আত্মউন্নয়ন: এই সময়টি আপনার

১)  আপনার ধারণার চেয়েও নিকটে অবস্থান করছেন

কলোরেডোতে ছুটি কাটানোর সময়, একদিন ভোরে ওঠে গেলাম পাহাড়ে চড়ার জন্য। বিভার ক্রিক পর্বতের চূড়ায় যাওয়া পর্যন্ত তিনমাইলের খাড়া পথ। চূড়ায় পৌঁছুতে অন্তত তিনঘণ্টা লাগবে বলে সমতলে টানানো সাইনবোর্ডটিতে লেখা আছে।

গন্তব্যের কথা চিন্তা করে আমি ভরকে গেলাম। রাস্তাটি পুরোপুরি খাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সমতলের উচ্চতা আট হাজার ফুট। চূড়ার উচ্চতা হবে এগারো হাজারের বেশি।

প্রথম দিকের ধাপগুলোতে হেঁটেই আমি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় হাঁপাতে লাগলাম। আমার মনকে আগেই বুঝাতে হতো, যেন সহজভাবে বিষয়টিকে নেই।  হুস্টনে আমার নিজ এলাকায় প্রতি সপ্তাহে বেশকয়েক মাইল আমি হাঁটতাম এবং প্রচুর বাস্কেটবল খেলতাম। কিন্তু ওই এলাকাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র পঞ্চাশ ফুট উঁচুতে।  কলোরেডো পর্বতের চিনচিনে বাতাস পর্বতশিখরে যাওয়া সম্পর্কে আমার মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিলো।

সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন আর এক বোতল পানি নিয়ে আমি হাঁটতে শুরু করেছিলাম।  শক্ত মন নিয়ে মোটামুটি ভালো গতির সঞ্চার করলাম।  প্রথম পনেরো মিনিট সময় বেশ ভালোই লাগলো।  পরের পনেরো মিনিট কঠিন হয়ে আসলো।  মনে হচ্ছিল, আমি অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলেছি। নিঃশ্বাস ছাড়ার জন্য আমি একটু পরপরই থামছিলাম।

আমার পর্বতারোহনের পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর রাস্তাটি ভয়ঙ্কর খাড়া হয়ে আসলো – একদম ওপরে ওঠছি বলে মনে হচ্ছিলো।  রাস্তাটি সাপের মতো এসপেন ও পন্ডেরোসা পাইনের ঘণ বনের ভেতর দিয়ে আকাশের দিকে ওঠছিলো।  দৃশ্যটি ছিলো একই সাথে সুন্দর এবং ভয়ঙ্কর। নিয়মিত দৌড়ানো এবং বাস্কেটবল খেলার পর আমার যে শারীরিক গড়ন হয়েছিল, তা নিয়েও আমার পাগুলো ব্যথায় জ্বলছিলো এবং বুকের ভেতর ধপধপ করছিলো।

একটি ঢাল অতিক্রম করার পর নিঃশ্বাস নেবার জন্য আমাকে থামতে হলো।  শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল। মনে মনে ভাবলাম, আরও দু’ঘণ্টা হাঁটতে হলে আমি হয়তো সেখানে পৌঁছাতেই পারবো না।

ওই পর্যন্ত গিয়ে আমি আর কাউকে ঢালুপথে দেখতে পেলাম না।  হঠাৎ এক বৃদ্ধলোক বাঁকাপথ বেয়ে এসে  নামলেন। টি-শার্ট গায়ে পড়নে হাফপ্যান্ট এবং পায়ে পর্বতারোহনের জুতো। হাতে একটি ছড়ি। তাকে শান্ত এবং স্থির মনে হলো। আমার অবস্থা তিনি ভালোমতোই আঁচ করেছেন।

আমরা একে অন্যকে অতিক্রম করছিলাম। তখন তিনি এমন কিছু বললেন যা আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিলো। আমার দিকে স্নেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্তস্বরে বললেন, “আপনার ধারণার চেয়েও কাছে চলে এসেছেন।”

কথাগুলো শুনে আমি পুনরায় শক্তি পেলাম। মনে হচ্ছিলো তিনি যেন আমার ফুসফুসে নতুন নিঃশ্বাস দিয়ে গেলেন। সেই শক্তি আমার সমস্ত দেহে সঞ্চারিত হলো।  পা গুলো যেন শক্তিশালী হয়ে ওঠলো। আমি দ্বিতীয়বার বায়ূ গ্রহণ করলাম।  ওই স্থান থেকে ওঠে আসার পর থেকে প্রতিটি প্রচেষ্টায় আমি কথাগুলো বলে নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছিলাম। “আমি অবশ্যই যাবো। আমার ধারণার চেয়েও বেশি কাছে এসেছি।”

পাহাড়-চড়ার কাজটি কঠিন হলেও, এবং আমার পেশি ও ফুসফুসে যন্ত্রণা করলেও আমি বলতে থাকলাম: “আমি প্রায় চলে এসেছি। আমি জানি আমি পারবোই।” এবং সত্যিই, মাত্র দশ মিনিট পর দু’টি ধাপ অতিক্রম করে এক অভাবনীয় দৃশ্য সামনে পেলাম। আমি পর্বত শীর্ষে!

সমতলে দেখা সাইনবোর্ড মোতাবেক পর্বত চূড়ায় পৌঁছাতে আমার তিন ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু আমি এক ঘণ্টা আগেই পৌঁছে গেছি!  যখন বৃদ্ধ ভদ্রলোকটিকে অতিক্রম করছিলাম, তখন সত্যিই আমি আমার ধারণার চেয়ে নিকটবর্তী ছিলাম। কিন্তু তবু তার প্রেরণাদায়ক কথাগুলো না পেলে ওখান থেকে হয়তো ফিরেই যেতাম। উচ্চে ওঠার পথ থেকে নিজেকে থামিয়ে দিতাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আরও দু’ঘণ্টা লাগবে।

বৃদ্ধ পর্বতারোহীকে না পাওয়া পর্যন্ত আমার ধারণাটি ছিলো সীমিত। আমার ভাবনাও ছিলো আবদ্ধ। সাইনবোর্ডে কী পড়েছিলাম শুধু সেটিই আমার মনে থাকতো। বৃদ্ধলোক যখন জানালেন আমি নিকটেই আছি, তখন তিনি জানতেন যে, আমি মাত্র দশ মিনিট দূরে আছি। তিনি আমার লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য দিলেন। পর্বতে চড়ার রাস্তা সম্পর্কে তিনি আমার আগেই জানতেন। ঠিক সেভাবে ঈশ্বর জানেন, আপনার সামনে কতটুকু রাস্তা পড়ে আছে।

আমি জানি না আপনার লক্ষ্য কী; আপনার স্বপ্ন কী; অথবা কতটুকু বাধা আপনাকে অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু আমি চাই, এই কথাগুলো আপনার আত্মার গভীরে গিয়ে পৌঁছাক। বিশ্বাস নিয়ে সেটি গ্রহণ করুন: “আপনার ধারণার চেয়েও কাছে চলে এসেছেন।”

২)  কঠিন লাগছে মানে হলো আমি সমাধানের কাছে চলে এসেছি

বিশ্বমন্দার পরিস্থিতি অনেকের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। আপনি হয়তো আপনার চাকরিটি হারিয়েছেন। হয়তো আপনার সঞ্চয়টুকু শেষ করে ফেলেছেন অথবা নিজের ভিটেটুকুও বিক্রি করেছেন। হতে পারে যে, শারীরিক বা সম্পর্কগত সমস্যায় আছেন। অথবা এমন হতে পারে যে, আপনার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছতে খুব বেশি দেরি হয়ে যাচ্ছে। তবুও আপনার লক্ষ্য এবং আপনার স্বপ্ন থেকে সরে আসার সময় হয় নি। এখনই নিরুৎসাহিত হবার সময় আসে নি। আমার পর্বতে চড়ার কথা মনে করে আপনারা হয়তো বলবেন যে, আপনি তার অর্ধেকও পৌঁছাতে পারেন নি। মনে হতে পারে, আপনার অনেক পথ বাকি।  কিন্তু সত্য হলো, আপনি সেটি জানেন না। এমনও হতে পারে, আপনার স্বপ্নটি সেই কোনায় গেলেই পাওয়া যাবে। আপনার মনে হবে, সেটি আরও দু’বছর দূরে পড়ে আছে।  কিন্তু আপনি যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন, তবে কে জানে, হয়তো দু’মাস পরই আপনার স্বপ্নটি বাস্তবায়ন হবে। আপনার ধারণার চেয়েও কাছে অবস্থান করছেন। আমি বিশ্বাস করি, সময়টি আপনার।

তিন ছেলেমেয়ের জননী এমবার করসন ছিলেন একজন গৃহিনী। আর্থিক মন্দার কারণে তার স্বামীর ফ্লোরিডার নির্মাণ কাজটি চলে যায়। তখন এমবারকে পরিবার চালানোর জন্য রাতের শিফটে কাজ নিতে হলো।

চার সপ্তাহ ধরে সে রাতের শিফটে কাজ করে আসছিলো।  একরাতে সে ক্লান্ত এবং উদ্বিগ্ন অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলো। সন্তানদের সাথে বেশি দেখা হচ্ছে না। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমবার ভাবছিলো। তার পরিবারকে নিয়ে নিশ্চয়ই ঈশ্বরের বড় কোন পরিকল্পনা আছে বলে তার বিশ্বাস ছিল। সেদিন গাড়িতে সে প্রার্থনা করছিলো। “হে ঈশ্বর, দয়া করে তুমি আমাকে বলো এই পরিবার নিয়ে আমি কী করবো।”

যেন ‘নিঃশ্বাসের মতো’ সে একটি সাড়া পেলো। “আমি তোমাকে একটি উপহার দিচ্ছি। তুমি গিয়ে বাগান শুরু করো। তাতে সমস্ত অন্তর দিয়ে পরিশ্রম করো।”

উদ্যানতত্ত্বে এমবারের একটি ডিগ্রি ছিলো, যা সে কখনও কাজে লাগায়নি। সে এতই প্রতিভাবান ছিল যে, চৌকস গার্ডেনার হিসেবে একবার সনদও পেয়েছিলো। কোন কিছু থেকে ফল জন্মানো ছিলো তার প্রকৃতি-দত্ত গুণ। সেই রাতে তার অন্তরে যে উপলব্ধি পেয়েছিলো, সেটি তার স্বামীকে জানালো। এটি নিয়ে সে প্রার্থনা করলো। সে বলেছিল যে, পরবর্তি কয়েকটি সপ্তাহে ‘সবকিছু এমনভাবে ঘটে যাচ্ছিলো যে, মনে হয়েছিলো আগে থেকেই এসব ঠিক করা ছিলো।’

বাগান ও বাড়ির সৌন্দর্য ব্যবস্থানাকে লক্ষ্য করে সে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এমবার। প্রতিষ্ঠানটি বেড়ে ওঠে। এত তাড়াতাড়ি খ্যাতি পায় সেটি, যা ছিলো তার স্বপ্নেরও বাইরে। এটি ছিলো তার সময়!

আপনার স্বপ্নের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর চান একটি নতুন জীবন দান করতে। আপনার অন্তরে তিনি নতুন আশা দিতে চান। আপনি হয়তো একটি বিয়ের সম্বন্ধ বা শিশুর অসুস্থতা বা জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে অল্পেই আশাহত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু ঈশ্বর জান আপনি লেগে থাকুন। তিনি বলতে চান যে, যদি আপনি দ্বিতীয়বার সুযোগ নেন, যদি আপনি মনোভাবে পরিবর্তন আনেন এবং নিচে নেমে যাবার গতিতেই সামনে এগিয়ে যান, তবে তিনি আপনাকে বিস্ময়কর ফল দেখাতে পাবেন।

নেতিবাচক কথাগুলো মন থেকে ছেঁটে ফেলুন। “আমি আর কখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো না। এই নেশাটি আর ছাড়তে পারলাম না। আমার দ্বারা ভালো চাকরি করা হবে না।” এধরণের কথা বলা বন্ধ করুন।

বরং আপনার প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত এরকম: “আমার ধারণার চেয়েও বেশি কাছে এসেছি। এই শিশুকে আমি বড় করবোই। এই অসুস্থতা থেকে আমাকে সুস্থ হতে হবেই। এই ব্যবসায়কে আমি দাঁড় করাবার সামর্থ্য আমার আছে। আমার বিশ্বাস, আমি একটি নতুন কাজ বের করতে পারবোই। বিষয়টি ক্রমেই কঠিন হয়েছে; মানে হলো আমি সমাধানের নিকটে”

৩) আজই সেই দিন

ফ্লোরিডা দ্বীপাঞ্চলে একজন গুপ্তধন শিকারি ছিল, যার ব্যক্তিগত স্লোগানটি ছিল এরকম: “আজই সেই দিন”। নাম তার মেল ফিশার। ষোলটি বছর ধরে প্রতিদিন মেল ফিশার তার ডুবুরিদেরকে ওই কথাগুলো দিয়ে প্রেরণা দিয়ে এসেছে।  ১৬২২ সালে ডুবেছিল এরকম একটি স্প্যানিশ জাহাজ তারা খুঁজে চলেছে। সে তার পরিবারকে নিয়ে একটি লিক-হয়ে-যাওয়া হাউজবোটে বাস করতো আর ডুবুরিদেরকে দিতো প্রতিশ্রুতির জপমালা। জাহাজের ভেতরে সম্পদ খুঁজতে খুঁজতে তার এক ছেলে ও ছেলের বউ হারিয়েছে, তবু ফিশারের স্বপ্ন হারায় নি।

ফিশার আশা ছাড়ে নি।  সে তার স্বপ্নের পিছু ছাড়ে নি। সমালোচকদের ও সন্দেহবাদীদের কাছে হেরেও যায় নি। সে ঘোষণা দিয়ে বলতো, যেকোন দিন ‘সেই দিন’ হতে পারে। তারপর ১৯৮৫ সালের একদিন, স্পেনের এক ভাঙ্গা জাহাজের তলা থেকে ফিশারের ডুবুরিরা সোনা ও রুপার এক মাতৃভাণ্ডারের খোঁজ পায়। তিরিশ বছর পর আজও ডুবুরিরা সেখান সেখান থেকে সম্পদ উদ্ধার করছে।

আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য, একটি স্বপ্নের চাকুরির জন্য, আপনার জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পাবার জন্য অথবা আপনার সুস্বাস্থ্য ফিরে পাবার জন্য আজই কি ‘সেই দিন’ হতে পারে না? উন্নততর জীবন, ভালো একটি সম্পর্ক অথবা সুস্বাস্থ্যের জন্য আপনি হয়তো নিজের ধারণার চেয়েও নিকটে অবস্থান করছেন।  নিজের ওপর বিশ্বাসে স্থির থাকলে, পুরস্কার আসবেই।

আপনার আশাবাদি মনকে সন্দেহবাদীদের কথায় নষ্ট করে দেবেন না। কেউ যদি বলে, “তোমার কী আছে? সবকিছু তুমিই করে ফেলবে, কেন তোমার এমন মনে হয়? তুমিই শুধু সফল হবে, তা কি তুমি সত্যিই বিশ্বাস করো?”

তাদেরকে উত্তরে শুধু এটুকু বলুন: “আমি মনে করি না তা হবে। বরং আমি বিশ্বাস করি তা হবে। আমি আশার কাছে বন্দি এবং ওটা থেকে বের হতে আসতে পারি না। নিজেকে নৈরাশ্যবাদি হতে দিতে পারি না। আমি অভিযোগ করতে পারি না।  আশা আমার বিশ্বাসকে ধরে রেখেছে আর প্রেরণাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”

সন্দেহবাদীরা তখন হয়তো বলবে: “যা হোক, আমি জানি না কীভাবে তুমি এত আশা পাও। আমি তোমার মেডিকেল রিপোর্ট দেখলাম। তাতে তোমার স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভালো খবর পাওয়া যায় না।”

তাদেরকে বলতে পারেন: “হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু আমার কাছে আরেকটি রিপোর্ট আছে।  তাতে বলা আছে যে, ঈশ্বর আমার স্বাস্থ্য পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।”

আপনি ভয় আর নৈরাশ্যের কাছে বন্দি? অথবা অন্তর্দ্বন্দ্বের কাছে? হীনমন্যতার কাছে? তাহলে শেকল ভাঙ্গুন। ফিরে আসুন আশার কাছে। বন্দি হোন আশার কাছে। উত্তম কিছুর প্রত্যাশা করুন। এখনই!

.

.

————————

নতুন প্রজন্মের প্রেরণাদায়ী মার্কিন লেখক জোয়েল অস্টিনের ‘ইটস ইয়োর টাইম’ (২০০৯) অবলম্বনে।

Advertisements

One comment

  1. পিংব্যাকঃ দালাই লামার সুখতত্ত্ব: Philosophy of Happiness | আওয়াজ দিয়ে যাই…

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s