প্রজেক্ট ম্যানেজার: পেশাদারিত্বের ৭টি বিষয়

professionalism-mmmainul

প্রজেক্ট ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ব্যবস্থাপক, পর্ব ৮। ব্যাকগ্রাউন্ড যা-ই হোক, প্রজেক্ট ম্যানেজারকে পেশাদারিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করতে হয়। প্রজেক্ট ম্যানেজারের পেশাদারিত্ব কীভাবে গড়ে ওঠে এবিষয়ে পঞ্চম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজার পদ একটি নেতৃত্ব প্রয়োগের স্থান। এখানে ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হয়। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করা যায় না। কর্মীদের সামনে নিজেকে আদর্শ হিসেবে দেখাতে হয়। তাকে হতে হয় পেশাদার। এপর্বে ‘পেশাদারিত্ব’ বিষয়টিতে আলাদাভাবে আলোকপাত করা হবে।

 

পেশাদারিত্ব মানে হলো:

১) এমন কিছু করতে পারা, যা শুধু বেতনে/অর্থে পরিশোধ করা যায় না

পেশাদাররা অর্থের বিনিময়ে মানসম্পন্ন পণ্য বা সেবা দান করেন। কিন্তু এর মানে অর্থ উপার্জনই তাদের উদ্দেশ্য নয়, অর্থের সর্বোচ্চ মূল্য প্রদান করা। পেশাদারিত্ব মানে শুধু ভালো একটি চাকরি/ব্যবসায় করা নয়। পেশাদারিত্ব মানে এমন কিছু যা শুধু বেতনে বা অর্থে পরিশোধ করা যায় না। পেশাদারিত্ব মানে ভালো/মজার কাজ করা নয়, পেশাদারিত্ব হলো কাজ থেকে ভালো/মজাকে খুঁজে পাওয়া।

 

২) আত্ম অনুসন্ধান ও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি করার সামর্থ্য

পেশাদরিত্ব যেন ‘অন্ধের হাতি দেখার মতো’ অস্পষ্ট একটি বিষয়। প্রফেশনালিজম/পেশাদারিত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাগুলো খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা আমরা রাখি না, অথচ নিজ নিজ সুবিধামতো একে ব্যবহার করি। ফলে প্রকৃত পেশাদারিত্ব অনেকের কাছে অধরা থেকে যায়। এবিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে, নিজেদের পূর্বধারণাকে ভালোমতো যাচাই করে নেওয়া দরকার। দরকার আত্ম অনুসন্ধান এবং নিজের পেশায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিতে পারার সামর্থ্য।

 

৩) নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা ও একনিষ্ঠতা

পরিশ্রম করলে এমনিতেই সবাই তা দেখতে পায়। তখন স্বীকৃতি আপনাআপনিই চলে আসে। আমরা নিজেদেরকে পেশাদার হিসেবে পরিচিত করতে পারি না, কারণ এটি এমন গুণ যা অন্যেরা আমাদের মধ্যে দেখতে পাবে বলে আশা করি। পেশাদারিত্ব আসে নিজ পেশার প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা থেকে। কোন কারণে নিজ পেশা বা কাজের প্রতি আগ্রহ/মনোযোগ কম থাকলে, সে কাজে আমরা পেশাদারিত্ব অর্জন করতে পারি না।

 

৪) দক্ষতার সাথে আবেগ ও ব্যক্তিত্বের মিশ্রণ

পেশাদারিত্বকে অনেকে ‘দক্ষতার’ সাথে ‘আবেগ’ ও ‘ব্যক্তিত্বের’ মিশ্রণ বলে মনে করেন। দক্ষতা চেষ্টা করলেই অর্জন করা যায়, কিন্তু পেশাদারিত্ব পেতে হলে সেই দক্ষতাকে নিজের আবেগ ও চেতনার সাথে সংমিশ্রণ ঘটাতে হয়। তখন কাজকে আর ‘শ্রম’ বলে মনে হয় না, কাজ হয়ে যায় আত্মসিদ্ধির মাধ্যম। পেশাদারিত্ব এমন একটি বিষয়।

 

৫) ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা

বড় কাজে কেউ আমাদের ওপর আস্থা করলে আমরা সম্মানিত বোধ করি। এজন্য দরকার দায়িত্বশীলতা। শুধু কাজ করলে তাতে মজা পাওয়া যায় না, যদি তাতে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও আবেগের যোগসূত্র না থাকে। তখন কেবলই মায়না বা মুজুরির সাথে ওজন করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। এই প্রবণতা পেশাদারিত্ব অর্জনের বড় বাধা। যারা কাজ শেখান এবং যারা কর্মগুরু (মেন্টর), তারা শিষ্যকে অর্থের আকর্ষণ থেকে দূরে থাকার দীক্ষা দেন। পেশাদাররা নিজ কাজে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায়। তারা কখনও নিজের পবিত্র সময় ও শ্রমকে অর্থের পাল্লায় মাপে না।

 

৬) নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠা এবং জীবনের উদ্দেশ্যকে খুঁজে পাওয়া

পেশায় আত্মতৃপ্তি পাওয়া একটি সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু সৌভাগ্য নাকি পরিশ্রমীদের জন্যই বরাদ্দ। জীবনের জন্য অর্থসম্পদ একটি দরকারি উপকরণ। ব্যক্তি জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাবার জন্য অর্থ খুবই প্রয়োজন। কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন, ব্যক্তির পেশাদারিত্ব এবং নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠা। পেশাদারিত্ব হলো, কাজের মধ্যে জীবনের উদ্দেশ্যকে খুঁজে পাওয়া। পেশাদাররা অর্থকে অবহেলা করেন না, কারণ কাজ উত্তম হলে অর্থ আসে স্বাভাবিকভাবেই।

 

৭) আত্মসম্মান দ্বারা অনুপ্রাণিত জীবন

পেশাদারিত্ব হলো আত্মসম্মান দ্বারা অনুপ্রাণিত কর্মজীবন। যাদের আত্মসম্মানবোধ আছে, তাদের লক্ষ্য থাক সবসময় নিজের সেরাটুকু প্রয়োগ করা। এজন্য তারা অন্যের সহযোগিতা নিতে অথবা অন্যের মতামত নিতেও দ্বিধা করে না। মানুষ সম্মান ও সুনাম পেতে চায়। এটি খুবই স্বাভাবিক একটি চাওয়া। এই আকাঙক্ষাটি যাদের তীব্র, তারা নিজ নিজ কাজকে একাগ্রতার সাথে সম্পাদন করতে চায়। তারা চায় সকলে তাদের কাজের প্রশংসা করুক যা তাকে আরও উন্নততর কাজ পাবার সুযোগ করে দেবে। যার আত্মসম্মান আছে, সে জীবন ও কর্মজীবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।

professionalism_mmmainul2

পেশাদারিত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে।

 


পূর্বের পর্বগুলো:

▶ পর্ব ৭: এ দুই রকমের ম্যানেজার থেকে সাবধান থাকুন

▶ পর্ব ৬: ১৩ উপায়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে রাখুন হাতের মুঠোয়!

▶ পর্ব ৫:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনা: পেশাদারিত্ব কার দায়?

▶ পর্ব ৪:  প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ৫টি প্রক্রিয়া: পেশাদারিত্বের শুরু

▶ পর্ব ৩:  ৯টি তত্ত্বে প্রকল্পের সংজ্ঞা এবং সহজ কিছু দৃষ্টান্ত

▶ পর্ব ২:  যে ৫টি কারণে দৈনন্দিন জীবনে প্রকল্প আমাদেরকে উপকৃত করে

▶ পর্ব ১:  প্রকল্প ম্যানেজার থেকে স্বপ্ন ব্যবস্থাপক: কেন এবং কীভাবে

Advertisements

One comment

  1. পিংব্যাকঃ ম্যানেজার হিসেবে আপনি কতটুকু দক্ষ? | আওয়াজ দিয়ে যাই…

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s