কীভাবে গড়ে তুলবেন আপনার ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব (Virtual Personality)?

আপনার দৃশ্যমান ব্যক্তিত্বকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব!

আপনার দৃশ্যমান ব্যক্তিত্বকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব!

সাইবার বিশ্বে যে যা খুশি তা-ই হতে পারে। ছেলে হতে পারে একজন সুন্দরি মেয়ে, কুৎসিত হতে পারে সুদর্শন, গরীব হতে পারে ধনী এবং একজন দুর্বল ব্যক্তি আবির্ভূত হতে পারে শক্তিশালী প্রতিপক্ষরূপে। এতে কেউ কিছু মনে করছে না, কারণ কেউ কাউকে প্রমাণ করতে পারছে না – প্রয়োজনও বোধ করছে না। ‘বেনামী বা পরিচয়বিহীন’ থাকার সকল সুবিধা নিচ্ছেন অনেকেই*।

এখানে খারাপ হওয়া যেমন সহজ, ভালো হওয়াও বাস্তব জীবনের চেয়ে অনেক গুণ সহজ – শুধু আঙ্গুলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করলেই হয়। ঠিক এটিই আমার আলোচ্য বিষয় – এতো  সুযোগ থাকার পরও কীভাবে ভারচুয়ালি বা দৃশ্যমানভাবে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা যায়। এটি তাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যারা অনলাইনে লেখেন বা সামাজিক মাধ্যমে জড়িয়ে আছেন অথবা যারা ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ  উপার্জন করেন। ফ্রিল্যান্সিং যারা করেন তাদের জন্য ‘পরিচয়বিহীন’ থাকার সুযোগ কম, কারণ নিজেদের উপার্জন হাতে পেতে হলেও আসল পরিচয় দিতে হয়।

কোথায় কখন কী তথ্য শেয়ার করা হয়, তা খেয়াল রাখা কঠিন। ইমেল, টুইটার, স্কাইপে, ব্যাংকিং, ফেইসবুক ইত্যাদি বিভিন্নভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের স্ব স্ব কমপিউটারের আইপি ঠিকানা অথবা ইমেল এড্রেস। তাই, পরিচয় বের করা কঠিনও নয়, যদি কেউ কারও পেছনে ভালোমতো লাগেন।অতএব, ভারচুয়াল ব্যক্তিত্বকে** সমুন্নত রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। 

.

১) নিজের অস্তিত্বকে তুলে ধরুন: যতটুকু সম্ভব নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, মতামত, অনভুতিকে সাবলীলভাবে তুলে ধরুন আপনার লেখায় ও মন্তব্যে। খারাপ কথা, খারাপ ছবি, নিম্নরুচির কমেন্ট করে নিজের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না।

.

২) ভারচুয়াল সততা রক্ষা করুন: যা ভালো তাতে লেগে থাকুন। মন্তব্য দিন আন্তরিকভাবে, কোন বিষয়ে মুগ্ধ হলে তা প্রকাশ করুন নিঃসংশয়ে। আপনি যেকোন নাম ধারণ করতে পারেন, সেটি বিবেচ্য নয়। কারও সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়াবেন না, বাস্তব জীবনে সে আপনার বন্ধু হলেও তা করবেন না। কারও বিষয়ে কুৎসা রটিয়ে আলোচনা হলে, সেখানে অংশ না নেওয়া হবে উত্তম।

.

৩) আপনার নামটিকে একটি ব্রান্ড হিসেবে গড়ে তুলুন: সবখানে একটি নামই ব্যবহার করুন: কী ব্লগ, কী টুইটার, কী ফেইসবুক। প্রোফাইল ছবিও বেশি বেশি না বদলালে ভালো। বদলালে সবখানে একসাথে বদলান। একটি করপোরেট ব্রান্ড যেমন তার সুনামকে ধরে রাধার জন্য চারদিক থেকেই সতর্ক থাকে, ঠিক তেমনভাবে একে রক্ষা করুন। এই নাম নিয়ে কোথাও বেফাঁস কথা/কাজ করবেন না।

.

৪) ক্লিক করার আগে চিন্তা করুন: ক্লিক করলেন তো শেষ করলেন! এরপর আর শুদ্ধ করার সুযোগ থাকে না। কোন কিছু লিখে একবার ভেবে নিন – লেখাটি কি সঠিক, তা কি সকলের কল্যাণে আসবে, ভাষা কি ঠিক আছে, তাতে কি সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠতা আছে? ইত্যাদি ইত্যাদি। কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে অপমান/অবমাননা করে কোনকিছু লেখবেন/পোস্ট দেবেন না।

.

৫) যত্রতত্র গিয়ে সেখানে চিহ্ন রেখে আসবেন না: আমার অতি পরিচিত একজন অনলাইন বন্ধু একটি পর্নোসাইটে গিয়ে কী কী ছবি ‘লাইক’ করেছেন, আমার ফেইসবুকের নিউজ ফিডারে ভেসে ওঠলো একদিন। সরাসরি বলে তাকে বিব্রত না করে আমি শুধু একটি স্প্যাম রিপোর্ট করলাম। সম্ভব হলে বদভ্যাস ত্যাগ করুন – না পারলে অন্তত গোপনে রাখুন!

.

.

কয়েকটি অবধারিত প্রশ্নের উত্তর (Frequently Asked Questions / FAQ)***

ক)  ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব কী?

> ইন্টারনেটে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্যে বা ছবিতে ‘অদেখা’ মানুষগুলোর যে চিত্র অন্য একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সামনে ফুটে ওঠে।

.

খ)  ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব রক্ষায় কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়?

> প্রধানত, লেখা, মন্তব্য, প্রোফাইল ছবি, অন্যান্য পোস্ট এবং সার্ফিং হিস্টরি।

.

গ) নেটিকেট এবং ভারচুয়াল ব্যক্তিত্বের কি যোগসূত্র আছে?

> নেটিকেট বা সাইবার জগতের আচার-ব্যবহার যে জানে, তার পক্ষে ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব রক্ষা করা সহজ।

.

ঘ) ব্লগিং বা সামাজিক নেটওয়ার্কিং-এ ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব  কী প্রভাব ফেলতে পারে?

> সরাসরি প্রভাব ফেলে। আপনার নাম আপনার প্রোফাইল ছবি যদি আগেই পরিচিত এবং জনপ্রিয় হয়, তবে আপনার লেখা বা পোস্টে বেশি হিট পড়বে। এটি স্বাভাবিক।

.

ঙ) ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব রক্ষায় কোন বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন আছে কি না?

> আপাত দৃষ্টিতে তা মনে হয় না – শুধু ভালো ইমেজ রক্ষা করার প্রচেষ্টাটি ধরে রাখলেই হয়। তবে যারা স্বাভাবিক জীবনে ব্যক্তিত্বশীল এবং বন্ধুত্বপরায়ন তাদের জন্য এটি অধিক সহজ।

.

চ) সামাজিক ব্যক্তিত্ব রক্ষার চেয়ে ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব রক্ষা করা কি সহজ নাকি কঠিন?

> সম্মুখ পরিস্থিতিতে আবেগ/অপছন্দ দমন করা কঠিন। তাছাড়া, সামাজিক জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রাখার একটি বিষয় আছে, সাইবার জগতে শুধু আঙ্গুলগুলো দমনে রাখলেই চলে। সামাজিক ব্যক্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন, কারণ ওখানে বাস্তব প্রয়োগ দেখাতে হয়, যা ভারচুয়াল জগতে নেই।

.

.

.

ভারচুয়াল ব্যক্তিত্বের সাথে প্রাসঙ্গিক লেখাগুলো: 

১)) সাইবার সমাজে আচার-ব্যবহার কীভাবে করবেন…

২)) অনলাইন একটিভিস্ট বা ইন্টারনেট লেখক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের উপায়

৩)) অন্যের পোস্টে সৃজনশীল মন্তব্য দেবার ১০ উপায়

৪)) অন্যের পোস্টে মন্তব্য দেবার কয়েকটি উদাহরণ

[ছবি ইন্টারনেট থেকে]

_____________________________________________________________________________________________

*সাধারণত পরিচয় গোপনই থাকে। তবে সমস্যা গুরুতর বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চলে গেলে আইপি ট্রাকিং করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে আজকাল।

**Virtual Personality টার্মটি িএখনও মনস্তাত্ত্বিকদের বিষয় হয়েই আছে। Virtual Personality নামে কণ্ঠস্বর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি এপলিকেশন সফটওয়্যার আছে।  ভারচুয়াল অনেককিছুরই সংজ্ঞা আছে কিন্তু ভারচুয়াল ব্যক্তিত্ব বিষয়টি এখনও অসংজ্ঞায়িত। ফলেই এর পরিচয় বের হয়ে আসবে!

***প্রযুক্তির গতিশীলতার মতো প্রযুক্তিনির্ভর টার্মিনোলজিগুলো প্রতিদিন হালনাগাদ হচ্ছে এবং ব্যবহার-উপযোগীতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই এলেখাটিও হালনাগাদ হতে থাকবে আগামি দিনগুলোতে! 🙂

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s