যে ৫টি প্রশ্ন আপনার ব্লগপোস্টটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে!

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

 

ব্লগার হয়ে কখনও পোস্ট দিয়ে হতাশ হয়েছেন কি? এমন কি কখনও হয়েছে যে, অনেক যত্ন করে একটি ব্লগ পোস্ট দিলেন, কিন্তু তাতে মাত্র দু’একটি রিসপন্স পেয়েছেন, অথবা একদমই কোন সাড়া মিলে নি? অনেক খাটাখাটনি করে একটি ব্লগ পোস্ট লেখে তাতে পাঠকের সাড়া না পেলে মন খারাপ হবারই কথা। ভবিষ্যতে এধরণের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য মাত্র ৫টি প্রশ্ন করুন আপনার পরবর্তি পোস্টটি ‘পাবলিশ’ করার পূর্বে।কয়েকটি পোস্টে এরকমভাবে চেক করলে, পরবর্তিতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে:

 

১) পোস্টটিতে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় (key point) আছে কি না?

২) পোস্টের লেখা কীভাবে পাঠককে উপকৃত করতে পারে?

৩) পোস্টের লেখককে কতটুকু/কীভাবে উপকৃত করতে পারে?

৪) পোস্টে লেখা ও তথ্যের বিন্যাস (format) ঠিক আছে কি না?

৫) পোস্টের শিরোনামটি কি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে?

 

 

পোস্টদাতা তার লেখার ধরণ ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ি লেখার মান যাচাই করবেন। অনলাইন লেখক হিসেবে পরিপক্কতা অর্জন করলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু কলা-কৌশল আয়ত্তে চলে আসে। বিষয়গুলোকে অভিজ্ঞ ব্লগাররা বিভিন্নভাবে দেখে থাকবেন। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে উপরোক্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

 

  • একটি কেন্দ্রীয় বিষয় থাকা: প্রাসঙ্গিকভাবে অন্য বিষয় বা সাব-সেকশন থাকতে পারে, কিন্তু মূল বিষয় থাকা চাই একটি। একটি শিরোনামে একটি বিষয় নিয়েই লিখুন।

 

  • পাঠককে উপকৃত করতে পারা: নিজের চিন্তা ও জীবনাচারণের সরাসরি মার্কেটিং না করে পাঠক কী চায়, তাতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাঠকের মনে কী প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে, তার জবাব লেখায় তুলে ধরতে হবে।

 

  • লেখকের নিজস্ব সুবিধা: পাঠকের উদ্দেশ্যে লেখা, তবু লেখকের একটি উদ্দেশ্য আছে। তার বাস্তবায়ন থাকতে হবে। নতুবা তা হবে শুধুই সময় আর অর্থের অপচয়। পাঠকের কোন করণীয় থাকলে, তা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক এবং উপযুক্ত ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

 

  • লেখা ও তথ্যের বিন্যাস: ছাপানো বই হলে কাজটি প্রেসওয়ালাই করতো, কিন্তু অনলাইন লেখককে খেয়াল রাখতে হবে, লেখাটি কমপিউটার স্ক্রিনে দেখতে কেমন দেখাবে। সাব-সেকশনগুলো আলাদাভাবে দেখানো হয়েছি কিনা, বোল্ড ইটালিক আন্ডারলাইন টিক আছে কিনা, উদ্ধৃতিগুলো দেখানো হয়েছে কিনা, তথ্যসূত্র সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কিনা ইত্যাদি চেক করেই ‘পাবলিশ’ বাটনে চাপ দিতে হবে।

 

  • আকর্ষণীয় শিরোনাম: লেখার শিরোনাম দেখেই পাঠক ঠিক করবেন, আপনার লেখাটি পড়বেন কি না। অতএব ভালোভাবে চিন্তা করে শিরোনাম নির্ধারণ করুন। শিরোনামকে লেখার সংক্ষিপ্ত সারাংশও বলা চলে। তবে চটকদার শিরোনাম দিয়ে লেখায় তার প্রতিফলন রাখতে না পারলেও উল্টো ফল হয়।

 

প্রিন্ট মাধ্যমের কথা আলাদা, কিন্তু অনলাইন লেখকের জন্য পাঠক-প্রিয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। লেখার মান ঠিক রাখার জন্য পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের ব্লগ পড়া এবং অন্যের ব্লগ দেখার বিকল্প নেই।

 

লেখাটি কেবল ব্রেইন স্টর্মিং করার জন্য চিন্তার খোরাক হিসেবে তুলে ধরা হলো। উপরোক্ত বিষয় ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে, যা ব্লগের মান বৃদ্ধি করবে। উপরোক্ত কোন্ বিষয়টিকে আপনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, তা তুলে ধরতে পারেন। অথবা, আরও কোন প্রশ্ন আপনার মনে আসলে, তা মন্তব্যের ঘরে লিখে দিতে পারেন। তাতে লেখাটিকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।

 

ঘুড়ি ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানান্তরিত ]

——————-

*বর্তমান যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে, নাগরিক সাংবাদিকতা একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। এটি ক্রমেই সম্প্রসারণ হচ্ছে।  পরামর্শের আকারে লেখা বর্তমান পোস্টটি সৃজনশীল লেখার ক্ষেত্রে ততবেশি প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s