাপার ভুলের কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে। (মার্ক টোয়েন)

ভালো মেয়েরা স্বর্গে যায়, খারাপ মেয়েরা সবখানে যায়।  (হেলেন গার্লি ব্রাউন)

রাগ নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। জেগে থাকুন, ঝগড়ায় লেগে থাকুন। (ফিলাস ডিলার)

রাজনীতিতে যদি কাউকে দিয়ে কিছু বলাতে চান, তবে একজন পুরুষকে বলুন। যদি কিছু করাতে চান, তবে একজন নারীকে বলুন। (মার্গারেট থ্যাচার, দ্য আইরন লেডি)

———–

 

এবারের পর্বটির জন্য রিডার্স ডাইজেস্ট-এর কাছে ঋণী। অনুবাদ লেখকের।


রসাত্মক ধনাত্মক উক্তির দ্বিতীয় পর্ব।

কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ: বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ

-তুই কি সালমান খানের লাস্ট ফিল্মটা দেখেছিলি? সিমপ্লি অউসাম। মাই গ্যড, আই জাস্ট কাআন্ট বিলিভ মানুষ কীভাবে এতো শক্তিধর হতে পারে। টউটালি আনবিলিভেবল!
-রিয়েলি? ওহ্ আই মিসড দ্যাট ফিল্ম। এনি ওয়ে, তুই কখন এলি? লান্চ করেছিস?….ওকে, নো প্রব, লেট্স হেভ লান্চ টুগেদার।

 

টিচিং প্রফেশনটা আমি একদম ঘৃণা করি….আই জাস্ট কাআন্ট স্ট্যান্ড দিস। কেন রে বাবা পড়াশুনা করে অন্যের সন্তানকে মানুষ করতে হবে? আর কি কোন পেশা নেই প-িতি ছাড়া? তাছাড়া কতটুকু প-িত তুমি হয়েছো যে অন্যকে পথ দেখাবে?
-আমার কাছে কিন্তু এর চেয়ে উত্তম কোন প্রফেশন আছে বলে মনে হয় না। জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি মানবসেবা। আই লাইক দিস প্রফেশন ভেরি মাচ এন্ড যারা এই পেশায় জড়িত তাদেরকেও আমি শ্রদ্ধা করি।

 

ভাষামিশ্রণ বা কোড মিক্সিং

‘আই এম একদম ফেডাপ’ আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের এই বাণীটি ভাষামিশ্রণের উত্তম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে অনেক দিন। একটি ভাষার ভেতরে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিদেশী ভাষার শব্দ জুড়ে দেওয়াকে ভাষামিশ্রণ বলা যায়। ভাষাবিজ্ঞানে একে বলে কোডমিক্সিং। বর্তমান প্রজন্মের ভাইবোনেরা অনেকটা অবচেতনেই এই ভাষামিশ্রণে জড়িয়ে গেছেন সগৌরবে! কোডমিক্সিংকে প্রতিষ্ঠিত রূপ দিয়েছে বলগাহীন বিজ্ঞাপন, আউলা-ঝাউলা টকশো এবং আমাদের এফএম রেডিও সম্প্রদায়। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এরা প্রায় সকলেই ভাষামিশ্রণের পৃষ্ঠপোষক। ওহ্ আচ্ছা, আসে আসে দিন বলতে এদেশে একখান দৈনিক পত্রিকা আছে। তারা সাপ্তাহিক থাকাকালেও ইংরেজি ভাষার প্রতি তাদের অগাধ প্রেমের পরিচয় দিয়ে গেছে অকাতরে! ভাষার প্রতি এ দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোন আইন এদেশে আছে কিনা, আমি জানি না। যদিও সকল আইনই সকলে মানে না, তবু অন্তত বলা যেতো যে ওটি বে-আইনী।
ভাষার বিষয়ে মৌলবাদিরা এ বিষয়টিকে চরম সীমালঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। তারা একে নিজ ভাষার প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। ভাব প্রকাশের জন্য যখন বিদেশী ভাষার সাহায্য নিতে হয়, তখন তাতে আমাদের রক্তে-অর্জিত মাতৃভাষার দৈন্যতাই প্রকাশ পায়। ভাষা সদা প্রবাহমান, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ভাষাকে হাত-ধরে পাহাড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত করতে হবে। মাতৃভাষার শব্দাবলীকে পাশ কাটিয়ে ভিনদেশী শব্দের আশ্রয় নিয়ে, নিজভাষা সহজাতভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। ক্রমান্বয়ে তা পরভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ল্যাংগুয়েজ শিফ্ট তখন অনিবার্য হয়ে যায় আর এভাবে একটি আগ্রাসী ভাষার কাছে আরেকটি ভাষার মৃত্যু হয়।
একটি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে আচমকা অন্য ভাষা থেকে শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করলেন। এটি আপনার কাছে যতই স্বাভাবিক বা অভিজাত মনে হোক, আপনার শ্রোতার কাছে সে রকম না-ও হতে পারে। অনেক সময় সেটি চরম বিরক্তি এবং সীমালঙ্ঘনেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু তো সম্ভাবনাময় এক প্রার্থীকে সেদিন চাকুরিটাই দিলেন না, কথার মধ্যে ইংরেজি বাক্য ঢুকিয়ে দেওয়ার অপরাধে!

 

কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ
লেখার মধ্যে বিদেশি ভাষার প্রয়োগ করে যাঁরা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন, সবার আগে তাঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাই। কায়কোবাদ-নজরুলেরা বিদেশি ভাষাকে খাটিয়েছেন, বলা যায়। আশ্রয় নেন নি। এরকম মিশ্রণ সকল ভাষায়ই আছে, ইংরেজি ভাষার ৯০ শতাংশ শব্দ এসেছে জার্মান ফ্রেঞ্চ, ল্যাটিন, গ্রিক এবং ইটালিয়ান ভাষা থেকে। একে কখনও কোডমিক্সিং এর অজুহাত হিসেবে নেয়া যায় না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলা ভাষায় ইংরেজি শব্দ বা বাক্যাংশ জুড়ে দেয়ার অভ্যাসটি এসেছে আমাদের ঔপনিবেশ আমলের সমাজ থেকে, যখন ইংরেজি লেখা ও বলা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং পশ্চিমা দেশের সাহায্যের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল এই উপমহাদেশের মানুষগুলো এখনও ইংরেজি বলাকে সমান আভিজাত্যের বিষয় বলে বিশ্বাস করে। এশিয়ার যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল, বিশেষত যারা ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিলো না, তারা নিজ ভাষায় ইংরেজি মিশ্রণকে রীতিমতো ঘৃণার চোখে দেখেন। এটি কোনভাবেই মর্যাদার বিষয় হতে পারে না: হয় নিজের ভাষায় কথা বলো নয়তো ইংরেজিতে, মাঝামাঝি কোন পথে তারা বিশ্বাস করেন না। এতে পশ্চিমা দেশের সাথে দূর-প্রাচ্যের ওই দেশগুলোর স্বার্থের কোন ক্ষতি হয়েছে বলে খবর আসে নি।
প্রতিবেশী হিন্দি চ্যানেলগুলোর কল্যাণে (?) নতুন প্রজন্মের অনেকে হিন্দি বাক্যও আজকাল ছুড়ে মারে। আমাদের মুরুব্বিরা আগের দিনে এভাবে ছুঁড়ে মারতেন উর্দু। আরেকটি ভাষা আছে যা অত্যন্ত ‘আরামছে’ আমাদের ভাষাকে দূষিত করে যাচ্ছে, আমরা তা পবিত্র বলেই মেনে নিয়েছি। সে বিষয়ে আপাতত মন্তব্য করছি না। নিজ ভাষা ছাড়া অন্য যে কোন ভাষা আমাদের কাছে যেন উপাদেয়। যেন বাংলা এই ভাষাটি আমরা বিনামূল্যেই পেয়েছিলাম পৃথিবীর অন্য দশটি ভাষাভাষীদের মতো। যেন বাংলা ভাষার কোন ঐতিহ্য নেই, ইতিহাস নেই, জন্ম নেই, দেশ নেই!
পাশ্চাত্য সংস্কৃতি নিয়ে আমরা যত চিল্লাচিল্লি করছি, পার্শ্ববর্তী দেশের অপসংস্কৃতি নিয়ে ততই আমরা চুপ মেরে আছি। প্রতিবেশী একটি দেশে দেদারসে ইংরেজি ব্যবহৃত হচ্ছে, এর প্রধান কারণ হলো তারা আমাদের মতো একভাষার দেশ নয়। তারা নিজ ভাষায় কথা বললে একই দেশের মানুষের সাথে তাদের সামাজিক যোগাযোগ ব্যাহত হবে। অথচ তাদের ওই অক্ষমতাকেই ক্ষমতা হিসেবে ধরে নিয়ে তাদেরকে অনুসরণ করে যাচ্ছি। তাদের প্লাস-মাইনাস চ্যানেলগুলোর তৃতীয় শ্রেণির নাটক অনুকরণ করে, গর্বের সাথে বাংলিশ বলে যাচ্ছি।

একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপে দেখা গেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের কথামালার প্রায় ৪০ শতাংশ শব্দ বিদেশি, প্রধানত ইংরেজি, ভাষা থেকে সংগৃহীত। বলাবাহুল্য এদের মধ্যে যুবসম্প্রদায়ের কথোপকথনের ৫০ শতাংশ শব্দ ইংরেজি। মজার বিষয় হলো, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায় নি এমন জনগোষ্ঠীর কথায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার প্রায় নেই। ‘বিদেশী শব্দ’ বলতে যেসব বিদেশী শব্দ এখনও বিদেশী হিসেবে গণ্য করা হয়। ভাষাবিজ্ঞানের স্বাভাবিকতায় বিদেশী শব্দ থাকবেই, তবে তা কালপরিক্রমায় একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল ভাষায় আত্তিকৃত হয়ে যায়, যা প্রজন্মের ব্যবধানে আর বিদেশী মনে হয় না।

 

কোডমিক্সিং- এর দু’একটি দৃষ্টান্ত
*জাস্টিফাই/যাচাই করা *কনফিউজ/বিভ্রান্ত করা *একসিডেন্ট/দুর্ঘটনা করা *কমপেটিবল/যান্ত্রিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া *শিওর/নিশ্চিত হওয়া *এজাস্ট/যুক্ত করা *এটেন্ড করা/উপস্থিত হওয়া *কনশান্স/বিবেককে আক্রান্ত করা *মাইন্ড করা/মনে আঘাত পাওয়া *স্টপিজ দেওয়া/থামা *অউসাম/চমৎকার হওয়া
কিছু মজার কোডমিক্সিং (পাঠক এ তালিকাটি সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে আসুন!)
*রহিম মিয়া এজ এ ম্যান হিসেবে মানুষ ভালো।
*গাড়িটা টার্ন নিয়ে ঘুরে চলে গেলো।
*নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ইলেকশন করা!
*রাজনীতির ভেতরে পলিটিক্স ঢুকে যাওয়া! (ক্রেডিট: আসাদুজ্জামান নূর)
*রিটার্ন করে পুনরায় ফিরে আসা!
*ডাউনলোড হয় কিন্তু ইন্টারনেট থেকে নামানো যায় না!

 

কোডমিক্সিং-এর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত
১) সঠিক বাংলার অনুপস্থিতি বা সঠিক বাংলাটি না জানাকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোডমিক্সিং-এর প্রধান কারণ হিসেবে আমি দেখছি।
২) একটি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কোডমিক্সিং একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখানে একে ক্ষতিকর হিসেবে দেখা যায় না।
৩) সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, মানুষ সামাজিক কারণেই তার ভাষা ও বসনে পরিবর্তন এনেছেন। বলা যায়, এখানে একটি মনো-সামাজিক ব্যাপার জড়িত।
৪) পেশাগত ক্ষেত্রে ইংরেজির ব্যবহার ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে উচ্চ ধারনার সৃষ্টি করে। কিন্তু অনেকেই পুরোপুরি ইংরেজি বলতে অসমর্থ হয়ে কোডমিক্সিং-এর আশ্রয় নেন। তাতে তিনি যা পারেন তা-ই দেখাতে পারেন।
৫) নতুন প্রজন্ম, বিশেষত যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করেছে, স্বতস্ফূর্তভাবেই ইংরেজিতে কোডমিক্সিং এবং পরে কোড-সুইচিং করছে। তারা জানে না, সামাজিক জীবনে কোডমিক্সিং করাতে বাংলা ভাষার কী সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হচ্ছে।
৬) সমাজের উচ্চতর শ্রেণির মানুষজন বেশ স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজিতে কোডমিক্সিং এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোড-সুইচিং করছে। বিশেষত, সামরিক বাহিনীর কর্মকতাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। আভিজাত্য আর ইংরেজি কথা বলা তাদের কাছে অবিচ্ছেদ্য বিষয়।
৭) অন্যকে মুগ্ধ করা বা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ইংরেজি শব্দের জুড়ি নেই- সেটি চাকরি হোক কিংবা প্রেম। বিশেষ করে, বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকৃষ্ট করার কাজে ইংরেজির মিশ্রণ তো অনিবার্য।
৮) আপাত দৃষ্টিতে একটি নিম্নশ্রেণীর জনগোষ্ঠী থেকে নিজেকে আলাদা বা উচ্চমানের দেখানোর জন্য ইংরেজিতে কোডমিক্সিং করা হয়।
৯) অপ্রীতিকর অর্থ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্য আমাদের সমাজের অনেকেই ইংরেজি বা বিদেশি শব্দ ব্যবহার করেন। যথা: আমার স্ত্রী কনসীভ করেছেন; আপনাদের ওয়াশরুমটা কোন্ দিকে; ওর সাথে আমার এফেয়ার ছিলো; ডালমে কুচ কালা হ্যায়; কুচ কুচ হোতা হ্যায় ইত্যাদি।

 

কোনটি ভালো: ভাষামিশ্রণ নাকি ভাষাবদল?
আপনি পুরোপুরি বাংলা ভাষায়ই কথা বলছেন কিন্তু আপনার বিদেশি বন্ধুটি হয়তো ঠিকমতো অনুসরণ করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই বন্ধুর ভাষায় (ধরুন, ইংরেজিতে) কথা চালিয়ে গেলেন। অথবা ধরুন, আপনার স্বদেশি বন্ধুটি গোপনীয়তার স্বার্থে তার আলোচ্য বিষয়কে ইংরেজি বা ইটালিয়ানের পরিবর্তে হঠাৎ বাংলায় প্রকাশ করতে শুরু করলেন। ভাষাবিজ্ঞানে একে কোড-সুইচিং, বাংলায় ‘ভাষাবদল’ বলা যায়।
আপনার কথোপকথনকে যখন সম্পূর্ণভাবে অন্যভাষায় স্থানান্তর করলেন, তখন সেখানে দূষণ প্রায় থাকলো না। হয়তো বিদেশি ভাষায় আপনার সহজাত দুর্বলতা থাকতে পারে, তবু সেটা ভাষামিশ্রণের চেয়ে উত্তম বলা যায়। কেউ যদি আপনাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই তাকে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়া উচিত। আবার ওই ব্যক্তিটি যদি বাংলায় ফিরে আসেন, তবে আপনারও উচিত হবে বাংলায় কথা বলতে শুরু করা। তাতে সৌজন্যতার লঙ্ঘন হয় না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে আপনার শ্রোতা এর জন্য প্রস্তুত কি না। অতএব, অনেক ক্ষেত্রেই কোডমিক্সিং এর চেয়ে কোড-সুইচিং করা বরং উত্তম এবং বাঞ্ছনীয়।

 

কোডমিক্সিং এবং আমাদের প্রিয় বাংলার ভবিষ্যৎ

কোডমিক্সিং এর কথা বললে, আমাকেও পাওয়া যাবে এর সাথে জড়িত। অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি যে, যারা এর সমালোচনা করেন, তারাও এ ভুলের উর্ধ্বে নন। এটি একটি সার্বজনীন অনিয়ম যা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। বিশেষত, পারিভাষিক শব্দ ছাড়া আমাদের উচিত যথাসম্ভব বাংলা শব্দ ব্যবহার করা। এজন্য দরকার প্রচুর সচেতনতা এবং নিজ ভাষায় আরও দক্ষতা ও নির্ভরশীলতা।
উপরোক্ত সামাজিক কারণে যদি আমাকে ইংরেজি বলতেই হয়, তবে পুরোপুরিভাবেই আমি ইংরেজি বলবো- বাংলার মধ্যে ইংরেজির মিশ্রণ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর বাংলা রূপটি আমার জানা আছে। অনেক সময় ইংরেজি শব্দটি আমাদের কাছে সহজ হয়ে আসে: ইউনিভার্সিটি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় যা হয়! এজন্য, কাউকে বুঝানোর জন্য যদি ইংরেজি শব্দটি ব্যবহার করতে হয়, সেটি আলাদা বিষয়।
যোগাযোগ প্রযুক্তির এ যুগের শুরুতে কমপিউটারের ভাষা এবং ইন্টারনেটের ভাষা ইংরেজি হবার কারণে ইংরেজির আগ্রাসনকে স্বীকার করতেই হয়। কিছু কিছু শব্দকে ভাষান্তর করা প্রায় অসম্ভব এবং করলেও তা হাস্যকর শুনায়। এগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরে নিয়ে নিজ ভাষায় মনোনিবেশ করা উচিত। দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলো এবং বাংলাভাষার বিশেষজ্ঞরা নিরন্তর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন প্রযুক্তি আইন এবং বিজ্ঞান বিষয়ক বিদেশি শব্দরাজিকে একটি পারিভাষিক রূপ দিতে। প্রাচ্যের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদেরও উচিত সেসব পরিভাষাকে নিজেদের কথায় ও লেখায় স্থান করে দেওয়া। এছাড়া একটি ভাষা টিকবে কীভাবে?

 

[ডিসেম্বর ২০১২]  পাবলিক ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া।

 

 

*পরিভাষা:
পরিভাষাগত কারণে এবং সকলের বুঝার সুবিধার্থে, কোডমিক্সিং এবং কোড-সুইচিংকে ইংরেজিতেই ব্যবহার করতে হলো। এর বাংলা যথাক্রমে ‘ভাষামিশ্রণ’ এবং ‘ভাষাবদল’ লেখকেরই অনুমিত বাংলা নাম, যা হয়তো সঠিক নয় অথবা আত্তিকরণ হয় নি। ল্যাংজুয়েজ শিফ্টও এমনই একটি পরিভাষা।

 

**উৎস ও গ্রন্থপঞ্জি:
১) ২০১১, বিভিন্ন মাধ্যমে লেখকের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন;
২) ১৯৮৫, জ্যাক-জন-হেইডি, লংম্যান ডিকশনারি অভ্ এপ্লাইড লিংগোয়িস্টিক্স;
৩) ২০০৬, “উইথ হুম কোডমিক্সিং অকারস” শিরোনামের স্ন্যাপশটটি নেওয়া হয়েছে সুরাইয়া আলমের গবেষণাপত্র থেকে, সিডিআরবি পাবলিকেশনস;
৪) ১৯৯২, জ্যানিট হোমস, ইন্ট্রোডাকশন টু সোশিও লিংগোয়িস্টিক্স।

 

***পুনশ্চ:

উপরোক্ত শিরোনামে লেখাটি একটি প্রাথমিক খসড়া। ভাষার বহমানতার মতো এ লেখাটিও ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হবে আরও দৃষ্টান্ত এবং তথ্য দিয়ে। পাঠকের গঠনমূলক মতামত এখানে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ২।

বিখ্যাত হোক, অথবা কুখ্যাত হোক, মানুষের কথায় অনেক কিছু শেখার বা ভাবার থাকে। মানুষের মনের মূল্যবান কথাগুলোকেই বানী বা উক্তির মর্যাদা দেওয়া হয়। সেটি মজারও হতে পারে, আবার চিন্তার খোরাকও হতে পারে। পছন্দের হতে পারে, আবার প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। সবকিছুর একটি উদ্দেশ্য থাকে। ঘৃণার সৃষ্টি হলেও সেখানে পাঠকের চিন্তা বা সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

 

১)  আমি নিজের সাথে কথা বলি, কারণ মাঝেমাঝে বিশেষজ্ঞের অভিমত নেবার দরকার হয়।

২)  চিপস-এর প্যাকেট কেনার আগে আমি ভাবতাম বাতাস বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

৩) জীবন একটি বাঁশ বাগান। শুধু বাঁশ আর বাঁশ!

৪) হ্যাঁ ম্যাডাম আমি মাতাল।  কিন্তু সকালে যখন আমি শান্ত থাকবো, আপনি তখনও কুৎসিতই থাকবেন।  (চার্চিল)

৫) মানুষ বলে তুমি প্রেম ছাড়া বাঁচবে না। আমি মনে করি অক্সিজেন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৬) বেঁচে থাকার জন্য আমাদের কী করা উচিত? নিঃশ্বাস গ্রহণ এবং নিঃশ্বাস ছাড়া উচিত।

৭) জীবনে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সে কাজটি করা যা মানুষ বলে আপনি করতে পারবেন না। (ওয়াল্টার বেইজহট)

৮)  চাকরিটাকে আমার তখনই ভালো লাগে, যখন আমি ছুটিতে থাকি।

৯)  কিছু মানুষ মেঘের মতো। তারা সরে পড়লেই স্পষ্ট নীলাকাশ।

১০) তোমার জন্য আমার পরামর্শ হলো, বিয়েটা করো। ভালো স্ত্রী পেলে তো সুখে থাকবে। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে তুমি একজন দার্শনিক হবে। (সক্রেটিস)

 

কিছু কথার মালিক খুঁজে পেলাম না। কিন্তু তাই বলে তো ফেলে দিতে পারি না। তবে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, কথাগুলো আমার নয়।


রসাত্বক ধনাত্মক উক্তির প্রথম পর্ব

 

আমার প্রিয় রসাত্মক ধনাত্মক উক্তিগুলো। পর্ব ১।

সেটা গতবছরের সেপটেম্বরের কথা। প্রতিবেশী দেশের একজন প্রসিদ্ধ আধ্যাত্মিক-কাম-রাজনৈতিক নেতার বিপক্ষে কিছু ক্রেইজি পিপল ক্ষেপে আছে। তাকে তারা আর ‘সেই সম্মান’ দিতে চান না, কারণ তিনি নাকি সেই সম্মানের উপযুক্ত ছিলেন না।

একজন উক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি আমার কাছে বহুল পরিচিত। ‘উক্তি বিশেষজ্ঞ’ বলছি কারণ, জীবদ্দশায় তিনি কেমন ছিলেন, সে সম্পর্কে তেমন ধারণা পাবার সুযোগ পাই নি। আমার বিশ্বাস তিনি অন্তত প্রকাশ্যে ভালোই হয়ে থাকবেন, অন্যথায় কিছু বইয়ে ব্যতিক্রম থাকতো।

তার উক্তিগুলো খুবই কোমল এবং শ্রুতিমধুর। স্বর্গদূতেরাও এমন পুতপবিত্র উক্তি দিতে পারতেন কিনা, আমার সন্দেহ আছে। সন্দেহের কারণ একটিই, স্বর্গদূতদের উক্তিগুলো তেমন পড়ার সুযোগ পাই নি!

এদিকে উক্তিতে উদ্ধৃতিতে জ্ঞানালয় (মানে টেক্সটবুক, ফেইসবুক ইত্যাদি) পূর্ণ। আজকাল ফেইসবুকাররাও দৈনিক উক্তি ছাড়ে। জ্ঞানসাধকদের কাজই তো উদ্ধৃতি বিবৃতি ইত্যাদি দেওয়া। কিউরিয়াস মাইন্ড জানবার চায়, তাদের জীবন কেমন ছিলো?

যা হোক, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু চালাক কিছিমের ছিলেন বলে আমার ধারণা হয়। বলে কিনা: “আমি যা করি তাতে মনোযোগ দিও না, যা বলি তা মেনে চলো!” মেনে চলি বা না চলি, এই উক্তিকে আমি সততার দৃষ্টান্ত বলে মনে করি, যদিও সেটি সর্বনিম্ন পর্যায়ের।

যা হোক, চলে যাই উক্তি পরিবেশনে। আগেই বলে নিচ্ছি, সেগুলো রসাত্মক হলেও জ্ঞানাত্মক হবে না হয়তো। বরং কিছুটা পীড়াত্মক (পীড়াদায়ক) হতে পারে।

 

১)

উন্নত করো শির, শক্তি করো জড়ো; 

অভিনীত হাসি নিয়ে আগে তুমি বাড়ো।

Head up, stay strong.  Fake a smile, move on.

 

২)

শোনো, হাসো এবং একমত হও। তারপর তুমি যা করতে চেয়েছিলে সেটিই করো।

Listen, smile, agree. And then do whatever the fuck you were gonna do anyway.

 

৩)

যেখানে আছো সেখানে যদি ভালো না লাগে, তবে সরে যাও। তুমি তো আর গাছ না!

If you don’t like where you are, move.  You are not a tree.

 

৪)

মাঝেমাঝে আফসোস করি, যদি আরেকটু কোমল স্বভাবের হতে পারতাম!

তারপর একটু হাসি। তারপর দিনের কাজ শুরু করি।

Sometimes I wish I were a nicer person, but then I laugh and continue my day.

 

৫)

স্বপ্ন কখনও ছাড়বেন না। ঘুম থেকে ওঠবেন না।

Don’t give up on your dreams.  Keep sleeping.

 

৬)

মাঝেমাঝে আমার কাঁধের শয়তানটিও (আমাকে দেখে বিস্মিত হয়) কাঁধে হাত দিয়ে বলে, ‘কীসব কচু করছো তুমি?’

Sometimes even the devil on my shoulder asks, ‘what the hell are you doing?’

 

৭)

পাঁচ মিনিট ধরে ওয়াইফাই নেই। ফলে বাবামা’র সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে হলো। তারা দেখলাম খুবই ভালো মানুষ। 

Wi-Fi went down for five minutes, so I had to talk to my family. They seem like nice people.

 

৮)

আমি শুধু তোমাকে জানাতে চাই যে, কেউ একজন তোমার কথা ভাবে। আমি নই, কিন্তু কেউ একজন।

I want you to know that someone cares.  Not me, but someone.

 

 

funny_quote


পাঠক হয়তো একমত হবেন যে, ওপরের কিছু উদ্ধৃতি বাংলার চেয়ে ইংরেজিই বেশি মজার! কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এসব মহান উক্তিগুলোর দাতাকে পাই নি। নিজেকে গ্রহীতা হিসেবে গর্বিত মনে হচ্ছে। আপনিও কি গর্বিত নন?!

 

‘পর্ব ১’ লেখেছি। মানে আরও কিছু সংগ্রহ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। কিন্তু কখন, সেটি বলা যাবে না!

কোন দেশ কি ইচ্ছে করলেই নোট বা মুদ্রা প্রস্তুত করতে পারে?

jiggasha

 

কোন দেশ কি ইচ্ছে করলেই নোট বা মুদ্রা প্রস্তুত করতে পারে? এরজন্য কী নিয়ম প্রযোজ্য?


 

ইচ্ছে করলেই বা প্রয়োজন হলেই কোন দেশ বা দেশের সরকার মুদ্রা/নোটের প্রচলন করতে পারে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তা তহবিল সংরক্ষণের পর একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা প্রকাশ করে। এটি একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ। অথবা বলা যায়, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক অধিকার।

 

যেসব নিয়ম প্রযোজ্য:

নোট/মুদ্রার বিপরীতে আইন অনুযায়ি সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু করে। দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নোট ইস্যু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ি নোট/মুদ্রার মূ্ল্যের শতকরা ত্রিশ ভাগ স্বর্ণ, রৌপ্য বা বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে (রিজার্ভ) রাখতে হয়।

 

বাংলাদেশ যা করে:

নোটের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরাপত্তা হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রাখে, কারণ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্বর্ণ-রৌপ্য বাংলাদেশের নেই।

 


সূত্র: ডায়েরির পাতা থেকে, ১৮ জানুয়ারি ২০০১।

আপনার ক্লাসে কেন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি? শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনার কয়েকটি প্র্যাকটিকেল টিপস।

[ছবটি s3.amazonaws.com এর সৌজন্যে]

[ছবিটি s3.amazonaws.com এর সৌজন্যে]

ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগের বহুমাত্রিকতার ফলশ্রুতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শিক্ষাদান, শিক্ষকতা, শ্রেণীকক্ষ, পাঠ্যপুস্তকগুলো কি ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? আমাদের শ্রেণীকক্ষগুলো কি প্রজন্মের চাহিদাকে ধারণ করতে পেরেছে? অথবা আমাদের শিক্ষকেরা? শিক্ষার্থীরা কেন বিশেষ কোন শিক্ষকের ভক্ত, অথবা কিছু বিশেষ ক্লাসে কেন তাদের উপস্থিতি বেশি, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? কিছু শিক্ষার্থী কেন একটি ক্লাসে আন্তরিকভাবেই  অংশ নেয়, তা নিয়ে কখনও কি আলাদাভাবে চিন্তা করেছেন? নিজের পাঠদানের মান, কৌশল অথবা এর কার্যকারিতা নিয়ে কখনও ভেবেছেন কি? কঠিন বিষয়ের পাঠদানও উপভোগ্য হয় এবং শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে উপকৃত হয়। সবই শিক্ষকের সৃজনশীল পাঠ ব্যবস্থাপনার কারণে। শিক্ষককে বলা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ পাঠ্য উপকরণ।

অন্যদিকে শিক্ষককে আমরা একটি রাজ্যের সম্রাট বলতে পারি। সেই রাজ্যটি হলো তার শ্রেণীকক্ষ, যেখানে সবকিছু তার ইচ্ছায় হয়। তিনিই সর্বময় কর্তা – সবা্ই তার অনুসারী অথবা অনুগামী। একটি নির্দিষ্ট সময়ে তিনি কীভাবে শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনা করে সর্বাধিক সুফল নিশ্চিত করবেন, এটি একান্তই শিক্ষকের দায়।

ক্লাসরুমকে শিক্ষকের আঁতুরঘরও বলা যায়, কারণ একমাত্র এখানেই তিনি নিজেকে ষোলকলায় প্রকাশ করতে পারেন।  পাঠদান অথবা বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতার এই শিল্পকে তিনি এখানে চর্চা করতে পারেন। এখানে আছে নির্লোভ নির্মোহ শিক্ষার্থীরা, যারা তার পাঠদান শিল্পের বিচারক, মূল্যায়ক এবং ভোক্তা তো বটেই।

 

ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট/ শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কয়েকটি প্র্যাকটিকেল টিপস:

 

>বছর/ সিজন/ টার্মের শুরুটা আনুষ্ঠানিকভাবে করুন। উদ্বোধনী ক্লাস নিন। তাতে জানিয়ে দিন কী করা যাবে, কী করা যাবে না। কোন্ কোন্ ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য, কোন্ সময়ে নয়। আপনার প্রত্যাশাগুলো জানিয়ে দিন। গত টার্মে কোন ব্যতিক্রম/নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিন এবার কেন সেটি আর করা যাচ্ছে না। জানিয়ে দিন পরীক্ষা/ ক্লাস টেস্ট/মূল্যায়ন কেমন হবে।

>শিক্ষার্থীর মনে আশা জাগিয়ে তুলুন। কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মনে অনেক হতাশা আর ভয় থাকে। যদি তারা গণিতের শিক্ষার্থী হয়, বলুন গণিতের দফারফা হবে  এবার। আর কোন ভয় নেই, কারণ আপনি আছেন তাদের সঙ্গে।

>নির্ধারিত সময় শেষ হবার পূর্বে প্রস্তুত/সতর্ক করুন, জানিয়ে দিন। তবে একটু নরম করে। “বাচ্চারা তোমাদের আর মাত্র ৫মিনিট সময় আছে! গো ফাস্ট!” সবসময় এরকম কঠোর না হলে ভালো। একটু কৌশল করে বলতে পারেন, “বাচ্চারা, তোমরা যদি এখনও শেষ না করতে পারো, ঠিক আছে। চালিয়ে যাও। আর ৫মিনিট পর দিলেই হবে।”

>বিশেষ সময়গুলো বিশেষভাবে বলুন এবং বিশেষভাবে শুরু করুন। সাইলেন্ট মোমেন্ট/ ডু নাউ/ নিজে করো সেশন ইত্যাদি। এসবের উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে মনোযোগী রাখা। তারা সাধারণত বিশেষ কোন কারণ ছাড়া কিছু করতে ভালোবাসে না।

>শিক্ষার্থীদের বয়সানুপাতিক আচরণগুলো বুঝার চেষ্টা করুন। শিক্ষার্থীরা মাঝেমাঝে খুশগল্পে মেতে ওঠতে পারে/ নিজেদের মধ্যে হুসহাস আলোচনায় ডুবে যেতেই পারে। আপনি যা করবেন, তা হলো প্রথমতো মেনে নেওয়া। তারপর একটি পদ্ধতি বের করুন, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আবার ক্লাসে ফিরে আসতে পারে: হাততালি/ ওয়ান-টু-থ্রি ইত্যাদি।

>নেতিবাচক শিক্ষার্থীকে সাবধানে হ্যান্ডল করুন! সব শিক্ষার্থী সব শিক্ষককে পছন্দ নাও করতে পারে। এরকম অপছন্দের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোন দায় নাও থাকতে পারে।  এমনও হতে পারে, কোন শিক্ষার্থী এমনিতেই উদাসীন। কিন্তু শিক্ষকের চাই একসঙ্গে সবার মনযোগ। আপনার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে বলুন, “বাচ্চারা, দেখো! আমাকে বা আমার কথায় তোমরা সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে এমন কথা নেই। আমি এমনটা আশাও করি না। কিন্তু শ্রেণীকক্ষে এর ব্যতিক্রম করা যায় না। সেটি তোমাদেরই কল্যাণে। অতএব এখন থেকে আমাকে পছন্দ না হলেও, অন্তত পছন্দ করার/ মনযোগ দেবার ভাণ করো। দেখো চেষ্টা করে।”

>শিক্ষার্থীদের ক্লাসওয়ার্ক টাইমে শ্রেণীকক্ষে হাঁটুন। দেখুন তাদেরকে। বুঝুন তাদের দক্ষতার নমুনা। দেখুন তাদের ব্যক্তিত্ব। দেখান আপনারও ব্যক্তিত্ব। দেখিয়ে দিন আপনিই শ্রেণীকক্ষের শাসক। কিন্তু ঘটঘট করে শব্দ করে হাঁটবেন না। তাদের ডিসটার্ব হয়!

>প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আপনার মনযোগটুকু (teacher’s attention) দিন। প্রত্যেককে। কেউ যেন বাদ না যায়। এটিই শিক্ষকের প্রধান কাজ, যা বইয়ে নেই কিন্তু আপনি দিতে পারেন। দুর্বলকে শক্তি দিন, লাজুককে সুযোগ দিন। তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলুন।

>স্পষ্ট ভাষায় এবং উচ্চস্বরে কথা বলুন। স্পষ্টস্বরে প্রতিটি শব্দ নিক্ষেপ করুন। এটি পবিত্র শ্রেণীকক্ষ, জ্ঞানগৃহ। অধিকাংশ বিষয়ে আপনিই প্রথম তাদেরকে ধারণা দিচ্ছেন। এখানে মানুষ তৈরি হয়। শিক্ষকের বক্তব্য পবিত্রগ্রন্থ থেকে ‘মাত্র সামান্য একটু’ পিছিয়ে আছে। (অবশ্য কেউ কেউ সমানই বলে থাকেন।) তাই কণ্ঠে রাখুন পবিত্র আত্মবিশ্বাস। কথা জোরে বলুন। তবে রুক্ষস্বরে নয়, তাদের কানের ক্ষতি হয়!

>শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অগ্রগতি দেখান। গত পরীক্ষার চেয়ে এবারের পরীক্ষায় তারা কীভাবে ভালো করেছে, সেটি নিজেও দেখুন, তাদেরকেও দেখতে দিন। তাদেরকে বুঝিয়ে দিন যে, আপনিই পারেন তাদেরকে দুর্বলতা থেকে ওঠিয়ে নিয়ে আসতে। তাতে তাদের বিশ্বাস বেড়ে যাবে, নিজেদের প্রতি এবং আপনার প্রতিও।

>শ্রদ্ধা দেখান শিক্ষার্থীদের প্রতি। গুরুজনদের যেভাবে দেখায় সেভাবে নয়। তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তাদের প্রচেষ্টা, তাদের আত্মসম্মানকে শ্রদ্ধা করুন। সবসময়। নির্ভুল না হলেও তাদেরকে উত্তর দেবার চেষ্টাকে স্বীকৃতি দিন।

>স্বভাব একটু পাগলাটে হলে তাতে অপরাধবোধ নেবেন না। শিক্ষার্থীরা কেতাদুরস্ত শিক্ষক চায় হয়তো, কিন্তু ভালোবাসে না। ভালোবাসে তাদেরকেই যারা একটু তাদের মতো দুরন্ত, অবোঝ, পাগলাটে এবং যাদের কিছু-না-কিছু ঘাটতি আছে। উইয়ার্ড এর বাংলা কি ‘কিম্ভুতকিমাকার’? সেটি হলেও মন্দ নয়।

 

mmmainul_teachingtips

 

 


পুনশ্চ: আপনারা যারা শিক্ষকতা করছেন, তারা হয়তো সবাই ভেবেচিন্তে এপথে আসেন নি। ব্যাপার না। সব পেশাতেই এরকম উল্টোপথে-চলা মানুষ আছে। এপেশায় একটু বেশি, এই যা! কেউ কেউ আবার দারুণ মানিয়ে নিতে পারেন। তারা জিনিয়াস! অনেকেই পারেন না। ভালো শিক্ষক হতে চাইলেও চলমান দৃষ্টান্তগুলো ততটা প্রেরণাদায়ক নয় বলে আবার পিছিয়ে আসেন। ফলে আরলি ড্রপআউট, অর্থাৎ চাকরি বদল অথবা প্রতিষ্ঠান বদল। অথবা দেখা গেলো যে, প্রতিষ্ঠানই আপনাকে বদল করে দিলো!  চাকরি গ্রহণের শুরুর কয়েক বছর এরকম চলে। সবাই তো আঁকাবাঁকা পথকে সোজা করতে পারেন না। পরিস্থিতিও ভালো থাকে না। যেমন ধরুন, শিক্ষার্থীদের অবাধ্যতা। পাঠে অমনোযোগ। অনুপস্থিতি। দেরিতে আসা। বারবার বলে দেবার পরও ভুলে যাওয়া, বা বুঝতে না পারা। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা। এসব পরিস্থিতিতে মেজাজ খিটখিটে থাকে, যা বাসায় ফিরলেও ঠাণ্ডা হয় না। তারপরও শিক্ষকতাকে যারা মনেপ্রাণে মেনে নিয়েছেন, শিক্ষাদানে তারা অপার আনন্দ লাভ করেন। তারা সৃজনশীল। তারা সৃজনকারীও।

শিক্ষাদানের সময়টি এখনও আমি অনুভব করি। এই ভিডিওটি আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে

 

হুন্ডি কেন অবৈধ?

jiggasha

 

 

হুন্ডি কি?  হুন্ডি প্রথার উৎপত্তি কোথা থেকে? এটি কেন অবৈধ?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

হুন্ডি একটি  নীতিবহির্ভূত এবং দেশের আইন দ্বারা নিষিদ্ধ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর ব্যবস্থা। Bill of Exchange বা বিনিময় বিল নামেও পরিচিত। বাণিজ্যিক লেনদেন এবং ঋন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। এখনও হয়। তবে তা অবৈধভাবে এবং অবৈধ উদ্দেশ্যে।

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

বাণিজ্যিক আদান বা ঋণ সশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত লিখিত  এবং শর্তহীন দলিল, যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে নির্দেশিত পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়। এই ব্যবস্থা মুগল আমলে পরিচিত লাভ করে, কিন্তু ব্রিটিশ আমলে জনপ্রিয়তা পায়। এখনও প্রবাসী চাকুরিজীবীরা একে আড়ালে ব্যবহার করছেন।

বর্তমান বিশ্বের ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করে হয় না বলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। তাই হুন্ডি ব্যবস্থাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইতিহাস সূত্র:

মুগল আমলে প্রতিষ্ঠিত অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থাটি ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। তারা একে দেশীয় ব্যবস্থা বলে মেনে নেয়। তবে বৈধতা দেবার জন্য রানীর সিলসহ স্ট্যাম্প ব্যবহারের প্রচলন করে।

Hundi Stamp (British India)

“হুন্ডি অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ার কারণে এর আইনগত অবস্থান নেই এবং সরকারের আওতাধীন আলোচনার কোন বিধিও নেই। হুন্ডি সাধারণত বিনিময় বিল হিসেবে বিবেচিত হলেও তা প্রায়শ দেশজ ব্যাংকার্স দ্বারা ইস্যুকৃত পে-অর্ডার চেকের সমমান হিসেবে ব্যবহূত হয়। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে শাখা অফিস অথবা প্রধান ব্যাংকিং হাউসগুলিতে কুঠির মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসা চলত। বলা হয়, বাণিজ্যিক ভারতের সকল অংশে জগৎ শেঠের ব্যাংকের শাখা অফিস ছিল। কিন্তু বাংলায় উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রভাবে তাঁদের আর্থিক শক্তির পতন শুরু হয় এবং আঠারো শতকের শেষে দেউলিয়া হয়ে পড়ে।” [বাংলাপিডিয়া]

 

সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

“গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার অর্থ এসেছিল হুন্ডির মাধ্যমে”। দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ সেপটেম্বর

 


সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বেশতো এবং হেল্পফুলহাব ডট কম। ব্রিটিশ সময়ের হুন্ডির ছবিটি ইন্ডিয়াস্ট্যাম্প ডট ব্লগস্পট ডকম থেকে।

ডার্ক মুভি ব্ল্যাক কেন? ব্ল্যাক মুভি ডার্ক কেন?

jiggasha

 

ডার্ক মুভি ব্ল্যাক কেন? ব্ল্যাক মুভি ডার্ক কেন?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

ডার্ক মুভি বা কমেডিতে অন্ধকার মানে হলো মন্দ, ভয়ংকর, নোংরা…. এবং অবশ্যই অন্ধকারও।  

মূল থিমটি ‌’খারাপ‘ ‘নেতিবাচকএবংআঁধার  হরর (ভয় জাগানো) চলচ্চিত্রগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হতেই পারে

এর উপজীব্য হলো: রহস্য, ভয়, ত্রাশ, নোংরামি, যাদুমন্ত্র, অযাচার লৌমহর্ষক দৃশ্য, রক্ত, হত্যা ইত্যাদি। মোটেই ভালো কিছু নয়, তবে সৃজনশীল এবং স্পেশাল ইফেক্ট নির্ভর।

 

dark= evil, nasty, frightening….

 

দৃষ্টান্ত: সেশন নাইন, দ্য টাইম অভ্ দ্য উল্ফ, সাইলেন্ট হিল ইত্যাদি….

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

ডার্ক মুভি/কমেডিতেওডার্কঅর্থ প্রায় একই: অর্থাৎ বিষাদময় ব্যঙ্গ।  চরিত্রে থাকে হারানোর বেদনা…. যে হারানোর কোন ক্ষতিপূরণ নেই

 

ব্ল্যাক কমেডি সাথে এর অনেকটাই মিল আছে:  ব্ল্যাক কমেডিতে থাকে ধর্ষণ, গণহত্যা, মানুষের মানুষ খাওয়া ইত্যাদি বিষয়।  অনেকে ব্ল্যাক কমেডি আর ডার্ক কমেডিকে একসাথে দেখে

 

দৃষ্টান্ত:  টাফ গাইস ডোন্ট ডান্স, দ্য বেইকার, দ্য গার্ড, ব্যাড সান্টা ইত্যাদি

অন্য টার্মগুলো নাম থেকেই সাধারণ দর্শক আঁচ করতে পারেন। তবে যারা গভীরভাবে এর সাথে যুক্ত আছেন, তাদের কাছে গভীর অর্থ আছে

 

ডার্ক বা ব্ল্যাক থেকে একশমাইল দূরে থাকুন!  মানুষ যা দেখে তা-ই শেখে, অথবা অবচেতনে গ্রহণ করে। মানুষ যা দেখে, তার ওপর তার চরিত্র গঠন অনেকটাই নির্ভরশীল। মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এরকম বিষয়গুলো দেখতে রোমাঞ্চকর, কিন্তু স্লো পয়জনের মতো চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। 

 

ইতিহাস সূত্র:

ডার্ক বা ব্ল্যাক মুভি টার্মটি মূলত ‘ডার্ক কমেডি’ থেকে এসেছে। ডার্ক কমেডি একটি অতি প্রাচীন বিষয়, যা গ্রিক ও ইংলিশ সাহিত্য ও থিয়েটার থেকে গৃহীত। বিষয়টির সাথে এরিস্টটল, শেইকসপিয়র প্রমুখের নাম জড়িয়ে আছে।  ডার্ক কমেডি’র উদ্দেশ্য ছিল ভয়ংকর, মারাত্মক বা গুরুতর বিষয়কে হালকা উপস্থাপনায় চটুল বা বোধগম্য করে তোলা। বিষয়ের কারণেই ব্ল্যাক কমেডিটি একটি বিতর্কিত বিষয়।  [উইকিপিডিয়া]

 

 

ব্লগ/ সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

সাইফ সামির/ সামহোয়্যারইন ব্লগ: দি ডার্ক নাইট, মুভি রিভিউ

 

সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।