একদিন কলকাতায়

সকালের কলকাতা: ট্যাক্সি ড্রাইভারের খপ্পড়ে

হুগলিতে ভেসে নদী, নগর ও সেতু দেখার লোভে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ যাবো বেলুর মঠ দেখতে। মঠও দেখা যাবে নদীও দেখা যাবে। বলা বাহুল্য, নদী দেখাই প্রথম অগ্রাধিকার! কুটিঘাট থেকে প্রতি আধাঘণ্টা অন্তর ইন্জিনের নৌকা ছাড়ে। একটি মধ্যম মানের হোটেলে রাত্রি যাপনের পর ইন্ডিয়ান কম্বলের উষ্ণতা থেকে বের হলাম। টিভিতে প্রায় ৯০০ চ্যানেলে কেবলই ইন্ডিয়ান অনুষ্ঠান দেখা যায়। শুধু বাংলাতেই কমপক্ষে ৭০টি চ্যানেল। তাছাড়া কমপক্ষে ৪০টি চ্যানেল ভজন, অর্চনা, প্রার্থনা, যোগব্যায়াম ইত্যাদি বিষয়ের জন্য। শীত ঢাকার মতোই। তবু বিদেশের মাটিতে অসুস্থ হতে চাই নি বলে গরম পানি মিশিয়ে গোসল শেষ করলাম। পরোটা আর ডালের নাস্তা। পরোটা মানে বিশাল আকৃতির ‘লুচি ভাজা’ বলা যায়; ডাল মানেও বাংলাদেশের ডাল নয়। টমেটো পাঁচফোরণ ইত্যাদির ব্যঞ্জনায় সৃষ্ট ডালের তরকারি। শীতের দীর্ঘ রাতের পর ক্ষুধার্ত পেটে গরম পরোটা, খেতে মন্দ নয়। মূল্য মোট ৬০ টাকা! খেয়ে বের হলাম সকাল সাড়ে সাতটা।

.

সকালের কলকাতা যেন বিয়েবাড়ির সকাল। বিয়ে শেষ কনেসহ বরযাত্রীরা সব বিদায়। ছড়ানো ছিটানো জড়ি আর কাগজ টুকরোয় হুহু করে শূন্যতা। সবজায়গায় শূন্যতা থাকলেও বাসি উৎসবের চিহ্ন রয়েছে রাস্তায়। দেশী-বিদেশী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে গতরাতে সরগরম ছিলো এই এলাকাটি। এখন হোটেলগুলো ছাড়া সবকিছু বন্ধ। উৎসবের আমেজে পাবলিক কলে কাঁধে গামছা মুখে ব্রাশ নিয়ে গোসল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত কলকাতাবাসীরা। হঠাৎ গড়গড় করতে করতে সামনে এসে উপস্থিত করপোরেশনের পানির ট্রাক। আমার মতো আরলি-রাইজার মর্নিং ওয়াকার যারা, তারা সবাই রাস্তার এক কোণে একটি পিলারের পেছনে জড়ো হয়ে গেলো। ব্যাপার কী? ছেরছের করে পানির বর্ষণে ভাসিয়ে দিয়ে গেলো রাস্তার সব ধূলোবালি। ময়লাসহ পানি গিয়ে পড়লো পাশের গুপ্ত সুরঙে! রাস্তা পরিষ্কার রাখার কী চমৎকার আইডিয়া! কলকাতার পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে গতকাল আমি এর কারণ খুঁজে পাই নি। মনে হয়েছিলো এক পশলা বৃষ্টি এসে ধুয়ে দিয়ে গেলো কলকাতার রাস্তাগুলোকে। পানির ট্রাক অতিক্রম করে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে থাকলাম। নিউমার্কেট সংলগ্ন রাস্তার মাথায় এসে দাঁড়াতেই হলুদ রঙের একটি ট্যাক্সি এসে দাঁড়ালো। ট্যাক্সি নেবার পরিকল্পনা না থাকলেও, ইতিস্তত করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম: বেলুর মঠে যাবার জন্য কুটিঘাট যাবার পথ সে জানে কি না। ‘কুঁদঘাট যাবেন তো? উঠুন না দাদা! উঠিয়ে!’ সকালের শান্ত শহর দেখার সিদ্ধান্তে ট্যাক্সিতে চড়ে বসলাম। ড্রাইভার অবাঙালি। গাড়িতে সকালের পুজো হয়েছে – গনেশ ও বিবেকানন্দের ছবি ঝুলানো। রাস্তা জুড়েও আগরের গন্ধ, যেন সমস্ত কলকাতা একটি পুজোমণ্ডপ! গাড়িতে ঝুলানো বিবেকানন্দ বাবুকে এড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছি। গাড়ি চলতে চলতে পুরান ঢাকার মতো চাপা গলিতে প্রবেশ করলো। রাস্তা দু’পাশে মুদি দোকান থেকে শুরু করে ওষধ, ফটোস্টুডিও, ফলের দোকান সবকিছু চোখে পড়লো।

.

হঠাৎ একটু দ্বিধায় পড়ে গেলাম। ট্যাক্সিড্রাইভার আমাকে কুঁদঘাট নামক এক স্থানে এসে থামিয়ে দিয়েছে – এটিই কি কুটিঘাট? তবে নৌকাঘাট কোথায়? সামনে দেখতে পারছি মেট্রো রেলের স্টেশন! ড্রাইভার বাংলাও বুঝে না, ইংরেজিও বুঝে না। সত্তর টাকা বিল। নেমে পড়ার উপক্রম করতেই ড্রাইভার বুঝালো যে, বেলুর মঠে ট্যাক্সিতে গেলে সে রাজি আছে নিয়ে যেতে। বেশি সময় নেবে না, এক ঘণ্টা মতো। এখনও অনেক সকাল। আমি ভাবলাম প্রায় ৪৫ মিনিট পর যেহেতু ৭০ টাকা বিল হয়েছে, বেলুর মঠ পর্যন্ত ২০০ টাকার বেশি বিল হবে না। আস্তে আস্তে কলকাতা শহর দেখে যাওয়া যাবে। অতএব রাজি হয়ে ট্যাক্সিতেই থেকে গেলাম। অন্য দিক দিয়ে চলতে থাকলো গাড়ি। মূল সড়ক অতিক্রম করে, শাখা সড়ক পার হয়ে রবীন্দ্র সেতুতে ওঠলো আমাদের ট্যাক্সি। ড্রাইভারকে গতি কমিয়ে ছবি তোলার সুযোগ দিতে অনুরোধ করলাম। হালকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে হুগলি নদী।

.

ভাগীরথী-হুগলী নদীটি গঙ্গার একটি শাখা। মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা বাঁধ থেকে আলাদা হয়ে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এসে কলকাতা ও হাওড়া জেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর ওপরেই বিখ্যাত হাওড়া ব্রিজ। পটপট করে ইন্জিনের নৌকা যাচ্ছে বাঁ দিক দিয়ে। রেলিঙের কারণে ছবি তোলা হলো না, ইচ্ছেও হলো না। নদীতে দৃষ্টি আটকে গেলো। ভরা নদীতে যেন বর্ষার পানি। হালকা বাতাসে তিরতির করে পানি বইছে। মন উদাস করা দৃশ্য। বাংলা, তুমি কত রূপ জানো!

.

ব্রিজ পার হয়ে একটি ফ্লাইওভার অতিক্রম করে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলুর মঠের সামনে এসে পৌঁছলাম। ভাড়া ২২০ হলেও ড্রাইভার একটি চার্ট দেখিয়ে বুঝালো যে ২২০= ৪৪০ টাকা। আমি নিজের ভুল নিয়ে আর কোন পরিতাপ না করে টাকা পরিশোধ করে বেলুর মঠে প্রবেশ করলাম। চল্লিশ একর জমির বিশাল বড় কমপাউন্ডের পাশে পাবলিক টয়লেট দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হলাম। পরিচ্ছন্ন শৌচাগারে এক টাকার সেবা নিলাম। সুরম্য মন্দির ও গোলাপি রঙ্গের গুম্বুজে পরিপূর্ণ হয়ে আছে রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবাহী বেলুর মঠ। ছবি তোলতে মানা, ইচ্ছেও নেই। অনেক দর্শনার্থী, জুতো খুলে যখন-যেখানে-যেভাবে-প্রযোজ্য ভক্তি ও অর্জ্ঞ প্রদান করছে। আমার কোথাও প্রবেশের প্রয়োজন হয় নি।  এবারের উদ্দেশ্য নৌকাঘাটে গিয়ে ইন্জিনের নৌকা ধরা।

.

বেলুর মঠের এক পাশ দিয়ে একটি পকেট রাস্তা ধরে নৌকা ঘাটের দিকে হাঁটতে লাগলাম। কোন বাহন নেই, শুধুই হাঁটার রাস্তা। দু’পাশে বেলুর মঠের  স্মৃতি-পণ্য সাজিয়ে রেখেছে রকমারি দোকান। পাতার ছোট্ট থালায় চারটি পুড়ি ভাঁজ করে তার ওপর বুট ও গোলআলুর ডাল। এর নাম কচুরি! পরিবেশনার অভিনবত্ব দেখে খাবার ইচ্ছে জাগলো। মূল্য মাত্র দশ টাকা। তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। নৌকাঘাট মাত্র এক মিনিটের দূরত্বে! ঘাটের গেইটে লেখা ‘এখান থেকে দক্ষিণেশ্বর যাবার নৌকা পাওয়া যায়।’ ভাড়া  দশ টাকা।  বাঁ দিকে মোড় নিয়ে জেটিতে প্রবেশ করলাম।

.

জেটির চার পাশে অনেক নৌকা চাক দিয়ে বাঁধা আছে। জেটি বেয়ে নামতেই দক্ষিণেশ্বরে যাবার ডাক পেলাম। নৌকার রশি খোলা – ইতোমধ্যেই জেটি থেকে বিচ্ছিন্ন। যেন আমার জন্যই অপেক্ষা করছে! লাফ দিয়ে গিয়ে বসার সাথে সাথে নৌকা বের করতে শুরু করলো পেন্ট শার্ট পরা আধুনিক মাঝিরা। সহযাত্রী হয়েছে কয়েকটি পরিবার, সাথে একটি শ্বেত বর্ণের বিদেশি দম্পতি। ক্যামেরা বের করে জেটির দৃশ্য ধারণ করছি, সাথে সাথে এসএলআর নিয়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তারা। হয়তো ছবি তোলার  অনুমতি নিয়ে বিদেশীরা চিন্তিত ছিলেন। আমাকে দেখে তারাও উৎসাহিত হলেন। আমাকে অবশ্য সম্পূর্ণ বিদেশী মনে করে নি যাত্রী বা মাঝি কেউই। বেলুর মঠের ছবি তুললাম নদী থেকে – এবার কেউ মানা করার নেই। উজান পানি অতিক্রম করে প্রথমে নদী পার হলো আমাদের নৌকাটি। তারপর ডান দিকের তীর ঘেসে দক্ষিণেশ্বরের উদ্দেশ্যে আস্তে আস্তে চলতে থাকলো। বিপরীত দিক থেকে বেশ কিছু যাত্রীবাহী নৌকা আমাদেরকে অতিক্রম করে বেলুমঠের দিকে যাচ্ছিলো। নদীতে গণ-গোসলের দৃশ্য দেখছি আর স্মৃতিকাতর হচ্ছি ফেলে-আসা কিশোর জীবনকে নিয়ে। ওপর দিয়ে সেতু চলে গেলো একটি, সামনে আরেকটি দেখা যাচ্ছে। প্রায় ২৫ মিনিট পর ডানপাশে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের সুউচ্চ মিনার দেখা গেলো। উৎসব করে গোসল করতেছে মানুষগুলো। ছবি তুলে পাশের সহযাত্রীটিকে জিজ্ঞেস করলাম, আজ কোন বিশেষ ‘দিবস’ কিনা। তিনি জানালেন, এটি দক্ষিণেশ্বর মন্দির ঘাটের দৈনন্দিন দৃশ্য: গঙ্গাস্নান। নৌকা থেকে নেমে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ভেতর দিয়ে বের হলাম। বেলা মাত্র সাড়ে এগারোটা! ট্যাক্সিকে জানালাম ধর্মতলা ভিক্টোরিয়া পার্কে যাবো। ভারতের সপ্তমাশ্চর্য্যের একটি। রাণী-সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই প্রাসাদে।

.

.

দুপুরের কলকাতা: ভারতে আমি যখন স্থানীয়!

মিটারের চেয়ে দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে ভিক্টোরিয়া স্মৃতি প্রসাদে পৌঁছাতে আরও এক ঘণ্টা লাগলো। প্রবেশ মূল্য বিদেশীদের জন্য ১৫০টাকা, দেশীদের জন্য ১০টাকা। বিদেশী হিসেবে দিনভর দ্বিগুণ ট্যাক্সি ভাড়া দেবার পর একটি অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলাম। তা হলো: সত্যও বলবো না, মিথ্যেও বলবো না। অতএব ১০টাকা দিয়ে প্রবেশ ও প্রাসাদে যাবার টিকেট কিনলাম। একটু অপরাধবোধ সৃষ্টি হলো, তবে প্রাসাদ দেখার আনন্দে সব মিলিয়ে গেলো। প্রাসাদটিকে যাদুঘরের মতো সাজানো হয়েছে। একপাশে ব্রিটিশ চিত্রকলা ও ব্রিটিশ নেতানেত্রীর স্মৃতি চিহ্ন। পলাশীর যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিজয়ী লর্ড ক্লাইভের সগর্ব স্টাচু দেখে মেনেই নিলাম যে, এটি ব্রিটিশ আমলের প্রাসাদ। অন্য দিকে একই সময়ের উপমহাদেশীয় নেতানেত্রীদের ছবি এবং উপমহাদেশীয় চিত্রকলা। নারীর ছবি, গ্রাম্য জীবনের ছবি। সউচ্চ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠলাম। মাঝে বিশাল হলরুম। প্রাসাদের চার পাশে বিস্তির্ণ খোলা মাঠ, যা এখন অভিসারালয় বা ডেইটিং স্পটের রূপ নিয়েছে। ছবি তুললাম অনেক। শেষে প্রাসাদকে পেছনে রেখে নিজের একটি ছবি তুলাল লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। একজন অতিথিকে অনুরোধ করে ভারতে আমার একমাত্র ছবিটি তোলালাম। ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে পায়ে হেঁটে কলকাতা শহর দেখতে দেখতে ইন্দিরা স্কয়ার হয়ে ফিরে এলাম ধর্মতলায়।

.

.

রাতের কলকাতা: সম্মোহিত হয়ে কোথায় ঢুকে গেছি টের পেলাম অনেক পরে…

হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধায় বের হলাম নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায়। ঢাকার নিউমার্কেটের মতো রাস্তায় স্লোগান দিয়ে বিক্রি হচ্ছে শীতের জামা, জুতো থেকে শুরু করে মেয়েদের যাবতীয় দ্রব্য সামগ্রী। ‘ডেরছো ডেরছো!’ করে দাম হাঁকছে শিশুদের শীতের টুপি ও মাফলারের জন্য। ডেরছো মানে দেড়শ’ টাকা!  ‘লিয়ে যান, লিয়ে যান!’ নারী-পুরুষের মিশ্রিত জনস্রোতে আমি চলতে থাকলাম উদ্দেশ্যহীন। কেএফসি’র একটি আউটলেট দেখে মার্কেটের ভেতরে প্রবেশ করলাম। তার আগেই চোখে পড়লো ‘ধুম ত্রি’ – হাউজফুল। ছাত্রজীবনের বলাকা হলের কথা মনে পড়লো। হাউজফুল মানে হাউজফুল নয়: বাইরে টিকেট কাটতে হবে! কেএফসি’র সামনে অর্থাৎ সিনেমাহলের সামনে নারী-পুরুষ দর্শকেরা চক্রাকারে দাঁড়িয়ে আছে প্রবেশের অপেক্ষায়। যেমন নারী, তেমনি প্রৌঢ় বয়সের দর্শক। পরিবেশ একদম মন্দ নয়। একশ’ পঞ্চাশ কোটি রুপির ‘ধুম সিকোয়েলের’ সিনেমাটি শিকাগো, জুরিখ এবং মুম্বাইয়ে চিত্রায়িত। স্থানীয় ইংরেজি পত্রিকায় ব্লকবাস্টার হিসেবে ঘোষণা করে সপ্তাহটিকে ‘ডুমসডে’ হিসেবে খেতাব দিয়েছে। আমির খানের ডাবল ভূমিকা। ঢাকার জীবনে এরকম পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দিতে হয়, আমি জানি। মোদ্দাকথা হলো, তিন ঘণ্টা ব্যাপী সিনেমা দেখার পরিস্থিতিই সৃষ্টি হতো না। কিন্তু নতুন ছবি, কলকাতার প্রেক্ষাগৃহ, আমিরখানের একশন, ক্যাটরিনার রিনঝিন উপস্থিতি, উদয় চোপড়ার প্রাণবন্ত হাসির দৃশ্যগুলো ইত্যাদি আকর্ষণ আমাকে প্রলুব্ধ করতে লাগলো। অভিষেকের কথা নাইবা বললাম! সম্মোহিত হয়ে বাইরে এসে ফের ‘ডেরছো ডেরছো’ ডাক শুনতে পেলাম। জামাকাপড়েরর দাম নয়, কালোবাজারির হাতে টিকিটের দাম! আসল মূল্য কমপক্ষে তার অর্ধেক হবে। লাইট কমতে শুরু করেছে! কখন টিকিট কেটে, কতটুকু অপেক্ষার পর কীভাবে প্রবেশ করেছিলাম তার কিছুই মনে নেই। হঠাৎ মনে হলো একটি আলো-আধারি পরিবেশে আমি বসে আছি, সামনে রুপালি পর্দায় ভারতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন। একটু পরই শুরু হচ্ছে প্রিয় অভিনেতা আমির খান অভিনীত ধুম ত্রি। বাকি কথা সকলেরই জানা। বিস্তারিত বললে সেটি সিনেমার রিভিউ হয়ে যাবে। লেখা আর দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছি না। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য হলো, একজন অসম্ভব ক্ষমতার আমির খানকে দেখতে পেলাম বেশ বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে। মার্কিন মুলুকে পিত্রদত্ত পেশা ম্যাজিশিয়ান ও সার্কাস কর্মী এবং রহস্যময় ব্যাংক লুটেরার ভূমিকায়। প্রতিটি কৃতীত্বে ভারতীয় দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে বুঝতে পারলাম, আমির খান চাইলে অন্য অনেক চলচ্চিত্রাভিনেতার মতো রাজনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। ভারতীয়রা হয়তো সিনেমা দেখেছিলো, আমি দেখেছিলাম ভারতীয়দেরকে – দেখেছিলাম তাদের সিনেমাহলের পরিবেশ।

কয়েকটি ছবি:

11 (3)

11 (5)

11 (6)সহযাত্রী আরেক বিদেশী তুলছেন গঙ্গাস্নানের ছবি।

11 (7)

দক্ষীণেশ্বর মন্দিরের ঘাটে পৌঁছে গেছি আমরা।

11 (8)

ভিক্টোরিয়া পার্কের প্রবেশ পথ – অদূরে ভিক্টোরিয়া প্রাসাদ।

11 (9)

প্রাসাদের ভেতর থেকে সামনের দৃশ্য।

11 (10)

প্রাসাদের পেছন অংশ।

11 (11)

সালে প্রতিষ্ঠিত সুদৃশ্য ভিক্টোরিয়া প্রাসাদ। কুইন্স ওয়ে, কলকাতা। ৫৬ মিটার উঁচু। স্থপতি উইলিয়াম ইমারসন।

11 (14)

কলকাতা ভ্রমণে লেখকের একমাত্র ছবিটি।

Advertisements

One comment

  1. পিংব্যাকঃ ফেলানী রোডের সেই দূতাবাসটিতে একদিন… | আওয়াজ দিয়ে যাই…

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s