Category: পড়া নিয়ে লেখা

কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ: বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ

-তুই কি সালমান খানের লাস্ট ফিল্মটা দেখেছিলি? সিমপ্লি অউসাম। মাই গ্যড, আই জাস্ট কাআন্ট বিলিভ মানুষ কীভাবে এতো শক্তিধর হতে পারে। টউটালি আনবিলিভেবল!
-রিয়েলি? ওহ্ আই মিসড দ্যাট ফিল্ম। এনি ওয়ে, তুই কখন এলি? লান্চ করেছিস?….ওকে, নো প্রব, লেট্স হেভ লান্চ টুগেদার।

 

টিচিং প্রফেশনটা আমি একদম ঘৃণা করি….আই জাস্ট কাআন্ট স্ট্যান্ড দিস। কেন রে বাবা পড়াশুনা করে অন্যের সন্তানকে মানুষ করতে হবে? আর কি কোন পেশা নেই প-িতি ছাড়া? তাছাড়া কতটুকু প-িত তুমি হয়েছো যে অন্যকে পথ দেখাবে?
-আমার কাছে কিন্তু এর চেয়ে উত্তম কোন প্রফেশন আছে বলে মনে হয় না। জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি মানবসেবা। আই লাইক দিস প্রফেশন ভেরি মাচ এন্ড যারা এই পেশায় জড়িত তাদেরকেও আমি শ্রদ্ধা করি।

 

ভাষামিশ্রণ বা কোড মিক্সিং

‘আই এম একদম ফেডাপ’ আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের এই বাণীটি ভাষামিশ্রণের উত্তম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে অনেক দিন। একটি ভাষার ভেতরে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিদেশী ভাষার শব্দ জুড়ে দেওয়াকে ভাষামিশ্রণ বলা যায়। ভাষাবিজ্ঞানে একে বলে কোডমিক্সিং। বর্তমান প্রজন্মের ভাইবোনেরা অনেকটা অবচেতনেই এই ভাষামিশ্রণে জড়িয়ে গেছেন সগৌরবে! কোডমিক্সিংকে প্রতিষ্ঠিত রূপ দিয়েছে বলগাহীন বিজ্ঞাপন, আউলা-ঝাউলা টকশো এবং আমাদের এফএম রেডিও সম্প্রদায়। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এরা প্রায় সকলেই ভাষামিশ্রণের পৃষ্ঠপোষক। ওহ্ আচ্ছা, আসে আসে দিন বলতে এদেশে একখান দৈনিক পত্রিকা আছে। তারা সাপ্তাহিক থাকাকালেও ইংরেজি ভাষার প্রতি তাদের অগাধ প্রেমের পরিচয় দিয়ে গেছে অকাতরে! ভাষার প্রতি এ দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোন আইন এদেশে আছে কিনা, আমি জানি না। যদিও সকল আইনই সকলে মানে না, তবু অন্তত বলা যেতো যে ওটি বে-আইনী।
ভাষার বিষয়ে মৌলবাদিরা এ বিষয়টিকে চরম সীমালঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। তারা একে নিজ ভাষার প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। ভাব প্রকাশের জন্য যখন বিদেশী ভাষার সাহায্য নিতে হয়, তখন তাতে আমাদের রক্তে-অর্জিত মাতৃভাষার দৈন্যতাই প্রকাশ পায়। ভাষা সদা প্রবাহমান, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ভাষাকে হাত-ধরে পাহাড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত করতে হবে। মাতৃভাষার শব্দাবলীকে পাশ কাটিয়ে ভিনদেশী শব্দের আশ্রয় নিয়ে, নিজভাষা সহজাতভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। ক্রমান্বয়ে তা পরভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ল্যাংগুয়েজ শিফ্ট তখন অনিবার্য হয়ে যায় আর এভাবে একটি আগ্রাসী ভাষার কাছে আরেকটি ভাষার মৃত্যু হয়।
একটি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে আচমকা অন্য ভাষা থেকে শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করলেন। এটি আপনার কাছে যতই স্বাভাবিক বা অভিজাত মনে হোক, আপনার শ্রোতার কাছে সে রকম না-ও হতে পারে। অনেক সময় সেটি চরম বিরক্তি এবং সীমালঙ্ঘনেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু তো সম্ভাবনাময় এক প্রার্থীকে সেদিন চাকুরিটাই দিলেন না, কথার মধ্যে ইংরেজি বাক্য ঢুকিয়ে দেওয়ার অপরাধে!

 

কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ
লেখার মধ্যে বিদেশি ভাষার প্রয়োগ করে যাঁরা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন, সবার আগে তাঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাই। কায়কোবাদ-নজরুলেরা বিদেশি ভাষাকে খাটিয়েছেন, বলা যায়। আশ্রয় নেন নি। এরকম মিশ্রণ সকল ভাষায়ই আছে, ইংরেজি ভাষার ৯০ শতাংশ শব্দ এসেছে জার্মান ফ্রেঞ্চ, ল্যাটিন, গ্রিক এবং ইটালিয়ান ভাষা থেকে। একে কখনও কোডমিক্সিং এর অজুহাত হিসেবে নেয়া যায় না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলা ভাষায় ইংরেজি শব্দ বা বাক্যাংশ জুড়ে দেয়ার অভ্যাসটি এসেছে আমাদের ঔপনিবেশ আমলের সমাজ থেকে, যখন ইংরেজি লেখা ও বলা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং পশ্চিমা দেশের সাহায্যের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল এই উপমহাদেশের মানুষগুলো এখনও ইংরেজি বলাকে সমান আভিজাত্যের বিষয় বলে বিশ্বাস করে। এশিয়ার যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল, বিশেষত যারা ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিলো না, তারা নিজ ভাষায় ইংরেজি মিশ্রণকে রীতিমতো ঘৃণার চোখে দেখেন। এটি কোনভাবেই মর্যাদার বিষয় হতে পারে না: হয় নিজের ভাষায় কথা বলো নয়তো ইংরেজিতে, মাঝামাঝি কোন পথে তারা বিশ্বাস করেন না। এতে পশ্চিমা দেশের সাথে দূর-প্রাচ্যের ওই দেশগুলোর স্বার্থের কোন ক্ষতি হয়েছে বলে খবর আসে নি।
প্রতিবেশী হিন্দি চ্যানেলগুলোর কল্যাণে (?) নতুন প্রজন্মের অনেকে হিন্দি বাক্যও আজকাল ছুড়ে মারে। আমাদের মুরুব্বিরা আগের দিনে এভাবে ছুঁড়ে মারতেন উর্দু। আরেকটি ভাষা আছে যা অত্যন্ত ‘আরামছে’ আমাদের ভাষাকে দূষিত করে যাচ্ছে, আমরা তা পবিত্র বলেই মেনে নিয়েছি। সে বিষয়ে আপাতত মন্তব্য করছি না। নিজ ভাষা ছাড়া অন্য যে কোন ভাষা আমাদের কাছে যেন উপাদেয়। যেন বাংলা এই ভাষাটি আমরা বিনামূল্যেই পেয়েছিলাম পৃথিবীর অন্য দশটি ভাষাভাষীদের মতো। যেন বাংলা ভাষার কোন ঐতিহ্য নেই, ইতিহাস নেই, জন্ম নেই, দেশ নেই!
পাশ্চাত্য সংস্কৃতি নিয়ে আমরা যত চিল্লাচিল্লি করছি, পার্শ্ববর্তী দেশের অপসংস্কৃতি নিয়ে ততই আমরা চুপ মেরে আছি। প্রতিবেশী একটি দেশে দেদারসে ইংরেজি ব্যবহৃত হচ্ছে, এর প্রধান কারণ হলো তারা আমাদের মতো একভাষার দেশ নয়। তারা নিজ ভাষায় কথা বললে একই দেশের মানুষের সাথে তাদের সামাজিক যোগাযোগ ব্যাহত হবে। অথচ তাদের ওই অক্ষমতাকেই ক্ষমতা হিসেবে ধরে নিয়ে তাদেরকে অনুসরণ করে যাচ্ছি। তাদের প্লাস-মাইনাস চ্যানেলগুলোর তৃতীয় শ্রেণির নাটক অনুকরণ করে, গর্বের সাথে বাংলিশ বলে যাচ্ছি।

একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপে দেখা গেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের কথামালার প্রায় ৪০ শতাংশ শব্দ বিদেশি, প্রধানত ইংরেজি, ভাষা থেকে সংগৃহীত। বলাবাহুল্য এদের মধ্যে যুবসম্প্রদায়ের কথোপকথনের ৫০ শতাংশ শব্দ ইংরেজি। মজার বিষয় হলো, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায় নি এমন জনগোষ্ঠীর কথায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার প্রায় নেই। ‘বিদেশী শব্দ’ বলতে যেসব বিদেশী শব্দ এখনও বিদেশী হিসেবে গণ্য করা হয়। ভাষাবিজ্ঞানের স্বাভাবিকতায় বিদেশী শব্দ থাকবেই, তবে তা কালপরিক্রমায় একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল ভাষায় আত্তিকৃত হয়ে যায়, যা প্রজন্মের ব্যবধানে আর বিদেশী মনে হয় না।

 

কোডমিক্সিং- এর দু’একটি দৃষ্টান্ত
*জাস্টিফাই/যাচাই করা *কনফিউজ/বিভ্রান্ত করা *একসিডেন্ট/দুর্ঘটনা করা *কমপেটিবল/যান্ত্রিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া *শিওর/নিশ্চিত হওয়া *এজাস্ট/যুক্ত করা *এটেন্ড করা/উপস্থিত হওয়া *কনশান্স/বিবেককে আক্রান্ত করা *মাইন্ড করা/মনে আঘাত পাওয়া *স্টপিজ দেওয়া/থামা *অউসাম/চমৎকার হওয়া
কিছু মজার কোডমিক্সিং (পাঠক এ তালিকাটি সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে আসুন!)
*রহিম মিয়া এজ এ ম্যান হিসেবে মানুষ ভালো।
*গাড়িটা টার্ন নিয়ে ঘুরে চলে গেলো।
*নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ইলেকশন করা!
*রাজনীতির ভেতরে পলিটিক্স ঢুকে যাওয়া! (ক্রেডিট: আসাদুজ্জামান নূর)
*রিটার্ন করে পুনরায় ফিরে আসা!
*ডাউনলোড হয় কিন্তু ইন্টারনেট থেকে নামানো যায় না!

 

কোডমিক্সিং-এর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত
১) সঠিক বাংলার অনুপস্থিতি বা সঠিক বাংলাটি না জানাকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোডমিক্সিং-এর প্রধান কারণ হিসেবে আমি দেখছি।
২) একটি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কোডমিক্সিং একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখানে একে ক্ষতিকর হিসেবে দেখা যায় না।
৩) সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, মানুষ সামাজিক কারণেই তার ভাষা ও বসনে পরিবর্তন এনেছেন। বলা যায়, এখানে একটি মনো-সামাজিক ব্যাপার জড়িত।
৪) পেশাগত ক্ষেত্রে ইংরেজির ব্যবহার ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে উচ্চ ধারনার সৃষ্টি করে। কিন্তু অনেকেই পুরোপুরি ইংরেজি বলতে অসমর্থ হয়ে কোডমিক্সিং-এর আশ্রয় নেন। তাতে তিনি যা পারেন তা-ই দেখাতে পারেন।
৫) নতুন প্রজন্ম, বিশেষত যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করেছে, স্বতস্ফূর্তভাবেই ইংরেজিতে কোডমিক্সিং এবং পরে কোড-সুইচিং করছে। তারা জানে না, সামাজিক জীবনে কোডমিক্সিং করাতে বাংলা ভাষার কী সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হচ্ছে।
৬) সমাজের উচ্চতর শ্রেণির মানুষজন বেশ স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজিতে কোডমিক্সিং এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোড-সুইচিং করছে। বিশেষত, সামরিক বাহিনীর কর্মকতাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। আভিজাত্য আর ইংরেজি কথা বলা তাদের কাছে অবিচ্ছেদ্য বিষয়।
৭) অন্যকে মুগ্ধ করা বা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ইংরেজি শব্দের জুড়ি নেই- সেটি চাকরি হোক কিংবা প্রেম। বিশেষ করে, বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকৃষ্ট করার কাজে ইংরেজির মিশ্রণ তো অনিবার্য।
৮) আপাত দৃষ্টিতে একটি নিম্নশ্রেণীর জনগোষ্ঠী থেকে নিজেকে আলাদা বা উচ্চমানের দেখানোর জন্য ইংরেজিতে কোডমিক্সিং করা হয়।
৯) অপ্রীতিকর অর্থ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্য আমাদের সমাজের অনেকেই ইংরেজি বা বিদেশি শব্দ ব্যবহার করেন। যথা: আমার স্ত্রী কনসীভ করেছেন; আপনাদের ওয়াশরুমটা কোন্ দিকে; ওর সাথে আমার এফেয়ার ছিলো; ডালমে কুচ কালা হ্যায়; কুচ কুচ হোতা হ্যায় ইত্যাদি।

 

কোনটি ভালো: ভাষামিশ্রণ নাকি ভাষাবদল?
আপনি পুরোপুরি বাংলা ভাষায়ই কথা বলছেন কিন্তু আপনার বিদেশি বন্ধুটি হয়তো ঠিকমতো অনুসরণ করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই বন্ধুর ভাষায় (ধরুন, ইংরেজিতে) কথা চালিয়ে গেলেন। অথবা ধরুন, আপনার স্বদেশি বন্ধুটি গোপনীয়তার স্বার্থে তার আলোচ্য বিষয়কে ইংরেজি বা ইটালিয়ানের পরিবর্তে হঠাৎ বাংলায় প্রকাশ করতে শুরু করলেন। ভাষাবিজ্ঞানে একে কোড-সুইচিং, বাংলায় ‘ভাষাবদল’ বলা যায়।
আপনার কথোপকথনকে যখন সম্পূর্ণভাবে অন্যভাষায় স্থানান্তর করলেন, তখন সেখানে দূষণ প্রায় থাকলো না। হয়তো বিদেশি ভাষায় আপনার সহজাত দুর্বলতা থাকতে পারে, তবু সেটা ভাষামিশ্রণের চেয়ে উত্তম বলা যায়। কেউ যদি আপনাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই তাকে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়া উচিত। আবার ওই ব্যক্তিটি যদি বাংলায় ফিরে আসেন, তবে আপনারও উচিত হবে বাংলায় কথা বলতে শুরু করা। তাতে সৌজন্যতার লঙ্ঘন হয় না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে আপনার শ্রোতা এর জন্য প্রস্তুত কি না। অতএব, অনেক ক্ষেত্রেই কোডমিক্সিং এর চেয়ে কোড-সুইচিং করা বরং উত্তম এবং বাঞ্ছনীয়।

 

কোডমিক্সিং এবং আমাদের প্রিয় বাংলার ভবিষ্যৎ

কোডমিক্সিং এর কথা বললে, আমাকেও পাওয়া যাবে এর সাথে জড়িত। অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি যে, যারা এর সমালোচনা করেন, তারাও এ ভুলের উর্ধ্বে নন। এটি একটি সার্বজনীন অনিয়ম যা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। বিশেষত, পারিভাষিক শব্দ ছাড়া আমাদের উচিত যথাসম্ভব বাংলা শব্দ ব্যবহার করা। এজন্য দরকার প্রচুর সচেতনতা এবং নিজ ভাষায় আরও দক্ষতা ও নির্ভরশীলতা।
উপরোক্ত সামাজিক কারণে যদি আমাকে ইংরেজি বলতেই হয়, তবে পুরোপুরিভাবেই আমি ইংরেজি বলবো- বাংলার মধ্যে ইংরেজির মিশ্রণ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর বাংলা রূপটি আমার জানা আছে। অনেক সময় ইংরেজি শব্দটি আমাদের কাছে সহজ হয়ে আসে: ইউনিভার্সিটি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় যা হয়! এজন্য, কাউকে বুঝানোর জন্য যদি ইংরেজি শব্দটি ব্যবহার করতে হয়, সেটি আলাদা বিষয়।
যোগাযোগ প্রযুক্তির এ যুগের শুরুতে কমপিউটারের ভাষা এবং ইন্টারনেটের ভাষা ইংরেজি হবার কারণে ইংরেজির আগ্রাসনকে স্বীকার করতেই হয়। কিছু কিছু শব্দকে ভাষান্তর করা প্রায় অসম্ভব এবং করলেও তা হাস্যকর শুনায়। এগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরে নিয়ে নিজ ভাষায় মনোনিবেশ করা উচিত। দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলো এবং বাংলাভাষার বিশেষজ্ঞরা নিরন্তর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন প্রযুক্তি আইন এবং বিজ্ঞান বিষয়ক বিদেশি শব্দরাজিকে একটি পারিভাষিক রূপ দিতে। প্রাচ্যের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদেরও উচিত সেসব পরিভাষাকে নিজেদের কথায় ও লেখায় স্থান করে দেওয়া। এছাড়া একটি ভাষা টিকবে কীভাবে?

 

[ডিসেম্বর ২০১২]  পাবলিক ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া।

 

 

*পরিভাষা:
পরিভাষাগত কারণে এবং সকলের বুঝার সুবিধার্থে, কোডমিক্সিং এবং কোড-সুইচিংকে ইংরেজিতেই ব্যবহার করতে হলো। এর বাংলা যথাক্রমে ‘ভাষামিশ্রণ’ এবং ‘ভাষাবদল’ লেখকেরই অনুমিত বাংলা নাম, যা হয়তো সঠিক নয় অথবা আত্তিকরণ হয় নি। ল্যাংজুয়েজ শিফ্টও এমনই একটি পরিভাষা।

 

**উৎস ও গ্রন্থপঞ্জি:
১) ২০১১, বিভিন্ন মাধ্যমে লেখকের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন;
২) ১৯৮৫, জ্যাক-জন-হেইডি, লংম্যান ডিকশনারি অভ্ এপ্লাইড লিংগোয়িস্টিক্স;
৩) ২০০৬, “উইথ হুম কোডমিক্সিং অকারস” শিরোনামের স্ন্যাপশটটি নেওয়া হয়েছে সুরাইয়া আলমের গবেষণাপত্র থেকে, সিডিআরবি পাবলিকেশনস;
৪) ১৯৯২, জ্যানিট হোমস, ইন্ট্রোডাকশন টু সোশিও লিংগোয়িস্টিক্স।

 

***পুনশ্চ:

উপরোক্ত শিরোনামে লেখাটি একটি প্রাথমিক খসড়া। ভাষার বহমানতার মতো এ লেখাটিও ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হবে আরও দৃষ্টান্ত এবং তথ্য দিয়ে। পাঠকের গঠনমূলক মতামত এখানে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

কোন দেশ কি ইচ্ছে করলেই নোট বা মুদ্রা প্রস্তুত করতে পারে?

jiggasha

 

কোন দেশ কি ইচ্ছে করলেই নোট বা মুদ্রা প্রস্তুত করতে পারে? এরজন্য কী নিয়ম প্রযোজ্য?


 

ইচ্ছে করলেই বা প্রয়োজন হলেই কোন দেশ বা দেশের সরকার মুদ্রা/নোটের প্রচলন করতে পারে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তা তহবিল সংরক্ষণের পর একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা প্রকাশ করে। এটি একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ। অথবা বলা যায়, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক অধিকার।

 

যেসব নিয়ম প্রযোজ্য:

নোট/মুদ্রার বিপরীতে আইন অনুযায়ি সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু করে। দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নোট ইস্যু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ি নোট/মুদ্রার মূ্ল্যের শতকরা ত্রিশ ভাগ স্বর্ণ, রৌপ্য বা বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে (রিজার্ভ) রাখতে হয়।

 

বাংলাদেশ যা করে:

নোটের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরাপত্তা হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রাখে, কারণ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্বর্ণ-রৌপ্য বাংলাদেশের নেই।

 


সূত্র: ডায়েরির পাতা থেকে, ১৮ জানুয়ারি ২০০১।

কঠোর কর্মজীবন কি আমাদের হৃদয়কে শক্ত করে তুলছে? কোমলতার ১২টি দীক্ষা।

stay_soft

বয়স বাড়ছে আর অপরাধবোধগুলো তীব্রতর হচ্ছে। প্রকল্প লক্ষ্যমাত্রা বিক্রয়লক্ষ্য প্রতিবেদনের ডেডলাইন লন্চিং প্রোগ্রাম ইত্যাদি সময় ও লক্ষ্যসূচক বিষয়গুলো আমাদের কর্মজীবনে গতি আনে, তেমনই হৃদয়ের কোমলতাকে হরণ করে। পরিস্থিতি সমাজ প্রেক্ষিত পদবী ইত্যাদির ছাঁচে পড়ে আমাদের আচরণের স্বাভাবিকতা লোপ পাচ্ছে। পেশাগত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কায় হৃদয়ের উষ্ণতা আচরণে দেখাতে পারি না।

পেশাদারিত্ব আর দক্ষতার পেছনে ছুটতে ছুটতে মানবিক বিষয়গুলো পেছনে পড়ে যাচ্ছে। ফলে যোগাযোগ দক্ষতা, সফট স্কিল ইত্যাদি নামে প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে।

পেশাদার হবার পর্বে মানবিক হবার প্রয়োজন। নম্রতা বা কোমলতা একটি মানবিক গুণ, যা লোপ পেলে ফিরে পাওয়া কঠিন।

 

কোমলতা নম্রতা বিনয় অথবা ভদ্রতা প্রাকৃতিকভাবেই থাকার কথা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের যাতাকলে পড়ে এসব বিষয়ের গুরুত্ব কমে যায়। তখন ‘সফট স্কিল’ বলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না।

কোমলতা সম্পর্কে ১২বিষয় আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। পাঠকের জন্য সেগুলো তুলে ধরছি:

  1. নিষ্টুর পৃথিবীতে একটি কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া কোন দুর্বলতা নয়, সাহসিকতা। (ক্যাথরিন হেনসন)
  2. কোমল হৃদয়ের ব্যক্তিরা বোকা নন, মানুষ তাদের প্রতি কী করেছে তারা সেটা বুঝেন। কিন্তু তবু তারা বারবার ক্ষমা করে যান, কারণ তাদের আছে সুন্দর একটি হৃদয়।
  3. কোন কারণ ছাড়াই মানুষের প্রতি কোমল হোন। (এনথনি গুকিয়ার্ডি)
  4. কোন মানুষ অথবা পরিস্থিতির কারণে হতাশ হবেন না, আপনার প্রতিক্রিয়া ছাড়া উভয়ই শক্তিহীন। (এনথনি গুকিয়ার্ডি)
  5. আমি একজন সাধারণ মানুষ, যে সহস্র অনুভূতিকে আনন্দপূর্ণ হাসির পেছনে লুকিয়ে রাখে। (লুসিয়ানো পাবারতি)
  6. আপনার কেবলমাত্র একদিনের উপযোগী আবেগিক শক্তি রয়েছে। গুরুত্ব নেই এমন বিষয়ে উত্তেজিত হবেন না। (জোয়েল অস্টিন)
  7. কণ্ঠস্বর উচ্চে তুলবেন না, যুক্তিকে উন্নত করুন।
  8. কোন বিষয়কে নিয়ে চাপাচাপি করবেন না, সময় হলে সেটি ঘটবেই।
  9. আপনি কী বলেছেন মানুষ তা ভুলে যাবে, আপনি কী করেছেন তাও ভুলে যাবে, কিন্তু আপনি তাদের অনুভূতিকে কীভাবে স্পর্শ করেছেন, সেটি তারা কখনও ভুলবে না। (মায়া এনজেলু)
  10. মেনে নিন, তারপর শুরু করুন। বর্তমান সময়ে যা আছে, তা এমনভাবে মেনে নিন যেন আপনিই বেছে নিয়েছেন। সবসময় সাথে থেকে কাজ করুন, বিপক্ষে গিয়ে নয়। (একার্ট টোল)
  11. একটি সুগঠিত জীবন গেঁথে তুলতে সময় লাগে। (অ্যাডাম ব্রাইট)
  12. বিনয় ধরে রাখুন, আপনার ভুলও হয়ে থাকতে পারে।

 

‘আমার জীবনে আরেকটু বিনয় থাকলে আমি স্বর্গদূত হতে পারতাম’ – একজন খ্যাতিমান লেখকের উক্তি এটি। বিনয়, নম্রতা ও কোমলতা আমাদেরকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তাতে আমরা আরও বেশি মানুষের সাথে মিশতে ও কাজ করতে পারি। কোমলতা এভাবে আমাদের সামাজিক দক্ষতাকে বাড়িয়ে তোলে।

ডার্ক মুভি ব্ল্যাক কেন? ব্ল্যাক মুভি ডার্ক কেন?

jiggasha

 

ডার্ক মুভি ব্ল্যাক কেন? ব্ল্যাক মুভি ডার্ক কেন?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

ডার্ক মুভি বা কমেডিতে অন্ধকার মানে হলো মন্দ, ভয়ংকর, নোংরা…. এবং অবশ্যই অন্ধকারও।  

মূল থিমটি ‌’খারাপ‘ ‘নেতিবাচকএবংআঁধার  হরর (ভয় জাগানো) চলচ্চিত্রগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হতেই পারে

এর উপজীব্য হলো: রহস্য, ভয়, ত্রাশ, নোংরামি, যাদুমন্ত্র, অযাচার লৌমহর্ষক দৃশ্য, রক্ত, হত্যা ইত্যাদি। মোটেই ভালো কিছু নয়, তবে সৃজনশীল এবং স্পেশাল ইফেক্ট নির্ভর।

 

dark= evil, nasty, frightening….

 

দৃষ্টান্ত: সেশন নাইন, দ্য টাইম অভ্ দ্য উল্ফ, সাইলেন্ট হিল ইত্যাদি….

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

ডার্ক মুভি/কমেডিতেওডার্কঅর্থ প্রায় একই: অর্থাৎ বিষাদময় ব্যঙ্গ।  চরিত্রে থাকে হারানোর বেদনা…. যে হারানোর কোন ক্ষতিপূরণ নেই

 

ব্ল্যাক কমেডি সাথে এর অনেকটাই মিল আছে:  ব্ল্যাক কমেডিতে থাকে ধর্ষণ, গণহত্যা, মানুষের মানুষ খাওয়া ইত্যাদি বিষয়।  অনেকে ব্ল্যাক কমেডি আর ডার্ক কমেডিকে একসাথে দেখে

 

দৃষ্টান্ত:  টাফ গাইস ডোন্ট ডান্স, দ্য বেইকার, দ্য গার্ড, ব্যাড সান্টা ইত্যাদি

অন্য টার্মগুলো নাম থেকেই সাধারণ দর্শক আঁচ করতে পারেন। তবে যারা গভীরভাবে এর সাথে যুক্ত আছেন, তাদের কাছে গভীর অর্থ আছে

 

ডার্ক বা ব্ল্যাক থেকে একশমাইল দূরে থাকুন!  মানুষ যা দেখে তা-ই শেখে, অথবা অবচেতনে গ্রহণ করে। মানুষ যা দেখে, তার ওপর তার চরিত্র গঠন অনেকটাই নির্ভরশীল। মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এরকম বিষয়গুলো দেখতে রোমাঞ্চকর, কিন্তু স্লো পয়জনের মতো চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। 

 

ইতিহাস সূত্র:

ডার্ক বা ব্ল্যাক মুভি টার্মটি মূলত ‘ডার্ক কমেডি’ থেকে এসেছে। ডার্ক কমেডি একটি অতি প্রাচীন বিষয়, যা গ্রিক ও ইংলিশ সাহিত্য ও থিয়েটার থেকে গৃহীত। বিষয়টির সাথে এরিস্টটল, শেইকসপিয়র প্রমুখের নাম জড়িয়ে আছে।  ডার্ক কমেডি’র উদ্দেশ্য ছিল ভয়ংকর, মারাত্মক বা গুরুতর বিষয়কে হালকা উপস্থাপনায় চটুল বা বোধগম্য করে তোলা। বিষয়ের কারণেই ব্ল্যাক কমেডিটি একটি বিতর্কিত বিষয়।  [উইকিপিডিয়া]

 

 

ব্লগ/ সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

সাইফ সামির/ সামহোয়্যারইন ব্লগ: দি ডার্ক নাইট, মুভি রিভিউ

 

সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

‘বয়কট’ শব্দটি যেভাবে ‍ব্রিটিশ ঔপনিবেশের কালো অধ্যায়কে তুলে ধরে…

jiggasha

‘বয়কট’ শব্দটি কীভাবে ব্রিটিশদের কালো অধ্যায়কে উন্মুচিত করে? 


 

চার্লস সি বয়কট (১৮৩২-১৮৯৭) ছিলেন একজন ইংরেজ খাজনা আদায়কারী, তাদের ভাষায় এস্টেট ম্যানেজার। তার দায়িত্ব ছিল আইরিশ কৃষকদের ক্ষুদ্র আয় থেকে উচ্চহারে খাজনা আদায় করা। কাজটি ছিল কঠিন, কারণ কৃষকদের আয়ের তুলনায় খাজনা ছিল অত্যন্ত বেশি। কৃষকরা এক সময় একত্রিত হয়ে মি. বয়কটকে একঘরে করে দেয়। সেখান থেকে ‘বয়কট’ শব্দটির উৎপত্তি।

 

আভিধানিক অর্থ: ইংরেজি ও বাংলা

boycott:  withdraw from social/commercial relations (with a country/organization/person).  Oxford Dictionary.

boycott:  বর্জন/একঘরে করা; কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠি বা দেশের সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। বাংলা একাডেমির অভিধান।

 

যেভাবে মি. বয়কট ‘বয়কট’ হলেন:

মি. বয়কটের নিষ্ঠুর খাজনা আদায়ের অত্যাচার থেকে আইরিশ কৃষকরা বাঁচার জন্য উপায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু বিশেষ কোন সমাধান তারা পায় নি। মি. বয়কট তাদেরই সমাজে বাস করে তাদেরকেই শোষণ করতেন।

অবশেষে কৃষকরা একদিন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে বয়কটের বিপক্ষে। তাকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবার চেষ্টা করে। তাতেই তারা ক্ষান্ত হলো না, তাদের এলাকা থেকে বয়কট যেন কোন কিছু কিনতে না পারে, সে বিষয়ে সকলে ঐক্যবদ্ধ হলো। একসময় বয়কট তার জমিতে কাজ করার জন্য বা তার ফসল কাটার জন্য দিনমুজুরও পেলেন না।

বয়কটকে এভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করে দেবার ঘটনা থেকেই ইংরেজি শব্দ ভাণ্ডারে বয়কট/boycott শব্দটি সংযোজিত হয়। এর অর্থ হলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। অর্থাৎ একঘরে করা।

 

বয়কট শব্দের প্রচলন যেভাবে শুরু হলো:

মূলত ‘বয়কট’ হলো ইংল্যান্ডি ব্যবহৃত পারিবারিক উপাধি। জিওফ্রি বয়কট নামে আরেকজন বয়কট আছেন, যিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন ক্রিকেটার হিসেবে। জিওফ্রি বয়কট (১৯৬২-১৯৮৬) হলেন প্রথম ব্রিটিশ যিনি টেস্ট ক্রিকেটে ৮০০০ রানের মালিক। (ডিকশনারি ডট কম)

সমসাময়িক সংবাদমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শব্দটি লুফে নেয় এবং ব্যবহার করতে শুরু করে। পরবর্তিতে জাপানি ভাষায়ও ‘বয়কটো’ শব্দটি প্রচলিত হয়।

আমাদের বাংলাদেশেও এখন বয়কট শব্দটিকে আর অনুবাদ করতে হয় না। বাংলা লেখায়ও কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই এটি ব্যবহৃত হয়।

 

 


সূত্র: ১৬/জানু/১৯৯৮, ডায়েরি থেকে। বয়কটের ছবিটি হিস্টরিআয়ারল্যান্ড ডটকম থেকে নেওয়া।

 

দালাই লামার সুখতত্ত্ব: Philosophy of Happiness

কর্মজীবীদের মধ্যে যারা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পড়তে পারে না, আমি হলাম তাদের মধ্যে একজন।  সিলেক্টিভ রিডিং এবং স্পিড রিটিং আমার পাথেয়।  এটিও সবসময় করতে পারি না।  অথবা বলা যায় করি না, কারণ স্বার্থপর কাজের পর আর কোন নিঃস্বার্থ বিষয়ে মনযোগ দেবার সময় থাকে না।  এই অপরাধবোধে সবসময় আমি ভাসি।  কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা আপনাআপনি এসে দৃষ্টিসীমানায় পড়ে এবং পড়ার জন্য  স্বার্থপর পাঠককে আকৃষ্ট করে।  দালাই লামা এমনই একটি বিষয়, যাতে দৃষ্টি পড়ার পর একটি সীমা পর্যন্ত আমি পড়েই চলেছিলাম। যতই পড়েছি, ততই গভীরে গিয়েছি। এভাবে বেশ কিছু দিন দালাই লামার দর্শনবৃত্তে, বলা যায়, আটক ছিলাম।  ছাড়া পেয়ে কিছু অভিজ্ঞতা কলমবন্দি করে রাখলাম, যেন স্মৃতি রোমন্থন করতে পারি।

 

দালাই লামার ‘আত্মসুখ দর্শন’ যেকোন দর্শক বা পাঠককে মুগ্ধ করবে।  মানুষ সাধারণত সুখ প্রত্যাশী। তাই স্বার্থপরের মতো শুধু তার ‘সুখ দর্শনকেই’ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। নিজের জন্য কিছু না থাকলে দর্শন দিয়ে মানুষ কী করবে!  দালাই লামার দর্শনে স্বার্থপরের মতো সুখের সন্ধান করতেই বলা হয়েছে। ব্লগের পাতায় লেখাটি যত দীর্ঘ দেখাক না কেন, বিস্তারিত বলতে পারি নি!

 

শুরুতেই একটুখানি কামিনী রায় চেখে নেই:

পরের কারণে স্বার্থে দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণের সুখ ;
“সুখ” “সুখ” করি কেঁদো না আর,
যতই কাঁদিবে ততই ভাবিবে,
ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।

 

১) সুখ কী/ মানুষ কী চায়

মানুষ বাঁচে আশায় এবং আশাকে সংজ্ঞায়িত করলে এর অর্থ দাঁড়ায়, ভালো কিছু ঘটার প্রত্যাশা।  আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ সুখের ওপরই আমাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে আছে। -এই হলো দালাই লামার সুখ তত্ত্ব। তিনি মনে করেন, জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সুখের সন্ধান করা। কিন্তু, সুখ শুধু সন্ধানেই আসে না।  অনেক সময় সুখের প্রত্যাশা যখন সর্বনিম্ন তখনই সেটি আসে।

 

এটি আসে একটি উষ্ণ হৃদয় থেকে। তিনি বলেন, সুখের চূড়ান্ত উৎস টাকাপয়সা এবং ক্ষমতা নয়, ঊষ্ণ হৃদয়। উষ্ণ হৃদয়ের পরিচয় হলো, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং ইতিবাচক মনোভাব।

তার মতে, আমরা যে শান্তি ও সুখের (tranquility and happiness) সন্ধান করছি, সেটি লাভ করা যায় অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং অনুকূল মনোভাবের মধ্য দিয়ে।

দালাই লামা বলেন, অন্যের প্রতি আমাদের দয়া এবং ভালোবাসা থাকলে সেটি শুধু অন্যকেই উপকৃত করে না, কিন্তু আমাদের অন্তরে সৃষ্টি করে সুখ ও শান্তি। এরজন্য প্রয়োজন একটি উদার মন এবং উন্মুক্ত হৃদয়।

কিন্তু উদার মনের জন্য চাই উন্মুক্ত হৃদয়। মন হলো প্যারাশুটের মতো।  উন্মুক্ত থাকলেই সেটি বেশি কাজ করে। এটি দালাই লামার কথা।

অন্যকে সুখে রাখার প্রচেষ্টাতেই প্রকৃত সুখ।  এই অভিজ্ঞতা সকলেরই আছে।  কাউকে কিছু দিতে পারলে, কাউকে ক্ষমা করতে পারলে, অসম্ভব সুখানুভূতি হয় নিজের মাঝে। দালাই লামা বলেন, যদি অন্যকে সুখে রাখতে চান তবে দয়ার চর্চা করুন, যদি নিজে সুখি হতে চান তবু দয়ার  চর্চা করুন।

 

সুখ হলো, নিজের অনেক শুভাকাঙক্ষী থাকা। কিন্তু নিজেকে আগে রাখলে শুভাকাঙ্ক্ষী আসে না। দালাই লামা বলেন,  মনে রাখবেন, যখন পারস্পরিক ‘সম্পর্ক’  পারস্পরিক ‘চাহিদার’ চেয়েও ঊর্ধ্বে চলে যায়, সেটিই হলো উত্তম সম্পর্ক।

 

সুখ হলো, দয়ালু হতে পারা।  তিনি বলেন, দয়ালু হোন যখনই সম্ভব হয়।  এটি সবসময়ই সম্ভব। কিন্তু তিনি মনে করিয়ে দেন যে,  শুধু দয়ার্দ্র হলেই চলবে না, সেটি কাজে প্রকাশ করতে হবে।

 

সুখ হলো, ভালোবাসতে পারা।  তিনি বলেছেন, যাকে আপনি ভালোবাসুন তাকে ওড়ার মতো ডানা দিন; ফিরে আসার মতো আশ্রয় দিন; এবং সাথে থাকার মতো কারণ দিন।

 

 

২) সুখের সাথে মনের শান্তি এবং রাগ দমনের সম্পর্ক

মনে শান্তি না থাকলে, একে সুখ বলা যায় না।  কিন্তু দালাই লামা বলেন, আমাদের মনের শান্তির চরম শত্রু হলো রাগ।

এই রাগ খুবই কঠিন এক মানবিক বিচ্যুতি।  একে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই মনোভাবের পরিবর্তন।  এখানেই সহানুভূতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের প্রতি সত্যিকার মমত্ববোধ থাকলে অন্যদের প্রতিকূল আচরণ বা দুঃখ পেলেও সেটি পরিবর্তন হয় না।

রাগের সাথে অহংকারের একটি আজন্ম সম্পর্ক আছে। এর আরেকটি উপসর্গ হলো, ঘৃণা।

রাগ এবং ঘৃণা মাছশিকারীর বড়শির মতো ওৎ পেতে থাকে। আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে যেন ওটাতে আটকে না পড়ি। এটি দালাই লামার পরামর্শ।  তিনি বলেন, যারা আপনার প্রতি ভুল করে এবং ক্ষতি করে, তাদেরকে ঘৃণা করা উচিত নয়। কিন্তু অনুকম্পার মাধ্যমেই আপনি তাদেরকে থামাতে পারেন, কারণ অন্যের ক্ষতি করে তারা নিজেদেরই ক্ষতি করছে।

রাগ করা মানেই হলো, অন্যের আচরণ দ্বারা আমি প্রভাবিত হচ্ছি।  এটি এক প্রকার পরাজয়।  দালাই লামা বলেন, অন্যের আচরণ দ্বারা আপনার প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত হতে দেবেন না।

 

নেতিবাচক বিষয়কে ভুলে যাবার ক্ষেত্রে তিনি শিশুদের দৃষ্টান্ত নিয়ে এসেছেন। শিশুদের কথা ভাবুন।  অবশ্যই এরা ঝগড়া করে। কিন্তু সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মতো বেশি সময় তারা রাগ পুষে রাখে না। প্রাপ্তবয়স্কদের অনেকেই শিশুদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত, কিন্তু বিশাল হাসির মধ্যে যদি ঘৃণা লুকিয়ে থাকে তবে শিক্ষার কী মানে আছে? শিশুদের মধ্যে এরকম ভনিতা নেই। কারও প্রতি রাগ থাকলে তারা সরাসরি প্রকাশ করে এবং ওখানেই তার সমাপ্তি হয়। পরেরদিনই সেই বন্ধুকে নিয়ে খেলতে পারে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে পারলে এবং বর্তমানকে মূল্যায়ন করতে পারলে আমরা মনের শান্তি রক্ষা করতে পারি।  এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে পরের অংশে।

 

 

৩) সুখ ও শান্ত মনোভাব: শান্ত থেকে বর্তমান সময়কে গুরুত্ব দেওয়া

শান্ত এবং নিজের কাজে মনসংযোগের জন্য অনেকে ব্যায়ামের কথা বলেন।  কেউ কেউ যোগ ব্যায়াম চর্চা করেন;  বিভিন্ন মেথডে ধ্যান করেন।  কিন্তু সবকিছুর জন্মস্থান হলো, মন এবং মনোভাব। দালাই লামা বলেন, আশাবাদী মনোভাবকে বেছে নিন, অপেক্ষাকৃত ভালো অনুভব হবে।

আমাদের মনোভাবকে দূষিত করে দেয় প্রতিপক্ষের আচরণ।  তিনি বলেন, আপনি সঠিক মনোভাব পোষণ করলে দেখবেন যে,  প্রতিপক্ষই আপনার সবচেয়ে ভালো শিক্ষক।  কারণ তাদের উপস্থিতি আপনাকে সহনশীল, ধৈর্য্যশীল এবং বোধ সম্পন্ন হবার সুযোগ করে দেয়।

সামর্থ্য থাকলে অন্যকে সাহায্য করুন। না পারলে করবেন না।  কমপক্ষে কারও ক্ষতির কারণ হবেন না। এটি দালাই লামার কথা।

আমরা সবসময় আগে থাকতে চাই, আগে সুযোগ পেতে চাই। রাস্তায় নামলে এটি বেশি দেখা যায়।  নিজেকে স্বার্থের সংকীর্ণতা থেকে বাইরে নিয়ে আসতে পারলে আমরা জীবনের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য এবং সন্তুষ্টি লাভ করতে পারি।

কৃতজ্ঞতাবোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ।  অনেক সময় অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার কারণটি আমরা বের করতে পারি না, অথবা মনে রাখতে পারি না।  দালাই লামার মতে, কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের সৃষ্টি হয়।

আরেকটি গুণ হলো, আত্মসন্তুষ্টি। তিনি বলেন,  অসন্তুষ্ট থাকলে আপনি শুধুই আরও চাইবেন।  আপনার চাওয়ার কোন শেষ থাকবে না।  কিন্তু যখন আপনি আত্মসন্তুষ্টির চর্চা করবেন, তখন উপলব্ধি করবেন যে, ইতোমধ্যেই আপনার প্রয়োজনীয় সব আছে।

মনে রাখবেন যে, প্রত্যাশামতো কিছু না পাওয়ার মানে হতে পারে সৌভাগ্যের বিস্ময়কর পরশ।  এটি দালাই লামার কথা।

নিজেকে ক্ষমা করা। বিষয়টির ব্যাখ্যা প্রয়োজন।  দালাই লামা বলেন, নিজেকে ভালো না বাসলে অন্যকে ভালো বাসা যায় না। অন্যকে ভালোবাসার সামর্থ্য থাকে না।  নিজের জন্য মমতা না থাকলে অন্যের প্রতি মমতা সৃষ্টি হয় না।

নিজের সাথে নিজের শান্তি না থাকলে আমরা কখনও বাইরের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি না।

 

শান্ত কীভাবে থাকবো, যদি প্রতিনিয়ত ভুল হয়?  নিজের সাথে নিজের শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন ভুলকে সঠিকভাবে দেখতে পারা। দালাই লামা বলেন, ভুল যখন বুঝতে পারেন তখনই সংশোধনের ব্যবস্থা নিন। কোন সমস্যার সমাধান না করতে পারলে অহেতুক দুশ্চিন্তার মধ্যে কোন ফল নেই।

 

সময় নির্বিঘ্নে বয়ে চলে। আমরা যখন কোন ভুল করি, তখন সময়কে আটকে দিয়ে চেষ্টা করতে পারি না। আমরা যা করতে পারি তা হলো, বর্তমান সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি।

এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, মহৎ প্রেম এবং মহৎ অর্জনের সাথে বৃহৎ ঝুঁকি জড়িত।  ঝুঁকি আর বিপদ, জীবনের অংশ।

প্রতিটি দিনকে মূল্যায়ন করলে, ঝুঁকি আর বিপদগুলো তরল হয়ে যায়। দালাই লামা বলেন, চলুন আমরা প্রতিটি দিনের গুরুত্বকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি।

 

 

৪)  ‘সুখের সাথে মুখের কথার’ সম্পর্ক

সুখের সাথে কথা বা আলাপচারিতার সম্পর্কটি নিবিড়।  কথা বলে আমরা সম্পর্ক তৈরি করতে পারি, আবার কথা বলেই অনেক দিনের গড়া সম্পর্ককে চিরতরে ছিন্ন করে দিতে পারি।  কথা বলে প্রেরণা দিতে পারি, কথা বলেই স্থায়িভাবে কাউকে থামিয়ে ‍দিতে পারি।

অনেক সময় উচিত কথাটি/ সমুচিত জবাবটি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা স্বস্তি পাই না। বলার পরে তৃপ্তি পাই।  কিন্তু ওই তৃপ্তি খুবই সাময়িক।  উচিত কথাটি বলে দেবার একটু পরই অস্বস্তি শুরু হবে – অপরাধবোধ সৃষ্টি হবে। মনে হবে, না বললেই ভালো ছিল।  থুথু যেমন ফেরত নেওয়া যায় না, তেমনই বলা কথা ফিরিয়ে আনা যায় না।

কথা বলার একটি কর্মশালায় প্রধান স্লোগানটি এসেছিল প্রশ্নের আকারে:  আপনার কথা কি গড়ে তোলে, নাকি ধ্বংস করে?

উপযুক্ত সময়ে কথা বলা যেমন জরুরি, তেমনি উপযুক্ত সময়ে চুপ থাকা বা কথা না বলাটাও দরকারি। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘অনেক কথা যাও যে বলে, কোন কথা না বলি।’  না বললে অনেককিছু বুঝানো যায়, বললে শুধুই বলাটুকু।

দালাই লামা বলেন, মানুষ অনেক সময় কথা বলেই মুগ্ধতা সৃ্ষ্টি করে; অনেক সময় নিরব থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ মুগ্ধতা সৃষ্টি করা যায়। নীরবতা অনেক সময় সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে গণ্য হয়।

কথা বলেই অন্যকে গড়ে তুলতে পারি।  এখানে ইতিবাচক মনোভাবের প্রয়োজন। অন্যের ইতিবাচক দিকটি উপলব্ধি করতে পারা একটি মূল্যাবান গুণ।  দালাই লামা বলেন, প্রশংসার ভূমিতে উৎপন্ন হয় সকল উত্তমের বীজ।

 

 

৫)  সুখ ও বৈষম্যহীনতা: সকল মানুষই সমান, সকলেরই চাহিদা এক

সব বর্ণের মানুষের মধ্যে সংহতি সৃষ্টি করার জন্য দালাই লামা চমৎকার যুক্তি দিয়েছেন।  একে খণ্ডন করা প্রায় অসম্ভব।  যা খণ্ডন করা যায় যা, তাকে এড়িয়েও যাওয়া যায় না।

মানুষে মানুষে প্রভেদ সৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে যত হিংসার কারণ।  প্রাকৃতিক, ভৌগলিক, বৈজ্ঞানিক সকল দিকেই মানুষ এক। মানুষ যে এক তার প্রমাণ কী? তাদের সবার শারীরিক ও আবেগিক চাহিদা এক। তাদের লক্ষ্য এবং প্রত্যাশাও এক।

দালােই লামা বলেন: ধনী কিংবা দরিদ্র, শিক্ষিত বা নিরক্ষর, ধার্মিক অথবা অবিশ্বাসী, নারী অথবা পুরুষ, সাদা কালো অথবা তামাটে, আমরা সবাই এক। শারীরিক, আবেগিক এবং মানসিকভাবে আমরা সবাই সমান। খাদ্য, আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং আবেগের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো আমাদের সবারই এক। আমরা সবাই চাই সুখ এবং কষ্টকে এড়িয়ে চলি। আমাদের প্রত্যেকেরই আশা, উদ্বেগ, ভয় এবং স্বপ্ন আছে। প্রত্যেকেই চাই নিজের পরিবার এবং আপনজন ভালো থাকুক। কোনকিছু হারালে আমরা দুঃখ পাই এবং কোনকিছু অর্জন করতে পারলে আনন্দিত হই। এ জায়গাটাতে ধর্ম, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, সংস্কৃতি এবং ভাষা আমাদের মধ্যে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করে না।

সামাজিক বৈষম্যের কারণে আমাদের আচরণগুলো সবার জন্য একরকম হয় না। বয়স্ক রিক্শাওয়ালাকেও আপনি বলতে আমাদের বাধে, কিন্তু পরিশীলিত পোশাকের অল্পবয়সী যুবকটির প্রতি এমনিতেই ‘আপনি’ সম্বোধন চলে আসে। আমাদের ভালো আচরণ ওকথার সুমিষ্টতা যেন জমিয়ে রাখি বিশেষ দিনের বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য। অতএব, সব মানুষকে সমানভাবে দেখতে পারার মধ্যে সুখের কারণ আছেই তো!

 

 

৬)  সুখ ও ধর্ম: ধর্মের সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক

দালাই লামার মতে ধর্ম অথবা প্রতিষ্ঠান মানুষকে আলাদা করতে পারে না। এখানেও মানুষ এক।  সব মানুষই সুখ চায়।  তাই সবাইকেই সহানুভূতি এবং দয়ার চর্চা করতে হয়।  দয়াই ধর্ম।

তিনি বলেন, আমার ধর্ম খুবই সরল। এর জন্য ধর্মগৃহের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নেই জটিল কোন দর্শনের । আপনার মন এবং আপনার অন্তকরণই হলো ধর্মগৃহ। আপনার দর্শন হলো দয়া।

তার মতে, ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য পথের পাশে ধর্মগৃহ প্রতিষ্ঠা করা নয়, কিন্তু আমাদের অন্তরের মধ্যে ভালো গুণ এবং ভালোবাসার (goodness and compassion) প্রতিষ্ঠা করা।

ধর্মের সামগ্রিক উদ্দেশ্যটি হলো ভালোবাসা ও অনুকম্পা, ধৈর্য, সহনশীলতা, নম্রতা এবং ক্ষমাশীলতাকে প্রতিষ্ঠিত করা।

তিনি বলেন, ধর্ম আর ধ্যান ছাড়া মানুষ বাঁচে, কিন্তু মানবিক গুণাবলী ছাড়া আমরা টিকতে পারি না।

অতএব, দয়া বা অনুকম্পা কোন ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি মানবিক বৈশিষ্ট্য।  এটি কোন বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের নিজের শান্তি ও মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য আবশ্যক। এটি মানুষের অস্তিত্বের জন্য দরকারি।  এটি দালাই লামার কথা।

 

ধর্ম দিয়ে মানুষকে হেয় অথবা ভিন্ন ভাবা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?  দালাই লামা বলেন, সুখ আর সফলতার উদ্দেশ্যে মানুষ বিভিন্ন পথে হাঁটে।  কেউ আপনার পথ দিয়ে হাঁটছে না মানেই এই নয় যে, সে ধ্বংস হয়ে গেছে।

তার মতে, ধর্ম আলাদা থাকতেই পারে।  অথবা ধর্ম নাও থাকতে পারে।  কিন্তু নৈতিকতা শুধুই ধর্মীয় গুণ নয়।  দালাই লামা বলেন, বর্তমান সমাজে আমি মনে করি যে, নৈতিকতা, অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত সততা অর্জনের জন্য একটি সার্বজনীন এবং টেকসই পথ বের করার প্রয়োজন। কারণ এসব গুণাবলী ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং নৃতাত্ত্বিক পার্থক্যের উর্ধ্বে।  আমি একে বলি ধর্মনিরপেক্ষ নৈতিকতা।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নৈতিকতার জন্য ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বরং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে,  মানবিকতা এবং মানুষের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গতভাবেই নৈতিকতার বিষয়টি আসে।

 

 

৭)  সুখ ও শিক্ষা:  শিক্ষা থেকে যে প্রত্যাশা থাকা উচিত

আমাদের বর্তমান সমাজের সমস্যাটি হলো শিক্ষা সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশা।  তারা মনে করে, শিক্ষা গ্রহণ করলেই তারা চতুর এবং বুদ্ধিমান হয়ে যাবে।  শিক্ষাকে আমাদের সমাজ সেভাবে না দেখলেও, শিক্ষা এবং জ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূ্র্ণ উদ্দেশ্য হলো, অধিকতর ভালো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা এবং মনের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের জ্ঞান ও বৃদ্ধির সঠিক প্রয়োগ হলো, উত্তম অন্তকরণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজের অভ্যন্তরে পরিবর্তন।

আমি মনে করি, অজ্ঞতাই মানুষের কষ্টের কারণ।  স্বার্থপরের মতো নিজের সুখ এবং সন্তুষ্টির খুঁজেই মানুষ অন্যকে কষ্ট দেয়। অথচ প্রকৃত সুখ আসে অন্তরের সুখ এবং সন্তুষ্টিবোধ থেকে। এই সুখ আসে পরোপকার, ভালোবাসা এবং দয়া  থেকে। এটি আসে অজ্ঞতা, স্বার্থপরতা এবং লোভকে পরিত্যাগ করার ফল হিসেবে।

অজ্ঞতা কী? সুখের উৎস সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনার অভাব। সুখের উৎস কী?  পরোপকতার, ভালোবাসা এবং দয়া।  পরোপকার, ভালোবাসা এবং দয়া কীভাবে সম্ভব?  জ্ঞানার্জন, নিঃস্বার্থ মন এবং নির্লোভ অন্তকরণের মাধ্যমে।

 

শিক্ষার ফল কী?  ভালো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারা এবং উত্তম অন্তকরণ প্রতিষ্ঠা করতে পারার সামর্থ্য।

চামচ কখনও তার বহনকৃত খাদ্যের স্বাদ নিতে পারে না।  ঠিক সেভাবে সাধুর সঙ্গ পেলেও নির্বোধ সেটি বুঝতে পারে না। বলেছেন দালাই লামা।

 

 

 

 

▶ দালাই লামা: প্রাসঙ্গিক পরিচয়

সমস্ত আলোচনা চতুর্দশ দালাই লামা তেনজিন গেয়াতসুকে (১৯৩৫-) নিয়ে। পূর্বসুরী সকলের চেয়ে জনপ্রিয়তা এবং সার্বজনীনতা অর্জন করেছেন তেনজিন গেয়াতসু।  তার জীবন ও দর্শন থেকে শিক্ষা নেবার জন্য মানুষ লাইন ধরে টিকেট কাটে।  মহাত্মা, ম্যান্ডেলা এবং সর্বোপরি বুদ্ধের দর্শনকে একত্রিত করে একটি সর্বজনবোধ্য ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন, যার জন্য সারাবিশ্বে তিনি একজন জনপ্রিয় বক্তা। তার দর্শন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠের বিষয়।

এর প্রথম কারণটি হলো, তিনি মানুষকে একটি অভিন্ন স্তরে নিয়ে আসতে পেরেছেন এবং নৈতিকতার সার্বজনীনতাকে তুলে ধরেছেন।  তার দর্শনের মূল কথা হলো, মানুষ এবং তার অভিন্ন মানবিক চাহিদা। ফলে মানুষ দালাই লামার শিক্ষায় নিজেকে আবিষ্কার করতে পেরেছে।

অন্য কারণটি হলো, বিভিন্ন ধর্মকে স্বীকৃতি দিয়ে এর মূল উদ্দেশ্যেকে তুলে ধরতে পারা, সেটি হলো: মানুষের সুখের সন্ধান।

 

বর্তমান লেখায় ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, সেক্যুলার দার্শনিক হিসেবে দালাই লামাকে দেখা হয়েছে। তার সুখদর্শন একটি শক্তিশালী যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যাতে আছে আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক চেতনার মিশ্রণ।  নিজের ধর্মীয় পরিচয় থাকলেও তিনি তার চিন্তাচেতনাকে এমন একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন, যেখানে ধর্মীয় পার্থক্য অপ্রাসঙ্গিক।  দালাই লামার সুখতত্ত্ব বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাইকেই মানুষ হিসেবে এক করে দিয়েছে।

চতুর্দশ দালাই লামা ব্যতিক্রম।  তিব্বতের শতবছরের ধর্মীয় ঐতিহ্য মোতাবেক দালাই লামা তাদের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা হয়ে আসলেও, চতুর্দশ দালাই লামা তিব্বতে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করার পথ সুগম করে দেন (২০১১)।  নিজেকে শুধু আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে বিবেচনা করলেও তিনি অহিংস উপায়ে তিব্বতের মানুষের স্বাধীকারের জন্য লড়ে যাচ্ছেন।  সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, আর কোন দালাই লামার প্রয়োজন নেই

 

 

 

▶প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধগুলো:

১. Inner Peace অন্তরের শান্তি

২. সুখি মানুষের গল্প

৩.  আত্মউন্নয়ন: এই সময়টি আপনার

 

 


পরিশিষ্ট:

১.  Lama, 14th Dalai, Cutler, H.C. and His Holiness the Dalai Lama (1998) The art of happiness: A handbook for living. New York, NY: Riverhead Books.

২.  Lama, 14th Dalai, XIV, D.L. and His Holiness the Dalai Lama (2001) An open heart: Practising compassion in everyday life. United Kingdom: Hodder & Stoughton.

৩.  Lama, 14th Dalai and XIV, D.L. (2012) Beyond religion: Ethics for a whole world. United Kingdom: Rider, Ebury Publishing.

৪.   (no date) Available at: http://www.biography.com/people/dalai-lama-9264833 (Accessed: 27 March 2016).

৫.  The office of his Holiness the Dalai Lama (2016) Available at: http://www.dalailama.com/ (Accessed: 26 March 2016).

৬.   রাজুমইনুল (2012) অনেকের ভীড়ে একজন (পর্ব ৬: দালাই লামা). Available at: https://blog.mukto-mona.com/2011/08/15/18108/ (Accessed: 18 December 2015).

 

ইন্টারনেট অফ থিংস: ‘বস্তুর সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ’ কী এবং কেন?

উৎস: থ্রিজি ডট কো ডট ইউকে

উৎস: থ্রিজি ডট কো ডট ইউকে

 

ইন্টারনেটে আজ পর্যন্ত যত তথ্য মজুদ আছে তার অধিকাংশই মানুষের স্পর্শের মাধ্যমে হয়েছে। মানুষ হয় টাইপ করেছে, অথবা রেকর্ড বাটনে চাপ দিয়েছে, অথবা ক্যামেরায় চাপ দিয়ে ‍ছবি তোলার মাধ্যমে ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভাণ্ডার সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের কার্যকারিতা পুরোমাত্রায় মানুষের ওপর নির্ভরশীল।

 

মানুষ মাত্রই ভুল। মানুষের অসীম চাহিদা, কিন্তু তার একক ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত, ত্রুটিপূর্ণ এবং নীতিভ্রষ্ট। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণে মানুষের চাহিদার প্রকার ও প্রকৃতি বেড়েছে। ফলে মানুষের স্পর্শের ওপর নির্ভরশীল থেকে বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তির চাহিদার যোগান দিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

ইন্টারনেটের সুবিধাকে মানুষের হাতের স্পর্শ থেকে স্বাধীন করার কাজটি কয়েক দশক ধরেই চলে এসেছে। এই প্রচেষ্টার তাত্ত্বিক নামই হলো ‘ইন্টারনেট অভ্ থিংস’ বা বস্তুর সাথে ইন্টারনেট বা ‘বস্তুগত ইন্টারনেট’।  সংক্ষেপে আইওটি।

 

ব্রিটিশ উদ্যোক্তা কেভিন অ্যাশটন তার একটি উপস্থাপনায় সর্বপ্রথম ‘ইন্টারনেট অভ্ থিংস’ কথাটির ব্যবহার করেন (১৯৯৯)। যদিও ইন্টারঅ্যাকটিভ এবং ইন্টারনেট-যুক্ত যন্ত্রের ধারণাটি আরও আগেই আলোচনায় এসেছে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী কোক সরবরাহকারী মেশিন আবিষ্কার করে বিশ্বের সর্বপ্রথম ইন্টারনেট-কানেকটেড যন্ত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

 

 

▶ ইন্টারনেট অভ্ থিংস কী

 

ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর প্রধান দিকটি হলো এই যে, প্রতিটি বস্তুরই সংযোগ করার ক্ষমতা থাকবে যেন সেটি তথ্য আদান-প্রদান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে কোন সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ দিতে পারে। যেমন: ফ্রিজে রাখা কোন অবশ্য প্রয়োজনীয় খাবার জিনিস শেষ হয়ে গেলে, ফ্রিজ তার নিজস্ব বিল্টইন সেন্সরের মাধ্যমে বুঝতে পারবে এবং মালিককে মনে করিয়ে দিতে পারবে।

 

‘থিংস’ বা বস্তু হতে পারে মানুষের ভেতরেরই একটি হৃদকম্পন পরিমাপক যন্ত্র যার মাধ্যমে সেই মানুষটি চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই নিজের হার্টের অবস্থা বুঝতে পারবে।

‘থিংস’ হতে পারে গাড়ির চাকায় যুক্ত একটি সেন্সর, যার মাধ্যমে ড্রাইভার গাড়ির চাকায় গ্যাসের চাপ বুঝতে পারবে।

একটি স্মার্ট মিটার কেমন হতে পারে?  এটি নিজে থেকেই গাড়ির জ্বালানির পরিমাণ বুঝে আরেকটি জ্বালানি সরবরাহকারী যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

শুধু সেন্সর নয় যোগাযোগ সক্ষমতা থাকতে হবে। প্রতিটি যন্ত্রেরই একটি আইপি অ্যাড্রেস থাকবে।  তাতে এটি আরেকটি যন্ত্র অথবা মানুষের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে।

 

 

▶ ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর ব্যবহার

 

সুন্দরবনের গাছ কাটা ও স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ। হরিণ শিকার তো আরও নিষিদ্ধ। কিন্তু দুর্গম এবং হিংস্র প্রাণীর অভয়ারণ্য সুন্দরবনে চোর হয়তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাবেই।  কিন্তু আমাদের বনরক্ষকরা কি ততটুকু ঝুঁকি নেবেন?  তাদের তো কিছুই পাবার নেই!  জিপিএস-এর মাধ্যমে একাজটি সহজ করে দেবে ইন্টারনেট অভ্ থিংস।  এটি একই ক্ষীপ্রতায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তার কম্পিউটারে ও স্মার্টফোনে প্রমাণসহ বার্তা পৌঁছে দেবে।  নিকটস্থ পুলিশ তৎক্ষণাৎ নিজের করণীয় ঠিক করতে পারবে।

 

রেলক্রসিংয়ে প্রায়ই মানুষ মারা যাচ্ছে এবং যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে।  রাস্তার মোড় মানেই যানজট, কারণ পুলিশ সময়মতো সিগনাল দিতে পারে না, অথবা ভিআইপিদেরকে রাস্তা দেবার জন্য উল্টোদিকে গাড়ি চলতে দিচ্ছে। সিগন্যাল দিলেও চালকেরা সেটি মানতে চায় না, অথবা না মানলেও রক্ষা পায়।  এমনও হয়েছে, পুলিশ বা যাত্রীর ওপর গাড়ি তুলে দিয়েছে।  মানুষ মানুষকে মানতে চায় না, ভয়ও পায় না। ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এখানে আইওটি’র কোন বিকল্প নেই, কারণ এখানে মানুষ মাত্রই ভুল এবং বিলম্ব।

 

সার্বিকভাবে কৃষি উন্নয়ন, ভবন ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনাসহ স্মার্ট সিটি বিনির্মাণে ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর ব্যবহার দেখা যাবে।

 

উৎস: পোস্টস্কেইপ ডট কম

উৎস: পোস্টস্কেইপ ডট কম

 

 

▶ ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর আরও কিছু ব্যবহার:

 

১) পরিবারের বৃদ্ধ সদস্যটির দেখাশোনা।  তারা আমাদের বৃদ্ধ মা অথবা বাবা, যাদেরকে রেখে এসেছি গ্রামের বাড়িতে অথবা শহরেরই বাড়িতে। তার শরীরে কোন আকষ্মিক পরিবর্তনের কারণে তার চলাফেরায় পরিবর্তন আসলে অফিস থেকেই সেটি আঁচ করতে পারা যাবে।  পরিচর্যাকারী হয়তো সময়মতো ওষুধটুকু খাওয়াতে পারে নি অথবা দুপুর খাবারটুকু সময়মতো খেতে দিতে পারে নি।  মানুষের ভুল হতেই পারে!

২) আপনার ওয়ালেট অথবা মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেছে।  অথবা গাড়ির চাবিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  সকলের ব্যস্ততম মুহূর্তে মাথায়ও কাজ করছে না।  কীভাবে সেগুলোকে ট্র্যাক করবেন?  সমাধান আইওটি!

৩) নিজের বাসগৃহকে দুর্ঘটনার কবল থেকে মুক্ত রাখতে কে না চায়!  গ্যাসলাইন অথবা বিদ্যুৎলাইনের ত্রুটির কারণে, অথবা রান্নার চুলাটি সময়মতো বন্ধ না করার কারণে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে খবর দেবে আইওটি।  আপনি যেখানেই থাকুন না কেন!

৪)  ট্রাফিক ব্যবস্থপনার মতো, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং লাইটিং সিস্টেমের ব্যবস্থা এমন কিছু কাজ যা নিয়মিত না করলে একজনের জন্য অনেকের সমস্য হয়।  লাইটিং সিস্টেমের ব্যবস্থাপনা শুধু সূর্যাস্তের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়, আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় বিকালেই রাতের অন্ধকার নেমে আসে।  অন্যদিকে ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাতের আধারেও লাইটিং সিস্টেম বন্ধ করতে হয়। এসবের জন্য চাই আইওটি, অর্থাৎ যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের সংযোগ

 

 

▶ লেখককের কথা

 

আইওটি কোন নতুন বিষয় নয়।  তবে এর ব্যবহার ও কার্যকারীতা সম্পর্কে ক্রমেই নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হচ্ছে।  উন্নয়নকামী দেশগুলোর জন্য আইওটি এখনও অনেকটাই অধরা।  বাংলাদেশের বর্তমান সরকার আইওটি’র সাথে নগর ব্যবস্থাপনাকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে।

আইওটি’র প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো,  সময়নিষ্ঠতা, ত্রুটিহীনতা এবং গুণগতমানের ধারাবাহিকতা।  আপাত দৃষ্টিতে এর কার্যকারিতা অসীম। তবে অনুভূতিপ্রবণ মানুষের চাহিদা ও গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে এটি কতটুকু যত্মশীল, সেটি সময়ই বলে দেবে।

 

বর্তমান প্রবন্ধটিতে ইন্টারনেট অভ্ থিংস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাগুলো উপস্থাপন করা হলো।  উদ্দেশ্য, সকল পর্যায়ের পাঠককে ‘ইন্টারনেটের সঙ্গে বস্তুর সংযোগ’ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দেওয়া। তাত্ত্বিক আলোচনা যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।  পরিবর্তি কোন লেখায় আরও বিস্তারিত তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে।  হাইপারলিংক দিয়ে প্রাসঙ্গিক সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

 

উৎস: ক্রসবার-ইন্ক ডট কম

উৎস: ক্রসবার-ইন্ক ডট কম

 

*আইওটি নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথম প্রবন্ধ: বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর

 

 

 


নতুন বিষয় নিয়ে লেখা আরও কয়েকটি প্রবন্ধ:

ব্লু চিপ কী: ব্লু চিপ কোম্পানিগুলো কেন এত নির্ভরযোগ্য?

◀ নীলসমুদ্র/ লালসমুদ্র কী? কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে লাভবান হওয়া যায়?

গীতিকার শফিকুল ইসলাম কোহিনূরের ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’

পাঠক প্রতিক্রিয়া: সফিকুল ইসলাম কোহিনূরের ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’

444
জীবনের প্রধান অংশটি অতিক্রম করে একজন ‘সংসার পরিব্রাজক’ ব্লগে এসে নিজেকে প্রকাশ করতে শুরু করলেন। রাজনীতি, ব্যবসায় এবং সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানোর পর তিনি দেখলেন একটি বিষয়ে খুঁজ নেওয়ার খুবই দরকার। এজন্য তিনি আগেই প্রকাশে মনযোগ দিলেন – প্রকাশের চাপে অনুসন্ধান বেড়ে গেলো। গানকে তিনি বেছে নিলেন তার আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে। জীবন, সংসার, জীবনের গন্তব্য এবং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের সৃষ্টি নিয়ে তিনি প্রকাশ করতে লাগলেন তার অনুভবগুলো। লেখতে লেখতে যেমন লেখকের পর্যবেক্ষণ ক্রমান্বয়ে ক্রমান্বয়ে শানিত হয়, তেমনভাবে তার অনুভবগুলো ক্রমেই ধারালো হতে থাকলো। ‘খোঁজার বিষয়টি’ নিয়েই তিনি খোঁজ শুরু করলেন। রচিত হতে থাকলো গান, একের পর এক। এক সময় ‘কী খুঁজবেন’ তা তিনি খুঁজে পেয়ে বলে ওঠলেন, কে বুঝিতে পারে দয়াল! “কোন্ পাথরে নুরি আছে, কে যে বুঝতে পারে/ মালিক নিজেই লুকাইয়া রয়, পাথরের ভিতরে (১)।” এর চেয়ে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া আর কী হতে পারে! আসল সত্য যে কার নাগালে আছে, তা কে জানে?
.
যা হোক, জীবনের রহস্য অনুসন্ধানকারী সেই ব্যক্তিটি হলেন, সফিকুল ইসলাম কোহিনূর। ব্লগে তিনি ‘মেজদা’ নামে পরিচিত। তার প্রথম গ্রন্থ ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ কে আমি মেজদা’র আত্মউপলব্ধির প্রথম খণ্ড বলতে চাই।  দেখি তার আত্মউপলব্ধি থেকে আমাদের কি পাওয়ার আছে।
.
সম্প্রতি দেশের এক খ্যাতিমান পর্বতারোহীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতটিতে আরোহন নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে, কারণ তার উপলব্ধিগুলো অসংলগ্ন এবং প্রতিটি পর্বের পর্যাপ্ত বিবরণ তিনি দেন নি। তাই গীতিকার কোহিনূর কী খুঁজে পেলেন, সে বিষয়ে পরে আসছি। খোঁজাখুঁজির এই দার্শনিক ভ্রমণে কোথায় কী উপলব্ধি তার হলো, সেটিই আমার কৌতূহলের বিষয়।
.
জ্ঞান-বিজ্ঞান আর পুস্তক থেকে
কে শেখাবে তোমাকে
মহাজ্ঞানী বসে আছে
তোমার এই বুকে।
(২)
.
সৃষ্টির রহস্য কি জগতের জ্ঞানীদের কাছে আছে? এ এক বিরাট প্রশ্ন। বিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করা। জীবনের রহস্য কি তারা জানেন? খোদ অনুসন্ধান যন্ত্রটি নিয়েই সনাতন সৃষ্টি-সন্ধানীদের একটি প্রশ্ন আছে। যা থাকে ভেতরে, তাকে বাইরে কি পাওয়া যায়? প্রচলিত একটি তত্ত্ব হলো এরকম, ঈশ্বর তথাকথিত জ্ঞানীদের দৃষ্টি থেকে তার সৃষ্টির রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন। তিনি তার রূপের রহস্য প্রকাশ করেছেন অর্বাচিন রাখাল বালকের কাছে।.

গীতিকার কোহিনূর বলেছেন, ‘দিলের ভেতর দয়ালের বই’। আমরা যেন সেই বইয়ের পাতা ওল্টাই। অন্য একটি গানে তিনি প্রায় একই কথা বলেছেন: “আমার মন মণ্ডপে যার বসবাস/ সে তো আমার মনতরী” (৩)।

.

ঈশ্বর যদি দেখা দিতো
চিনিতে পারিতাম
আমার রূপে রূপ মিশাইয়া
মিলাইয়া দেখিতাম।
(৪)

.

সৃষ্টির রহস্যে লুকিয়ে আছে ঈশ্বর রহস্য। এটি নিজের চেষ্টায় বা ধর্মকর্মে পুরোপুরি সিদ্ধ হয় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। এজন্য ধর্মকর্মের পাশাপাশি প্রয়োজন একটি নিরহংকার মন। ঈশ্বর প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন আত্মসংযম ও আত্মসমর্পন। ‘ঈশ্বর যদি দেখা দিতো চিনিতে পারিতাম’ বলে গীতিকার তা-ই বলতে চেয়েছেন। ঈশ্বর সমর্পিত হৃদয়ে দেখা দেন।

.

যেসব কথায় গীতিকারের উপলব্ধি আমার উপলব্ধিকে নাড়া দিয়েছে:

প্রায় সবগুলো গানই আত্মিক ভ্রমণের উপলব্ধিতে ভরা। প্রায় সব গানেই ঈশ্বরপ্রাপ্তির বাসনা। প্রেমের গানটিও গুরু বন্দনায় তিনি শেষ করেছেন। শেষ গানটিতেও তিনি গেয়েছেন, ‘জানিতে চাই গুরু তুমি ভালো আছো নি।’ কোহিনূরের মাতৃবন্দনায়ও সৃষ্টির গৌরব প্রকাশ পেয়েছে। আমার পছন্দের গানগুলো থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি দিচ্ছি। পাঠকের জন্য কিছু বাকি রাখলাম। সব দিচ্ছি না!

.

জীবন দর্শন ও দেহতত্ত্ব

•পৃথিবীতে ভরে আছে/কত জ্ঞানের বই/ ধর্ম-কর্ম সমাজতন্ত্র/ আসল বস্তু কই? [পৃ ২৪]
•আমি আছি তোমার পানে/ এক নিরিখে চেয়ে/ পূবের বেলা পশ্চিমে যায়/ দ্রুত বেগে ধেয়ে। [পৃ ৭৫]
•আমার ভেতর আমি কোনটুক/ তা তো জানি না/ দেহের ভেতর বাস করে যে/ সে কি আপন জনা? [৫৪]
•মন্দিরেতে নাই রে ঈশ্বর/ কে দেখেছে তারে/… [পৃ ৭৪]
•কী বলিবো দুঃখের কথা/ অন্তর জ্বালায় জ্বলি/ সুখের ঘরে বস করে/ মাওলাকে যায় ভুলি। [৮২]
•ঘরের ভেতর বসে রাজা/ কর্মে ব্যস্ত ছয়জন প্রজা/ আঠারো মোকামে তারা/ আদান-প্রদান করে রে। [৪০]
•দেহের মালিক বানায় মোরে/ ভেতরে দিলো মন/ মনের ভিতর বাস করিয়া/ থাকে সে গোপন। [৫৪]

.

মানবতাবাদি কথাগুলো:

•এমন সুন্দর ধরায় দেখি/ রক্তারক্তির খেলা/ মানুষ হয়ে মানুষ মারছে/ রক্তে ভাষায় ভেলা। [পৃ ৫৫]
•আমি তো ভেবে পাই না/ মানুষ কেন শ্রেষ্ঠ/ মানুষ দেখি পশুর অধম/ পশু নয় নিকৃষ্ট। [পৃ ৫৫]
•মানুষে মানুষে পিরিত/ করতো জোড়া জোড়া/ সকল জাতি মিলে করতো/ হিংসা বিদ্বেষ তাড়া। [পৃ ৯৮]
•বনের যত পশু পাখি/ তাদের মধ্যে একই দেখি/ সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে/ মা’ই বাঘের খাদ্য হয়। [পৃ ৮৩]

.

আমরা যারা সফলতার লক্ষ্য নিয়ে উল্টো পথে হাঁটি, তারা পঞ্চাশ-ষাট অতিক্রম করার পর কেবল বুঝতে শুরু করি যে, আসল বিষয়টি অধরাই থেকে গেছে। ‘আসল বিষয়টি’ খুঁজতে গিয়ে গীতিকার কী খুঁজে পেলেন, তারই অনুসন্ধান করেছি আমি তার একশ ছ’টি গানে। গানগুলো সত্যিই সুখপাঠ্য। আরেকটি কথা, আমি দেখেছি, ব্লগের পড়ার চেয়ে বইয়ের পড়া অনেক মনযোগ আকর্ষণ করে এবং আরও বেশি অনুভব সৃষ্টি করে। অর্থাৎ বই এখনও ভারচুয়াল জ্ঞানের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠতে পারে নি!

.

সমালোচনা:

গীতিকার যতটুকু গভীরতায় জীবনকে উপলব্ধি করেছেন, সমালোচনা করার জন্য পর্যাপ্ত গভীরতায় যেতে পারি নি। তবে সাহিত্য হিসেবে শুধু এটুকু বলা যায়, ছন্দ এবং ভাষাগত বিষয়ে কিছু বিচ্যুতি আছে। বানান এবং সাধু-চলিত মিশ্রণের দোষও আছে। কিন্তু এগুলো আমি গণনা করার মতো মনে করছি না। গানে প্রাণ দেবার জন্য ভাষা ও ছন্দে অনেক প্রখ্যাত গীতিকার তাদের লেখায় কিছু বিচ্যুতি এবং কিছু ব্যতিক্রম করেছেন। সেই বিচারে গীতিকার কোহিনূরের গানগুলোও বেশ আরামসে উতড়ে যায়। সমালোচনা শেষ!

.

ব্লগে প্রকাশিত লেখাগুলো সাধারণত অন্য একজন ব্লগারই পড়ে থাকেন। ব্লগার হিসেবে নিবন্ধিত নন এরকম পাঠক অবশ্যই আছেন, তবে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ব্লগার পড়েন অন্য ব্লগারের লেখা। লেখার বিষয় বা তাৎপর্য যা-ই হোক আমরা একে বলি, ব্লগ পোস্ট। পড়ার পর কেউ মন্তব্য দেন, কেউ দেন না। অনেকেই মন্তব্য দেন, বিনিময়ে আরেকটি মন্তব্য পাবার জন্য। বিনিময় পাঠক – মানে পড়ার বিনিময়ে পড়া। ‘আপনার লেখা আমি পড়ে দেবো, বিনিময়ে আপনি আমার লেখা পড়ে দেবেন। এখানে বিনিময়ের বিষয়টি হলো মন্তব্য। মন্তব্যে মন্তব্য আনে, যেমন টাকায় টাকা আনে। শুনতে ‘শ্রোতিকটু’ হলেও বাস্তবের সমীকরণটি এরকমই। পাঁচ বছরের পুরাতন ব্লগার, যতই ভালো লিখুন, তিনি অনিয়মিত। তিনি মন্তব্য পাবেন দু’টো! বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে অথবা লেখার তাৎপর্যে আকৃষ্ট হয়ে পড়তে এসেছেন, ব্লগে এরকম পাঠক খুবই কম। পুরো সমাজেই পাঠক কম, ব্লগের পাঠক আসবে কোত্থেকে! ওই রকমের পড়াকে ‘সামাজিক পড়া’ বলা যায়।

.

উপলব্ধির সমান্তরালে না গেলে লেখার মর্ম বুঝা যায় না। ‘সামাজিক’ পড়ায় পাঠক কিছুই উদ্ধার করতে পারেন না। ব্লগার যদি ভালো লেখক হতে চান, তবে ভালো পাঠক তাকে হতেই হবে। ‘সামাজিক পড়া’ যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, তাতে আমার সমর্থন নেই। পড়ার জন্য এবং নিজের আনন্দের জন্য যেসব পাঠক ব্লগ পড়েন, তারা মেজদা’র লেখায় শুধুই আনন্দ পাবেন না, জীবনের সত্যও খুঁজে পাবেন।

.

উপসংহারের কথা:

প্রচলিত শব্দাবলী দিয়ে লেখেন বলে মেজদা’র গানগুলো দেখতে সাদামাটা মনে হলেও পড়তে গেলে তা কখনও হালকা মনে হয় নি। বরং মনে হয়েছে, এতে গভীরে তিনি কীভাবে গেলেন! তার অধিকাংশ গানের রচনার সময়টি হলো রাত দু’টা অথবা তিনটা, এমনকি রাত চারটাও! গীতিকার কোহিনূর তার বইয়ের ভূমিকায় কয়েকটি গানের উল্লেখ করেছেন, যা তার দৃষ্টিতে বিশিষ্ট। কিন্তু বিষয়ের গভীরতায় আমি দেখেছি তার প্রতিটি গান আলাদাভাবে বিশিষ্ট। প্রতিটি গান নিয়ে একেকটি প্রবন্ধ লেখা যায়। কিন্তু নিজেকে সংবরণ করেছি – লেখেও আবার কেটে দিয়েছি। ব্লগের পাঠকের বিষয়টি বিবেচনা করে এবং প্রথম প্রকাশিত বইটির প্রসারের বিষয়টি মনে রেখে আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করেছি। ব্লগ পোস্টের মত করেই লেখেছি। ভবিষ্যতে কোন প্রিন্ট প্রকাশনায় আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে।

.

ব্লগারদের প্রকাশিত বইগুলো নিয়ে ‘পাঠক প্রতিক্রিয়া’ চলতে থাকবে। এরপর আসছে আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলামের ‘স্বপ্নবাসর’ যা নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ব্লগের প্রাজ্ঞ লেখক জমির হায়দার বাবলা পূর্বেই ‘স্বপ্নবাসর’ নিয়ে একটি চমৎকার লেখা উপহার দিয়েছেন। একই বিষয়ে ছড়াকার শহিদুল ইসলাম প্রামানিকও অসাধারণ একটি ছড়া দিয়েছেন। তাই ‘স্বপ্নবাসর’ দ্বিতীয়তে রাখলাম। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম… পর্বের বিষয়গুলো ক্রমান্বয়ে জানানো হবে।

 

 

—————-
(১) গানের শিরোনাম: কে বুঝিতে পারে দয়াল। পৃষ্ঠা ৭।
(২) গানের শিরোনাম: জ্ঞান-বিজ্ঞান আর পুস্তক থেকে। পৃষ্ঠা ২৪।
তার গানের কথাগুলো পড়ে ব্লগেও আমি চমকে ওঠতাম, কিন্তু মন্তব্য দেবার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।
(৩) গানের শিরোনাম: আমার মন মণ্ডপে যার বসবাস। পৃষ্ঠা ২৫।
(৪) গানের শিরোনাম: মন্দিরেতে নাইরে ঈশ্বর। পৃষ্ঠা ৭৪।

 

—————-

 

.

.

.

প্রথম আলো ব্লগে প্রাপ্ত মন্তব্য ============================================

৫৬ টি মন্তব্য

anindyaantarঅনিন্দ্য অন্তর অপু০৬ জুন ২০১৪, ২১:৪৫

অসাধারণ একটা পোস্ট প্রিয় মইনুল ভাই । লেখাগুলোর ভেতরে গিয়ে এর নির্যাস উপলব্ধি করে যেন ছড়িয়ে দিতে চাইছেন পাঠক অন্তরে ।শুভ কামনা নিরন্তরউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০১

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মুছে ফেলুন
pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক০৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৩

উপলব্ধির সমান্তরালে না গেলে লেখার মর্ম বুঝা যায় না। ‘সামাজিক’ পড়ায় পাঠক কিছুই উদ্ধার করতে পারেন না। চমৎকার সমালোচনামূলক বই আলোচনা। মইনুল ভাই যে এত ভাল সমালোচক এই আলোচনাটি না পড়লে বুঝতে পার‍তাম না। বই আলোচনা খুবই ভাল লাগল। ধন্যবাদ মইনুল ভাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল সেই সাথে কোহিনুর ভাইকেও।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০২

প্রিয় ছড়াকার প্রামানিক ভাই, দরাজ দিলের প্রশংসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা মুছে ফেলুন
Rabbaniরব্বানী চৌধুরী০৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৪

লেখক ও সাধক কবি আমাদের সকলের প্রিয় মেজদা / কহিনূর ভাইকে আমাদের প্রাণ ঢালা অভিনন্দন।পরে আলোচনায় আসব একে বারে রোববার। ভালো থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৩

উপস্থিতির জন্য অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২২:০৫

“কোন্ পাথরে নুরি আছে, কে যে বুঝতে পারে/ মালিক নিজেই লুকাইয়া রয়, পাথরের ভিতরে ,মেজদার ভাবপ্রকাশ সহজ কিন্তু সুগভীর।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৪

মেজদা’র সরল ভাষা তার গড়ল তত্ত্বের পোশাক কৃতজ্ঞতা জানবেন, মুরুব্বি মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৮

“মেজদা’র সরল ভাষা তার গড়ল তত্ত্বের পোশাক “মা রে মা মাইর দিছে আমারে!মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১২

হ্যাঁ বড়াইছাব, কথা কিন্তু ঠিকই কইছি।
সহজ ভাষা মনে করে পড়তে যাবেন, ভেতরে গিয়ে পড়বেন ফ্যাসাদে…
অতএব সাবধান… মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১৩

জবর চালু মানুষ!জি সত্য বলেছেন।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১৬

জবর চালু মানে!… সংসার পরিব্রাজক!আপনি তো আমার চাইতে আরও ভালো চেনেন, জনাব!মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১৭

না গো ভাই না। এক্কেবারে নাদান মানুষ।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:২২

আব্দুলহাক ভাইয়ের বিনয়, ব্লগের সবাই জানেন।আপনি অনেক জানেন, কিন্তু তবু অন্যকে জিজ্ঞেস করায় আপনার জুড়ি নেই।
অন্যের মুখে নিজের কথা শুনায় আপনার তৃপ্তি মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৭ জুন ২০১৪, ০০:৫০

আপনারে ভাই ডাকি আর লজ্জা দিলেন। (অপমান বলতে চাই না)আমার চেয়ারে বসলে আপনিও দুই হাত তুলে বলবেন, ভাইগো আমি কোনতা জানি না।
আমার দৌড় তো অভিধান পযর্ন্ত। আমি সত্যি জানি না। তবে জানতে সময় লাগে না। এই জন্য অনেকে মনে করে আমি অনেক কিছু জানি।
আমার মন আরশের দরজায় ঠুকে বলে, মাবুদ ভিক্ষা দাও।
আমি ভিক্ষা পাই। প্রয়োজন হলে নফল নামাজ পড়ে সিজদায় কেঁদে বলি, মাবুদ জ্ঞান দাও।(আজ সিকরেট বলেদিলাম। দয়াকরে আর কখন এমন করে লজ্জা দেবেন্না। আমি সত্যি জানি না। আপনাদের পাশে বসতে বললে আমি সত্যি মাটিতে বসব। কারণ আমি চেয়ারে যোগ্য নয়। মজা করছি না)মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩১

বড়াইছাব, আপনার কথায় আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেলো।
আমরা সবাই মানুষ… ‘রেল লাইন বহে সমান্তরাল’
সবাই এক জায়গায় এসে মিশে যাবো।
যে যা-ই হই না কেন, যেখানেই ঘুমাই না কেন, মাটির ঘর হবে গন্তব্য…এখানে আর কোন বিষয় না থাকুক সালাম ও শুভেচ্ছা জানবেন, মুরুব্বি মুছে ফেলুন
neelsadhuনীল সাধু০৬ জুন ২০১৪, ২২:১১

অসাধারণ –
পোষ্ট ভালো লেগেছে।
আমি মেজদার বইটি পড়েছি। আমার কাছেও বেশ মুল্যবান মনে হয়েছে।
খুব হেসে খেলেই মেজদা এই ব্লগেই সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য গান যা আমাদের ভাবনার আকাশকে করবে বিস্তৃত অসীম। যা খুব সহজে বলা হলে অর্থের দিক দিয়ে বেশ গভীর বানী সমৃদ্ধস্যালুট ভ্রাতা মাঈউনদ্দিন ভাইকে উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৬

মেজদার গীতিকার হয়ে ওঠার পথ পরিক্রমাটি পাঠক হিসেবে সহজই মনে হয়।
বাস্তবে হয়তো তত সহজ ছিলো না।
এর ভেতরে আরও তত্ত্ব আছে হয়তো, যা ভবা পাগলায় বাকিটা বলতে পারবেন অনেক ধন্যবাদ নীলসাধু ভাই মুছে ফেলুন
neelsadhuনীল সাধু০৬ জুন ২০১৪, ২৩:২৫

হুম তিনি ভাবের সাগরে ডুব দিতে পেরেছেন বলেই এমন সব অনুভবের কথা লিখতে পেরেছেন অবলীলায়।
ভাব ছাড়া কেমনে কিমুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৫

//ভাব ছাড়া কেমনে কি// কথা কিন্তু ঠিক। ভাব না থাকলে ভাষা দিয়া কি তরকারি খামু
অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস হলো, ভাব আসে না
মাথায় হাতুড়ি পেটালেও হয় তো আসবে না! ভাবের কাঙ্গাল… অনেকেই পেয়ে কাঙ্গাল
আমি না পেয়ে কাঙ্গাল দোয়া খায়ের করবেন… মুছে ফেলুন
PulakBiswas67পুলক বিশ্বাস০৬ জুন ২০১৪, ২২:৩৫

কোহিনূর ভাইয়ের গানের কথা বেশ সুন্দর ভাব ও বিশ্লেষণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন মইনুল ভাই। যা আমাদের মতো অবোধকে বুঝতে সাহায্য করবে।নিরন্তর ভালোবাসা জানবেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৭

কৃতজ্ঞতা জানবেন, কবি পুলক বিশ্বাস মুছে ফেলুন
MainulAminমাইনুল আমিন০৬ জুন ২০১৪, ২২:৪৪

আজ অনেকদিন পরেই প্রিয় আলোব্লগ আর প্রাণের মানুষগুলোর জন্যে প্রাণ কেদে উঠলো হঠাৎ করে | মাঝে মধ্যে আস্তে চাইলেও ব্যস্ততার কারণে লগ ইন করা হয় না কোনমতে | আজ একদিকে আমার ভাবগুরু মেজদার প্রথম গানের বই অন্যদিকে আমার প্রিয় মিতা মইনউদ্দিন মইনুল’ এর জ্ঞানগর্ব গভীর বিশ্লেষণাত্মক সমালোচনার শৈল্পিক ব্যঞ্জনা ! মনকে আর দূরে ধরে রাখতে পারলাম না |পুরো সমালোচনাটি পড়েছি গভীরে ডুব দিয়ে | অসাধারণ এক শব্দের মায়াজাল বুনেছেন প্রিয় গীতিকার এবং নান্দনিক শব্দের মেস্তুরি কবি ও অনুবাদক, এবং গবেষক মাইনউদ্দিন মইনুল ভাই |
সাবাস প্রিয় গীতিকার ! সাবাস শব্দ কারিগর ! ……………….।দুজনকেই অধমের সালাম |আশা করি সামনের মেলায় আসলে বইটি কিনবো | ভালো থাকুন মেজদা, ভালো থাকুন প্রিয় মিতা মইনুল ভাই |
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১০

প্রিয় মিতা কবি মাইনুল আমিন ভাই, আপনার ছায়াটি কোথায় দেখে যেন শুভেচ্ছা দিয়ে এসেছি। আমার লেখায় আপনাকে পাওয়া মানে তো বিশাল কিছু পাওয়া।
আপনার উদার হৃদয়ের প্রশংসা সবসময়ই আমার প্রেরণা ছিলো। আজও তাই।শব্দের কারিগর বললে কিন্তু একজনের নাম প্রথমে আসে, সে হলেন আপনি।
সময় পেলে বলবো আরও বলবো কোনদিন।অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানবেন, মিতা।
সময় নিয়ে নিয়মিত হোন মুছে ফেলুন
MirHamidহামি্দ০৬ জুন ২০১৪, ২৩:২৮

তার প্রথম গ্রন্থ ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ কে আমি মেজদা’র আত্মউপলব্ধির প্রথম খণ্ড বলতে চাই। আমি যতটুকু পড়েছি তাতে আমি আপনার এমূলায়নের সাথে একমত। মইনুল ভাই এবং মেজদার জন্য শুভেচ্ছা রইল………..উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৫

জি… দ্বিতীয় খণ্ডের অপেক্ষায় আছি, হামিদ ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন
AhmedRabbaniআহমেদ রব্বানী০৭ জুন ২০১৪, ০০:০০

চমৎকার একটি গানের বই ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’।ধন্যবাদ প্রিয় মইনুল ভাইকে বইটির সমালোচনা লেখার জন্য।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৬

ধন্যবাদ জানবেন, কবি ও গীতিকার আহমেদ রব্বানী ভাই মুছে ফেলুন
diponkar07দীপংকর চন্দ০৭ জুন ২০১৪, ০০:৩৭

আপনার অসাধারণ বিশ্লেষণ একজন পাঠককে বইটি পাঠে উৎসাহিত করবে অনিবার্যভাবে।
আপনার অনেক লেখা আমার পড়া হয়নি। আশাকরি পড়ে ফেলবো সময় করে। পড়ার আগেই অনুচিত হলেও যে কথাটা সাহস করে বলে ফেলতে ইচ্ছে করছে, অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়তো যুক্ত হবে আমার স্বল্প অভিজ্ঞতার ঝুলিতে।শুভকামনা অনিঃশেষ জানবেন। সবসময়।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

প্রেরণা পেলাম
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, দীপংকর চন্দ … মুছে ফেলুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

Mzarin31আরজু মুন জারিন০৭ জুন ২০১৪, ০২:৩৬

মেজদাকে অভিনন্দন বইয়ের প্রকাশনায় আর মইনুল ভাইকে ধন্যবাদ পোস্ট টির জন্য। শুভেচ্ছা জানবেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

আরজু মুন জারিন আপা, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ…
ভালো থাকুন প্রবাসে মুছে ফেলুন
missildhakaভোরের মিছিল০৭ জুন ২০১৪, ০২:৫৪

সালাম জানবেন ভাই ,আপনি অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন ।আপনার সব লেখা গুলো দারুন গুছানো ।এই পোস্তটিও খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন ।
মেজদা ভাই অনেক সুন্দর লিখেন তার কিছু লেখা আমি পড়েছি ,খুবি ভাল লেখেন
আপানাদের দুজন কে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৮

ধন্যবাদ।আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা, ভোরের মিছিল
ভালো থাকবেন…মুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০৭ জুন ২০১৪, ০৭:১৫

বই হিসাবে মেজদার “কে বুঝিতে পারে দয়াল’ পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে বইটির কিছু সংগীত পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে, যা মেজদা নিজেই ব্লগে পোস্ট দিয়েছিলেন। এক কথায় সত্যিই অনবদ্য। মইনুল ভাইয়ের পর্যবেক্ষণের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। পুরো বইটি পড়তে পারলে মিলিয়ে দেখতে পারতাম। আশা করি, আগামীতে পড়তে পারবো।চমৎকার বই আলোচনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, মইনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪২

‘দাদাজানের কথায় আস্থা রেখেই তার কথা না শুনে ঘুমিয়ে পড়লাম।’
-ব্যাপারটা এরকম না তো? মজার মানুষের সাথে মজা না করে থাকতে পারি না। চুলকায় আরকি অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আবুহেনা ভাই
হৃদযন্ত্রের যত্ন নেবেন কিন্তুমুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০৮ জুন ২০১৪, ২১:০৯

আরে না মইনুল ভাই! আমার সাথে রসিকতা করবেন না তো কার সাথে করবেন? তেতাল্লিশ বছর ধরে আমি তো রং তামাশার মধ্যেই বেঁচে আছি ভাই। তা’ না হলে কবেই ফুটুস হয়ে যেতাম। তারপরেও তো একবার স্ট্রোক (২০০৬ সালে) আর একবার হার্ট এ্যাটাক (কয়েকদিন আগে) হয়ে বেঁচে গেলাম। আপনাদের সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা আমাকে মরতে দিচ্ছে না ভাই।আমার শরীরের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, মইনুল ভাই।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
kamaluddinকামাল উদ্দিন০৭ জুন ২০১৪, ০৮:৩৯

আপানাদের এমন বিশ্লেষনী লিখা পড়লে নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে হয়, আমি আসলে কোন জ্ঞানই রাখি না।মেজদা ও মইনুল ভাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছাউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৬

ভাইজান, এভাবে বলে লজ্জা না দিলেই কি নয়?
একেক মানুষ একেক দায়িত্ব/গুণ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন।
একই কথা আপনার পোস্ট নিয়েও কিন্তু বলা যায়। তখন তো আমার স্থানই হবে না অনেক ধন্যবাদ, কামাল ভাই
ভালো থাকবেন… মুছে ফেলুন
Ami123আমি..০৭ জুন ২০১৪, ১১:২১

সঞ্চালক ভাই,সালাম, আমি “আমি মেজদা” নাম নিয়ে লেখা লেখি করতে চাই। এটার সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রথম আলো ব্লগে আমি নতুন। শুরুতেই এরকম একটি ধাক্কা খেয়ে আমি হতাশ। -আমি কালপুরুষ- যদি কালপুরুষ নামের সাথে লেখালেখি করতে পারে তবে আমি নই কেণ? এখানে সকলের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রথম আলো মুক্ত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আপনি আমার পূর্বের নামটি ফিরিয়ে দিন। এটা ব্লগারদের প্রতি জুলুম। আমার নাম ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত আমি আন্দোলন চালিয়ে যাব। ইশ্বর আমার সাথে আছেন।আমি মেজদাউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা০৭ জুন ২০১৪, ১৫:৫১

প্রচলিত শব্দাবলী দিয়ে লেখেন বলে মেজদা’র গানগুলো দেখতে সাদামাটা মনে হলেও পড়তে গেলে তা কখনও হালকা মনে হয় নি। বরং মনে হয়েছে, এতে গভীরে তিনি কীভাবে গেলেন!–প্রিয় মইনুল ভাই যথার্থ লিখেছেন। আমরা বাইরে থেকে সবাই কমবেশী সুখী মানুষ। কিন্তু সে মানুষটির ভেতরে আরেকটি অতৃপ্ত মানুষ বাস করে যে কখনো তৃপ্ত হয় না। তাঁর কাছে বাইরের পৃথিবীর চেয়ে ভেতরের জগতের মর্ম অনেক বেশী । তাই তো ভাব সাগরে ডুব দিয়ে অসীমের খোজ করতে থাকেন। তারা জানেন এ অসীমের ভাব সাগরের কেন তল নেই আবার সেই অতলেরও কোন তল নেই। সে অতল দরিয়ায় ডুব সাতার দিয়েছেন আমাদের মেঝদা। মাঝে মাঝে ভাব সাগরের ছোয়া আমরা পেয়ে ধন্য হয়। মেঝদা সবচেয়ে বড়গুন তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রতে ভাবের জগতের ছায়া দেখেন । যা সত্যি আমাকে বিস্মিত করে।
মইনুল ভাই অসাধারণ লিখেছেন।দুজনকেই শ্রদ্ধা জানাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৮

//সে অতল দরিয়ায় ডুব সাঁতার দিয়েছেন আমাদের মেঝদা। মাঝে মাঝে ভাব সাগরের ছোঁয়া আমরা পেয়ে ধন্য হই। মেঝদা সবচেয়ে বড়গুন তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রতে ভাবের জগতের ছায়া দেখেন। যা সত্যি আমাকে বিস্মিত করে। // আমাকেও বিস্মিত করেছে। ছাপার বইয়ে তার গানগুলো অন্য আবহ তৈরি করে।অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা, বাবলা ভাই মুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০৭ জুন ২০১৪, ২১:২২

মেজদা একজন ব্যতিক্রমী গীতিকার। তাঁর লেখা গানগুলো ভালো শিল্পীরা গাইলে অবশ্যই তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত গীতিকারের মর্যাদা পেতেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৯

//তাঁর লেখা গানগুলো ভালো শিল্পীরা গাইলে অবশ্যই তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত গীতিকারের মর্যাদা পেতেন।//-আমিও সেরকম ধারণা করি, আবুহেনা ভাই
অল্প কথায় যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন।রসিক গল্পকারের জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন
jadobযাদব সূত্রধর০৮ জুন ২০১৪, ১০:৫৯

শরীর ভাল নেই। তাই ব্লগে নিয়মিত আসা হয়না। মেজদাকে নিয়ে পোস্ট দেখে আর না এসে পারলাম না।বইটা পড়া হয়নি। তবে ব্লগ ও ফেইসবুকে বেশ পড়েছি। অনেক ভাল গান লিখেন মেজদা।অসুস্থতা থাকার কারনে একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী অর্ধেক লিখে ফেলে রেখেছি। এই চলচ্চিত্র লিখতে গিয়ে মেজদার কয়েক্টা গানের লাইন আমার চোখে ভেসে উঠলো। মনে মনে মেজদার গান নিয়ে ভাবছি। নিসচই মেজদার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তিনির গান আমার ফিল্মে
নেব।মেজদাকে শুভেচ্ছা।
সুন্দর লেখার জন্য মাইনুল ভাইকে ধন্যবাদ.উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৫১

অসুস্থ অবস্থায়ও লেখা পড়ে মন্তব্য দেওয়ায় বিশেষভাবে সম্মানীত বোধ করছি, প্রিয় যাদব সুত্রধর দয়া করে সুচিকিৎকার ব্যবস্থা নিন।
আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
দোয়া করি সুস্থ হয়ে চলচ্চিত্র কাজটুকু শেষ করুন…অনেক শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন
Rabbaniরব্বানী চৌধুরী০৮ জুন ২০১৪, ১৪:৫৬

এই পোষ্টের উর মন্তব্য করার আমার কিছু নেই বরং শুধু আবাক হয়েছি মারাত্মক ভাবে এই কারণে যে, একটি পার্থক্য বের হয়ে আসাতে। একই সময়ে সফিকুল ইসলাম কোহিনূর ভাইয়ের ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ বইটি হাতে পেয়েছিলাম কিন্তু আপনার মত গভীর দৃষ্টি কোন দিয়ে দেখা হয় নি। আপনি দেখেছেন সঠিক ভাবে বিশ্লষন করতে পেরেছেন।আপনার ও মেজদার পরিশ্রম আমাদের সামনে চলার পথ দেখায়।অনেক অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৫২

অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই আপনার মন্তব্য সবসময় আমার লেখার গভীরতাকে তুলে ধরে।
এটি আমার জন্য বিরাট উপহার।অনেক কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা রইলৈা…মুছে ফেলুন
lnjesminলুৎফুন নাহার জেসমিন০৮ জুন ২০১৪, ২১:১০

আরও একটি দারুণ উদ্যোগ । তার জন্য জানাই সাধুবাদ মেজদার অনেক লেখা পড়েছি । সহজ ভাষায় গভীর ভাবের লেখা । কিছু কিছু লেখা বুঝতে পেরে থমকে গিয়েছি , কিছু পড়ে আনন্দ পেয়েছি । আবার কিছু কিছু বুঝিও নি । নীরবে বের হয়ে এসেছি ।
মানুষটা এভাবেই তার সৃষ্টি বাড়াতে থাকুক । আহারে আমিও যদি একটা বই বের করতে পারতাম
বাকিগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৯ জুন ২০১৪, ২২:২০

সবার আগে আপনাকেই বই বের করতে হতো…
আপনার পরে যারা লিখতে শুরু করেছেন, তারা কিন্তু বই বের করেছেন।এতটা দেরি করা আপনার উচিত হয় নি আপনার ভ্রমণ পোস্টগুলো নিয়ে বেশ চমৎকার একটি বই হতে পারে।
লিখুন, আমি রিভিউ লিখে দেবো ক্ষণ শুভেচ্ছা, গিসেন আপার জন্য মুছে ফেলুন
ayesha1960আয়েশা আহমদ০৮ জুন ২০১৪, ২২:০৫

মেজদার গানের বই নিয়ে মইনুলভাইয়ের চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী লেখা পড়ে মুগ্ধ হলাম ।
দুজনের জন্যেই রইলো শুভকামনা —উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৯ জুন ২০১৪, ২২:২১

আয়েশা আপা, আপনার মন্তব্য পেয়ে বেশ ভালো লাগলো শুভেচ্ছা জানবেন, হে সু্বচন কবি …. মুছে ফেলুন
Shimi12ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী)০৯ জুন ২০১৪, ০৯:১৮

প্রথমেই সফিকুল ইসলাম কোহিনূর ভাই উরফে মেজদাকে এবং উনার ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ এই প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটির জন্য রইলো আমার আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা আর শুভকামনা। মেজদার এই বইটি আমার সংগ্রহে থাকবে ইন শা আল্লাহ! যদিও এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ গ্রন্থটির চমৎকার মূল্যায়ন করেছেন মইনুল ভাই, পড়ে সত্যিই মুগ্ধ হলাম। চমৎকার সমালোচনামূলক অপর এই বই আলোচনা পোষ্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম। আপনাদের দুইজনার জন্যই ফুলেল শুভেচ্ছা রেখে গেলাম।
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৯ জুন ২০১৪, ২২:২৩

ফেরদৌসী আপা, আপনার আন্তরিক মন্তব্য বিগলিত হয়ে আমি অভ্যস্ত হয়ে আছি। তাই থামাবেন না পিলিস তারপর, কবিতা কই? অনেক দিন কিন্তু আপনার কবিতা পাচ্ছি না… অনেক শুভেচ্ছা….

 

 

বাংলার সাথে ইংরেজি ভাষার সখ্যতা: একটি অনুসন্ধানভিত্তিক লেখা

Ban-Eng_Analogy

আমরা জানি বাংলা শব্দভাণ্ডারে আছে অনেক দেশের ভাষা। কিন্তু ইংরেজির ভাণ্ডারে যে অনেক বাংলা শব্দ রয়েছে, এটি দেখানোই এই লেখার উদ্দেশ্য। অবশ্য ইংরেজি প্রথমত একটি পশ্চিম-জার্মানি ভাষা, দ্বিতীয়ত এটি একটি শংকর ভাষা। কারণ জার্মান, ল্যাটিন, গ্রিক এবং ফরাসি ভাষার মিশ্রণে গড়ে ওঠেছে আজকের ইংরেজি ভাষা। তবে এটি বলাই বাহুল্য যে, বাংলা, সংস্কৃত তথা উপমহাদেশীয় শব্দ ইংরেজিতে প্রবেশের সঙ্গে ইংরেজদের এদেশে বসবাসের যোগসূত্র আছে এবং থাকবে।

.

ক) বাংলা ও সংস্কৃত থেকে বের হওয়া ইংরেজি শব্দ

নিম্নোক্ত শব্দগুলোর উদ্ভাবনের কাল এবং ইংরেজদের এদেশে প্রবেশের কাল বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে, ব্রিটিশদের দু’শ বছরের মধ্যেই (১৭৫৭-১৯৪৭) শব্দগুলো ইংরেজিতে প্রবেশ করেছে।

Dacoit /ডাকইট//dəˈkɔɪt/ (দক্ষিণ এশিয়া) সশস্ত্র ডাকাতের দল।

বাংলা অর্থ: দস্যু, লুণ্ঠনকারী, বলপূর্বক অপসরণকারী

মূল: হিন্দি/বাংলা ‘ডাকাইত/ডাকাত’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮০০-১৮১০ খ্রিষ্টাব্দ

Jungle /জাংগল//ˈdʒʌŋɡ(ə)l/ অযত্নে বেড়ে ওঠে ঘণ বনাঞ্চল

বাংলা অর্থ: বন, অরণ্য, আগাছা, ঝোপছাড়

মূল: সংস্কৃত/বাংলা ‘জঙ্গল’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৭০-১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ

Jackal /জ্যাকল//ˈdʒakəl/  মৃত প্রাণীর মাংস খায় দীর্ঘ পা-যুক্ত এক প্রকার কুকুর, এরা একসাথে শিকার করে খায়

বাংলা অর্থ: শেয়াল, শৃগাল

মূল: সংস্কৃত ‘শৃগাল’ থেকে (তুর্কি: জ্যাকাল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৫৯৫-১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ

Loot /লুট//luːt/ শক্তি প্রয়োগ করে অন্যের জিনিস কেড়ে নেওয়া

বাংলা অর্থ: লুট করা, লুণ্ঠন করা। লুট, লুণ্ঠন।

মূল: সংস্কৃত/বাংলা ‘লুণ্ঠন’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৮০-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ

Jute /জুট//dʒuːt/ ঘানি, বস্তা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত শক্ত আঁশ

বাংলা অর্থ: পাট, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ।

মূল: বাংলা/সংস্কৃত ‘জুট/ঝুট’ থেকে (ঝুঁট/ঝুঁটি= বাঁধা চুল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৪০-১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ

Maya /মায়া/ /ˈmɑːjə/ ইন্দ্রজাল, যাদু, কুহক। দেবতাদের (ইন্দ্রজাল সৃষ্টির) শক্তি।

বাংলা অর্থ: ইন্দ্রজাল, কাপট্য, ছলনা। যাদুকর/দেবতার ক্ষমতা

মূল: সংস্কৃত ‘মায়া’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮১৫-১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দ

Nirvana /নিরবানা//nɪəˈvɑːnə/ দেহের রূপান্তরিত অবস্থা যেখানে কষ্ট নেই, কামনা নেই আত্মচেতনাও নেই – বৌদ্ধধর্মের সর্বশেষ গন্তব্য

বাংলা অর্থ: (বৌদ্ধধর্মে)নির্বাণ

মূল: সংস্কৃত ‘নির্বাণ’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮৩০-১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দ

Sandal  /স্যান্ডল/ /ˈsand(ə)l/  ১) চটি জুতা, ২) চন্দনকাঠ; ধূপের মতো ব্যবহার্য্য কাঠ।

বাংলা অর্থ: ১) চটি জুতা, ২) চন্দনকাঠ।

মূল: সংস্কৃত ‘চন্দনা’ থেকে, যার অর্থ চন্দনকাঠ। (মধ্যযুগীয় ইংরেজি, গ্রিক, ফরাসি, ল্যাটিন: স্যান্ডাল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৩৫০-১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ

Shampoo /শ্যামপু/ /ʃamˈpuː/  কেশসংস্কার

বাংলা অর্থ: মাথার চুল পরিষ্কার করার তরল সাবান

মূল: সংস্কৃত ‘শেপ্যতি’ থেকে (হিন্দি: শেঁপু। তামিল: শ্যাম্পু)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৫৫-১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ

Shawl /শোল//ʃɔːl/ মহিলাদের/শিশুদের ঘাড়ে বা মাথায় ব্যবহৃত কাপড়ের খণ্ড

বাংলা অর্থ: শাল; উল বা নরম কাপড়ের তৈরি চাদর

মূল: পার্সি/বাংলা ‘শাল’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৬৫৫-১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দ

Thug /থাগ//θʌɡ/ হিংস্র অপরাধী, খুনী, গুণ্ডা।

বাংলা অর্থ: ঠগ, খুনি, গুণ্ডা, প্রবঞ্চক, দস্যু।

মূল: বাংলা/মারাঠি ‘ঠগ/ঠগি’ থেকে (সংস্কৃত: স্থগ)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮০০-১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ


.

খ) বাংলার মতো শুনতে কিছু ইংরেজি শব্দ

 

বাংলার মতো শুনতে কিছু ইংরেজি শব্দ দেওয়া হলো। অর্থেও বাংলা সাথে রয়েছে মিল। এদের মূল খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে প্রাচ্য ও ইউরোপের ভাষার জন্মসূত্র এক জায়গায় গিয়ে মিশেছে। এখানে ইংরেজ শাসনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, কারণ এস্থলে ভাষার বন্ধন আরও অনেক নিচে, দূর অতীতে। নিচের শব্দগুলো কেবলই দৃষ্টান্ত:

.

  • Dexterity/দক্ষতা:  Dexter, ambidexterity
  • Matri/Maternal/মাতৃ/মাতা: matricide, maternal uncle, matrimony
  • Patri/Paternal/পিতৃ/পাতৃ/পিতা: patriarch, patricide, patrimony, paternal grandmother
  • Fraternity/ভ্রাতা/ভ্রাতৃ: fraternal, fraternal twins
  • Abandon/অবন্ধন/ত্যাগ: abandonment, non-abandonment
  • Abominable/বমি/ঘৃণ্য: abomination, abominably
  • Dominate/দমন/কর্তৃত্ব: dominating, domination, indomitable, domineer
  • Pedal/পদ/পা/: pedestrian, peddle, pedicure, podium, podiatrist
  • Dental/দন্ত/দাঁত: dentist, dentistry, dental surgery
  • Ignite/অগ্নি/প্রজ্জ্বলন: igneous, auto-ignition, ignition system
  • Vitiate/বিষিয়ে তোলা/নষ্ট করে ফেলা: Vitiation, vitiating factors
  • Affinity/আপনতা/সংশ্লিষ্টতা: affinity designer, affinity photo

.

বলা বাহুল্য, ব্যুৎপত্তির দিক থেকে ওপরের শব্দগুলোর সাথে বাংলা ভাষার তেমন কোন মিল নেই। শুধুই উচ্চারণগত সঙ্গতিটুকু তুলে ধরা হলো।

.

গ) বাংলা/হিন্দি/সংস্কৃত থেকে উদ্ভাবিত আরও কিছু ইংরেজি শব্দ

দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের বদৌলতে আমরা যেমন অনেক ইংরেজি পেয়েছি, তেমনি ব্রিটিশদেরকেও অনেক বাংলা/সংস্কৃত শব্দ শিখতে হয়েছে। ওরা যা বুঝেছে, তা-ই গ্রহণ করেছে ইংরেজি হিসেবে। বাংলা/হিন্দি/সংস্কৃত থেকে অনেক শব্দ আছে যা ইংরেজিতে ব্যবহৃত হয়। এদের অধিকাংশ এমএস অফিস অভিধানে যুক্ত আছে। ইংরেজি লেখায় ব্যবহার করলে দিব্বি চালিয়ে দেওয়া যায়, বানানের ভুল (বা নিচে লাল লাইন) দেখায় না:

.

১.  dharma, dhoti, guru, karma, mahout, raja, sherbet,

mantra, pundit, raga, ganja, bhang, basmati, raj, kismet,

cheetah,  sutra, swami, yoga, nirvana, Himalaya etc.

২. Ayurveda, devi, deva, lathi, shadhu, sanga,

sambhar, bahubrihi, nilgai etc.

 

 

১নম্বর তালিকার শব্দগুলো ইংরেজি রচনায় ব্যবহার করলে ব্যাকরণ/বানানগত ভুল প্রদর্শন করে না। এমএসওয়ার্ডে লেখলে নিচে লাল লাইনও আসে না। ২নম্বর অন্যগুলোকে যেকোন ইংরেজি অভিধানে পাওয়া যাবে নিশ্চয়। তবে সরাসরি পরিস্থিতি ছাড়া সরাসরি ইংরেজি লেখায় ব্যবহার করা উচিত নয়।

.

.

ইংরেজি তত কঠিন নয়, যত কঠিন আমাদের ইংরেজি শিক্ষকেরা একে বানিয়েছেন। অবশ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও এর জন্য দায়ি; বর্তমান সময়ের কমিউনিকেটিভ ইংরেজির বিষয়টি শুরুর পূর্বে ইংরেজি শেখা ছিল প্রায় অসম্ভব। ইংরেজি শব্দের (কনটেন্টস) প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল ব্যাকরণ (স্ট্রাকচার) শেখানোর প্রতিযোগিতা এখনও আছে। অথচ ইংরেজি ভাষাটি আয়ত্ব করার জন্য খুব বেশি শব্দ জানতে হয় না। অভিজ্ঞদের মতে, মাত্র পঞ্চাশটি শব্দ দিয়ে ৪৫% কমিউনিকেশন কাভার করা যায়। একজন নেটিভ স্পিকার মাত্র সাড়ে সাতশ’ শব্দ ব্যবহার করেন। যারা ইংরেজি বিষয়টিতে আগ্রহী অথবা যারা IELTS, TOEFL, GRE, SAT, GMAT ইত্যাদি পরীক্ষার প্রার্থী, তাদেরকে বলবো, শব্দের মূল ও ব্যুৎপত্তির দিকে একটু খেয়াল দিলে একসাথে শতশত শব্দ আয়ত্ব করা যায়।

শিক্ষাজীবনে প্রাপ্ত উপাত্ত দিয়ে বর্তমান পোস্টটি তৈরি করা হয়েছে। পাঠকের আগ্রহ থাকলে এবিষয়ে আরও দু’একটি পোস্ট দিতে পারি। কারও উপকারে আসলে অথবা চিন্তার খোরাক হলে, সেটি হবে লেখকের জন্য বিরাট পাওয়া।

:::গ্রন্থ আলোচনা: কাশফুল দোল খায়/এনামুল হক মানিক

0011-crop

 

সাহিত্যসাধনা একটি বৃদ্ধিবৃত্তিক কর্ম। এরজন্য প্রয়োজন নিয়মিত জ্ঞানতপস্যা।  প্রয়োজন সার্বজনীন জ্ঞানের চর্চা এবং জ্ঞানের সকল শাখায় সুগভীর অনুসন্ধান।  জ্ঞান ও আত্মঅনুসন্ধানের এই কঠিন সাধনায় ঈশ্বরবন্দনাকে যুক্ত করতে পারা একটি কঠিন এবং প্রথাবিরোধী কর্ম। যদিও জ্ঞানের সাধনার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে রয়েছে ধর্ম এবং দর্শন, তবু অনেকে একে সেকেলে মনে করেন।  এর প্রধান কারণ হলো এই যে, ধর্মচর্চা করলে মানুষ হিসেবে আমাদের দোষত্রুটিগুলো দৃষ্টিগোচর হয়ে পড়ে।  তাই জ্ঞান ও শিল্প সাধনার মধ্যে ঈশ্বরবন্দনা প্রায় অনুপস্থিত।  এই অপ্রীতিকর কাজটি করতে সচেষ্ট হয়েছেন এনামুল হক মানিক, তার ‘কাশফুল দোল খায়’ নামক প্রথম কাব্যগ্রন্থে।  প্রথম হলেও লেখায় ও ভাবপ্রকাশের মধ্যে একজন সুদক্ষ পর্যবেক্ষককে আমি দেখতে পেলাম। ধন্যবাদ শাহআলম বাদশা ভাইকে, বইটিতে আমার মতামত দেবার সুযোগ করে দেবার জন্য।

 

কবি এনামুল হক মানিক, উল্লেখিত গ্রন্থে ঈশ্বরের অস্তিত্ব তথা ঈশ্বর-বন্দনায় সচেষ্ট হয়েছেন বেশ যুক্তিসঙ্গতভাবেই।  প্রকৃতির সৌন্দর্য্যের মধ্যে তিনি ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করেছেন।  ভোরের আভার মধ্যে তিনি খুঁজেছেন তার প্রিয়নবীকে। তার ‘কাঁদতে হবে খুব’ ছড়াটিকে কবিতা বলা উচিত।  তিন পদের কবিতায় পাঠকের জন্য আত্মসংশোধনের অমূল্য চেতনার সৃষ্টি করেছেন:

এই জীবনে তুমি যতো/ পেয়েছো আঘাত

খুঁজে দেখো বেশি দায়ী/তোমার নিজের হাত  (কাঁদতে হবে খুব/৪৬)

 

‘দীর্ঘ সফর’ ছড়া-কবিতায় কবি মৃর্ত্যু এবং তৎপরবর্তী জীবনের বিষয়ে পাঠককে সতর্ক করেছেন।  একই মর্মবেদনা সৃষ্টি করেছেন তার ‘কোথায় যাবো’ শীর্ষক লেখাটিতে:

কোথায় আছি কোথায় ছিলাম/ কোথায় যাবো শেষে

হিসেবটা কি তোমার-আমার/ তৈরি করা আছে? (কোথায় যাবো/ ৩৭)

 

‘কাশফুল দোল খায়’ এবং ‘সেরাসৃষ্টি’ ছড়াদ্বয়েও কবি সৃষ্টির বন্দনা করে ঈশ্বরের অস্তিত্বে আলোকপাত করেছেন-

 

শিশিরবিন্দুরা জমে সবুজঘাসে

মিষ্টি রোদের ছোঁয়ায় নিসর্গ হাসেে/ এসবই মহান আল্লাহর দান।  (কাশফুল দোল খায়/৭)

 

সৃষ্টি করলে আসমান জমিন/ হরেক রকম ফুল

সবার সেরা সৃষ্টি তোমার/ মুহাম্মদ রাসুল।  (সেরা সৃষ্টি/ ৩২)

 

‘কাশফুল দোল খায়’ নামটি শুনলে একটি ছড়াগ্রন্থের কথা মনে আসবে; শিশুগ্রন্থের কথাও মনে পড়তে পারে।  কিন্তু কবি তার জীবনযাত্রায় প্রাপ্ত সত্য ও অভিজ্ঞতাকে ছড়ার মালায় একত্রিত করার প্রয়াস পেয়েছেন উক্ত গ্রন্থের প্রতিটি ছড়া কবিতায়।  গ্রন্থের নামের প্রতি সুবিচার করেই হোক, অথবা ফুলের প্রতি কবির ভালোবাসার কারণেই হোক, ফুলকে কেন্দ্র করে বেশকিছু ছড়া তিনি উপহার দিয়েছেন। যথা- ফুল, হরেক রকম ফুল, ভালো লাগে, কাশফুল দোল খায় প্রভৃতি।

একই গ্রন্থে মহান একুশ, বাংলা ভাষা তথা স্বদেশ নিয়েও রয়েছে কিছু চমৎকার ছড়া-কবিতা।  প্রাত্যাহিক জীবনের দূষণগুলোও কবির দৃষ্টি এড়ায়নি।  নাগরিক জীবনের দৃশ্যমান আন্তরিকতার মধ্যেও যে ফরমালিনের মতো দূষণ লুকিয়ে আছে। বিষয়টি খুব সুন্দর এবং রসময় করে উপস্থাপন করেছেন তার ‘ফরমালিন’ এবং ‘গোলকধাঁধাঁ’ কবিতায়।  ‘ফরমালিন’ ছড়া থেকে একটি উদ্ধৃতি না দিয়ে পারছি না-

 

তিলে তিলে মারার চেয়ে/ মারো এককালীন

আর দিও না ভাইরা আমার/ খাদ্যে ফরমালিন।  (ফরমালিন/২১)

 

ব্লগে এনামুলক হক মানিকের বিচরণ থাকলেও, ব্লগ পোস্ট হিসেবে তার লেখা বেশি পড়া হয়ে ওঠে নি। এই না পড়ার পেছনে প্রথমত দায়ি সময়ের স্বল্পতা, তারপর দায়ি মানুষ হিসেবে আমার ব্যক্তিগত দুর্বলতা।  লেখা ও মন্তব্যের মধ্য দিয়ে যাদের সাথে ভাবের বিনিময় বেশি, তাদের লেখায় নজর দিতে দিতেই অবসর সময়টুকু শেষ হয়ে যায়। তবে দু’একটি লেখা যে পড়ি নি, বা মন্তব্য দেই নি – তা কিন্তু নয়।  পর্যাপ্ত না পড়ার কারণে একটি উপকার হয়েছে তা হলো, পুস্তকের পাতায় এনামুল হক মানিকের লেখাগুলোকে আরও স্বতন্ত্রভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে।  একজন সহব্লগার হিসেবে তার লেখা পড়লে হয়তো, আমার মূল্যায়ন কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারতো।

 

শিশু সাহিত্যিক ও গীতিকার এবং আমাদের ব্লগার-বন্ধু শাহআলম বাদশা একটি সুন্দর মূল্যায়ন করে দিয়েছেন উক্ত বইয়ের ব্যাক-কাভারে। তাতে গ্রন্থটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্লগার হিসেবে আমি গর্বিত যে গতানুগতিক ধারার সাথে পাল্লা দিয়ে ‘অতি সাধারণ আচ্ছাদন’ নিয়ে কিছু অসাধারণ লেখা বের হয়ে আসছে আমাদের ব্লগারকুলের পক্ষ থেকে। এটি আমাকে বিশেষভাবে গর্বিত করেছে।  এখন থেকে এনামুল হক মানিকের লেখাগুলোতে আরও গুরুত্ব দিয়ে দৃষ্টিপাত করবো, এই প্রতিশ্রুতি দিলাম।  সহব্লগারদেরকেও একই অনুরোধ জানাবো।  অনুরোধ করবো তার ‘কাশপুল দোল খায়’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করে উপরোক্ত মূল্যায়নকে যাচাই করার জন্য-

 

কাব্যগ্রন্থ:  কাশফুল দোল খায়

গ্রন্থকার:  এনামুল হক মানিক

প্রচ্ছদ:  আফসার নিজাম

পরিবেশক:  সাহস পাবলিকেশনস

গ্রন্থ পরিচিতি:  শাহ আলম বাদশা

মূল্য:  ৭৫