আমার ইংরেজি (না) শেখার কারণগুলো: “বাক্যের একক শব্দ”

VF9UBSGE86BA

স্কুল এবং কলেজ মিলিয়ে এক যুগ সাধনা করেও আমরা কেন ইংরেজি বলতে বা লিখতে পারছি না, সেটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, এবং হচ্ছে। গবেষণা সফল হলেও গবেষণার ফল প্রমাণিত হচ্ছে না। অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক পাস করেও বাস্তবিকভাবে আমরা ইংরেজিতে কথা বলতে পারি না। পৌর এলাকায়, বিশেষত যারা অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত সমাজে বড় হচ্ছে, তারা কিছু সফলতা দেখালেও, জাতীয়ভাবে সমীকরণ টানলে, ফলাফল একই আসে। বিজাতীয় ভাষা নিয়ে এটি এক জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা যদি একক সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে কিছু তথ্য বের হয়ে আসতে পারে। আমরা নিজেদের কথাই বলি। ইংরেজিতে নিজেদের দুর্বলতার কারণ নিয়ে, নিজের শিক্ষাজীবনে যদি ঢুঁ মারি, তবে কী পাই? ইংরেজি ভাষাটিতে আমার ব্যর্থতা বা অনীহার সূত্র কোথায়? গ্রামার জানার পরও কেন আমি ইংরেজি বলার সময় শব্দ হাতড়িয়ে বেড়াই? ফ্লূয়েন্সি বাড়ানো বা সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে পারার জন্য আমি অনেক পথই মাড়িয়েছি। গ্রামার পড়েছি, শিখেছি। বাজারে প্রচলিত সব ব্যবস্থাই আমি গ্রহণ করেছি এবং প্রতিটি মাধ্যম থেকেই আমি কিছু-না-কিছু শিখেছি, শিখিনি শুধু ইংরেজি।

আমি ৬০ দিনের র‌্যাপিড অ্যাকশন ইংলিশ স্পিকিং কোর্স-এর বই পড়েছি। ৬০ দিনের চুক্তিতে ইংরেজি শেখায়, এটি সেই বই। এই বই ‘সেবন করিবার পরে’ যারা উপকৃত হয়েছে, তাদের ছবিও আছে কাভারপেইজে। বইটি পড়ে আমি দেখেছি, ইংরেজি শেখাক বা না শেখাক, ভাষা একটি শিখিয়েছে তারা। মজার ব্যাপার হলো, বুঝতেই পারিনি যে, আমি ইংরেজি শিখছি, নাকি আসলে বাংলা শিখছি। সত্তর শতাংশ শব্দই বাংলা! প্রতিটি শব্দ ও এক্সপ্রেশন বাংলায় অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি শিখতে না পারলেও প্রচুর বাংলা এক্সপ্রেশন আমাকে নতুন করে শিখতে হয়েছিল। আমি শিখেছি, কীভাবে দোকানদারের সাথে শুদ্ধ বাংলায় দরকষাকষি করতে হয়; কীভাবে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হয়, বন্ধুর সাথে বা সহপাঠির সাথে কীভাবে মানসম্পন্ন বাংলায় কথা বলতে হয়। বুঝতে পারলাম, অন্তত বাংলার জন্য হলেও র‌্যাপিড অ্যাকশন শীর্ষক বইটির দরকার ছিল। বই কিনে কেউ দেউলে হয় না, এই সত্য এখনও অঠুট আছে!

এরপর আমি এফবি মেথডের অফিসে গেলাম। তারা একটি অসম্ভব কার্যকর ও যুগান্তকারী পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখাচ্ছেন এবং এই বলে ব্যাপক ভিত্তিক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন গত কয়েক দশক ধরেই। রাস্তাঘাটে দেয়ালে টিনের চালে খালের পাড়ে নদীর ধরে বাসের পেছনে রিক্সার পেছনে লঞ্চ-স্টিমারে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড-ব্যানারে পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তারা প্রচুর বিজ্ঞাপন ছড়িয়েছেন। হেলিকপ্টার দিয়েও কিষাণ-কিষানীদের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন ফেলেছে কিনা, আমি শুনিনি। যা হোক, এফবি নামটি এসেছে সেই অসম্ভব মেথডের প্রতিষ্ঠাতা বা আবিষ্কারকের নাম অনুসারে। তার নাম ফাকিউল বুলু – শুনেছি বন্ধুরা তাকে ‘ফাঁকা বুলি’ নামে ডাকে। হয়ত জুনিয়ররা তাকে ডাকতো ফাকি ভাই বলে। জনাব ফাঁকা বুলি একটি সরকারি কলেজের ইংরেজির শিক্ষকও। এফবি মেথডের প্রথম ক্লাসে তিনি ইংরেজি শিক্ষার প্রচলিত পদ্ধতিকে ব্যর্থ এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে, একটি জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিলেন। বলা বাহুল্য, তিনি নিজেও সেই ‘ঘৃণিত’ পদ্ধতিতেই ইংরেজি শিখে এফবি মেথডের উদ্ভাবক হয়েছেন! তার বাগ্মীতা এবং আত্মবিশ্বাস দেখে মুগ্ধ হলাম আমরা এবং বিশেষত আমি। আমি খুব সাবধানে প্রত্যাশার একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম: এবার তাহলে আমার ইংরেজি বলা হবেই! আর মিস্ নাই! এফবি মেথডে বাংলা বাক্যের ‘শেষ অংশটি’ দিয়ে ইংরেজি বাক্যটি তৈরি করার সূত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রচলিত কিছু বাক্যের ইংরেজি করার জন্য এ পদ্ধতি একদম মন্দ নয়। এফবি মেথডে আমাকে দিয়ে শত শত বাক্য লেখানো হলো। সবই মেথড ভিত্তিক। মেথডের বাইরে গেলেই খবর আছে! মজার ব্যাপারটি হলো, ওই বাক্যগুলোর সবই এখন আমার খাতায় আছে। কারও সঙ্গে ইংরেজি বলতে গেলেও আমার মনে পড়ে, নির্দিষ্ট বাক্যটি আমার ‘এফবি মেথডের’ খাতায় লেখা আছে। কিন্তু বলার সময় বাক্যটি আমার মুখে ওঠছে না, কারণ খাতায় থাকলেও মাথায় ওঠেনি! কীভাবে ওঠবে, জনাব ফাকা বুলি ভাই, সে রকম কোন মেথড আমাকে দেননি যে!

 

আরও কিছু মেথড, পদ্ধতি, কৌশল এবং আরও কিছু স্পোকেন ইংরেজি সেন্টারে নাকানি-চোবানি খেলাম। তারপরও আমি বুঝতে পারলাম না: আমি কি গ্রামার বুঝি না, নাকি ইংরেজি বুঝি না? আমার দুর্বলতাটি আসলে কোথায়? কীভাবে আমি চেষ্টা করছি? আমি কি গ্রামার শিখি, নাকি ইংরেজি শিখি? আমার ইংরেজি শেখার লক্ষ্য কি গ্রামার শেখা, নাকি ইংরেজি শেখা? কোনটা আগে শেখা উচিত ছিল আমার: গ্রামার নাকি ইংরেজি (ভাষার প্রয়োগ)? শুধু কি চর্চার অভাবে আমার ইংরেজি বলা হচ্ছে না, নাকি অন্য কিছু?  আমি কি ‘বলতে’ দুর্বল, নাকি লিখতে দুর্বল? কোথায় আমার সমস্যা?

চর্চায় পাওয়া যায় জয়ের রহস্য। অনেক চর্চা হলো। কিছু উপাত্ত খুঁজে পেলাম, যা অনেকেই হয়তো গ্রহণ করবেন না। কেউ কেউ করবেন। রহস্যটি হলো ‘বাক্যের একক শব্দ’। বাক্য গঠন নয়, শব্দ এবং এর ব্যবহারই আগে শেখা দরকার। ভাষার একক যদি ধ্বনি হয়, তবে বাক্যের একক হয় ‘শব্দ’। বাক্য ছাড়া যেমন ভাষার পূর্ণতা আসে না, তেমনি শব্দ ছাড়া বাক্য হয় না। যে কোন ভাষা শেখার প্রথম সিঁড়ি হলো, পড়া। যেহেতু ইংরেজি ভাষাভাষী দেশে বাস করছি না, সেহেতু আমি শুনে শুনে ইংরেজি শিখতে পারি না। ইংরেজি কেন ‘লিখতে’ পারি না, সে কথায় পরে আসি। না পড়লে লেখবো কী?

প্রশ্ন হলো, আমি কেন ইংরেজি পড়তে পারি না? কারণ, শব্দ জানা নেই। ইংরেজি বাক্য বুঝার জন্য শব্দ জানা চাই। আমি শব্দ জানি না, তাই পড়তে আমার ভালো লাগে না। ছয় শব্দের একটি বাক্যে চারটি শব্দই আমার ‘জীবনে প্রথম দেখা’। সেই অজানা শব্দেরা আমার ওপর বোঝা হয়ে আসে – আমি আর এগুতে পারি না। পড়া বন্ধ করে দিই। অতএব ইংরেজি পড়তে আমার অনীহার সূত্র কোথায়? সূত্র একটিই, বাক্যের একক শব্দ। শব্দ জানি না, তাই বাক্য বুঝি না। অচেনা শব্দেরা আমার মনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি এখন (২০০৫) আমার কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে গেলো।

 

গ্রামার! আসলে তুমি কী?  গ্রামার কি শুধুই সূত্রভাণ্ডার, নাকি শব্দভাণ্ডার? আমি গ্রামার শিখেছি – পার্টস অভ স্পিচ ন্যারেশন ইত্যাদি শিখেছি। শিখেছি টেনস ট্রান্সফরমেশন অভ স্পিচেস এজিকটিভ কেইস আর্টিকেল ভয়েস এবং অবশেষে ট্রান্সলেশন। যেকোন রকমের বাক্যকে ইংরেজিতে, প্রাকৃতিক ইংরেজিতে রূপান্তর আমি করতে পারি। আমি একজন সুদক্ষ ট্রান্সলেটর। ডাক্তার আসার আগে রোগী মারা গেলে, আমি সেটি ইংরেজিতে লিখে দিতে পারি। রোগী আসার আগে ডাক্তার মারা গেলেও, তা আমি ইংরেজিতে প্রকাশ করতে পারি। কিন্তু ইংরেজি বলতে গেলে আমি শব্দ হাতড়ে বেড়াই। তাৎক্ষণিকভাবে শব্দ বের হয়ে আসে না আমার ভেতর থেকে। মনে হয় বুকে পিস্তল ঠেকালেও মুখে স্বাভাবিক ইংরেজি আসবে না। ইংরেজি কথোপকথনে তাই ‘ইয়ে… মানে…’ ইত্যাদি বাংলা ধ্বনি আমার চলে আসে। আমার শ্রোতা ধৈর্য হারিয়ে ফেলে – আমিও তাল হারিয়ে ফেলি। কেন এই ‘তালহারা’ পরিণতি? কারণ একটিই – বাক্যের একক শব্দ। আমি শব্দ জানা থাকলে সেটি অবশ্যই আমার কথায় বের আসতো। গ্রামার আমাকে ঠেকাতে পারতো না।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শব্দ আমি শিখি নি, শিখতে হয় নি। পাঠ্যবইয়ের শব্দই আমাকে সব শিখতে হয় নি। আমার প্রিয় ইংরেজি শিক্ষক আমাকে সবকিছু প্রিয় বাংলায় তর্জমা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্লাসে। এইনশেন্ট মেরিনারের এলবাট্রস পাখি হত্যার বিচার; জিম-ডেলার অমর প্রেমের কাহিনি ইত্যাদি স্পষ্ট বাংলায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমাদের দয়ালু ইংরেজি স্যার। মুগ্ধ হয়েছি স্যারের অনুবাদ করার দক্ষতা দেখে। মুখস্ত করেছি প্রশ্নের উত্তর, মুখস্ত করেছি রচনা আর চিঠি। আমার ইংরেজি শিক্ষক বিফলে-মূল্য-ফেলত টাইপের সাজেশ্চন দিতে পারতেন। তিনি পরামর্শ দিতেন গ্যারান্টির সাথে! সাজেশ্চন দেবার দিন ক্লাসে ঢুকেই প্রবল আত্মবিশ্বাসে তিনি বলে ওঠতেন – প্রশ্নফাঁস! অর্থাৎ তার পরামর্শ নেওয়া আর ফাঁশ-হওয়া প্রশ্ন পড়া একই কথা। তার সাজেশ্চন দেবার দক্ষতাই তাকে ‘তুখোড় ইংরেজি শিক্ষকের’ গৌরব এনে দেয় এলাকায়। মাত্র দু’টি রচনা দিয়ে আমি অষ্টম থেকে দশম শ্রেণী অর্থাৎ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করতে পেরেছিলাম!

আগেই বলেছি, অনুবাদ আমার অনেকটাই ‘প্রাকৃতিক’ হয়। শুধু কথা বলার সময় ‘প্রাকৃতিক’ ইংরেজিতে কথা বলতে পারি না। বাংলাকে যেভাবে সরাসরি কথায় প্রকাশ করতে পারি, ইংরেজিকে সেভাবে পারি না। ইংরেজি বলতে তাই আমাকে অনুবাদের আশ্রয় নিতে হয়। অর্থাৎ আমি আমার ‘চিন্তাকে মনে মনে ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন’ করি। তারপর তা প্রকাশ করি ইংরেজিতে। তাহলে কীভাবে আমি ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারবো? কীভাবে তা অনর্গল হবে? আমি তো আমার মনের ভাবকে অনুবাদ করছি কেবল –  কথা তো বলছি না! প্রশ্ন হলো, কখন আমি আমার চিন্তা বা মনের ভাবকে ‘সরাসরি’ ইংরেজিতে প্রকাশ করতে পারবো? কখন আমাকে আর অনুবাদ করতে হবে না?

আমার শিক্ষাজীবনে প্রতিবারই বাক্যের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে শব্দকে চেনা হয়নি। শব্দের প্রতি আমার আগ্রহ কখনও ছিলো না, যত আগ্রহ ছিলো বাক্য এবং বাক্যগঠনের প্রতি। শিখতে চেয়েছি শুধুই গ্রামার। হয়েছিও একজন গ্রামারিয়ান। আমি গ্রামার বুঝি, বুঝাতেও পারি, কিন্তু ইংরেজি কীভাবে বলতে হয় বা স্বাভাবিকভাবে লিখতে হয় – আমি শিখিনি। শেখাতেও পারি না।  আমি বুঝি নি (পড়ুন: বুঝতে হয় নি) যে, শব্দের অর্থ এবং শব্দের ব্যবহার জানা হলেই বাক্য গঠন সহজ হয়ে যায়। আমার পুরো শিক্ষাজীবনে বুঝতে পারিনি যে, বাক্যের একক শব্দ।  এই ক্ষুদ্রতম উপাদানটির দিকে আমি কখনও গুরুত্ব দিই নি। দুর্ভাগ্য, আমার ইংরেজি শিক্ষকগণও সেদিকে দৃষ্টি দিতে কোনদিন বলেননি। তারা কখনও বলেনি “তোমরা তোমাদের পাঠ্যবইয়ের নতুন নতুন ইংরেজি শব্দ কখনও স্মৃতি থেকে হারাবে না।” বলেন নি, “তোমরা একটি নতুন ইংরেজি শব্দকে সাদরে গ্রহণ করো। একটি শব্দ মানেই, একটি নতুন ধারণা – নতুন উপলব্ধি। উপভোগ করো শব্দের অর্থ এবং এর ব্যবহার। পঠিত অংশের বাক্যরীতি অনুসারে, নতুন শব্দ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো বাক্য তৈরি করো।” বলেন নি, “বীজগণিতের সূত্র, বিজ্ঞানের থিওরি, পদার্থবিজ্ঞানের সংকেত-যোজনী, পেশাগত অবস্থানের কারণে তোমাদের কাছে একসময় অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু আজ তোমার পাঠ্যবইয়ে যে নতুন শব্দটি শিখবে, তা চিরদিন তোমার প্রয়োজন পড়বে। ভাব প্রকাশে সঙ্গ দেবে তোমাকে সারাটি জীবন।” আমার কোন শিক্ষক বলেন নি, “তোমরা কমপ্রিহেনশন করো: তাতে ইংরেজিতে বোধশক্তি বাড়বে। প্রশ্নোত্তর করার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। নতুন শব্দের প্রয়োগ হবে – ইংরেজি শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে।” এসব তারা কখনও বলেন নি।

 

ইংরেজি শিক্ষার সবচেয়ে কার্যকর এই মাধ্যমটির অনুপস্থিতি যে কত ভয়ানক ও বিপর্যয়কর ছিলো, তা উপলব্ধি করা যায় বোর্ড প্রণীত বর্তমান (২০০৫) সিলেবাস থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসে যেভাবে গ্রামারকে বর্জন করে, কমপ্রিহেনসিভ শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা শব্দ দিয়ে বাক্য সম্পূর্ণ করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন।  তাতে বুঝা যাচ্ছে, ‘বাক্যের একক শব্দ’ তত্ত্বটি এবার তারা হৃদয়ঙ্গম করেছেন। হয়তো এবার কিছু ইংরেজি শেখা হবে।

লেখার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমার শিক্ষক তেমনভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন নি। তাহলে কি চিঠি অনুচ্ছেদ ভাবসম্প্রসারণ ও রচনা মুখস্থ করতে হতো পুরো ছাত্রজীবন? কোন শিক্ষককে বলতে শুনিনি, “এবারে অনুষ্ঠিত পিকনিক/শিক্ষাসফরের ওপর তোমরা প্রত্যেকে একটি সুন্দর প্রবন্ধ লিখে নিয়ে আসবে। আমি দেখতে চাই, ভাব প্রকাশের দক্ষতা কার কতো বেশি। সবচেয়ে ভালো লেখা এবারের দেয়ালপত্রিকায়/স্মরণিকায় প্রকাশ করা হবে।” ইত্যাদি। তা হয় নি। গরুর চার পা, দু কান, চোখ শিং, এক লেজ, এক নাক – ইত্যাদি প্রতিনিয়ত দেখার পরও তাই আমাদেরকে ‘গরু রচনা’ মুখস্ত করতে হয়।

 

এতসব ‘না শেখা’ থেকে কী শিখেছি আমি?

আমি শিখেছি, গাইতে গাইতে যদি গায়েন হয়, তবে ‘লেখা শিখার’ জন্য চাই লেখার নিয়মিত চর্চা। পড়া শেখার জন্য চাই, পড়া। পড়তে হবে যেকোন শর্তে, ডিকশনারি থেকে শব্দের অর্থ খুঁজতে হলেও প্রচুর ইংরেজি পড়তে হবে। খুব তাড়াতাড়িই ডিকশনারি দেখার প্রয়োজন কমে আসে। আস্তে আস্তে শব্দের অর্থ ধারণা করতে শিখি। একটি বাক্যের অধিকাংশ শব্দ জানা থাকলে, বাক্যটি আর অস্পষ্ট থাকে না। বাক্যের ভাব দেখে নতুন শব্দের অর্থ উদ্ধার করতে পারা একটি মজার বিষয়। অনেক সময় দেখা যায়, ধারণাকৃত অর্থটি ডিকশনারির সাথে মিলে যায়। এমন কি, ডিকশনারির চেয়েও ‘প্রাসঙ্গিক অর্থ’ পাঠক বের করতে পারেন। ডিকশনারির অর্থও কি চূড়ান্ত, এবসোলিউট? কখনও নয়। ডিকশনারির অর্থও ধারণাপ্রসূত – তবে সেটি একাধিক ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ধারণা।

 

অনুবাদ ছাড়া কীভাবে ইংরেজি বলতে পারা যায়? উপা্য় একটিই। সেটি হলো, বাক্যের একক শব্দ। বাক্যগঠন নয়, শব্দের প্রাসঙ্গিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে প্রথমে। পড়তে হবে প্রচুর এবং লেখতে হবে। বাক্যের ভেতরের শব্দকে বুঝতে হলে, তথা শব্দকে ব্যবহার-উপযোগী করতে হলে, আমাকে পড়তে হবে এবং লেখতে হবে। কথা বলার সময় অনুবাদ অথবা বাক্যগঠনের দিকে প্রথমেই মনযোগ না দিয়ে শব্দের দিকে মনযোগী হতে হবে। প্রথমে ভুল নিয়েই বলে যেতে হবে। কথা বলা চালিয়ে যেতে হবে। শব্দ যথার্থ হলে, বাক্য একসময় যথার্থ হতেই হবে। কিন্তু গ্রামার নিয়ে শুরুতেই চিন্তিত হলে, কথা বলার প্রাকৃতিক প্রবাহটি বাধাগ্রস্ত হয়। শব্দ জানা থাকলে, গ্রামার আত্মস্থ হয় অবচেতনেই।

 

আমি শিখেছি, পার্টস অভ স্পিচ হলো ‘কথার একক’। বাক্যের একক যে ‘শব্দ’, এর ব্যাকরণসিদ্ধ প্রমাণ হলো পার্টস অভ্ স্পিচ। আটটি পার্টস অভ্ স্পিচ আমি ক্লাস ফাইভেই শিখেছিলাম। শিখি নি শুধু এর ব্যাপকতা। শিখি নি এর ব্যবহার। প্রথমে শিখতে হবে আরও শব্দ। পূর্বের শেখা শব্দ আরও বুঝার জন্য এবং বাস্তবসম্মত ব্যবহার শেখার জন্য পড়তে হবে। আমি শিখেছি যে, ইংরেজি ভাষার ‘অত্যাবশ্যক তিন প্রকার’ শব্দের প্রথমটি হলো ভার্ব বা ক্রিয়া। ভার্ব শব্দের মৌলিক অর্থই হলো ‘শব্দ’। কারণ, একটি ইংরেজি বাক্যের মূল শব্দটিই হলো ভার্ব। এক শব্দ দিয়েও বাক্য গঠন করা যায়, যদি সেটি হয় ভার্ব।

দ্বিতীয়টি হলো, ওই ক্রিয়াকে যে সম্পন্ন করে: অর্থাৎ নাউন বা বিশেষ্য। নাউন সম্পর্কে আমার উপলব্ধিটি খুবই সরল এবং এটি প্রচলিত ধারণার ব্যতিক্রম। নাউন মানেই ‘কোনকিছুর নাম’ নয়। যেমন, কাজের নাম তো নাউন নয়, ভার্ব। নাউন কেবল পৃথিবীর পাঁচটি বিষয়ের নাম। সেই পাঁচটি বিষয় হলো: ব্যক্তি, প্রাণী, বস্তু, জায়গা এবং ধারণা। অর্থাৎ ‘ব্যক্তি’ বুঝাতে যেসব শব্দ, ‘প্রাণী’ বুঝাতে যেসব শব্দ, ‘বস্তু’ বুঝাতে যেসব শব্দ, ‘জায়গা’ বুঝাতে যেসব এবং একটি ‘ধারণাকে’ পরিচিত করতে যে শব্দটি ব্যবহৃত – সেসব শব্দকে বলা যায় নাউন।

গুরুত্বের দিকে থেকে ইংরেজি ভাষার তৃতীয় শব্দটি হলো, নাউনের তথ্যদাতা, অর্থাৎ এজিকটিভ। বিশেষণ। এটি নাউন সম্পর্কে আমাদেরকে ‘অতিরিক্ত তথ্য’ প্রদান করে। তাই শব্দ শেখার সময় এ তিন প্রকার শব্দের দিকে বেশি নজর দিতে হয়। বাকিগুলো আপনা-আপনিই আত্মস্থ হয়।

ভার্ব, নাউন, এজিকটিভ – এই তিন প্রকার শব্দ এবং এদের ‘পারস্পরিক সম্পর্কটি’ জানা থাকলে ইংরেজির ৯০ শতাংশ শেখা হয়।

 

আমি যখন ইংরেজিতে ভাবতে পারবো, তখনই পারবো ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে। এজন্য সর্বোৎকৃষ্ট পথটি হলো, প্রাত্যাহিক জীবনে ইংরেজিতে কথা বলা। এটি তো আমাদের দেশে প্রায় অসম্ভব। বিকল্প উপায়টি হলো, ইংরেজি পড়া। উত্তম হয়, সংবাদপত্র পড়া, কারণ এটি প্রাত্যাহিক জীবন নিয়ে লেখা। ইংরেজিতে ভাবতে পারার জন্য, আমাদেরকে প্রথমত পড়তে হবে। তাহলে শব্দ হাতড়ে বেড়াতে হবে না।  ‘পড়া’ আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করে। নতুন শব্দ ও নতুন ধারণার সাথে পরিচয় ঘটায়। সে সাথে পুরাতন শব্দ ও ধারণার সাথে সম্পর্ক হয় নিবিড়। শব্দের সাথে নিবিড় সম্পর্ক না থাকলে, কথা বলার সময় তাদেরকে পাওয়া যায় না। যেহেতু কথা বলার পরিবেশ আমার সীমিত, সেহেতু শব্দকে ব্যবহার-উপযোগী করে তোলার জন্য আমাকে লিখতে হবে। লিখতে হবে জীবনের কথা। লিখতে হবে চিঠি, ডায়েরি, দিনের কর্মসূচি, যাপিত জীবন, পরিচিত বিষয়ের টীকা ইত্যাদি। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই ইংরেজিতে ভাবতে শেখায়।

পড়ার কথা আসলেই, প্রশ্ন জাগে: কী পড়বো? আমার তো ইংরেজি সংবাদপত্র ভালো লাগে না। মানে, দেখতে ভালই লাগে – চকচকে লেখা। কিন্তু পড়তে ইচ্ছে করে না। পড়তে শুরু করলে মনে হয়, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাবো কিছুক্ষণ পড়লেই। তাহলে? তাহলে ভালো লাগার বিষয়গুলোই পড়তে হবে। পছন্দের বিষয় থেকেই শুরু হতে পারে ইংরেজি পড়া। তাই পাঠ্যপুস্তকে মজার গল্পগুলো পড়ি, ইংরেজি সংবাদপত্রের চিঠিপত্র অংশ পড়ি; খেলার পাতায় দৃষ্টি দিই; বিনোদনের পাতা পড়ি; জোকস/কমিক অংশটি বাদ দিই না। ভালো লাগতে শুরু করলে, সংবাদপত্রের তাজা ও মজাদার সংবাদগুলোও পড়ি। আর পড়ি ইংরেজি উপন্যাস। আমি বুঝেছি, ইংরেজি পড়ায় অভ্যস্ত হবার জন্য আমাকে পড়তে হবে, যে কোন শর্তে। আমার বিশ্বাস, ডিকশনারি ঘাটাঘাটি বেশিদিন করতে হয় না। এটি প্রমাণিত যে, দু’একটি শব্দ জানা থাকলে বাকি শব্দগুলোর ব্যবহারিক অর্থ উদ্ধার করা যায়। তারপরও নতুন নতুন শব্দ পড়তে আমার এখন ভালো লাগে। নতুন শব্দ শুধু অর্থ দিচ্ছে না – দিচ্ছে একটি নতুন ধারণা। মাঝেমাঝে নতুন ইতিহাসও পাওয়া যায়। কিছু কিছু শব্দের উৎপত্তির পেছনে রয়েছে মজার ইতিহাস। এসবকিছুর জন্য আমি শব্দ শিখি। শিখছি এখনও। ইংরেজি শব্দই আমাকে ইংরেজি শিখিয়েছে, গ্রামার নয়। কারণ, বাক্যের একক শব্দ।

 


লেখাটি ২০০৫ সালের।  অনেক ইংরেজি শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখাটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s