Category: প্রিয় সমাজ

Always বাংলা use করুন: ভাষামিশ্রণ সম্পর্কে সহব্লগারদের সুচিন্তিত মতামত

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতিয়তাবাদের শুরু হয়েছিল ভাষাগত বিভেদ থেকেই। বাংলার সাথে বাঙালির যত আবেগ, যত ভালোবাসা, সেটি অন্য কোন ভাষার ক্ষেত্রে তেমনভাবে আছে কিনা জানা নেই। ব্লগে প্রকাশিত একটি লেখায় সহব্লগারদের অংশগ্রহণ আমাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছিল। তিন-চার বছর আগের কথা। অনেকেই সামু’র ব্লগার। তাদের মন্তব্য নিয়ে আজকের মন্তব্য সংকলন। লেখার শিরোনাম ছিলো: বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার মিশ্রণ। প্রকাশিত হয়েছিলো শুরুতে প্রথম আলো ব্লগ অবশেষে সামুতে । লেখাটির শেষে আমি আরও কিছু দৃষ্টান্ত/পরামর্শ আহ্বান করেছিলাম, যেন ভাষামিশ্রণের বাস্তবিক কিছু নমুনা সংগ্রহ করা যায়। সহব্লগাররা আমার অনুরোধ রেখেছেন! তাদের মন্তব্যে যেমন পেয়েছি গভীর অন্তর্দৃষ্টি, তেমনই পেয়েছি নিজ ভাষার প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা। এ লেখায় তাদের মতামতগুলো তুলে না ধরলে হয়তো লেখাটি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। আমার লেখার প্রতি প্রশংসাসূচক মন্তব্য বা বাক্যাংশগুলো সংগত কারণেই বাদ রেখেছি।

১) ফেরদৌসা: এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কথায় কথায় বলে: কুল, গাই, ওয়াটস আপ। আমি ‘চান্স’পেয়ে বলি: একটু ‘বিজি’আছি, আই এম ব্যাক ইত্যাদি। প্র/আ

২) লুৎফুন নাহার জেসমিন: কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু-বউ আমাদের বাসায় বেড়াতে এলে দেখলাম বাচ্চাকে ইংরেজি শব্দ শেখানোর জন্য কীভাবে কথা বলছে। আমাদের কাছে তার একটি উক্তি খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো: ‘বেবি বেবি, ডারটি!’ আমার মেয়েও মাঝে মাঝে বলে আর হাসে। প্র/আ

৩) স্বদেশ হাসনাইন: ভাষা তো বই পড়ে শিখছে না। টিভিতে হিন্দি চলছে চব্বিশ ঘণ্টা, ইংরেজির আগ্রাসন তো গোটা পৃথিবী জুড়েই। প্রযুক্তিতে হাজারো যন্ত্র তাদের মত শব্দ শেখাচ্ছে। কলকাতায় হিন্দি বাংলার যে রকম মিক্স হচ্ছে তাতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। কোড মিক্সিং বলেন আর যাই বলেন, এটা থেকে পরিত্রানের চেয়ে একে গ্রহণযোগ্য একটা জায়গায় রাখা ইম্পোর্টেন্ট। সামু

৪) অনিন্দ্য অন্তর অপু: আমার মনে হয় নিজে সতর্ক হলে আর মাতৃভাষার ওপর মমত্ব থাকলে শুদ্ধ বাংলা চর্চা করা যায়। প্র/আ

৫) ইকথিয়ান্ডর: আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের একটা কথা মনে পড়ছে: “যে বাংলা জানে, সে বাংলায় সম্পূর্ণ বাক্য বলতে পারে, যে ইংরেজি জানে, সে সম্পূর্ণ বাক্যই ইংরেজিতে বলতে পারে। আর যারা কোনটাই জানে না, তাদেরই আশ্রয় নিতে হয় মিশ্রণের।” সামু

৬) গ্রাম্যবালিকা: আমি আমার গ্রামের কথা ১০০% পারি, কোন ইংরেজি বলতে হয় না, কিন্তু শুদ্ধ বাংলা পুরোপুরি পারিনা বলে ইংরেজী শব্দ বলতে হয়। সামু

৭) জনদরদী: আমি নিজেই বাংলার সাথে কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করি । বিশেষ করে প্রযু্ক্তির সাথে সম্পকিত শব্দগুলো । আমার বেশিরভাগ সময় ইংরেজির সমার্থক বাংলা শব্দ খুঁজে পেতে সমস্যা হয় । চেষ্টায় আছি সংশোধনের। সামু

৮) শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক: (যথারীতি ছড়ায়) বাংলা ভাষার আন্দোলনে/ ইংলিশ বলে কত, এমন নেতা বাংলাদেশে/ আছে অনেক শত। তাই তো বলি, “বাংলা ভাষায়/ শুদ্ধ বাংলা চাই, বাংলার সাথে ইংলিশ বলা/ ‘লাইক’করি না তাই”।

৯) মনিরুল ইসলাম (মনির): এটা এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে, যা থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। যেখানে বাংলিশ বলাটাকে আধুনিক-মনা বুঝানো হয়, সেখানে কি করার আছে? এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় মনে হয় নেই। তবে সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করে, তাহলে হয়ত হলেও হতে পারে।

১০) মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা: আরও কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। জাস্টিফাই, সবচেয়ে বেটার, প্লাস এর সাথে যোগ করা যায়, আসল ফ্যাক্ট, স্বাভাবিকলি, মন্ত্রী-মিনিস্টার, আপনি তো দারুণ এক পাবলিক! ফাস্টে আমি বলি… ইত্যাদি। যিনি ভালো বাংলা বলতে পারবেন, তিনি অন্য ভাষা সহজেই রপ্ত করতে পারবেন। প্রফেসর সিরাজুল ইসলামকে বাংলার সাথে ইংরেজি বলতে শুনি নি। অথচ তিনি সারাজীবন পড়ালেন ইংরেজি! অবাক লাগে। জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে ভালো করে নিজের ভাষার উপর দখল চাই। চাই বাংলা সংস্কৃতির প্রতি মমতা। নিজের ভাষাকে এড়িয়ে কোন জাতি উন্নতি করেছে কিনা আমার জানা নেই।

১১) মাটির ময়না: ডুড! জোস লিখেছেন। হায় বাঙালি!

১২) মুক্তমন৭৫: থ্যাংকস ব্রাদার। ইউ আর রিয়েলি জিনিয়াস। মাইরি কইলাম আপনে একটা চিজ! উই আর লুকিং ফর দ্য শত্রুজ।

১৩) ঘাস ফুল: আপনার লেখাটি পড়ে জীবনের লাইফটাকে বৃথা মনে হলো! প্রতিনিয়ত আমরা নিজের অজান্তেই কতো ইংরেজি হিন্দি শব্দ বাংলা ঢুকিয়ে দিয়ে অনর্গল নির্লজ্জের মতো কথা বলে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে আবার গর্ববোধও করি, যা কি না বেশরমের চূড়ান্ত। এর জন্য শুধু সাধারণ মানুষকে দায়ি করলে ব্যাপারটি আমার কাছে একতরফা মনে হয়। এর জন্য দায়ি অনেকেই। আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের সরকার, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা – কেউ তার দায় এড়াতে পারেন না। অন্যতম উদাহরণ হলো, আমাদের বিচার ব্যবস্থা। গণমাধ্যম বাংলা ভাষার প্রয়োগের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে কোন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে নি। আরও অনেক কারণ আছে। মন্তব্যের ঘরে সব বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে টুকটাক হিন্দি বা ইংরেজি বললেও নিজের ভাষার প্রতি সম্মান আর শ্রদ্ধা আজন্ম ভালোবাসার মতো অটুট থাকবে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’শুনার সাথে সাথেই এখনও মনের অজান্তে অশ্রু ঝরে।

১৪) নাজমুল হুদা: গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ঢাকা কলেজে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে-নামতে পেন্সিল-দিয়ে-লেখা দেয়ালের এই কথাগুলো নিয়ে আমরা খুব মজা করতাম, “Always বাংলা use করুন”।

১৫) মুরুব্বী: আজকের এই অবস্থা বা ভাষার প্রেক্ষাপট অথবা প্রচলিত প্রক্ষেপণ একদিনে তৈরী হয় নি। যা আপনি পোস্টে আলোচনা করেছেন। বাইরের কথা বলবো না, চুপিচুপি বাংলিশ উচ্চারণ আমার ঘরেও বসত নিয়েছে। আজ শুদ্ধ উচ্চারণ যেন বিলাসিতা। পরিচ্ছন্ন বাংলা আজও অনেকের দুর্ভেদ্য। জানি না কবে প্রমিত ভাষা ফিরে আসবে আমাদের জনজীবনে। তবু আশায় বুক বেঁধে রই। কিছুক্ষণ আগে শহীদ বেদী থেকে আমার সন্তানদের নিয়ে রিকশায় ফিরতে গল্পচ্ছলে যখন ‘একুশ’মানে বোঝাচ্ছিলাম, আমাদের বোঝা টেনে-নিয়ে-চলা-রিকশাচালক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন: এ আমি কী বলি! বাড়ির গেটে নেমে অমিমাংসিত ভাড়া এক কথায় মেটাতে ভদ্রলোক মুগ্ধ চোখে তাকালেন। বললেন, ‘আমি পারি না আমার সন্তানদের এভাবে বোঝাতে।’ (শব্দনীড় ব্লগ)

১৬) নাজমুন নাহার: ভাষামিশ্রণের দৃষ্টান্তগুলো আসলেই মজার। কিন্তু সমস্যা হলো ভাষার এই যে মিশ্রণ – এটা হবে এবং হতে থাকবে। কতজন সতর্ক হতে পারে ভাষার এই ব্যবহারে? যেমন অফিস-আদালতে বাংলা বা ইংরেজি দু’টোই চলে। ইংরেজির ব্যবহার আভিজাত্যের প্রতীক বলে মনে করা হয় অফিসগুলোতে। তাই ইংরেজির ব্যবহার করতেই হবে, এরকম একটা অলিখিত ব্যাপার থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র লেনদেনে বাংলা ব্যবহার করা যায়। করা হচ্ছে না! তবু ভাষায় পরিবর্তন হবেই। ১৮০০ সালের বাংলা অথবা ১৫০০ সালের দিকে বাংলা ভাষার যে অবস্থা ছিল, সে অবস্থা তো নেই এখন আর। এটা হয়েছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির সাথে আমাদের মিথষ্ক্রিয়তার ফলে। যেমন ‘টেবিল’এর শুদ্ধ বাংলা হলো ‘মেঝ’, চেয়ার হলো ‘কেদারা’।

এরকম আরও হাজার শব্দ বাংলা ভাষায় আছে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে বাংলা ভাষার শব্দ নয়। কিন্তু আমরা বাংলা ভাষায় ব্যবহার করছি অবলীলায়। তবে ভাষার এই যে মিশ্রণ, এটা সমাজের কিছু মানুষের – সকল মানুষের নয়। যেমন গ্রামবাংলার কোটি কোটি মানুষ এখনও ভাষার এই মেশামেশি বুঝে না বলে আমার ধারণা। কিন্তু ওখানে ভাষা পরিশুদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে আশার কথা হলো: বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হচ্ছে, এক্ষেত্রে ব্লগগুলোও ভূমিকা রাখছে। শব্দনীড়

১৭) সাঈদ মোহাম্মদ ভাই: লেখাটি ডেফিনিটলি চমৎকার। তবে আমড়া এখন র’এর ওপর ব্রেক মেরে কথা বলি: র হয়ে গেছে ড়। যারা বাংলিশ ভাষাকে একসেপ্ট কড়ছেন না তাড়া ভীষণ অন্যায় কড়ছেন। সবাই ড়াবিশ।

১৮) জুলিয়ান সিদ্দিকী: আমরা দিনরাত নানা সংস্কৃতির চিপাগলি দিয়ে অতিক্রম করি, আমাদের প্রতিটি দিন। এক্ষেত্রে খুব সচেতন না থাকলে মিশ্রণ থেকে বাঁচার উপায় নেই। কিন্তু কথা হলো: আমরা কতক্ষণ সচেতন থাকবো বা আশপাশের লোকজনকে কতটুকু সচেতন রাখতে চেষ্টা করবো।

১৯) ফরিদুল আলম সুমন: আমি বিবর্তনে বিশ্বাসী। বিবর্তনের মধ্যেই পৃথিবী টিকে আছে। আমাদের সংস্কৃতি, পোশাক, ভাষা, কৃষ্টিতে মৌলিকত্ব থাকা উচিত। তবে মৌলিকত্ব সবসময় ‘অতীব জরুরি’নয়। যে ভাষায় যত বেশি বিদেশী প্রচলিত শব্দকে ধারণ বা গ্রহণ করা হয়েছে, সে ভাষা তত বেশি সমৃদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণীয় হয়েছে। অতিমাত্রায় মৌলিকত্ব ধারণ করতে গিয়ে চাইনিজ ভাষা পৃথিবীবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিচারে মার খাচ্ছে। এতো মৌলিকত্বে বিশ্বাসী চাইনিজরাও এখন ‘সিমপ্লিফাইড চাইনিজ’নামে আধুনিক, সংক্ষিপ্ত ও সহজ চাইনিজ ভাষার প্রবর্তন করেছে। আমরা বিশুদ্ধ বাংলার চর্চা করবো ঠিকই, তবে সেই সাথে যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশী শব্দকেও ঠাঁই করে দিতে হবে। আমরা ‘কেদারায়’বসতে পারিনি বেশিদিন, ‘চেয়ারে’বসতে হচ্ছে। ‘সন্দেশ’পড়তে পড়তে আমরা কীভাবে যেন ‘পত্রিকা’বা ‘সংবাদপত্র’পড়তে শুরু করেছি বুঝতেই পারিনি। ‘পেয়ালায়’চা খেতে খেতে নিজের অজান্তেই এখন ‘কাপে’চা খাচ্ছি। ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে আমরা যে ‘আভিজাত্য’বোধ করি, সেটা খুব সহজে যাবেনা। তাই কোডমিক্সিং দূর করতে হলে এ ব্যাপারে ব্যাপক গণসচেতনতা দরকার। কোডসুইচিং খুব একটা মন্দ নয়। নিজের ভাষা ছাড়াও অন্য যে কোনো ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারাটা আমার কাছে স্মার্টনেস-ই মনে হয়। তবে স্থান-কাল-পাত্র তো অবশ্যই বিবেচ্য। বাংলা-হিন্দী-ইংরেজি মিশিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের কাছে প্রশ্ন রাখা যেতে পারে: ‘আপনি কি উল্লিখিত যে কোনো একটি ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারেন? যদি না পারেন, তাহলে তো আপনার একূল ওকূল দু’কুলই গেলো।

এবার একটু অন্য কথায় আসি। সামহোয়্যারইন ব্লগের জনপ্রিয় গল্পকার এবং রম্যলেখক আবুহেনা মো: আশরাফুল ইসলাম ফেইসবুক মারফত আমাকে পরামর্শ দিলেন, যেন ভাষার মিশ্রণ নিয়ে এবার কিছু একটা লেখি। এবার দেখুন তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তিনি কী লিখলেন এবং সামু’র ব্লগাররা তাতে কী উত্তর দিলেন:

আবুহেনা মো: আশরাফুল ইসলামের ফেইসবুক স্ট্যাটাস/ ৪ ফেব্রুয়ারি:
একজনকে দেখলাম ফেসবুকের বাংলা করেছে ‘মুখবই’। কবি নির্মলেন্দু গুন মোবাইল ফোনের বাংলা করেছিলেন ‘মুঠোফোন’। আক্ষরিক অনুবাদ না হলেও এটা ঠিকই আছে। শুনতেও শ্রুতিমধুর। কিন্তু মুখবই শব্দটি আমার কাছে ভালো লাগছে না। তারচেয়ে বরং ফেসবুকের বাংলা ফেসবুক-ই থাক। যেমন কম্পিউটারের বাংলা কম্পিউটার, ওয়েবসাইটের বাংলা ওয়েবসাইট ইত্যাদি ইতিমধ্যেই বাংলায় বহুল প্রচলিত হয়ে গেছে। এগুলোর বাংলা করতে গেলে না বুঝবে বাঙালি, না বুঝবে অবাঙালি। উচ্চারণ করতে গেলে দুর্বল দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। এরকম কত ইংরেজি শব্দই তো বাংলা ভাষায় আত্মিকৃত হয়ে গেছে। তাতে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি ছাড়া কোন ক্ষতি তো হয়নি। ভাষা আন্দোলনের মাস বলে সব কিছুর নামই বাংলায় রাখতে হবে, এমন দিব্যি কে দিয়েছে? আপনারা কী বলেন?

স্ট্যাটাসে বন্ধুদের/ব্লগারদের উত্তর:

শাহ আজিজ: এরকম করতে করতে operation searchlight এর কি করুন অনুবাদ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রার্থী। কিছু শব্দকে বাংলায় আত্তীকরণ অতিআবশ্যিক কারন এর বিকল্প নেই।

মেজদা (কোহিনূর): সত্যি কথা ৷ যেমন হরলিক্সের কোন বাংলা প্রতিশব্দ নাই ৷
-শাহআজিজ: লাক্স এর নাই , ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির নাই
-গোলাম মোস্তফা: এখানে হরলিক্স কেমনে আইলো?
-শাহআজিজ: বাজার থেকে এসেছে। (এরপর অনেকের বাক্য বিনিময়…)

মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা: দারুণ আলোচনা। পড়ে আসবো। মইনুল ভাই কী বলেন দেখি।
-মাঈনউদ্দিন মইনুল: কোন কথা হবে না। আবুহেনা ভাইয়ের পক্ষে ভোট চেয়ে এবার আমরা মাঠে নামতে পারি, বাবলা ভাই।

আহমেদ রব্বানী: বাংলাভাষায় অনেক বিদেশি শব্দ এসে স্বকীয় স্থান লাভ করেছে। এতে তো কোনো সমস্যা নেই। ফেসবুক, ডিজিটাল, মোবাইলসহ সময়ের প্রয়োজনে আরো শব্দ বরং বাংলাভাষার শ্রীবৃদ্ধিই করবে। চমৎকার একটি বিষয়কে সামনে আনবার জন্যে ধন্যবাদ প্রিয় হেনা ভাইকে।

মাঈনউদ্দিন মইনুল: কথায় যুক্তি আছে… আবুহেনা ভাই!!! খুব সতর্কভাবে দেখলাম কেউ বিরোধিতা করেন কিনা… করলে ভাষার মাসে আবার আরেকটা বায়ান্নো ঘটিয়ে দিতাম!

আমি একাধিক জায়গায় লেখেছি যে, ভাষা বহমান নদীর মতো। এর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন অনিবার্য। এর কোনকিছুই চূড়ান্ত নয়। ব্যকরণ, অভিধান সবকিছুই পরিবর্তনশীল। ভাষার ব্যবহাকারীরাই নির্ধারণ করবে এর গতিপথ। ভাষাবিদেরা কেবলই এসব ঘটনাকে বিধিবদ্ধ করবেন।

কিন্তু আশংকা হলো সেই ভাষাভাষীদেরকে নিয়ে, যারা প্রযুক্তির প্রভাবে ভাষার যথেচ্ছাচার করছেন। সেটি হয়তো বাংলা ভাষার স্বাভাবিক অগ্রগতি বা গতিপথকে বিপথে নিয়ে যেতে পারে। যেসব ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন, সেসবের অনুগামী হতে পারে।

মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করা এবং জীবন দিয়ে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করা – এটি একান্তই বাঙালির গৌরব। বায়ান্নো আমাদের, একুশ আমাদের। পৃথিবী থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ব্যবহৃত ভাষাগুলো ইংরেজি, ফরাসী, চিনা, জার্মানি ইত্যাদি প্রভাবশালী ভাষার দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ভাষাবিদেরা করছেন হাহাকার। তারা দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন বাঙালির, বাংলাদেশের; কারণ ভাষার জন্য নিজের প্রাণ দেবার দৃষ্টান্ত আমাদেরই। সেই আমরা যদি নিজ ভাষা ছেড়ে অন্য ভাষার প্রতি আসক্তি হই, নিজের ভাষায় অযাচিতভাবে বিদেশি ভাষার মিশ্রণ দেই, তবে আমরাই আমাদের গৌরবকে কলঙ্কিত করি।

ভাষা আন্দোলনে অর্জিত মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি বিশেষ স্থান লাভ করে আছে। সেই বাংলা ভাষার নিজস্ব কোন স্বকীয়তা অবশিষ্ট থাকবে কিনা, এখন সেটি ভাবনার বিষয়।

মহান একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সকল ভাষা শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

 

[২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭] পাবলিক ব্লগে পাঠকের অভিমত

যে লেখাটি থেকে উপরোক্ত মন্তব্য প্রতিমন্তব্য: কোডমিক্সিং এবং ভাষার দূষণ: বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ। লেখাটি প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল প্রথম আলো ব্লগে।

Advertisements

নার্সিসাস কাহিনির বাকি অংশ…

 নার্সিসাসের আত্মপ্রেমের পৌরানিক কাহিনিটি প্রায় সবারই জানা। নার্সিসাস প্রতিদিন একটি হ্রদের কিনারে বসে একদৃষ্টিতে পানির দিকে তাকিয়ে থাকতো। পানিকে দেখতে নয়, নিজেকে দেখতে। নিজের সৌন্দর্য্যে এতই মগ্ন থাকতো যে, নিজের অস্তিত্বের কথা ভুলে যেতো। ভুলে যেতো সকাল বিকাল দুপুরের কথা। আত্মমগ্ন এই যুবক একদিন সেই হ্রদের স্বচ্ছ পানিতে ঝাপিয়ে পড়লো! সাঁতরাতে নয়, অন্যমনস্কতার কারণে! গভীর পানিতে খেই হারিয়ে বেচারা ডুবেই মরলো। তারপর নার্সিসাসের পড়ে যাবার স্থানটিতে জন্ম নিলো একটি ফুলগাছ। নাম দেওয়া হলো, নার্সিসাস। আহা! নার্সিসাস যেন একটি দীর্ঘশ্বাসের নাম।
.
.
এবার চলে যাই গল্পের বাকি অংশে।
.
নার্সিসাসের মৃত্যুর পর বনদেবী এসে উপস্থিত হলেন সেই হ্রদের পাড়ে। এসে যা দেখলেন, তা দেবী নিজেও ধারণা করতে পারেন নি। তিনি দেখলেন হ্রদের পানি অশ্রুবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে। অথচ এটি ছিল স্বচ্ছ পানিতে পরিপূর্ণ ঝিকমিকে হ্রদ।
.
“তুমি কেন কান্না করছো?” বনদেবী বিস্ময় সংবরণ করে হ্রদকে জিজ্ঞেস করলেন।
“আমি নার্সিসাসের জন্য শোকাহত।” হ্রদের উত্তর।
.
দেবী ভাবলেন, তা হতেই পারে। নার্সিসাস তো সারাক্ষণ এই হ্রদের পাড়েই বসে থাকতো। এমন একজন সঙ্গী হারালে যে কেউ হতাশ হয়। দেবী বললেন,
“ওহ, বুঝেছি। সুদর্শন নার্সিসাসের জন্য তো তুমিই কান্না করবে।”
“নার্সিসাস বুঝি সুদর্শন ছিল?” হ্রদের নির্বিকার প্রশ্ন।
.
বনদেবী এবার আর নিজের বিস্ময় সংবরণ করতে পারলেন না। দেবী হলেও তো তার অনুভূতি আছে! এই বোকা হ্রদ এখন এসব কী বলছে?! নার্সিসাস দিনভর তো তার দিকেই তাকিয়ে তাকতো।
.
“নার্সিসাস সুদর্শন ছিল কিনা এটি তোমার চেয়ে কে আর বেশি জানে?” বনদেবীর সবিস্ময় জবাব।
.
প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্ন পেয়ে শোকাতুর হ্রদ নিরব হয়ে হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ কিছুই বললো না। বনদেবীও দৃষ্টি নামালেন না হ্রদের দিক থেকে।
.
কান্নারত হ্রদ এবার নিরবতা ভেঙ্গে উত্তর দেবার চেষ্টা করলো-
“আমি নার্সিসাসের মৃত্যুতে কান্না করছি, কিন্তু আমি কখনও নার্সিসাসের সৌন্দর্য্য লক্ষ্য করে দেখি নি। আমি কান্না করছি, কারণ যতবার নার্সিসাস আমার পাশে আসতো, ততবার আমি নিজেকে দেখতে পেতাম। নার্সিসাসের গভীর চোখের দৃষ্টিতে আমার সৌন্দর্য্য ভেসে ওঠতো। তাই প্রতিদিন আমি নার্সিসাসের অপেক্ষায় থাকতাম।”
.
.
গল্পের মর্মার্থ।
.
সমাজে আমরা একে অন্যের পরিপূরক। একজনের পরিপূর্ণতার জন্য প্রয়োজন অন্যের অংশগ্রহণ। কেউ একা একা পূর্ণতা পেতে পারে না। নিজেকে দেখার মানে অন্যকেও দেখার সুযোগ দেওয়া। কৃষক আত্মমগ্ন হয়ে ফসল না ফলালে সেটির উদ্বৃত্ত তিনি শহুরে মানুষগুলোকে দিতে পারতেন না।
.
আমরা সবাই আত্মমগ্ন হলেই সেটি স্বার্থপরতা, তা সবসময় ঠিক নয়। বরং নিজেদের আত্মমগ্নতায় আমরা অন্যকে প্রকাশ করি। সক্রেটিস বলেছেন, নিজেকে জানুন। আমাদের শিক্ষাগুরুরাও বলেন, নিজের জন্য একটি লক্ষ্য স্থির করতে। আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে চিকিৎসক বলেন, নিজের যত্ন নিন। আত্মমগ্নতাই সৃষ্টির রহস্য বের করে দেয়। আত্মমগ্নতা আমাদেরকে আত্মবিকাশ, আত্মমূল্যায়ন ও আত্মপ্রকাশে সাহায্য করে।
.
আত্মউন্নয়ের সকল প্রশিক্ষণে আমরা আত্মমগ্নতার নির্দেশনাই পাই। শিক্ষা, জ্ঞানার্জন, ধ্যান, যোগব্যায়াম সবকিছুতে পাই আত্মমগ্নতার প্রেরণা। অথচ পৃথিবীর প্রায় সবকিছু আমাদেরকে আত্মমগ্ন হতে বাধা দেয়। এসব থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে অথবা বিচ্ছিন্ন রেখে আত্মমগ্ন হওয়া একটি কঠিন কাজ। এটিই আমাদের জীবনে পূর্ণতা প্রাপ্তির উপায়।
.
.
.

[পাওলো কোয়েলো’র “দি আলকেমিস্ট”-এর একটি অংশ অবলম্বনে]

নেতা বনাম নিরাপত্তা ও এরকম ৭টি প্রলোভন


নিরাপত্তা, জনপ্রিয়তা এবং সহকর্মীদের আনুগত্য একজন নেতার জন্য খুবই দরকার। দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বের জন্য এগুলোকে নেতার অর্জন বলেই বিবেচনা করা উচিত। অথচ শুরুতে এগুলো প্রলোভন হয়েই আসে। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এগুলো ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। নিরাপত্তাকর্মীই নিরাপত্তার জন্য একনম্বর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে অনুগত কর্মীটি কর্তৃপক্ষের আস্থার সুযোগে হয়ে ওঠে সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ। নিজের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত ‘আত্মীয় সহকর্মীটি’ অন্যান্য পেশাদার কর্মীদের জন্য ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ফেলে। অতিরিক্ত নিরাপত্তাবোধ, তথা জনপ্রিয়তা লাভের আকাঙক্ষা, তথা নিজেকে সকলের মনযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ইচ্ছা দায়িত্বশীল মানুষদেরকে নিষ্ক্রীয় করে তোলে। এগুলো দায়িত্ব পালন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ অথবা পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করার প্রধান প্রতিবন্ধকতা। এসবই নেতার জন্য প্রলোভন। এরকম সাতটি প্রলোভন নিয়ে আজকের লেখাটি।
.
.
প্রলোভন ১/ নিজের নিরাপত্তা কমফোর্ট জোন
নিরাপত্তা একটি ফাঁদের নাম। আরাম একটি ভণ্ড প্রেমিকার (প্রেমিকের) নাম। নিরাপত্তাবোধ একটি কারপুরুষোচিত অনুভবের নাম। কথাগুলো গড়পরতা কোন মানুষের জন্য নয়। বলছি, নেতার কথা। নেতা যতক্ষণ নিজের নিরাপত্তা আর আরামের বিষয়ে ব্যস্ত থাকেন, ঠিক ততক্ষণ সময় তার দল বা প্রতিষ্ঠান থাকে অবহেলিত। কমফোর্ট জোন একটি দল বা প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক, কিন্তু নেতার জন্য বিপদজনক। নেতার জন্য প্রথম প্রলোভন হলো, নিজের নিরাপত্তায় মগ্ন থাকা। এই বাক্স থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত নেতা কোন ‘আউট-অভ-দ্য-বক্স’ চিন্তা করতে পারেন না, কিন্তু দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, কোন সাহসী গন্তব্যের দিকে দলকে পরিচালনা দিতে পারেন না। ম্যাকিয়াভেলি বলেছেন, বিপদের মুখোমুখি না হয়ে মহৎ কিছু অর্জিত হয় নি।
.
প্রলোভন ২/ প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তাসবকিছুতে বিশেষ হবার আকাঙ্ক্ষা
অতিরিক্ত প্রাপ্তির লোভ নেতাকে দিকভ্রষ্ট করে। অতিরিক্ত শ্রদ্ধাবোধ, দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মনযোগ, অতিরিক্ত সেবা ও অতিরিক্ত অর্থের আকাঙ্ক্ষা – এসবই নেতার জন্য প্রলোভন। অর্থ ও বস্তুগত প্রয়োজনীয়তার কোন অন্ত নেই। মাসলো’র চাহিদা বিধি অনুসারে, মানুষের প্রয়োজনীয়তা ক্রমবর্ধমান। একটি পাবার সাথে সাথে এরচেয়ে উচ্চতর আরেকটি পাবার ইচ্ছা হয়। মোটরবাইকের মালিক হবার পর, গাড়ির মালিক হবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। গাড়ির মালিক হবার পর দেখা যায়, সেটি অন্যান্য গাড়ির মতো আকর্ষণীয় নয়। তখন গাড়ির ব্রান্ড পরিবর্তন করার ইচ্ছে হয়। ইত্যাদি। এটি হতেই পারে। অভাব অনুভব করা, আর যেকোনভাবে সে অভাবকে পূরণ করার জন্য বেপরোয়া হলেই সেটি অপরাধের দিকে নিয়ে যায়।
.
প্রলোভন ৩/ সম্পর্কের সুবিধাএকই সাথে ফাঁদ এবং সুযোগ
অনৈতিক সুবিধা। পদ ও সুখ্যাতির কারণে অনেক লোভনীয় সম্পর্কের সুযোগ হয়। বিপরীত লিঙ্গের এমন কাওকে পেয়ে যাবেন, যাকে দেখেই মনে হবে তাকে কাছে টানি; তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ি। হয়তো চাইলেই পেয়ে যাবেন। নেতাকে মনে রাখতে হবে, এটি শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, এটি শুধু অনৈতিকতা নয়, এটি শুধু আপনার জনপ্রিয়তাকে কমিয়েই ছাড়বে না – এটি আপনার অতীত ও বর্তমানকে ধূলিস্যাৎ করে ছাড়বে। তিলে তিলে গড়া ব্যক্তি ইমেজকে, আপনার প্রতিষ্ঠানকে, আপনার কর্মীদলকে পরিচালনা দেবার আত্মবিশ্বাসকে, আপনার হুকুম দেবার শক্তিকে নিমিষে শেষ করে দেবে। পরদিন সকালে আপনি বের হবার শক্তিটুকু পাবেন না। এটি নেতৃত্বের প্রধান এবং প্রাচীণতম প্রলোভন, ইতিহাসে এবিষয়ে দৃষ্টান্তের অভাব নেই। কিন্তু অতিক্রম করতে পারলে এখান থেকে অপরিমেয় সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়।
.
প্রলোভন ৪/ জনপ্রিয়তা… এর মিষ্টতাকে উপেক্ষা করাটা একটু কঠিনই
জনপ্রিয়তার প্রয়োজন আছে। এটি সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করে, যোগাযোগকে সহজ করে। প্রতিষ্ঠান ও বৃহৎ স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখেও জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলে, সেটি সোনায় সোহাগা। কিন্তু সেটি যদি না হয়, তবে জনপ্রিয়তা নেতার জন্য একটি বিষের পেয়ালা মাত্র। এতে আসক্ত হবার মানে হলো নেতার অপমৃত্যু। ভক্ত ও সাগরেদ প্রাপ্তির লোভ এবং তাদের প্রতি আপনার বাড়তি দায়বদ্ধতা আপনার অগ্রগতিকে আটকে দেয়। নেতার প্রধান কাজ হলো সংশ্লিষ্টদের আস্থা অর্জন, জনপ্রিয়তা এর স্বাভাবিক পরিণতি। জনপ্রিয়তাকে উপযুক্ত মাত্রায় প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে জনপ্রিয়তাকে এড়িয়ে যাবার মধ্যেই নেতার সফলতা। জনপ্রিয়তা লাভের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নেতার কাজ নয়। নীতিতে অটল থাকতে চাইলে জনপ্রিয়তাকে বিসর্জন দিয়েই নেতাকে এগুতে হয়। যারা ভবিষ্যতকে দেখতে পায় না, তাদের সাথে নেতার ঐক্যমত সম্ভব নয়
.
প্রলোভন ৫/ পরিবার ও আত্মীয়… নেতার প্রধান প্রতিপক্ষ তার নিজের লোক
নেতার নিরাপত্তার জন্য এমন সময় আসে, যখন নিজের লোককে পদ বা সুযোগ দেবার প্রয়োজন হয়। নিজের মানুষদের জন্য বা আত্মীয়ের জন্য তার একটি দায় থাকেই। কাছের মানুষকে সুবিধা দেবার দায় সবারই থাকে। এমন সময় আসে যে, নেতা ইচ্ছে করলেই সেটি পারেন। এটি তখনই প্রলোভন হয়ে যায়, যখন নিজের পদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করতে হয়। পরিবার, আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবকে নিয়মবহির্ভুত সুযোগ পাইয়ে দেবার আকাঙ্ক্ষা নেতার জন্য বড় একটি প্রলোভন। এই প্রলোভনে পড়ে অনেকেই আস্থা হারিয়েছে এবং পদচ্যুত হয়েছে। সিদ্ধান্তগ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল পর্যায়ে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করবে আপনার নিকটজনেরা। তাদের উপস্থিতি অন্যান্য সহকর্মীদের মধ্যে আপনার পক্ষপাতহীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আপনার নেতৃত্বকে করবে বিপদসংকুল।
.
প্রলোভন ৬/ অযাচিত আনুগত্য বস নাকি প্রতিষ্ঠান?
কর্মীর আচরণে অতিরিক্ত আনুগত্য দেখা গেলে প্রথমেই সন্দেহ করা উচিত – কোন অতিরিক্ত বা অনৈতিক প্রাপ্তির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সেটি করে থাকতে পারে। আদর্শ নেতা ব্যক্তিগত আনুগত্যের অপেক্ষায় থাকতে পারেন না, কারণ সেটি তার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি হয়তো অতিরিক্ত অনুগতদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে বসতে পারেন। আদর্শ নেতা চান কর্মী প্রথমত দল বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত হোক। সেটিই নেতার প্রতি প্রকৃত আনুগত্য।
.
প্রলোভন ৭/ কথা বলার আকুলতা… কথা কাজের প্রতিবন্ধকতা
শ্রোতা পেলে কথা বলার আকুলতায় আসবেই। পদবির খাতিরে কিছু দর্শকশ্রোতা জুটবেই। তারা শুনতেই চাইবে আপনার কথা, কারণ এই কথা থেকে তারা কিছু সিদ্ধান্ত পাবে; দিকনির্দেশনা পাবে। ঠিক একারণেই কথায় নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত, যেন অতিরিক্ত কিছু না বলা হয়। সবাই আগ্রহভরে আপনার কথা শুনবে, অন্তত দেখতে সেরকম দেখাবে। দেখবেন, তারা শুনেই যাচ্ছে। তাতে আপনি হয়তো আরও আগ্রহ পাবেন কথা বলার। কথা থেকে কথার শাখা প্রশাখা বের হয়ে বাক্য থেকে অনুচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ থেকে গল্পে পরিণত হবে। তাতে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল, কিছু অসর্তক অসত্য, অসময়ের অযাচিত কথা, কিছু মানবিক দুর্বলতার বিষয় বের হয়ে আসবে। এটি আপনাকে সবার সামনে বিপদাপন্ন করবে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যৎ কর্মপ্রক্রিয়াকেও করে তুলবে বাধাগ্রস্ত। কাজ করতে চাইলে বক্তৃতা বন্ধ করতে হবে। বক্তৃতা করতে চাইলে কাজ বন্ধ করতে হবে।
.
.

এলোমেলো লেখাটি ছুটির দিনের অলস চিন্তার ফসল। ক্রমান্বয়ে পরিমার্জিত হতে থাকবে। পরবর্তি পর্ব: নেতার শক্তির উৎস।

চলছে বাণিজ্যিক শোষণ! রিভিউ লেখুন, মুনাফাখোরদের আগ্রাসন থেকে অসহায় ভোক্তাকে মুক্তি দিন…


রাতের নির্জনতায় অথবা অফিসের ব্যস্ততায় হুট করে একটি বার্তা এসে হাজির। আপনি হয়তো ভাবলেন বুঝি আপনার আপন কেউ আপনার খবর নিচ্ছে। কিন্তু না। ‘দারুণ অফার’ নামক নতুন আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ। ছুটির দিন দুপুরের আহারশেষে আয়েশ করে একটি বৈকালিক ঘুম দিলেন, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠলো কই? ‘দারুণ অফার’ এসে হাজির! একটি প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য মোবাইল ফোন অপারেটর তাদের প্রোমোশনাল আইটেমগুলো নিয়ে এমন জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু করেছে যে, সেটি স্বাভাবিক জীবনকে অস্বস্তিতে ফেলছে। আগে তারা শুধু বার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকতো, কিন্তু এবার কল করতে শুরু করেছে। অসহায় গ্রাহক তখন কী করবেন?

দেশের সুপারশপগুলো শুরু করেছে সুপার বাটপারি। মনে করুন, ৫৪৪ টাকার বিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে ৫৪৫ টাকা দিতে হবে, কারণ তাদের কাছে ১টাকা চেইন্জ নেই! কিছুদিন তারা ক্রেতাকে ১টাকা দামের চকলেট খেতে বাধ্য করেছে, এবার সেটিও আর করছে না। ৫৫০ টাকা দিলে বিনাবাক্যে ৫টাকা দিয়ে তারা পরবর্তি ক্রেতার দিকে মনযোগ দেয়। এটি তো গেলো দৃশ্যমান প্রতারণা। ধরুণ আপনার বিল হয়েছে ৫৪৭.২৫ টাকা। তবে কি তারা আপনাকে পৌনে তিন টাকা ফেরত দেবে? বড়জোড় ২টাকা পেতে পারেন। এভাবে তারা ক্রেতাকে ঠকিয়ে হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে। কেউ কি হিসাব করেছে? তাছাড়া, পণ্যের কোয়ালিটির কথা বাদই দিলাম। তো এসব ক্ষেত্রে ভোক্তার কত সময় আছে, পঁচাত্তর পয়সার জন্য বিশাল বড় সুপারশপগুলোর সাথে বাদানুবাদে যাবার?

ফাস্টফুড রেস্তোরাঁগুলোতেও একই দশা। চারশ’ টাকা দিয়ে একটি বার্গার অর্ডার করে দেখবেন, সেখানে চিজ (পনির) নেই। কেন নেই? কারণ আপনি তা দিতে বলেন নি। পনির দেবার জন্য এক্সট্রা আরও হয়তো ৪০/৫০ টাকা যোগ করতে হবে। খাবারের মান নিয়ে কথা বলবেন? তাদের চাকচিক্য দেখে কি কখনও সন্দেহ হবে যে, তারা মৃত মুরগির মাংসকে হার্বাল স্পাইস মিশিয়ে ফ্রাই করে আপনাকে খাইয়েছে? নিশ্চিত হলেও তা বলার পরিবেশ আপনি পাবেন না, কারণ আপনি একা।

এ প্রসঙ্গে দেশের শিক্ষা বা চিকিৎসা সেবা নিয়ে কিছু বলার প্রয়োজন আছে কি? চিকিৎসার সেবার অব্যবস্থা নিয়ে কথা বললে আরব্যরজনীর মতো শেষ হবার নয়। এখানেও স্বল্পবিত্তরা নিতান্তই একা আর অসহায়। উচ্চবিত্তদের জন্য দেশীয় চিকিৎসার দরকারই নেই!

ফলে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি মৌলিক অধিকারগুলোর জন্য টাকা খরচ করেও ভোক্তা বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে ভোক্তাবাজারের বিভিন্ন সেবাখাত থেকে শোষণ, বঞ্চণা ও প্রতারণা চলছে হরিলুট কায়দায়। শোষকেরা এখানে ঐক্যবদ্ধ, শোষিতরা নানা ধারায় বিভক্ত।

পুঁজিবাদি সমাজে একটি মুনাফাখোর শোষক শ্রেণী গড়ে ওঠে এবং ওঠেছে। তারা দৈত্যের ন্যায় শক্তিশালী কারণ শাসকশ্রেণীও একই স্বার্থে তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ। মাঝে মাঝে শাসকেরা খুবই সূক্ষভাবে আইওয়াশ করেন অবশ্য। কিন্তু সকলেরই উদ্দেশ্য যেকোনভাবে লাভবান হওয়া। বিজনেস এথিক্স এখানে অনুপস্থিত। কোথাও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, নেই কোন আইনের প্রয়োগ। বিখ্যাত এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও এই লাগামহীন বাজারের সুবিধা নিচ্ছে, কারণ এখানে তাদের ভালো থাকার বাধ্যবাদকতা নেই। অন্যদিকে শোষিতরা নিরব! কী করবে তারা? নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত ভোক্তাশ্রেণীর তো কোনই ক্ষমতা নেই। মাঝেমাঝে ভোক্তার অধিকার বলে শুধুই চিৎকার করি, যা কোন কাজে আসে না।

মোদ্দাকথা হলো, ভোক্তারা নিজেদের মতামতকে কার্যকরভাবে প্রকাশ না করলে, তাদের অসহায়ত্ব সম্পর্কে কোন ধারণা সৃষ্টি হয় না। ভোক্তার আহাজারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছায় না, পরিস্থিতিরও উন্নয়ন হয় না।

.
২)
গত বছর কোরিয়া বেড়াতে গিয়েছিলাম। সপ্তাহ দুই বেড়ানোর পর ফেরার পথে সঙ্গত কারণেই লাগেজটা মোটা হয়ে গেলো! উপায় না দেখে আরেকটি লাগেজ কিনতে বাধ্য হলাম। কিন্তু বিমানে ওঠার পূর্বের রাতে দেখা গেলো যে, লাগেজটির একপাশের সেলাই ঢোলা হয়ে গেছে। মহাফ্যাসাদে পড়লাম! এখন তো আর কেনার সময় নেই, বদলাবারও সুযোগ নেই! কিন্তু আমার সফরসঙ্গীকে ততটা চিন্তিত হতে দেখলাম না। কিছুক্ষণ পর আমাকে জানানো হলো যে, লাগেজের দোকান থেকে নতুন একটি লাগেজ ২০মিনিটের মধ্যেই বাসায় পৌঁছাবে। সত্যিই তাই হলো! তারা বাতিলকৃত লাগেজটি নিতে চাইলেন না, দেখতেও চাইলেন না, বরং দুঃখ প্রকাশ করলেন। আমি তো বিস্ময়ে হতবাক!

আমাদের দেশে হলে তো এই সমস্যার দায়িত্বই দোকানদার মাথায় নিতো না। অবিলম্বে আমি এই যাদুর মাজেজা জানার জন্য ওঠেপড়ে লাগলাম। আমার সফরসঙ্গী জানালেন যে, এখানে ইন্টারনেট কমিউনিটি খুবই প্রভাবশালী। প্রসঙ্গত, ইন্টারনেট ব্যবহারে (internet penetration) কোরিয়ানরা পৃথিবীর শীর্ষে। কোন কোম্পানি/পণ্য সম্পর্কে কোন ভোক্তা যদি নেতিবাচক কোন অভিমত প্রকাশ করে, তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে তা হাজার হাজার ভোক্তার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকাল হতে হতেই কোম্পানিতে লালবাত্তি!

আমরা তো দিনভর ফেইসবুক দিয়ে ইন্টারনেট চালাই আর পণ্যের নিম্নমান নিয়ে মুখেমুখেই চিল্লাবিল্লা করি। ছবিসহ দু’টি লাইন লেখে দিলেই কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানির টনক নড়বে। সেটা করি না – ব্যস্ত থাকি সেল্ফি আর কাউফিতে। আইন বলুন আর সরকার বলুন, না কাঁদলে আপন মাতাই দুগ্ধ দেয় না!

একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল সম্প্রতি ‘রিভিউ’ নামে একটি বিভাগ খুলেছে। সেখানে মূলত বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিয়ে ইতিবাচক গুণকীর্তন করা হয়। তবু কোন ভোক্তা সেখানে তার নিজের অভিমতটি প্রকাশ করতে পারেন। তাছাড়া, ব্লগে, ফেইসবুকে অথবা টুইটারে প্রকাশ করতে পারেন নির্দিষ্ট সেবা/পণ্য সম্পর্কে ভোক্তার অভিজ্ঞতা। তাতে প্রতারিত/সংক্ষুব্ধ ভোক্তাদের মধ্যে একতা বৃদ্ধি পাবে, সে সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সচেতন হতে বাধ্য হবে।

 

.

পণ্য বা সেবার বাস্তব ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক রিভিউ লেখে আমরা সমাজের অসামান্য উপকার সাধন করতে পারি:

• প্রফেশনাল রিভিউ: পেশাদার মূল্যায়ন। আমরা নির্দিষ্ট কোন ব্র্যান্ডের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারি। সঙ্গে থাকবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়ের সুসমন্বয়। দামের সাথে উপযোগিতার তুলনা। এটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জন্য মহামূল্যবান নির্দেশনা হতে পারে। নিজের পরিচিত পণ্য দিয়েই শুরু করা যায় রিভিউ। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্র্যান্ডগুলো এসব মূল্যায়নকে খুবই গুরুত্ব দেয়। একসময় উচ্চমূল্যে বিক্রি হতে পারে একটি রিভিউ।

• কনজিউমার রিভিউ: ভোক্তার অভিমত। এর আরেক নাম হতে পারে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। এটি পেশাদার অথবা ভারসাম্যপূর্ণ হবার বাধ্যবাদকতা নেই। ভোক্তা যখন-তখন একটি রিভিউ লেখে তা নিজের ফেইসবুকে/ব্লগে/টুইটারে প্রকাশ করতে পারেন। তাতে কিছু কাজও হবে, ক্ষোভও প্রশমিত হবে। একপেশে বা আবেগাক্রান্ত না হলে সেটি বেশি ফলদায়ক হবে। যুক্তি এবং প্রমাণনির্ভর হলে সেটি কাঙ্ক্ষিত সুফল নিয়ে আসবে। ছবি থাকলে তো কথাই নেই!

ব্লগিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো, নাগরিক সাংবাদিকতা, যা আউট-অভ্-ফোকাস ও অবহেলিত মানুষের অধিকারের কথা বলে। আমি মনে করি, ব্লগারদের নৈতিক দায়িত্ব আছে দেশের অসহায় ভোক্তাদের পক্ষে কথা বলার। তারা নিজেরাও তো একেকজন ভোক্তা। বাস বলুন আর রিক্শা বলুন, কাঁচাবাজার বলুন আর শেয়ার বাজার বলুন – ভোক্তার চেয়ে অসহায় আর কে আছে!

.

.

*পাবলিক ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া: ১৯ অক্টোবর ২০১৫

নারী অধিকার: মার্সিয়া বার্নিকাটের নাট্যাভিনয়, কিছু অভিমত…

Mukhtar Mai

 

মার্চের ৬ তারিখ। স্থান – ধানমণ্ডির ছায়ানট নাট্যমঞ্চ। আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটের রুদ্ধকণ্ঠ। তিনি অভিনয় করছেন মুখতার মাইয়ের ভূমিকায়। মুখতারন মাই। গণধর্ষণের শিকার পাকিস্তানের নির্যাতিতা নারী মুখতার মাই হয়ে বার্নিকাট বলে চলেছেন তার নির্যাতন আর বিচারহীনতার মর্মন্তুত কাহিনি। গ্রামের মোড়ল, স্থানীয় শালিস এমন কি সংবাদমাধ্যমও যাকে চুপ থাকতে বলেছিল, সেই মুখতার মাই দেখিয়েছেন কীভাবে সুবিচার আদায় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। বার্নিকাট যেন অভিনয় করছিলেন না, নিজেই মুখতার মাই হয়ে ওঠেছিলেন সেদিন সন্ধায়।…

ফিরে যাচ্ছি ২০০২ সালের ২২ জুনের দুপুর ২ঘটিকায়। স্থান মীরওয়ালা গ্রাম, মোজাফ্ফরগড় জেলা।মুখতার মাই ধর্ষিত হলেন চার নরপশু কর্তৃক। প্রতিহিংসার বশে ধর্ষণ। ধর্ষকেরা প্রভাবশালী। স্থানীয় থানা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ধর্ষকেরা একই গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে বীরদর্পে। তারা নিরক্ষর মুখতার মাইকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। বিভিন্ন রকমের সমঝোতার দলিল তৈরি করতে তারা মুখতার মাইকে টিপসই দিতে প্ররোচিত করে। মুখতার মাই বুঝতে পারেন তার নিরক্ষর থাকার পরিণতি। কিন্তু তিনি নিজ অবস্থানে অনড় থাকেন।…

পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে জুম্মাবারের মসজিতে খুদবার পর। ইমাম সাহেব আক্ষেপ করে ধর্ষণের ঘটনাটির উল্লেখ করেছিলেন। তাতেই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে সবপর্যায়ের সাংবাদিকদের সামনে চলে আসে। পাকিস্তানে তখন গণমাধ্যম একটু একটু করে শাসকের রক্তচক্ষু থেকে অবমুক্ত হতে শুরু করেছে কেবল। খবরটি দাবানলের মতো দেশে এবং দেশের বাইরে ছড়িয়ে যায়।

এরই মধ্যে আদালতে শুরু হয় সাক্ষি এবং প্রমাণের লুকোচুরি। আদালত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যথাশীঘ্র কোন উপসংহারে আসতে পারছেনা।

ওদিকে মানুষ ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠছে। পত্রিকার প্রথম পাতায় সম্পাদকীয় শেষপাতায় প্রকাশ পেতে থাকে মুখতার মাইয়ের পক্ষে মানুষের সমর্থন। সুবিচার যদি পেতে হয়, তবে মুখতার মাই হবেন প্রথম প্রার্থী। এরই মধ্যে একজন সরকারী কর্মকর্তা মুখতার মাইয়ের সংগ্রামী চেতনায় তাড়িত হয়ে তার প্রেমে পড়ে যান।… সে কথা থাক।

আদালত মুখতার মাইয়ের পক্ষে রায় দেয়। পুলিশ সন্দেহভাজন ধর্ষক ও তার সহচরদেরকে গ্রেফতার করে। অতঃপর ধর্ষকেরা পায় মৃত্যুদণ্ড।

পাকিস্তান সরকার মুখতার মাইকে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়। সেটি তিনি খরচ করেন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়। মীরওয়ালা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় মুখতার মাইয়ের বিদ্যালয়!

মুখতার মাই আজ একজন অধিকার কর্মী। বিশ্বব্যাপী অধিকারকেন্দ্রিক নাট্যআন্দোলনের প্রতীক। তার দৃষ্টান্ত পাকিস্তানের রক্ষণশীল সমাজে নারীজাগরণের প্রতিচিত্র।

বার্নিকাটকে মনে হয়নি যে তিনি কোন ভণিতা করছেন। যেন তিনিই মুখতার মাই!… দর্শক মুগ্ধ হয়ে স্মার্টফোনের ফ্লাশ জ্বালিয়ে যাচ্ছে।

নাটক শেষ হবার পর সঞ্চালক দর্শকদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবার। ইংরেজি পর্বের দর্শক হয়ে এসেছেন যারা তাদের আশি শতাংশ বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন অংশিদার ও বহুজাতিক সংস্থার কর্ণধার। বলতে হয়, সকলেই অধিকার সচেতন।…

 

অভিমত পর্ব:

মন্তব্য দেবার আহ্ববান পেয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগে গেলো। কে কার আগে হাত তুলবে, তার কাছেই চলে আসবে মাইক্রোফোন! এটি কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা – দর্শকদের অভিমতের কোন মূল্য আছে বলে আমার মনে হয়নি। আমি প্রতিযোগিতায় যোগ দেবার মতো কোন তাগিদ পেলাম না। তবে দেখার আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাই নি।

প্রশ্ন ছিল অনেক দীর্ঘ এবং বহু-অর্থক। তবে প্রশ্নের মূলবক্তব্য ছিল অনেক এরকম: ‘নারী অধিকার রক্ষায় আমাদের করণীয় কী?’ সঞ্চালক মনে করিয়ে দিলেন, অন্যকে পরামর্শ না দিয়ে যেন নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়।

কে শুনে নিয়মের কথা! নানা জনের নানান কথা। এক ম্যাডাম বলে বসলেন, যারা মঞ্চে বসে আছেন, অর্থাৎ উন্নত দেশের রাষ্ট্রদূতেরা, তারাই এদেশের সরকারকে পরামর্শ দিন, চাপ দিন, যেন সরকার নারী অধিকারের প্রতি আরও সহযোগী হয়। সম্প্রতি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক আইনে ‘বিশেষ ব্যবস্থায় বাল্যবিবাহ গ্রহণযোগ্য’ রাখার বিষয়টিকে তিনি ইশারা করছিলেন।

আরেকজন সংস্থাপ্রধান সোজা বলেদিলেন, নারীকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের সুযোগ করে দিলে নারী অধিকারের উন্নয়ন হবে। সাফ কথা। তার উত্তরে মনে হলো, তিনি একদম প্রস্তুত হয়েছিলেন এই প্রশ্নের জন্য।

শিক্ষার কথা শুনে আরেকজন ইস্মার্ট আপু প্রায় ক্ষেপে গেলেন। শিক্ষা? এটি কি শুধু নারীর একারই প্রয়োজন? পুরুষ তার শিক্ষার অভাবেই নারীকে মানুষ মনে করেনা। পুরুষ যদি প্রকৃত শিক্ষা পায়, তবে নারীকে তার যোগ্য মর্যাদা দেবে। তার মতে শিক্ষার প্রয়োজন নারী পুরুষ উভয়েরই। দর্শকের কর্তালি।

একজন বিদেশি ভাই বেশ মজা করে বললেন, সমস্যাটি নারীর নয়। নারীকে অবদমিত রাখা, তার অধিকারকে অবহেলা করা, একান্তই পুরুষের সমস্যা। এতে নারী কেন কেঁদেকেটে মরবে? যাদের সমস্যা তাদেরকেই সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই তাতে কর্তালি দিয়ে সমর্থন জানালো।

 

প্রেক্ষিত: নারী অধিকার

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্টের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট একটি বিশেষ নাটকে অভিনয় করলেন সোয়া একঘণ্টা ধরে। সঙ্গে আরও ছ’জন। সবাই কোন-না-কোনদেশের রাষ্ট্রদূত! নাটকের নাম ‘সেভেন’। এর পূর্বের দিন হয়ে গেলো এর বাংলারূপ ‘সাত’এর মঞ্চায়ন। সেখানেও ছিলেন সুলতানা কামালসহ সাতজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।

মুখতার মাই (পাকিস্তান), ফরিদা আজিজি (আফগানিস্তান), ইনেজ ম্যাকরম্যাক (উত্তর আয়ারল্যান্ড), ম্যারিনা পিসলাকোভা পার্কার (রাশিয়া), আনাবেলা ডি লায়ন (গুয়াতেমালা), মুসো চুয়া (কম্বোডিয়া) এবং হাফসা আবিওয়ালা (নাইজেরিয়া) – এই সাত নারীর প্রত্যেকেই একজন নাট্যকার। প্রতেক্যেই একটি করে সংগ্রাম করে এসেছেন।

’সেভেন’ নামের প্রামাণ্য নাটকটি আয়োজিত হয়েছে বিশ্বের সাত নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবার জন্য। আফগানিস্তান, উত্তর আয়ারল্যান্ড, রাশিয়া, গোয়াতেমালা, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া এবং নাইজেরিয়ার সেই সাত নারী নিজেই লেখেছেন নাটকের সংলাপগুলো। নিজেরাই এর নাট্যকার। নিজেদের জীবনের।

এটি কোন সাধারণ নাটক নয়। এর অভিনেতাও মঞ্চ কিংবা চলচ্চিত্র থেকে আসেন নি। খেলা, অভিনয়, সাংবাদিকতা, কূটনীতি, রাজনীতি, ব্যবসায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে যারা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, যাদের কথা মানুষ শুনবে, যাদেরকে দেখতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে জমায়েত হবে – তাদেরকে নিয়ে মঞ্চায়িত হয় ‘সেভেন’। বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার হয়েছে। চিত্রনায়িকা ববিতাকেও একটিতে দেখা গেছে।

এবছরের নারী দিবসকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন। আয়োজক সুইডিশ এম্বেসি, এম্বাসেডরস ফর চেইন্জ এবং জাতিসঙ্ঘের নারী বিষয়ক সংগঠনসহ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা। সাংগঠিকভাবে আমন্ত্রিত হয়ে এই সুযোগ পেয়েছিলাম।

এই অসাধারণ অভিজ্ঞতাটি পাবার জন্য দিনভর গাধার খাটুনি খেটেও সাতটার শো ধরেছিলাম।

 

আমাদের দেশের নারীকে কীভাবে আরও সক্ষমতা দিয়ে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?

শিক্ষার অভাব, ক্ষমতার অভাব, শিক্ষা দাও, ক্ষমতা দাও, ক্ষমতায়ন করো – এসব বিষয়গুলো আমার কাছে খুবই দায়সাড়া গোছের মনে হয়। লোক দেখানো। এগুলোতে মূল সমস্যাকে ঢেকে রাখা হয়েছে। দেশের অর্ধেক জনতাকে ‘অবলা’ রেখে একটি সমাজ এগুতে পারেনা। নারী দিবসের বাণী হোক, সুযোগ সৃষ্টি।

আমাদের সমাজে নারীর প্রয়োজন ‘সুযোগ’। সুযোগের অভাবে এখনও নারী অবলা (শক্তিহীন অর্থে) হয়ে আছে।আপনঘর থেকেই এটি শুরু হওয়া প্রয়োজন। তার পরিবার, এমনকি তার বাবাও তাকে সুযোগ দিচ্ছেন না। তার জন্মদাত্রী মাও দিতে ভয় পান। তার ভাই তাকে সুযোগ দিচ্ছে না, কারণ ‘মেয়ে মানুষের বিপদের শেষ নেই’।

নারীর প্রয়োজন শুধুই একটি সুযোগের। অংশগ্রহণের সুযোগ। নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ। কাজের সুযোগ। সুস্থ থাকার সুযোগ।যাতায়াতের সুযোগ। কথা বলা বা মতপ্রকাশের সুযোগ। কর্মসংস্থান, ব্যবসায়, রাস্তাঘাট, বাজার, সংবাদমাধ্যম সবজায়গায় নারীর জন্য জন্য একটু জায়গা।

স্বীকৃতিরও দরকার নেই, যত দরকার সুযোগের। সুযোগ পেলে স্বীকৃতি না পেলেও নারীর অর্জনকে দেখতে পাওয়া যাবে।

অনেক ক্ষেত্রে নারী নিজেও নিজেকে সুযোগ দিচ্ছেন না, নিজেকে তুলে ধরছেন না। নিজেকে দুর্বল দেখিয়ে তিনি সুবিধা নিতে চান। দুর্বলতাকে নারীত্বের প্রতীক হিসেবে দেখিয়ে তাতে সৌন্দর্য্য খুঁজছেন।

তো… কে দেবে এই সুযোগ? প্রথমত ‘আমি’নিজে। পিতা ‘আমি’, ভাই ‘আমি’, সহযাত্রী ‘আমি’, সহকর্মী ‘আমি’। তারপর পরিবার। তারপর সমাজ। তার পররাষ্ট্র। এবং অবশ্যই নারী নিজে!

 

 

———————–
*নোট: ভয়েসেস প্রজেক্ট নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন অধিকারকেন্দ্রিক নাটকগুলোকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে। সঙ্গে আছে ইউএনউইমেন

জন আব্রাহামকে কেন আমাদের অনুসরণ করা উচিত?

johnabraham_fitness

 

জন আব্রাহামকে কেন আমাদের অনুসরণ করা উচিত?


 

ভারতীয় সিনেমা স্টার জন অব্রাহামের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ আগে আমার ছিলো না। চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবে এখনও নেই। জন ছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্রে আরও অনেকেই আছেন যাদেরকে চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবে আমার পছন্দ। জন অনেকেরই হয়তো প্রিয় অভিনেতা নন। কিন্তু প্রেরণাদায়ক ফিটনেস কোচ এবং সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে জন অব্রাহাম অন্যদের চেয়ে আলাদা।

 

 

কথাগুলো একটু পড়ুন:

ফিট থাকুন, ফিট অবস্থায় মৃত্যুবরণ করুন। পরিশ্রম অস্থায়ি, গৌরব চিরস্থায়ি। ব্যায়াম আমার নেশা!

প্রতি রাতে আমি পার্টি করি না, অপচয় করি না, আমি বোতলের কর্ক খুলি না। আমি ব্যায়াম করি: দেহের ভারসাম্য ঠিক রেখে আমি নিজেকে সামনে ঠেলি, তারপর আরও কঠিনভাবে ধাক্কা দেই এই দেহকে, মিউজিক ছেড়ে দেই, ঘাম ঝড়াই, দেহকে কষ্ট দেই; ব্যথা আমার পছন্দ কিন্তু শুকনো দেহ অপছন্দ।

আমি বিরক্তির কারণ হই না, আমার সমালোচনা করবেন না: আপনারা ক্লাবে যেতে পারেন, জীবনকে চকচকে করে তুলতে পারেন; জিমের অন্ধকারই আমার ভালো লাগে, সারাদিন, প্রতিদিন।

 শুধু সুস্থরাই (ফিট) বেশিদিন বেঁচে থাকবে।

 

যখন জানলাম কথাগুলো ভারতীয় চলচ্চিত্রাভিনেতা জন অব্রাহামের, তখনই অবহেলায় আমার মন ভরে গেলো। ‘ও আচ্ছা’ ভুতের মুখে রাম নাম!  আমার দৃষ্টি চলে গেলো তার অভিনীত সিনেমাগুলোতে। বিভিন্ন মুভিতে তার সৌষ্ঠব দেহ এবং স্থিরচিত্রে তার উজ্জ্বল সুস্থতার চিত্র আমার কল্পনায় ভেসে ওঠলো।

সুস্থ দেহ কে না প্রত্যাশা করে? একটি নিরোগ দেহ কে না চায়? সুস্থতার ওপরে আর কী সুখের বিষয় থাকতে পারে?

 

 

আরও কিছু কথা:

“আমি অনেকটাই অজ্ঞেয়বাদী, দেহই আমার ধর্ম। দেহের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে কিছুই নেই, তাই আমি ব্যায়াম করি। আমার উদ্দেশ্যে হলো সিক্স-প্যাক নিয়ে বাঁচা এবং সিক্স-প্যাক নিয়েই মৃত্যুবরণ করা।”

“আমার ফিটনেস মন্ত্রটি তিনমুখী: ভালো খাবার, ভালো ঘুম এবং পরিমিত ব্যায়াম।”

ফিট দেহ আর সুস্থ মনই তার দিবারাতের উপাসনা- ফিটনেসই জন অব্রাহামের ধর্ম। ব্যাপারটি পুরোপুরি অনুকরণীয় না হলেও তার কিছু বিষয়কে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই!

 

ভালো কথা, আমি (এই পোস্টের লেখক) কোন ফিটনেস এক্সপার্ট  নই! তবে ‘আনফিটনেস অাবাটার’ বলতে পারেন! তবে একটি সুস্থ দেহ খুবই চাই।

 

 

যারা আরও জানতে যান:

ফিটনেস টিপস এবং জন অব্রাহামের আত্মসাক্ষ্য।

জন অব্রাহামের ফিটনেস/ ডায়েট চার্ট

‘আমি একজন মাছ-খাওয়া সব্জিভোজী’!

 

সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ ও গুজবের মাধ্যম। ছটি গ্র্যাবহাউজ ডট কম থেকে নেওয়া।

 

 


The ideology that John Abraham tries to promote:

  1. Live fit… die fit
  2. Pain is temporary… pride is forever
  3. WORKING OUT IS MY DRUG
  4. I don’t party every night, I don’t get wasted, I don’t pop bottles 
  5. I WORK OUT… I push my body to its limit, then I push harder, 
  6. I blast my music, I sweat, I ache, I love pain and I hate skinny.
  7. I don’t bother you, DON’T JUDGET ME, you can have the clubs and and the flashy life
  8. I’ll take the darkness of the gym, all day, everyday… 
  9. Only the fit survive 

 

হুন্ডি কেন অবৈধ?

jiggasha

 

 

হুন্ডি কি?  হুন্ডি প্রথার উৎপত্তি কোথা থেকে? এটি কেন অবৈধ?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

হুন্ডি একটি  নীতিবহির্ভূত এবং দেশের আইন দ্বারা নিষিদ্ধ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর ব্যবস্থা। Bill of Exchange বা বিনিময় বিল নামেও পরিচিত। বাণিজ্যিক লেনদেন এবং ঋন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। এখনও হয়। তবে তা অবৈধভাবে এবং অবৈধ উদ্দেশ্যে।

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

বাণিজ্যিক আদান বা ঋণ সশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত লিখিত  এবং শর্তহীন দলিল, যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে নির্দেশিত পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়। এই ব্যবস্থা মুগল আমলে পরিচিত লাভ করে, কিন্তু ব্রিটিশ আমলে জনপ্রিয়তা পায়। এখনও প্রবাসী চাকুরিজীবীরা একে আড়ালে ব্যবহার করছেন।

বর্তমান বিশ্বের ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করে হয় না বলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। তাই হুন্ডি ব্যবস্থাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইতিহাস সূত্র:

মুগল আমলে প্রতিষ্ঠিত অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থাটি ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। তারা একে দেশীয় ব্যবস্থা বলে মেনে নেয়। তবে বৈধতা দেবার জন্য রানীর সিলসহ স্ট্যাম্প ব্যবহারের প্রচলন করে।

Hundi Stamp (British India)

“হুন্ডি অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ার কারণে এর আইনগত অবস্থান নেই এবং সরকারের আওতাধীন আলোচনার কোন বিধিও নেই। হুন্ডি সাধারণত বিনিময় বিল হিসেবে বিবেচিত হলেও তা প্রায়শ দেশজ ব্যাংকার্স দ্বারা ইস্যুকৃত পে-অর্ডার চেকের সমমান হিসেবে ব্যবহূত হয়। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে শাখা অফিস অথবা প্রধান ব্যাংকিং হাউসগুলিতে কুঠির মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসা চলত। বলা হয়, বাণিজ্যিক ভারতের সকল অংশে জগৎ শেঠের ব্যাংকের শাখা অফিস ছিল। কিন্তু বাংলায় উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রভাবে তাঁদের আর্থিক শক্তির পতন শুরু হয় এবং আঠারো শতকের শেষে দেউলিয়া হয়ে পড়ে।” [বাংলাপিডিয়া]

 

সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

“গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার অর্থ এসেছিল হুন্ডির মাধ্যমে”। দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ সেপটেম্বর

 


সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বেশতো এবং হেল্পফুলহাব ডট কম। ব্রিটিশ সময়ের হুন্ডির ছবিটি ইন্ডিয়াস্ট্যাম্প ডট ব্লগস্পট ডকম থেকে।

যেসব কারণে ব্রিটেন ইইউ ছেড়ে বিশাল ভুল করেছে…

[courtesy: henry4school.fr]

 

তেতাল্লিশ বছরের উত্তেজনার পর ব্রিটেন এবার আত্মহত্যা করলো! ডেবিড ক্যামেরোনকে সন্তানহারা পিতার মতো বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। প্রতি বছর অক্সফোর্ড ডিকশনারি নতুন আবিষ্কৃত শব্দ তালিকা দেখিয়ে অহংকার করে, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে Brexit হবে নিকৃষ্টতম ইংরেজি শব্দ। অবশেষে ব্রেক্সিটকে শব্দ হিসেবে অক্সফোর্ড গ্রহণ করে কিনা, জানি না। এখন তো তাদের প্রিন্টেড অভিধানও নেই!  ব’ হলো সকল ‘বদ’ এর শুরু, বি’তে ব্যাড এবং বি’তে ব্রেক্সিট, যার আরেক অর্থ আত্মহত্যা। কোনটি বেশি খারাপ, বাংলা বদ, নাকি ইংরেজি ব্যাড? আচ্ছা বদ থেকে ব্যাড এসেছে, নাকি ব্যাড থেকে বদের উৎপত্তি? তার আগে একটি গল্প বলে নেই।

 

ধনী বাবার আদুরে ছেলে। বসে বসে খায় আর খেলে খেলে পেটের ভাত হজম করে। বড় ভাই কাবুল কঠোর পরিশ্রম করে বাবার সম্পদকে বৃদ্ধি করে চলেছে। কিন্তু ছোট ভাই আবুল ‍শুধুই দিবাস্বপ্ন দেখে আর মাসে মাসে বান্ধবী বদলায়। দিবাস্বপ্নটি হলো, একদিন সে তার বাবার সম্পত্তির মালিক হবে। অন্তত অর্ধেক সম্পত্তির মালিক তো সে হবেই, কারণ মাত্রই দু’ভাই।  অতএব তার আর কাজ করার কী দরকার!

সে কোন কাজ করে না, করার প্রয়োজনও পড়ে না। ছোট সন্তান হিসেবে সকলেই তাকে স্নেহের দৃষ্টিতে দেখে। তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করলেও তার শ্রম বা কাজ নিয়ে কেউ ভাবে না। বড় ভাই, প্রতিবেশি, মা, আত্মিয়স্বজন সকলেই এটি মেনে নিয়েছে।  ফলে পারিবারিক আয়বৃদ্ধিতে ছোট ছেলের অবদান নিয়ে কেউ ভাবে না। অথচ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সে-ই সকলের আগে। কেনই বা হবে না, সে তো ছোট সন্তান! তার একটু বাড়তি অধিকার তো থাকতেই পারে! তাছাড়া এত সম্পত্তি কে ভোগ করবে?  তার কি সেখানে ভাগ নেই?  অন্তত অর্ধেক?

কিন্তু তার আর তর সইছে না। হইহুল্লা আড্ডাবাজি করার জন্য দরকার যখনতখন যেকোন পরিমাণ টাকাপয়সা। বান্ধবির সাথে সময় কাটাতেওতো টাকার দরকার। ওদিকে বাবা তো চাইলেই টাকা দিচ্ছে না! এই বুড়োটা কবে মরবে? এই সম্পদ কি তারই নয়? অন্তত অর্ধেক?

বাবা তো তাড়াতাড়ি মরবে বলে মনে হচ্ছে না। বরং কামকাজ করে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠছে! তবে কী করা? সবাই তাকে পছন্দ করে, বাবা কেন তাকে পছন্দ করে না? কেন শুধু নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলে?  বাবা তার বড় সন্তানের সাথে সবসময় হাসিমুখে কথা বলে, অথচ তাকে দেখলেই সব হাসি থেমে যায়। সমাজের সবাই তার বড়ভাইয়ের প্রশংসা করে। বাবাকে সকলে ডাকে ‘কাবুলের বাবা’। কিন্তু বাবা তো আবুলেরও বাবা! এভাবে  বড়ভাইয়ের গুণের কাছে আবুল যেন দিন দিন ছোট হতে হতে মিশে যাচ্ছে। এরকম অস্তিত্বহীনতায় সে আর থাকতে চায় না।

এনিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর সে ভেবেছে এবং অপেক্ষা করেছে।  এখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক। আর কত? এবার বাবার সাথে একটা এসপার-ওসপার করা দরকার। অনেক চিন্তা করে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্সিট! সে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাবে। নাহ্ আর নয়!  বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। স্বাধীন হয়ে গেলে সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। জীবনকে সে উপভোগ করতে চায়। তার কিসের এতো চিন্তা?  বাবার সম্পদ আছে না? অন্তত অর্ধেক?

ছোট ছেলে আবুলের ‘এক্সিট’ প্রস্তাবে বাবা স্তম্ভিত এবং ব্যথিত! প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার মতো উপযুক্ত কোন কথা বাবা খুঁজে পেলেন না। সন্তানদের নিয়ে তার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মার! তিনি শুধু বললেন, আগামি এক সপ্তাহ সময় দিলাম তোমাকে। এক সপ্তাহ পর রাতের খাবারে যখন সকলে উপস্থিত থাকে, তখন তোমার মনের কথা সকলের সামনে প্রকাশ করবে।

একটি সপ্তাহ আবুলের জন্য দীর্ঘ সময়। তবু সে খুশি মনেই মেনে নিলো। কারণ সে ভেবেছিলো, তার বাবা সাথে সাথে প্রত্যাখ্যান করবে অথবা খালি হাতেই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে।

এক সপ্তাহ পর আবুল রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করলো।  সকলের উপস্থিতিতে সে জানিয়ে দিলো যে, সে আর পরিবারের সাথে থাকতে চায় না। প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার তার আছে। বাবা একদিন পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে ছোট সন্তানকে তার সম্পদের ভাগ বুঝিয়ে দিলেন। ছোট সন্তান সব বিক্রি করে দিয়ে বাড়িছাড়া হয়ে গেলো।

দূরদেশে চলে গেলো আবুল, যেখানে পরিবার বা আত্মীনস্বজনদের কেউ তাকে পাবে না। বাবার সম্পদের টাকা পেয়ে আবুল ধনী হলেও, তার স্বভাবের পরিবর্তন হলো না। ফলে কিছুদিন হিসেব করে চলার পর পূর্বের উড়নচণ্ডে জীবনে ফিরে গেলো এবং কয়েক মাসের মধ্যে সব টাকা খরচ করে ফেললো। তৃতীয় মাসের এক ভোর সকালে আবুল তার বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ক্ষমা চেয়ে বললো, সন্তান হিসেবে নয়, বাড়ির চাকর হিসেবে বাবা যেন তাকে একটি কাজ দেয়। সন্তানহারা বাবা সন্তান পেয়ে এবারও স্তম্ভিত এবং বাক্যহারা। আবুল ক্ষমা পেলো, কাজও পেলো। কিন্তু আর সেই সন্তানের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে পারলো না।

 


ইউরোজোনে থেকে কিছুই লাভ হয় নি আমাদের।  সব লাভ নিয়ে গেছে উত্তর আর পূর্ব ইউরোপিয়ানরা। উত্তর ইউরোপিয়ানরা দলে দলে এসে আমাদের দেশ ময়লা করে ফেলেছে। দেশটারে শেষ ‘করি দিছে’!

ব্রিটেন হলো ইউরোপের মুকুট। আছে এর শতবছরের গৌরব আর প্রতিপত্তি। ইউরোপের গড়পরতা দেশগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটেন হারিয়ে যেতে বসেছিলো। ব্লা..ব্লা..

এই হলো ব্রেক্সিটপন্থীদের (৫১.৯/৪৮.১) মনোভাবের একটি সামারি পিকচার। অথচ বাস্তব পরিস্থিতি অন্যরকম। একান্তই একলা চলার মনোভাব থেকে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফল হিসেবে ৫১.৯% জনগণ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার বিপক্ষে মত দিয়েছে। এ মনোভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং অগ্রগতির পরিপন্থী। ব্রিটেন একটি স্বার্থবাদী মনোভাব দেখিয়েছে। এতে তাদের কতটুকু লাভ হবে, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এমুহূর্তে যতটুকু বলা যায়, তাতে তাদের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে না।

 

ইউরোপের দরজা হিসেবে লন্ডন বা ইংল্যান্ডকে আর কেউ ব্যবহার করবে না।

ইউরোপের দরজা হিসেবে লন্ডন বা ইংল্যান্ডকে আর কেউ ব্যবহার করবে না। অন্তত পরিস্থিতি আর বিগত ৪৩ বছরের মতো এতো উদার হবে না। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পর্যটক, গবেষক সকলের জন্য লন্ডন ছিল সমগ্র ইউরোপের জন্য গেইটওয়ে। এই সুযোগকে বেশি কাজে লাগিয়েছে ব্রিটিশ ব্যবসায়িরা। তারা অন্যান্য ইউরোপিয় দেশে অবাধে রপ্তানি করেছে। ইংল্যান্ডও পেয়েছে বিশাল রাজস্ব আয়। উপকৃত হয়েছে ব্রিটিশ জনগণ।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকার সমস্ত সুবিধাগুলো হারালো।

ব্রিটেনবাসীরা সিদ্ধান্ত ফেললেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে কিছু সময় লেগে যাবে। তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকার সুবিধাগুলো হারাবে।

ব্রিটিশদের সূর্য একসময় ডুবতো না (সূর্য তো কখনও ডুবতো না আজও ডুবে না!)। এরকম বলা হতো, কারণ পৃথিবীটাকে ব্যান্ডেজ করে রেখেছিল ব্রিটিশ কলোনী। সে দিন আর নেই, চীন ভারত ইত্যাদি জনসংখ্যা বহুল দেশগুলোতে পুঞ্জিভূত হচ্ছে বিশ্ববাজারের মুনাফা।  এখন ব্রিটেনের একা থাকা মানে হলো বোকা থাকা।  জোটবদ্ধ থাকার সকল বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হারাতে বসেছে আজকের ব্রিটেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন না হয় ছেড়েই দিলো, কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে ভৌগলিকভাবে কি বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে ব্রিটেন? বলতে কি পারবে, যাও তোমরা আর প্রতিবেশি নও? ফলে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক, কূটনৈতিক সুবিধাদি, জোটবদ্ধ হয়ে কোন সুবিধা আদায়, ইত্যাদি ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাবে সকল বিশেষ অধিকার।

ইইউ’র সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বিছিন্ন হবার পর ইউরোপের দেশগুলোর সাথে স্বার্থের সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য ব্রিটেনকে নতুনভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করতে হবে।একই ভাবে ইইউ’র সাথেও সম্পর্কের শর্তগুলো নতুনভাবে নির্ধারণ করে নিতে হবে।

 

বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব খাটাবার শেষ অস্ত্রটুকু শেষ হলো।

কূটনীতি শুরু করতে হবে একদম ‘অ্যালফাবেট এ’ থেকে। বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব খাটাবার শেষ অস্ত্রটুকু শেষ হলো। কমনওয়েলথ আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক তৈরি ও রক্ষার ক্ষেত্রে ব্রিটেন এখন আর ‘নেগোশিয়েটিং লেভারেজ’ পাবে না। উদ্যোগ নিতে হবে তাদেরকেই, কিন্তু অন্যরা পাবে এর সুবিধা।

কমনওয়েলথ বা সাবেক কলোনিগুলো তো আর বর্তমান কলোনি নয়। তারা স্বাধীন দেশ। অতএব কমনওলেথভুক্ত দেশগুলোর সাথেও নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

 

ব্যবসায়িক অংশীদার এবং শ্রম ও মূলধনের উৎস খুঁজতেও ব্রিটিশদেরকে এখন মরিয়া হয়ে দৌড়াতে হবে।

রাজনীতি না হয় বাদ দিলাম, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং শ্রম ও মূলধনের উৎস খুঁজতেও ব্রিটিশদেরকে এখন মরিয়া হয়ে দৌড়াতে হবে। ভারত বা চীনের সাথে এককভাবে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে নিজেদের তাগিদেই। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

 

ভাই ডেভিড ক্যামেরোন, আপনার শেষের হলো শুরু! 

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরোনকে এবার দিন গুণতে হবে। রাজ্য শাসন আর আগের মতো কুসুমাস্তির্ণ হবে না, হবার নয়। মূলত তিনি এই গণভোট চান নি, বরং ইইউতে থাকার পক্ষে জোর তৎপরতা চালিয়েছেন। কিন্তু  নিজদলের ভিন্নপন্থীদেরকে থামিয়ে রাখা, নতুন কোন রক্ষণশীল মতের উত্থান ইত্যাদি বহুমুখি চাপে পড়ে সরকার প্রধান হিসেবে তাকে এই ‘বিষের পেয়ালা’ পান করতে হয়েছে। কিন্তু এবার নিজ দলেও তার প্রভাব কমে আসবে। দলের এক্সিটপন্থীরা তার বিপক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাকে নামিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাকেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

 

ব্রিটেনের আর্থিক ক্ষতি।

পাউন্ড এবং স্টকমার্কেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি তাৎক্ষণিক না হলেও পর্যায়ক্রমে।  এরকম পরিস্থিতিতে ক্যামেরোনের হাত শক্ত না থাকা মানে হলো, ইইউ’র সাথে উপযুক্ত দর কষাকষিতে ব্যর্থতা।  ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়।  আরও কোন অর্থনৈতিক শক্তি সম্বলিত সদস্য যাতে ইইউ ছাড়তে না পারে, এজন্য তারা একটু নিষ্ঠুরভাবেই ব্রিটেনকে ছাড়পত্র দেবে। তাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্রিটেন এবং ব্রিটেনবাসী।

ইউরোপ ছিলো ব্রিটিশ পণ্যের বিস্তৃত এবং নির্ভরযোগ্য বাজার। ব্রিটিশ পণ্যগুলো আর আগের মতো বিশেষ অধিকার বা নামে মাত্র শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে না কোন ইউরোপিয়ান দেশে। ফলে রপ্তানি পড়বে অনি্শ্চয়তার মুখে।

 

অভিবাসন, আসা-যাওয়া আর আগের মতো নয়।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় ১২ লাখ ব্রিটিশ।  তারা নিজ দেশে পাঠাচ্ছে তাদের দৈনিক ও মাসিক আয়। সমৃদ্ধ হচ্ছে  ইংল্যান্ড।  অবশ্য অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশ থেকেও ব্রিটেনে গিয়ে কাজ করছে এরকম দৃষ্টান্তও কম নয়। তবে ইইউ ছাড়ার পর ব্রিটেনের ক্ষতি হবে বেশি, কারণ বাণিজ্যিক স্বার্থ তাদেরই যে বেশি।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শর্ত অনুযায়ি, ব্রিটেন ইউরোজোন ছাড়া অন্য কোন দেশে থেকে অভিবাসী দিতে নেওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে থেকে শ্রমিক রপ্তানি কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতি বছরই ব্রিটেন তাদের ভিজা দেবার শর্ত কঠোর করে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গরিব দেশগুলো। ইংল্যান্ড যেহেতু ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন এসব দেশ থেকে মানুষ নেবার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। লন্ডনে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা অন্তত এরকমই আশা করছেন।

 

ইউনাইটেড কিংডম এর ‘ইউনাইটেড’ থাকা অনিশ্চিত হয়ে গেলো।

ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে ইউনাইডেট কিংডম বা যুক্তরাজ্য, যাকে এপর্যন্ত ব্রিটেন বলে এসেছি। স্কটিশরা ইইউতে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আয়ারল্যান্ডও।  তারা যে ব্রিটিশ শাসনকে খুব একটা মেনে নিয়েছে তা কিন্তু নয় (২০১৪ সালে ৪৪ শতাংশ স্কটিশ স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দিয়েছিল)। ইইউকে তারা ব্রিটিশদের ওপরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পেয়েছিলো। এবার ব্রিটিশ-বিরোধী অংশটি আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠতে পারে।

ইইউ ছাড়ার সিদ্ধান্তে হয়তো এককভাবে ব্রিটেনের উন্নতি হবে, হয়তো হবে না। সর্বশেষ পরিস্থিতি হয়তো খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবো না। কিন্তু যা জানতে পারলাম তা হলো, ব্রিটিশরা আধুনিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।  (২৪/জুন/২০১৬)

 

 

 

brexit-800x500

পরবর্তি ঘটনা প্রবাহ:  ভোটাররা আবার সুযোগ পেতে চান

ভোটার ১: যদিও আমি (ইইউ) ছাড়ার জন্যই ভোট দিয়েছি, ভোটের ফলাফলে সত্যিই আমি হতাশ। আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠে যা দেখলাম তাতে আঘাত পেয়েছি। কিন্তু আমি যদি আবার সুযোগ পাই, তবে থেকে যাবার জন্যই ভোট দেবো।
ভোটার ২: মিথ্যাকে বিশ্বাস করে আমি ভোট দিয়েছিলাম এখন আমার খুব আফসোস হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার ভোট সত্যিই ছিনতাই হয়েছে।
ভোটার ৩: আমি একটু আফসোসই করছি। আমি যা করলাম, এর পেছনে বিশেষ কোন যুক্তি ছিলো না।
ভোটার ৪: আমার ভোটটির জন্য আফসোস হচ্ছে।
ভোটার ৫: আমার ভোটটি যে এত বিশাল পরিণতিতে যাবে আমি বুঝতে পারি নি। ভেবেছিলাম অবশেষে আমরা (ইইউতে) থেকেই যাচ্ছি।

ব্রেক্সিটের প্রভাব ব্রিটেন এবং ব্রিটেনের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। শঙ্কার বিষয় হলো: গণভোট-ভিত্তিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এবার শুরু হবে গণভোটের যথেচ্ছা ব্যবহার। ট্রাম্প-স্টাইলের উগ্রজাতীয়তাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে করে তুলছে যুক্তিসঙ্গত পরিণতি। কিছু ঘটনা খুব দ্রুত ঘটে গেলো:

✦ব্রেক্সিট বর্ণবাদকে আধুনিক স্টাইলে প্রতিষ্ঠিত করলো আবার। অন্যদেশ থেকে আগত কিন্তু ব্রিটেনের নাগরিকেরা বর্ণবাদের স্বীকার হচ্ছে যেখানে সেখানে। স্কুলের বাচ্চারা ব্রিটিশ অরিজিন বাচ্চাদের বুলি’র স্বীকার হচ্ছে। এসব নোংরামির একনম্বর স্বীকার হচ্ছেন নারী।
✦ব্রেক্সিট বাস্তবায়িত হলে স্কটল্যান্ড খুব শিঘ্রই যুক্তরাজ্য থেকে বের হবার আয়োজন করবে।
✦ইইউ থেকে ইটালি, ফ্রান্সের মতো ধনী দেশগুলোর উগ্র-জাতিয়বাদী দলগুলোও নিজ নিজ দেশে গণভোটের জন্য চাপ দেবে।

✦ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস-ক্যালিফোর্নিয়ার লোকেরা গণভোটের চিন্তা করছে। তারাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হয়ে যাবে।

✦অনেকেই না বুঝে বা মিথ্যা প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করেছে, তার ভোটে কিছু যাবে আসবে না। দিনশেষে ব্রিটেন ইইউতেই থেকে যাচ্ছে। সকালবেলা ঘুম থেকে জেগে তো চক্ষু চরক গাছ!
✦এরকম ১৯ লাখ ব্রিটিশ আবারও গণভোটের ব্যবস্থা করার জন্য চাপ দিয়েছে। কিন্তু ক্যামেরুন সাফ জানিয়ে দিলো, ’আর নয়। এত করে কইলাম শুনলা না। এবার প্রতিফল ভোগ করো। আমিও বিদায় নিচ্ছি।’ অজনপ্রিয় ক্যামেরুন আগেই বেশি কথা বলে বিষয়টাকে টক বানিয়ে ফেলেছিলেন। যা হোক।

✦ওদিকে যেসব গরীব দেশ শ্রমিক অথবা সস্তা শ্রমজাত পণ্য রপ্তানি করে একটু এগিয়ে যাবার ধান্ধা করছিলো, তারা পড়লো বিপাকে। বাংলাদেশ তার মধ্যে এক নম্বর।

 

ব্যক্তিগত পর্যালোচনা: ব্রিটেন কার স্বার্থে এ সিদ্ধান্তে গেলো?

দেশের জনগণ তো নিজেদের স্বার্থের কথাই ভাববে, এটিই স্বাভাবিক। দেশের যারা নেতা, তাদের দায়িত্ব আছে জনগণের মনোভাবকে আত্মকেন্দ্রীকতা থেকে পারস্পরিক সহযোগিতার দিকে পরিচালিত করা। আমার মনে হয়, যারা ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, তারা সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে বেশি ভেবেছে। হয়তো ব্রিটেনের উন্নতি হবে, হয়তো হবে না। সর্বশেষ পরিস্থিতি হয়তো খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবো না। কিন্তু যা জানতে পারলাম তা হলো, ব্রিটিশরা আধুনিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইইউ বর্তমানে দুর্বল আছে বলেই ব্রিটেনের প্রস্থান সহজ হলো। তবে মনে রাখতে হবে যে, ব্রিটেন একটি রাষ্ট্র, কিন্তু ইইউ একটি রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাদের সংগঠিত হবার শক্তি এবং প্রয়োজনীয়তা উভয়ই বেশি। পরিণতি যেকোন দিকে মোড় নিতে পারে। কিন্তু আমার ইনটুইশন বলছে যে, ব্রিটেন রাষ্ট্র হিসেবে শক্তিশালী হলেও সেটি কখনও ইইউ’র দুর্বল হবার কারণ হবে না।

ইউ’র ক্ষতি হবে এবং বেশ কিছু চ্যালেন্জের মুখে পড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। কিছু দেশের ইইউ-বিরোধীরা (ফ্রান্স, ইটালি) ইতোমধ্যেই নিজ নিজ দেশে গণভোটের জন্য আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে।

ইইউ ভেঙ্গে যেতে পারে, এর মানে এই নয় যে, ব্রিটেন সঠিক কাজটিই করেছে। ব্রিটেন একবিংশ শতাব্দিতে এসে একটি বিশ্বায়নবিরোধী এবং সামন্তবাদি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য ব্রিটেন তার নিজেদের ক্ষতি এবং ইইউ’র সংশ্লিষ্ট ক্ষতির জন্য দায়ি থাকবে। ইতিহাস কাউকে ছাড়বে না।

 

ব্রিটেন ঐতিহাসিক ভাবেই স্বার্থপর জাতি। এদেশকে শোষণ করা শেষ হবার পর, যখন নিচে গরম লাগা শুরু করেছে, তখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নাম দিয়ে বিদায় নিয়েছে। ওরা দু’শ বছর নাগাদ না থাকলে ভারত উপমহাদেশে আরও আগেই গণতন্ত্র জন্ম নিতো এবং আজ আমরা আরও পরিপক্ক গণতন্ত্র নিয়ে আরও সমৃদ্ধ দেশে থাকতে পারতাম।

 

 

প্রথম প্রকাশ এবং পাঠক প্রতিক্রিয়া

 

 


ইইউ-বিযুক্ত যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশ: প্রকাশিত খবর অনুসারে হাসিনা ব্যক্তিগতভাবেও প্রভাব খাটিয়েছেন, ব্রিটেনকে ইইউ’র পক্ষে ভোট দিতে। এর প্রধান কারণ হলো, দেশের রপ্তানি-জাত পণ্যের জন্য ইইউ’র বিস্তৃত বাজার ও জিএসপি সুবিধা।  ইইউ ছাড়ার কারণে বাংলাদেশকে ব্রিটেনের সাথে আলাদাভাবে চুক্তি করতে হবে। তাতে পূর্বের সুবিধা কতটুকু থাকবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

ইন্টারনেট অফ থিংস: ‘বস্তুর সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ’ কী এবং কেন?

উৎস: থ্রিজি ডট কো ডট ইউকে

উৎস: থ্রিজি ডট কো ডট ইউকে

 

ইন্টারনেটে আজ পর্যন্ত যত তথ্য মজুদ আছে তার অধিকাংশই মানুষের স্পর্শের মাধ্যমে হয়েছে। মানুষ হয় টাইপ করেছে, অথবা রেকর্ড বাটনে চাপ দিয়েছে, অথবা ক্যামেরায় চাপ দিয়ে ‍ছবি তোলার মাধ্যমে ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভাণ্ডার সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের কার্যকারিতা পুরোমাত্রায় মানুষের ওপর নির্ভরশীল।

 

মানুষ মাত্রই ভুল। মানুষের অসীম চাহিদা, কিন্তু তার একক ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত, ত্রুটিপূর্ণ এবং নীতিভ্রষ্ট। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণে মানুষের চাহিদার প্রকার ও প্রকৃতি বেড়েছে। ফলে মানুষের স্পর্শের ওপর নির্ভরশীল থেকে বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তির চাহিদার যোগান দিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

ইন্টারনেটের সুবিধাকে মানুষের হাতের স্পর্শ থেকে স্বাধীন করার কাজটি কয়েক দশক ধরেই চলে এসেছে। এই প্রচেষ্টার তাত্ত্বিক নামই হলো ‘ইন্টারনেট অভ্ থিংস’ বা বস্তুর সাথে ইন্টারনেট বা ‘বস্তুগত ইন্টারনেট’।  সংক্ষেপে আইওটি।

 

ব্রিটিশ উদ্যোক্তা কেভিন অ্যাশটন তার একটি উপস্থাপনায় সর্বপ্রথম ‘ইন্টারনেট অভ্ থিংস’ কথাটির ব্যবহার করেন (১৯৯৯)। যদিও ইন্টারঅ্যাকটিভ এবং ইন্টারনেট-যুক্ত যন্ত্রের ধারণাটি আরও আগেই আলোচনায় এসেছে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী কোক সরবরাহকারী মেশিন আবিষ্কার করে বিশ্বের সর্বপ্রথম ইন্টারনেট-কানেকটেড যন্ত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

 

 

▶ ইন্টারনেট অভ্ থিংস কী

 

ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর প্রধান দিকটি হলো এই যে, প্রতিটি বস্তুরই সংযোগ করার ক্ষমতা থাকবে যেন সেটি তথ্য আদান-প্রদান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে কোন সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ দিতে পারে। যেমন: ফ্রিজে রাখা কোন অবশ্য প্রয়োজনীয় খাবার জিনিস শেষ হয়ে গেলে, ফ্রিজ তার নিজস্ব বিল্টইন সেন্সরের মাধ্যমে বুঝতে পারবে এবং মালিককে মনে করিয়ে দিতে পারবে।

 

‘থিংস’ বা বস্তু হতে পারে মানুষের ভেতরেরই একটি হৃদকম্পন পরিমাপক যন্ত্র যার মাধ্যমে সেই মানুষটি চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই নিজের হার্টের অবস্থা বুঝতে পারবে।

‘থিংস’ হতে পারে গাড়ির চাকায় যুক্ত একটি সেন্সর, যার মাধ্যমে ড্রাইভার গাড়ির চাকায় গ্যাসের চাপ বুঝতে পারবে।

একটি স্মার্ট মিটার কেমন হতে পারে?  এটি নিজে থেকেই গাড়ির জ্বালানির পরিমাণ বুঝে আরেকটি জ্বালানি সরবরাহকারী যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

শুধু সেন্সর নয় যোগাযোগ সক্ষমতা থাকতে হবে। প্রতিটি যন্ত্রেরই একটি আইপি অ্যাড্রেস থাকবে।  তাতে এটি আরেকটি যন্ত্র অথবা মানুষের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে।

 

 

▶ ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর ব্যবহার

 

সুন্দরবনের গাছ কাটা ও স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ। হরিণ শিকার তো আরও নিষিদ্ধ। কিন্তু দুর্গম এবং হিংস্র প্রাণীর অভয়ারণ্য সুন্দরবনে চোর হয়তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাবেই।  কিন্তু আমাদের বনরক্ষকরা কি ততটুকু ঝুঁকি নেবেন?  তাদের তো কিছুই পাবার নেই!  জিপিএস-এর মাধ্যমে একাজটি সহজ করে দেবে ইন্টারনেট অভ্ থিংস।  এটি একই ক্ষীপ্রতায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তার কম্পিউটারে ও স্মার্টফোনে প্রমাণসহ বার্তা পৌঁছে দেবে।  নিকটস্থ পুলিশ তৎক্ষণাৎ নিজের করণীয় ঠিক করতে পারবে।

 

রেলক্রসিংয়ে প্রায়ই মানুষ মারা যাচ্ছে এবং যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে।  রাস্তার মোড় মানেই যানজট, কারণ পুলিশ সময়মতো সিগনাল দিতে পারে না, অথবা ভিআইপিদেরকে রাস্তা দেবার জন্য উল্টোদিকে গাড়ি চলতে দিচ্ছে। সিগন্যাল দিলেও চালকেরা সেটি মানতে চায় না, অথবা না মানলেও রক্ষা পায়।  এমনও হয়েছে, পুলিশ বা যাত্রীর ওপর গাড়ি তুলে দিয়েছে।  মানুষ মানুষকে মানতে চায় না, ভয়ও পায় না। ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এখানে আইওটি’র কোন বিকল্প নেই, কারণ এখানে মানুষ মাত্রই ভুল এবং বিলম্ব।

 

সার্বিকভাবে কৃষি উন্নয়ন, ভবন ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনাসহ স্মার্ট সিটি বিনির্মাণে ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর ব্যবহার দেখা যাবে।

 

উৎস: পোস্টস্কেইপ ডট কম

উৎস: পোস্টস্কেইপ ডট কম

 

 

▶ ইন্টারনেট অভ্ থিংস-এর আরও কিছু ব্যবহার:

 

১) পরিবারের বৃদ্ধ সদস্যটির দেখাশোনা।  তারা আমাদের বৃদ্ধ মা অথবা বাবা, যাদেরকে রেখে এসেছি গ্রামের বাড়িতে অথবা শহরেরই বাড়িতে। তার শরীরে কোন আকষ্মিক পরিবর্তনের কারণে তার চলাফেরায় পরিবর্তন আসলে অফিস থেকেই সেটি আঁচ করতে পারা যাবে।  পরিচর্যাকারী হয়তো সময়মতো ওষুধটুকু খাওয়াতে পারে নি অথবা দুপুর খাবারটুকু সময়মতো খেতে দিতে পারে নি।  মানুষের ভুল হতেই পারে!

২) আপনার ওয়ালেট অথবা মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেছে।  অথবা গাড়ির চাবিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  সকলের ব্যস্ততম মুহূর্তে মাথায়ও কাজ করছে না।  কীভাবে সেগুলোকে ট্র্যাক করবেন?  সমাধান আইওটি!

৩) নিজের বাসগৃহকে দুর্ঘটনার কবল থেকে মুক্ত রাখতে কে না চায়!  গ্যাসলাইন অথবা বিদ্যুৎলাইনের ত্রুটির কারণে, অথবা রান্নার চুলাটি সময়মতো বন্ধ না করার কারণে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে খবর দেবে আইওটি।  আপনি যেখানেই থাকুন না কেন!

৪)  ট্রাফিক ব্যবস্থপনার মতো, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং লাইটিং সিস্টেমের ব্যবস্থা এমন কিছু কাজ যা নিয়মিত না করলে একজনের জন্য অনেকের সমস্য হয়।  লাইটিং সিস্টেমের ব্যবস্থাপনা শুধু সূর্যাস্তের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়, আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় বিকালেই রাতের অন্ধকার নেমে আসে।  অন্যদিকে ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাতের আধারেও লাইটিং সিস্টেম বন্ধ করতে হয়। এসবের জন্য চাই আইওটি, অর্থাৎ যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের সংযোগ

 

 

▶ লেখককের কথা

 

আইওটি কোন নতুন বিষয় নয়।  তবে এর ব্যবহার ও কার্যকারীতা সম্পর্কে ক্রমেই নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হচ্ছে।  উন্নয়নকামী দেশগুলোর জন্য আইওটি এখনও অনেকটাই অধরা।  বাংলাদেশের বর্তমান সরকার আইওটি’র সাথে নগর ব্যবস্থাপনাকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে।

আইওটি’র প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো,  সময়নিষ্ঠতা, ত্রুটিহীনতা এবং গুণগতমানের ধারাবাহিকতা।  আপাত দৃষ্টিতে এর কার্যকারিতা অসীম। তবে অনুভূতিপ্রবণ মানুষের চাহিদা ও গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে এটি কতটুকু যত্মশীল, সেটি সময়ই বলে দেবে।

 

বর্তমান প্রবন্ধটিতে ইন্টারনেট অভ্ থিংস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাগুলো উপস্থাপন করা হলো।  উদ্দেশ্য, সকল পর্যায়ের পাঠককে ‘ইন্টারনেটের সঙ্গে বস্তুর সংযোগ’ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দেওয়া। তাত্ত্বিক আলোচনা যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।  পরিবর্তি কোন লেখায় আরও বিস্তারিত তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে।  হাইপারলিংক দিয়ে প্রাসঙ্গিক সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

 

উৎস: ক্রসবার-ইন্ক ডট কম

উৎস: ক্রসবার-ইন্ক ডট কম

 

*আইওটি নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথম প্রবন্ধ: বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর

 

 

 


নতুন বিষয় নিয়ে লেখা আরও কয়েকটি প্রবন্ধ:

ব্লু চিপ কী: ব্লু চিপ কোম্পানিগুলো কেন এত নির্ভরযোগ্য?

◀ নীলসমুদ্র/ লালসমুদ্র কী? কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে লাভবান হওয়া যায়?

অনলাইন জীবন কি প্রাত্যাহিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে? চলুন খুঁজে দেখি!

work_home_play_sleep_cartoon_this_modern_life_

 

আমার ব্লগার বন্ধুটি তার কাজ বদলানোর পর আর ব্লগিং করেন না। ফেইসবুকেও খুব একটা দেখা যায় না। অনেক সহপাঠি তাকে খুঁজেন অনলাইনে। বেশ ভালোই লেখতেন। আমি একটু বিস্মিতই হলাম, কারণ তার একটি পাঠকবলয় গড়ে ওঠেছিল, যা হয়তো অনেকে ঈর্ষা করবে।

একদিন মুখোমুখি আড্ডায় অনেক কারণ জানালেন তিনি। তার বর্তমান কাজটি এরকম যে, কম্পুতে বসে অন্যকিছু করার সুযোগ হয় না; ব্লগিংয়ের প্রশ্নই আসে না। কম্পুতে বসলেও নির্দিষ্ট কিছু কাজ থাকে তার সামনে। তাছাড়া অফিসের নৈমিত্তিক ব্যস্ততায়, ব্যক্তিগতভাবে কম্পুতে কিছু করা অস্বস্তিকর। তবে তিনি আত্মস্বীকার করে জানালেন যে, শারীরিকভাবে তিনি অনেক সুস্থ এবং হালকা অনুভব করেন আজকাল। তার পূর্বের কাজে বেশি বসে থাকার কারণে ‘মোটিয়ে’ গিয়েছিলেন এবং বেশকিছু রোগ-ব্যামারও বাধিয়ে ফেলেছিলেন। এসব নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে বচসা লেগেই থাকতো। এবার তার সাংসারিক জীবনও আগের চেয়ে ভালো। সম্প্রতি তিনি জানালেন যে, ব্লগিং ভুলে যান নি, ভোলার নয়। বরং প্রাত্যাহিক জীবনে ব্লগিংয়ের সামাজিকতাকে প্রয়োগ করছেন এবং অনিয়মিতভাবে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন, যা হয়তো বই আকারে বের হতে পারে।

এবার একজন প্রাক্তন সহকর্মীকে নিয়ে একটি বেদনাদায়ক ঘটনা বলছি। আমরা একসাথে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে গেলে, তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমে গিয়ে যোগদান করেন। তার মুখেই বলা এই কাহিনি। আমি ছাড়া হয়তো আর কেউ জানে না। তাদের অফিসে এক সময় সকলেই ফেইসবুক টুইটার ইত্যাদি ব্যবহার করতো এবং ‘লাইক-শেয়ারিং’ ইত্যাদি নিয়ে অনেক মজাও হতো চা’য়ের আড্ডায়। তাদের সিনিয়র কর্মকর্তাও এসবের বাইরে ছিলেন না। একটি সংবাদ মাধ্যম হিসেবে কাজের ফাঁকে একটু আড্ডার প্রয়োজন থাকতেই পারে। কিন্তু অবাধে ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি অধিকতর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তারা দেখলেন অথবা ধারণা করলেন যে, এতে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং গতিশীলতা ভিন্নদিকে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তাদের সিনিয়র ব্যবস্থাপক ঘোষণা দিয়েই অফিসে ফেইসবুক বা এরকম মাধ্যমগুলোর ব্যবহার নিষেধ করে দেন। নিষেধাজ্ঞা জারির কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সতর্ক করতে হলো, কারণ পুরোনো অভ্যাস অনেকেই হঠাৎ ছাড়তে পারে নি! মাসখানেক পর শাস্তিসহ পুনঃসতর্কবার্তা জারি হলো! এরই মধ্যে সেই সিনিয়রের একটি পোস্টে ‘লাইক’ দিয়ে আমার সহকর্মী বন্ধুটি অফিস কর্তৃপক্ষকে বিশাল অস্বস্তিতে ফেলে দেন। ‘লাইক’ দেবার সময়টি ছিল অফিস টাইমের মধ্যে! যা হোক, ঘোষিত শাস্তি মোতাবেক, তাকে শোকজসহ বরখাস্ত করতে হয়। কিন্তু তার মতো একজন কর্মীকে তারা হারাতেও চাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষ একটি ফ্রেন্ডলি মিটিংয়ে তাকে প্রশ্ন করে, তিনি এখন কী করতে চান। হয়তো তারা চেয়েছিলেন ক্ষমা করে দিতে! আমার সহকর্মী বন্ধুটি একটু নাকউঁচু টাইপের: ভাঙবে কিন্তু মচকাবে না! তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। বিষয়টি আক্ষেপজনক হলেও ওখানেই শেষ হয়। কিন্তু চরম একটি শিক্ষা হলো সংশ্লিষ্টদের। ব্যাপারটি এরকম দাঁড়ালো যে, ফেইসবুক ব্যবহার করার কারণে তার চাকরিটিই থাকলো না।

আরেকজন সেলিব্রেটি ফেইসবুকারের গল্প বলছি, যার অগণিত বন্ধু এবং চার হাজারের ওপরে অনুসারি আছে ফেইসবুকে। তিনি মূলত ব্লগ থেকেই ‘সেলিব্রেটি নবুয়ত’ পেয়েছেন, যদিও তখনও তিনি এইচএসসিও পাশ করেন নি। সিরিয়াস লেখক বা কবি বা গল্পকার নন। ফান পোস্ট আর চলমান বিষয় নিয়ে রসাত্মক লেখায় পাঠককে জমিয়ে রাখতেন। এসবের পাঠক বেশি! ক্রমান্বয়ে বিশাল একটি ভক্ত সম্প্রদায় গড়ে ওঠে তার। টিনেজ পেরোনো ছেলেমেয়েদের জন্য এটি কিন্তু বিশাল প্রাপ্তি! স্বপ্নের মতো বিশাল! বলা যায়, তিনি রীতিমতো খ্যাতির মগডালে ওঠেছিলেন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে, এটি শুধুই ভার্চুয়াল স্পেইস। একে বাস্তব জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সাথে না মেশাতে পারলে অর্থহীন সময় ক্ষেপন মাত্র। বাস্তবিক সমাজে টিকে থাকার মতো যদি কিছু না থাকে, তবে শুধুই আকাশে বসত করে একে টিকিয়ে রাখা কঠিন। বাস্তব জীবনের বন্ধুরাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়, অন্যদিকে ভার্চুয়াল বন্ধুরা শুধু মাত্র ‘রেস্ট ইন পিস’ অথবা একটি ‘লাইক’ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। অসম্ভব রকমের প্রচার ও সুখ্যাতি থাকলে এবং বাস্তবের সাথে তার যোগসূত্র থাকলে, এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম আসতে পারে।

পরবর্তি ঘটনা যা হোক, সেই সেলিব্রেটিকে আর দেখা যাচ্ছে না! এই প্রস্থান হঠাৎ হয় নি। গত ৩/৪ বছরকে তার ‘উইথড্রয়াল পিরিয়ড’ বলা যায়। মানে হলো, পরিবারের চাপে আর পরীক্ষার নৈকট্যে, যেভাবেই হোক তার চেতনা হয় এবং ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বাস্তবিক জগতে ফিরে যান। হয়তো উচ্চতর পড়াশোনা করছেন, নয়তো চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। আমার বন্ধু তালিকা থেকেও উধাও; বোধ হয় ফেইসবুক পরিচয়টিকেও নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন! অথবা, কে জানে, হয়তো ভিন্ন নামে আছেন!

আড্ডাবাজিতে আমার একটু দুর্বলতা থাকায়, এর কুফলটুকু আমি বুঝার চেষ্টা করছি। ব্লগিং যখন ‘আড্ডাফায়িং’ পর্যায়ে চলে যায়, তখন কীভাবে যে সময় চলে যায় বুঝা যায় না। সেটি নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের উভয়ের ক্ষতি। প্রতিটি চাকরিজীবি মানুষের দিবাকালীন আটটি ঘণ্টা আর্থিক মানদণ্ডে সুনির্দিষ্ট করা আছে। এর প্রতিটি ঘণ্টার আছে আর্থিক মূল্য। কাজ থাকুক অথবা না থাকুক, সময়টি প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে-বলা মানুষ খুবই কম, তাই গায়েপড়ে কেউ সতর্ক নাও করতে পারে। এখানে বিবেকই একমাত্র নির্দেশিকা। তাই অফিসে বসে সামাজিক যোগাযোগে কতটা সময় দেওয়া যায়, কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং কতটুকু দিলে সেটি উপেক্ষা করার মতো, সেটি নিজের বিবেক দ্বারাই বিচার করা যায়।

ব্যক্তিগত সময়কেও (যেমন ছুটির দিন অথবা দিনের বাকি সময়) উদারভাবে ভার্চুয়াল সমাজে না দিয়ে কিছু সময় পরিবার, বন্ধু ও নিকাটাত্মীয়কে দেওয়া উচিত। এখন সময় এসেছে হাল টেনে ধরার। বিষয়টি নেশার পর্যায়ে চলে গেছে এবং কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে।

ব্লগার/ফেইসবুকারদেরকে আলোচনার স্বার্থে কয়েকটি ভাগে যদি ভাগ করি, তবে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারবো।

▲ভার্চুয়াল মানব ১:

ব্লগ, ফেইসবুক, টুইটার, স্কাইপ, ফ্লিকার… প্রায় সব জায়গায় তার বিচরণ। একটি থেকে আরেকটি মাধ্যমে তিনি প্রায় ১৮ ঘণ্টা এপার-ওপার করেন। তাদের মধ্যে কারও কারও প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিবিদ্যা থাকার কারণে, ইন্টারনেটে থাকাটা মোটামুটি ‘ছোয়াবের বিষয়’ বলে ধরে নিয়েছেন। কারও আছে নিজস্ব ব্লগ, ওয়েবপোর্টাল বা সংবাদমাধ্যম। কেউ আবার অনলাইন সংবাদমাধ্যমে চাকরি করেন। তাদের মধ্যে একদল আছেন যারা চাকুরিসূত্রে অনলাইনে লটকে থাকেন, আরেকদল নেশা ও অপরিণামদর্শীতার কারণে।

▲ভার্চুয়াল মানব ২:

এদের অধিকাংশই একটি উদ্দেশ্য নিয়ে অনলাইনে সময় দেন। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুম আসা পর্যন্ত তারা অনলাইনেই থাকতে চান, তবে কাজের চাপে সেটি পারেন না। ফলে সেটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং প্রাত্যাহিক জীবন ও সুস্বাস্থ্যের পরিপন্থী।

▲ভার্চুয়াল মানব ৩:

এই দলটি পেশাজীবী। সময় পেলে সর্বান্তকরণে অনলাইনে থাকেন। ব্লগে অথবা সামাজিক মাধ্যমে। সহপাঠিদের সাথে আড্ডা দেন, নিজেদের জীবনের ঘটনাগুলোকে শেয়ার করেন। স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি নয়। কারণ তাছাড়াও তাদের অনেক আগ্রহের বিষয় আছে, যা ভার্চুয়াল সমাজ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।

▲ভার্চুয়াল মানব ৪:

সকল বয়সেই একটি কাজহীন দল আছে। কেউ কাজ পাচ্ছে না, কেউ অবসরপ্রাপ্ত, কারওবা কাজের বয়সই হয় নি। তারা বিনোদন করতে অথবা স্মৃতি জমা করার জন্য অনলাইনে আসেন। কিন্তু নিজেরা কোন আর্থিক পেশায় যুক্ত না থাকায়, ততটা সময় অনলাইনে থাকতে পারেন না। এদের মধ্যে যারা বয়স্ক বা অবসরপ্রাপ্ত, তাদের অনেক সামাজিক কাজও থাকে।

যা হোক, এভাবে হয়তো ভার্চুয়াল মানব ৫… ১০, ১৫ অথবা ২০ পর্যন্ত যাওয়া যায়। কিন্তু শ্রেণীভেদের একটি সীমা থাকা উচিত। আমাদের অনলাইন জীবনেরও একটি সীমা থাকা উচিত, কারণ বাস্তবতাকে কিছু সময়ের জন্য ভুলে গেলেও এটি আমাদের পেছন ছাড়বে না। ভার্চুয়াল বিষয়গুলো খুব বেশি হলে অনুঘটক হতে পারে, অথচ বাস্তবতা দিয়েই জীবন গড়ে ওঠে।

বাসা হোক কিংবা কর্মস্থল, আমরা যেন আশেপাশের মানুষগুলোকে খেয়াল করি! কম্পিউটার বা স্মার্টফোনটি খোলা থাকতেই পারে, কিন্তু সে সাথে আমরাও খোলা থাকি বাস্তবতার দিকে!

 

 

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

———————–

Image courtesy: baroneenglish.blogspot.com