::হটসিটের ডায়েরি::

প্রথম আলো ব্লগের হটসিটে আমি :)

প্রথম আলো ব্লগের হটসিটে আমি 🙂

৩০ ও ৩১ মার্চ ছিলো ব্লগার হিসেবে আমার একটি স্মরণীয় দিন। এই সম্মানীত স্থানে পূর্বে যারা এসেছেন তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। সেসাথে সকল সহব্লগারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আমার একটি দিনকে তাৎপর্যপূর্ণ আনন্দে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ জানাই আলো ব্লগের প্রাণ নীল সাধু এবং সঞ্চালক মণ্ডলীকে। একটি ব্লগসাইটের ভিত (user base) দৃঢ়তর করা এবং ব্লগারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে হটসিট নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। হটসিটকে আরও সার্বজনীন এবং সকল মতাবলম্বী ব্লগারদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সঞ্চালক এবং সহব্লগার নীল সাধুকে অনুরোধ জানাই।

সহব্লগারদের মস্তিস্কভেদি প্রশ্নাবলী: সহব্লগারদের অধিকাংশ প্রশ্ন ছিলো আমার পছন্দ, অপছন্দ, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া ও আড্ডাকেন্দ্রিক। কিছু প্রশ্ন সংখ্যায় কম হলেও তাতে ছিলো তাৎপর্য ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি। অনেক উপভোগ করেছি সকল প্রশ্ন। মেজদা’র প্রশ্নগুলো অনেক কৌতুকের সৃষ্টি করেছে। ঠিক বরাবর যা হয়, তার উপস্থিতি ছিলো অন্য সকলের জন্য আনন্দদায়ক। তাতে অনুষঙ্গ হিসেবে ছিলেন দীঘি, ঘাসফুল ও মাটিরময়না। দীঘি তো শুরুতেই সরল-কঠিন প্রশ্ন দিয়ে আমাকে দীঘিতে ফেলে দিলেন! কবি শাহীদুল হক, নাসির আহমেদ কাবুল, চারুমান্নান, রশীদ জামীল, ভুতের আছড়, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ জৈষ্ঠ ব্লগাররা পর্যবেক্ষকের মতো সঙ্গ দিয়েছেন। নূর মোহাম্মদ নূরু এবং শারদ শিশির শুরুতে উপস্থিত থেকে শক্তি সঞ্চয় করেছেন হটসিটে তপ্ত অতিথিকে।সহব্লগার সোলায়মান ইসলাম নিলয় ব্যক্তিগত এবং লেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন এবং উত্তর দেবার পর ‘ভারচুয়াল চিকেন’ খাইয়েছেন। জীবন ও ভালোবাসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন সহব্লগার চারুকথা; তারপর কবি ‘চারুমান্নান’ এসে কষ্টের মধ্যে সহমর্মিতা জানালেন। ফটোব্লগার কামাল উদ্দিন প্রায় সারাক্ষণ সঙ্গে থেকে অগণিত মজার প্রশ্ন দিয়ে আমাকে ‘ভাসমান’ রেখেছেন। স্বভাব কবির নাকি সঙ্গীর অভাব: ঠিক এরকম একজন কবি আমাকে দারুন আন্তরিকতায় গ্রহণ করলেন হটসিটে। ঠিক ধরেছেন, তিনি হলেন কবি আশরাফুল কবীর। ব্যস্ততা থাকলেও ‘জীবন যেখানে যেমন’ লগইন করেছিলেন শুভেচ্ছা জানাবার জন্য। কাছের মানুষ এবার মনে হয় কাছেই (দেশে) ফিরেছেন – তার শুভেচ্ছা পেয়ে খুশি হলাম।প্রশ্ন দিয়ে উষ্ণতা দিয়েছেন সহব্লগার নুরুন্নাহার, মোসাদ্দেক, মেঘনীল ও ধ্বংসের নিমন্ত্রণ। ধ্বংসের নিমন্ত্রণ আমাকে বই প্রকাশের নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন – ভালো লাগলো! স্বাগত জানিয়েছেন ছাইফুল হুদু ছিদ্দিকি, অরিত্র অন্বয়, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, আলভী, নীল রুপাই, মোস্তাফিজুর রহমান, নুমান এবং মুক্তমন ৭১।
ফেরদৌসা আপা ভ্রমণে থাকায় বেশি সময় না পেলেও দু’বার ঢু মেরেছেন। সহব্লগার আরমানুজ্জামান আমাকে ডিম এবং নাসরীন চৌধুরী কফি খাওয়ালেন। নতুন ব্লগার মনের প্রতিবাদ, ছেলেমানুষ, হামিদ এবং ওমর ফারুক পরবিকে পেয়ে খুশি হলাম।তবে সঙ্গতকারণেই সকল ব্লগারের সকল প্রশ্নেরই পরিপূর্ণ উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় নি। অন্যদেরকে অপেক্ষায় রাখতে চাই নি বলে, তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়ে নিচের দিকে দৃষ্টি দিয়েছি। যেমন মেজদা আমার সঙ্গীতের আগ্রহ নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করলেও আমার সন্তুষ্টিমতো উত্তর তাকে দিতে পারি নি।

সকল প্রশ্নকারী ও অংশগ্রহণকারীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের প্রশ্ন নিজেকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করেছে। কিছু প্রশ্নে হৃদ্যতার ছোঁয়া পেয়েছি – কিছু প্রশ্নে গভীর জীবন ও সমাজ দর্শন।

বিষয়ভিত্তিক কিছু প্রশ্ন ও উত্তর: যেসব প্রশ্ন ব্লগিং, প্রেম, দর্শন, দেশের রাজনীতি এবং সাধারণভাবে সকল সহব্লগারের কাছে প্রয়োজনীয় হতে পারে সেরকমের কয়েকটি বিষয় আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রাখছি। বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

(১) কামরুন্নাহার: আপনি কবে থেকে ব্লগিং করেন? আপনি কি মনে করেন প্রথম আলো ব্লগে এসে আপনি অনেক কিছু পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে কি কি পেলেন? আপনার কি মনে হয় এক ব্লগার আরেক ব্লগারের প্রতি অনেক টান আছে,নাকি এগুলো লোক দেখানো টান?
—————————————————————-

আপনি কবে থেকে ব্লগিং করেন? >পাঠক ছিলাম সেই ২০০৯/১০ সাল থেকেই। নিবন্ধিত হয়ে লেখা দিতে শুরু করেছি গত অগাস্ট থেকে। সামু থেকে আলোতে!

আপনি কি মনে করেন প্রথম আলো ব্লগে এসে আপনি অনেক কিছু পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে কি কি পেলেন? >অনেক কিছু পেয়েছি, এজন্যে যে এখানে পারস্পরিক সমমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ বেশি। সম্পর্ক এখানে সাহিত্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য ছিলো এবং থাকবে, কিন্তু ক্ষয়িষ্ণু সমাজে ‘সম্পর্কের’ প্রয়োজন সবচেযে বেশি এখন। আমি পেয়েছি অনেক সুহৃদ বন্ধু। পেয়েছি পাঠকের তাৎক্ষণিক মন্তব্যে আত্মউপলব্ধি। আর কী চাই!

আপনার কি মনে হয় এক ব্লগার আরেক ব্লগারের প্রতি অনেক টান আছে,নাকি এগুলো লোক দেখানো টান? >যা দেখা যায়, তার সবটুকু ঠিক না হলেও ‘লোকদেখানো’ বলা যায় না। ব্লগে আর কতটুকু আন্তরিকতা আশা করা যায়। আমার মনে হয়, অন্যের মনের উত্তম বিষযটি লেখায় থাকে বলে তাদের লেখা নিয়ে আলোচনা করলে ‘একপ্রকার’ আত্মার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তাই, কোন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতার চেয়েও সহব্লগারের ঘনিষ্টতা বেশি।

(২) ডাঃ এনামুল হক এনাম: ক) নাস্তিকতার সংজ্ঞা (আপনার মতে) কি? খ) আস্তিকতার নামে ধর্মানুভুতি নিয়ে ব্যবসা/রাজনীতি কি চোখে দেখেন? গ) পরিবারতন্ত্র কি? উদাহরণসহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেন। ঘ) গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, ধর্মে- সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র আল্লাহতালাহ, গণতন্ত্রে আস্থা রেখে মনুষ্য রচিত সংবিধানে বিশ্বাস স্থাপন করাকে আপনি কি বলবেন? ইসলামী দলগুলোর বাংলাদেশে রাজনীতি কি স্ববিরোধী এবং সাংঘর্ষিক নয়? ঙ) চোর, দূর্নীতিবাজ জেনেও প্রতিবার আমি/আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাচ্ছি, তাই দেশ পরিচালনার ব্যর্থতার ভাগীদার আমরাও, এবং সমান দোষে দোষী।
—————————————————————-

ক) নাস্তিকতার সংজ্ঞা (আপনার মতে) কি? >কঠিন প্রশ্ন। আপনি তো জানেন, ডাক্তার! ঈশ্বরের অস্তিত্বে যার আস্থা নেই। অন্য কোন সংজ্ঞা থাকলে জানাবেন।

খ) আস্তিকতার নামে ধর্মানুভুতি নিয়ে ব্যবসা/রাজনীতি কি চোখে দেখেন? >ওটা সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস করার পদ্ধতি। তবে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ আদায়ে ওটা খুবই প্রয়োজনীয়।

গ) পরিবারতন্ত্র কি? উদাহরণসহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেন। >আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশে উত্তর দেওয়া আছে। উপমহাদেশে এই জিনিষটি ব্রিটিশরা উপুহার হিসাবে দিয়া গেছে। অন্য রকম হতে পারতো, হয় নি।

ঘ) গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, ধর্মে- সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র আল্লাহতালাহ, গণতন্ত্রে আস্থা রেখে মনুষ্য রচিত সংবিধানে বিশ্বাস স্থাপন করাকে আপনি কি বলবেন? ইসলামী দলগুলোর বাংলাদেশে রাজনীতি কি স্ববিরোধী এবং সাংঘর্ষিক নয়? >এবারও প্রশ্নের দ্বিতীয়াংশে আপনি উত্তর দিয়েছেন, এবং আমি সেটাতে একমত পোষণ করি।

ঙ) চোর, দূর্নীতিবাজ জেনেও প্রতিবার আমি/আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাচ্ছি, তাই দেশ পরিচালনার ব্যর্থতার ভাগীদার আমরাও, এবং সমান দোষে দোষী। >একমত। তবে প্রশ্ন হলো দেশের কতভাগ জনগণ ভোট দেয়, এবং যারা দেয় তারা সমাজের কোন শ্রেণীর লোক।

(৩) মাটিরময়না: কবিতা কাহাকে বলে? কবিতার ধরণ দিন দিন পালটে যাচ্ছে। এটা কি ভালো দিক নাকি খারাপ যদি কবিতাকে একটা শিল্প হিসেবে বিবেচনা করেন? আপনার লিখায় সব সময় একটা শিক্ষনীয় কিছু থাকে। এমন লিখার পিছনে কারণ কি? নাকি কলম ছোয়ালেই চলে আসে??আমাদের যা গেছে একেবারেই কি গেছে কিছুই কি নেই বাকী— এটা রবি ঠাকুর বলছে– তয় প্রশ্ন হইলো — আপনি রাজনীতিক প্রেক্ষাপটে এটাকে ব্যাখ্যা করেন– দুই তিন হইলেও চলবে।
—————————————————————-

সবই দেহি বর্ণনামূলক জিজ্ঞাসা। রচনামূলক প্রশ্ন দিলেন এমসিকউ প্রশ্নপত্রে। যা-ই হোক, ছোটভাই বলে কথা…. দেহি কতটুকু পারি…

কবিতা কাহাকে বলে? >গ্রন্থগত সংজ্ঞা: ধারণা বা অনুভূতির বিশেষ প্রকাশকে কবিতা বলে। ‘বিশেষ’ বলতে ছন্দ, রূপক, উপমা, ব্যঙ্গ, ইঙ্গিত, দৃষ্টান্ত, ইত্যাদি হতে পারে। সংক্ষিপ্ততা, সৌন্দর্য্য, অনুভব ও আবেগের গভীরতা কবিতার বৈশিষ্ট। ব্যক্তিগত সংজ্ঞা: যাহা পড়িতে পারি, বুঝিতেও কিছুকটা পারি – কিন্তু পরকাশ করিতে পারি না, তাহাকে কবিতা বলা হয়। আপাতত এপর্যন্তই – কোনদিন পোস্ট দিয়ে বিস্তারিত জানাবোনে!

কবিতার ধরণ দিন দিন পালটে যাচ্ছে। এটা কি ভালো দিক নাকি খারাপ যদি কবিতাকে একটা শিল্প হিসেবে বিবেচনা করেন? >কবিতার ধরণ পাল্টে যাচ্ছে, এটি আমার দৃষ্টিতে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সমাজ সময় ও রাজনৈতিক কারণে সাহিত্যের বিষয় ও বৈশিষ্টে পরিবর্তন হবে। ঠেকাবে কে? কবিতা অবশ্যই শিল্প। কিন্তু শিল্পের চেয়েও বেশি কিছু। কেন বেশিকিছু, সংক্ষিপ্তভাবে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন।

আপনার লিখায় সব সময় একটা শিক্ষনীয় কিছু থাকে। এমন লিখার পিছনে কারণ কি? নাকি কলম ছোয়ালেই চলে আসে? >লেখার বিষয়ে শিক্ষণীয় বিষয় থাকলে সহজেই বুঝা যায় যে, লেখক মহাশয় এখনও শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আছেন। আর কী কমু? লেহা দেহলেই লেহককে বুঝা যায় না, যেমন ফল দেহলে ফলের গাছ?

আমাদের যা গেছে একেবারেই কি গেছে কিছুই কি নেই বাকী– এটা রবি ঠাকুর বলছে– তয় প্রশ্ন হইলো — আপনি রাজনীতিক প্রেক্ষাপটে এটাকে ব্যাখ্যা করেন– দুই তিন হইলেও চলবে। >কিছুই যায় নি। সবই প্রগতির পথে। এদেশের রাজনীতি পৃথিবীর যেকোন দেশের রাজনীতির চেয়ে পুরাতন ও কঠিন, তাই উন্নয়নে দেরি হচ্ছে, বাকি সব উন্নতির পথে। বাংলাদেশকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারে নি। ব্রিটিশ আমলেও উপমহাদেশকে বাঙালিরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। কিছুই যায় নি, যাবেও না। সবই আছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে।

(৪) কামালউদ্দিন: আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার কি মতামত? উন্নত দেশের শিক্ষা আর আমাদের শিক্ষার মধ্যে মুলত পার্থক্য কি কি??

ব্রিটিশ আধিপত্য আমাদেরকে এক শতাব্দি পিছিয়ে দিয়েছে। অনেকেই টের পাই নি। ‘ব্যবস্থা’ নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এখানেই আটকে আছে।

ব্রিটিশ সিস্টেমে ব্রিটিশেরাই নেই, আমরা ধরে রেখেছি। আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্রিয় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ব্যবস্থা থেকে উন্নততর কিছু সৃষ্টি হয় নি। তারা আমাদের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে গেছে।

প্রাচ্যের যেসব দেশে ব্রিটিশ ছিলো না, তাদের সবকিছুই উন্নত। আমরাও টের পেয়েছি দেরিতে। এখন উন্নত হতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের সকল ব্যর্থতার মধ্যেও মরুদ্যানের মতো মনে হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে।

(৫) ঘাসফুল: হুইটম্যান কেন তাঁর কবিতায় রূপক হিসাবে ঘাস কে বেছে নিলেন?
—————————————————————-

সবুজ ঘাস একদিকে কবির আশাবাদী চেতনার প্রতীক, অন্যদিকে পায়ের তলার এ ঘাস সমাজের বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি। কবি ছিলেন নিগৃহীত কৃষ্ণাঙ্গ আর ক্রীতদাস প্রথার বিপক্ষে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এই বারবার গজিয়ে ওঠা ঘাস হলো অমরত্ব আর পুনর্জনমের প্রতীক।

(৬) মোহাম্মদ আব্দুলহাক: ভাইজানরে আইজ বাগে পাইছি, আইচ্ছা, বেবাকে যে স্বাধীনতা আর হরতাল বলে গলা ফাটিয়ে চিল্লায়, হরতাল আর স্বাধীনতা কি এক ঘরে বসবাস করতে পারে? আমি কিন্তু মহাচিন্তায় আছি (চিন্তার ইমোটিকোন)
—————————————————————-

আমারেও আপনি মহাচিন্তায় চুপা দিলেন, ভাইজান!
কী কমু, বুঝবার পারতাছি না। তয় দেশের স্বাধীনতার সাথে হরতালের বেশি বিবাদ নেই, যতটুকু আছে ব্যক্তিস্বাধীনতার সাথে। জানি না কী কইতে কী কইলাম। ভুলচুক মাফ করুক্কা!

(৭) অনিন্দ্য অন্তর অপু: আপনি ব্লগিং করেন কেন? ব্লগার হিসেবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করুণ? একজন ব্লগার কিভাবে সামাজিক উন্নয়নে সাহায্য করে বলে আপনি মনে করেন?

ব্লগিং করি জোগিং-এর জন্যই। জোগিং করে যেমন শরীরটাকে ফিট রাখা যায়, ব্লগিং করলে আত্মাটাকে ফিট রাখা যায়। আত্মার স্বভাব হলো প্রকাশিত হওয়া আর আত্মীয়তা বাড়ানো। আমি ব্লগিং করি প্রথমতো নিজের জন্য। উদ্যেশ্য আত্মোপলব্ধি ও সংশোধন। প্রথাগত কোন লেখক হবার জন্য নয়। তবে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য অনেক বিস্তারিত, সেটা আলাদা পোস্টে বলার চেষ্টা করেছি।

যে যতো বেশি এ্ক্সেপোজার পায়, সামাজিক দায় ততটুকুই বেড়ে যায়। আমি মনে করি। ব্লগাররা নিজেদের চিন্তা ও দর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সামাজিক অবিচার দূর করবেন। কালোকে সাহসের সাথে ‘কালো’ বলবেন, ভালোকে ‘ভালো’।
অন্তত বাংলাদেশের ব্লগারদের নিকট থেকে এতোটুকু চাওয়াই যায়। কোন দেশের ব্লগাররা এতোটুকু একাত্ম হতে পারে নি, যা বাংলাদেশে হয়েছে।

(৮) বালুচর: রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য যোগ্য আর নিরপেক্ষ লোক বলতে কী বুঝায়। বাংলাদেশে এ ধরনের কোন লোক কী আদৌ পাওয়া যাবে নাকি না পাওয়ারই কথা । আপনার মূল্যবান মতামত দিন।
—————————————————————-

আমার যতটুকু মনে পড়ে, বালুচর ভাই একজন আইনজীবি। আপনার প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর দিয়েছেন, এবং আমারও একই মত। আমাদের দেশের রাজনীতি সত্যিই রাজার নীতি, ওটা শুধুই রাজা বানানোর জন্য – রাজাকে কাজ করানোর জন্য নয়। গণতন্ত্র এখানে পাঁচবছরে একবার আসে, নির্বাচনের সময়। এরপর উদাও। রাজনীতিতে সত্যিই ‘নীতি’ থাকলে, তবে ‘নিরপেক্ষ’ শব্দাবলী নিয়ে চিল্লাচিল্লি করতো না কেউ।

নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, অবাধ, স্বাধীন – আমাদের নেতৃবৃন্দের মুখে এসব শুনলে ওগুলোর উল্টো অর্থই কানে বাজে।

(৯) রব্বানী চৌধুরী: “প্রথম প্রেমের এই রীতি হায়, নিজে কাঁদে আর প্রিয়েরে কাঁদায়!” ব্যাখ্যা দিন, প্রথম প্রেমের কোন স্মুতি কী আপনাকে কাঁদায় !
—————————————————————-

রীতিটা একটু সংস্কার করতে হবে:

প্রিয়ে কাঁদোক আর নাই কাঁদোক
নিজে কেঁদে সারা!
প্রেমের এই রীতি ভাই
পুরাই লক্ষ্ণী ছাড়া!

(১০) ফেরদৌসী বেগম শিল্পী: এই হট সিটের উদ্দেশ্য কি? হট সিটে বসতে কেমন লাগে? কেনইবা বসানো হয়? আর কাদেরকে এই হট সিটে বসানো হয়? তয় আপনি কি ভয় পান ভাই এই হট সিটটাকে? আর এই হট সিট থেকে বেঁচে থাকার উপায়টা কি বলতে পারেন?
—————————————————————-

এই হট সিটের উদ্দেশ্য কি? এবিষয়ে ওপরে লেখা আছে। হটসিটে বসিয়ে সহব্লগারকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়….হাহাহা। ভয় পাইয়েন আপা, আমরা তো আছি!

হট সিটে বসতে কেমন লাগে? প্রশ্নের মুখোমুখী হওয়া কখনও সুখদায়ক নয়, তবে এখানে তা সুখদায়ক।

কেনইবা বসানো হয়? আর কাদেরকে এই হট সিটে বসানো হয়? হটসিটকে আমি একটি আদর্শ আড্ডাস্থল বলতে পারি। সমাজ রাজনীতি দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবন আলোচনার করার অফিশিয়ার সুযোগ! নিজেকে হটসিট থেকে বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ নেই। আলো ব্লগে ওটা অবধারিত।

তয় আপনি কি ভয় পান ভাই এই হট সিটটাকে? কী প্রশ্ন কতটুকু পারবো, ইত্যাদি নিয়ে ভয় তো পেয়েছিই – অজানাকে কার না ভয়?

আর এই হট সিট থেকে বেঁচে থাকার উপায়টা কি বলতে পারেন? আলো ব্লগে পোস্ট বা মন্তব্য না দিলে হটসিট থেকে রক্ষা পেতে পারেন। কিন্তু ‘উহা অতীব গর্হীত কর্ম হইবে!’

(১১) আবারও কামাল উদ্দিন: বাংলা ব্লগ এর মধ্যে এই প্রথম আলো ব্লগকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
—————————————————————-

প্রথম আলো ব্লগ বাংলা ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ, যাতে জড়িয়ে আছে একটি জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক। এদিক দিয়ে এর গুরুত্ব সর্বাধিক এবং এর গ্রহনযোগ্যতা বেড়েই চলেছে দিনকে দিন। তবে ব্লগসাইট হিসেবে একে আরও এগিয়ে আসতে হবে। একে ‘কাস্টমার-সাপ্লাইয়ার’ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ব্লগারদেরকে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। একসময় অন্যান্য ব্লগের মতো এখানেও ছিলো নগ্ন স্বজনপ্রীতি ও অবাধ পক্ষপাতিত্ব। এখন কম দেখা যায়। ব্যানার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ – পাঠক সম্পৃক্ততা বৃ্দ্ধি পায়। তাছাড়া না-বলা কিছু বিষয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে আলো ব্লগ। এসব দিক দিয়ে আলো ব্লগকে বেশ সংগঠিত মনে হয়।
একটি ব্লগকে আরও সংগঠিত করার জন্য অনেক কিছুই করার আছে। যেমন:
> একটি নিয়ম করে, নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরে নির্বাচিত কলামগুলো হালনাগাদ করা
> কোন পোস্টকে স্টিকি করার শর্তাবলী নির্ধারণ করা এবং ব্লগারদেরকে জানিয়ে দেওয়া
> খেয়ালখুশিমতো কোন পোস্টকে স্টিকি বা নির্বাচিত না করে, একটি নিয়ম অনুসরণ করা
> পূর্বে-অবহিত বিধি মোতাবেক একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পোস্ট প্রকাশ করা
> ব্যক্তি নয় ‘লেখা বা পোস্টের মেরিট’ বিবেচনা করে সেটির প্রতি আচরণ করা
>এমন হয়েছে যে, লেখা পোস্ট করলাম ২/৩ঘণ্টা হয়ে গেলো। হঠাৎ করে প্রকাশিত হয়ে মাত্র ৫মিনিটের ব্যবধানে তা প্রথম পৃষ্ঠা থেকে উধাও! প্রতিটি পোস্টের সাথে জড়িয়ে আছে একটি মানুষের আত্মা – সঞ্চালনার ব্যাপারটিকে আরও গুরুত্বের সাথে দেখা।
> অন্যান্য ব্লগসাইট ও প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান চালিয়ে আলো ব্লগের জন্য ‘একটি স্ট্যানডার্ড ইন্টারফেইস ডিভেলপ’ করা ইত্যাদি ইত্যাদি….

(১২) উননুর: আপনার নিকট আমার প্রশ্ন আমাদের প্রিয় স্বদেশের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করেন। আমাদের দেশে গণতন্ত্র পূর্ণ ধারায় বিকশিত হয়েছে কি? না হয়ে থাকলে কি কি অন্তরায়ের কারণে তা হচ্ছেনা। কিছুটা আলোচনামুলক উত্তর পাবো আশা করি।
—————————————————————-

সবাই বলছে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বহীনতার কারণেই দেশের গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে না। আমি বলি, অরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কি কোন দায় নেই? আমাদের প্রত্যেকেরই দায় আছে দেশের শাসনব্যবস্থাকে সুসংহত করার ও রাখার। কিন্তু ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েই আমরা তাদের হাতে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে হাতপা গুটিয়ে রাখি। ১৬ কোটি মানুষের একটি দেশ কীভাবে শাসন করতে হয়, তা বোধ করি বারাক ওবামাও বলতে পারবেন না। আমি বলতে, চাই, দেশের সুশীল সমাজের কথা, বুদ্ধিজীবিদের কথা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা। আমরা সকলে দায় না নিলে এদেশে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে না।

তাই অন্তরায় শুধু রাজনীতিবিদদের নয় অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও আজ অন্তরায়। একটি দেশের জনগণ তাদের যোগ্যতামতোই রাষ্ট্রনায়ক পায়। একথা আমার নয়।

তবে আশার কথা হলো, ঊনসত্তর আর নব্বইয়ের পর, দীর্ঘকাল হাইবারনেশনে থাকা তরুণ প্রজন্ম আবার জেগেছে। এখন কয়েক বছর এটি চলবে। আশা করছি রাজনীতির মাঠ খারাপ থেকে নিকৃষ্ট হচ্ছে একটি আলোর সকাল দেখার জন্য। আশায় বুক বেঁধে থাকা ছাড়া হতভাগা জাতির আর কীই করার আছে বলুন, উননুর ভাই?

(১৩) আবারও উননুর: জনাব মইনুল ভাই আপনার উত্তরে কথিত “১৬ কোটি মানুষের স্বদেশ” এর আলোকে সীমিত অবকাশে আবারএকটু প্রশ্ন করতে চাই। ধরুন প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে আপনি দেশের একজন নীতি নির্ধারকের ভূমিকায় সুযোগ
পেলেন। অথবা না পেলেও ক্ষতি নেই, একজন শিক্ষিত সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার নিকট প্রশ্ন।১৬ কোটি
মানুষের আমাদের ছোট স্বদেশের (বর্তমান সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভু প্রাকৃতিক,ভূমিহীনতা, বন্যা,
খরা, নিম্ন উত্পাদনশীলতা এর প্রেক্ষিতে) উন্নতি (অন্তত: ইন্দোনেশিয়া সমপর্যায়ের) করতে হলে কি কি পদক্ষেপ
নিবেন। অর্থাত আপনার ভিশন কি হবে? Key Point গুলো বললেই হবে। ভুল জায়গায় পোসট হোয়ায় আবার এখানে পোসট করলাম।
—————————————————————-

কেন এত্তো বড় প্রশ্নগুলো এই অধমেরে করলেন – সম্মানীত বোধ করছি!

উননুর ভাই, দেশের মানুষ কাজ চিনেছে, নিজেকেও চিনেছে। তাদের অধিকাংশ কাজ পেয়েছেও – স্বদেশে বা বিদেশে। দেশের অধিকাংশ মানুষ কাজ করেই খেতে চায়, মুনাফেকি বা দলবাজি করে নয়। দেশের কর্তৃপক্ষকে একটি জিনিস নিশ্চিত করতে হবে শুধু। তা হলো, তারা যেন বাধামুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে এবং তারা যেন তাদের কাজের মূল্যায়ন পায়। আমার মনে হয়, সরকারের প্রতি জনগণের এটি ন্যূনতম চাওয়া। গণতন্ত্র বলেন আর মানবাধিকার, সবই এখানে নিহিত।

অথচ দুর্নীতি জনগণের ওই চাওয়াকে প্রথমেই প্রত্যাখ্যান করে দেয়। তারপর আসছে, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, এনার্জি সাপ্লাই এবং সরকারের সেবা সংস্থাসমূহ। আপনি দেখুন, ব্যাংক বিমান রেলওয়ে টেলিযোগাযোগ – যেটাই সরকারের হাতে সেটারই বারোটা বেজেছে। রাস্তা দিয়ে নিরাপদে হাঁটবো বা গাড়ি চালিয়ে দেশের অন্যত্র যাবো, এর জন্যও যদি সংগ্রাম করতে হয়, তবে দেশের মানুষ নিজের কাজ কখন করবে? দেশের শাসনব্যবস্থার ক্যান্সার হয়ে দাঁড়িয়ে দুর্নীতি। রাজনেতিক অস্থিরতা হলো দুর্নীতির জমজ ভ্রাতা। তাই একটি খতম হলে আরেকটি এমনিতেই কার্যকারীতা হারাবে।

ঝড় বন্যা জলোচ্ছ্বাসের এদেশে, মরার ওপর খরা ঘা হিসেবে এসেছে পরিবেশ বিপর্যয়। ফসলি জমি যাচ্ছে শিল্পপতি আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর হাতে। তবু মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে অকৃষি-ভিত্তিক শিল্পের দিকে। এতো বাধার মধ্যেও পোশাকশিল্প, মৎস ও পোল্ট্রি শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। ওঠোনে সবজি, ধান না হলে জমিতে ফুল বা কুলের ইত্যাদি উপায় অবলম্বন করে বছরব্যাপী দেশি ফল ও ফুলের অর্থনৈতিক উৎপাদন হচ্ছে। পৃথিবীর মানুষ অবাক তাকিয়ে কয়, এতো দুর্যোগের মধ্যেও এদেশের মানুষ হাসে কীভাবে! খায় কী? কিন্তু দেশের মানুস অলৌকিকভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধার বিরুদ্ধে। এটি কোন বিশেষ ব্যক্তির পুরস্কার-বিজয়ী উদ্যোগে নয়, স্বাভাবিক এবং প্রকৃতির নিয়মেই মানুষ আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমি নিজের চোখেই কয়েকটি প্রজন্মকে দেখেছি, যারা একটি বয়সে মিটিং মিছিল নেশা ও দলবাজি করে কাটিয়ে অবশেষে ইটখোলায় কাজ বা শহরের কোনে পানের দোকান দিতে। আপনাকে শুভেচ্ছা

(১৪) তৌফিক মাসুদ: ব্লগে আপনার লেখাগুলো পড়ে মনে হয় আপনি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে থাকেন। এই সময় রাজনীতির মাঠে নিদৃষ্ট দলের প্রতি মনযোগ দেয়া বা সাথে থাকার পড়য়োজন কতটুকু?
—————————————————————-

জটিল আলাপ তুলেছেন, প্রিয় তৌফিক মাসুদ। ওপরে তাকালে দেখতে পাবেন কামাল ভাই এবং উননুর ভাইকে কী উত্তর দিয়েছি।
আমি কোন্ পন্থী সেটা চিল্লাচিল্লি করে প্রতিষ্ঠিত করার দরকার নেই, আচরণেই তা বের হয়ে যাবে। বড় দু’দলের উভয়েই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ, অথবা আমরা তাদেরকে সফল হতে দিই নি। যোদ্ধাপরাধের মতো একটি জাতীয় দায়কে পূরণ করতে উভয়পক্ষই তালবাহানা করছে: এক দল বলছে “বিচার চাই, কিন্তু……” আর অন্য দলটি “বিচার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ” বলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টাই করছে শুধু।

এদের কাউকেই সমর্থন না দেওয়ার মানে কি ‘মধ্যমপন্থা’? তবে সেটিই উত্তমপন্থা আপাতত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে অবৈধ ও জনপ্রতিনিধিত্বহীন রাজনীতি করছে, দেশের মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করছে, তখন আর পন্থা অবলম্বন করার সুযোগ নেই। আমি একজন স্বদেশপন্থী! স্বাধীনতা-বিরোধীকে প্রতিহত করো, এবং যারা দেশের স্বাধীনতাই চায় নি তাদের প্রতিপক্ষে জনমত তৈরি করো – এ হোক স্লোগান।

(১৫) জমির হায়দার বাবলা: আজ যখন প্রিয় মানুষটিকে একেবারে কাছে পেলাম- একেবারে চুপ করে থাকবো মেনে নিতে পারছিনা। আধুনিক সাহিত্যে অনেক ক্ষেত্রে মানুষে সুক্ষ অনুভূতিগুলো প্রকাশ পেয়েছে। এ সমস্যাগুলো প্রায় Psychological বলা যায়। নীরব সংবেদনাগুলো প্রতীক/রূপক/বিদ্রুপ/ফ্যাস্টাসী আকারে অনেকে প্রকাশ করেছেন।

উত্তারাধুনিক সাহিত্যে disintegration of language এর মাধ্যমে মানুষে জীবনকে meaningless বলা হচ্ছে। বিমূর্ত সাহিত্যিক Samuel Beckett প্রায় প্রমান করেই ছাড়লেন আমাদের অর্থহীন জীবনে কিছুই করার নেই, জানার নেই কারণ আমরা নিজেই জানিনা কী করব, কোথায় করব কিংবা কখন করব। সেখানে ভাষা কাজ করে না । যার কারনে সাহিত্যে ব্যবহৃত ইমেজগুলো বার বার ভেঙ্বে যায়। অনেক সময় কিছুই প্রকাশ করে না।
T S Eliot তাঁর বিখ্যাত The Waste Land কবিতায় লিখেছেন:
“A heap of broken images, where the sun beats,
And the dead tree gives no shelter, the cricket no relief,
আধুনিক এবং উত্তারাধুনিক সাহিত্যের মধ্যে কোনটিতে আমাদের জীবনের প্রতিফলন প্রবল
বলে আপনি মনে করেন ? এবং কেন?
————————————————————————

মডার্ন-এর চেয়ে পোস্ট-মডার্ন এমনিতেই তো সমসাময়িকতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্বাভাবিকভাবে যেমন সর্বশেষ খবর অধিকতর সঠিক হয়, তেমনি পোস্টমডার্ন/ উত্তর আধুনিক সময়ের সাহিত্যে আমাদের জীবনের প্রতিফলন বেশি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে বিদ্যমান উত্তর-আধুনিক সাহিত্য মূলত enlightenment ও modernism এর প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। ভার্জিনিয়া উল্ফ ও জেমস রইস এর পরবর্তি সময়টাকে উত্তর-আধুনিক যুগ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে। আপনি যে টি এস ইলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড-এর কথা বললেন, সেটিও এ দু’যুগের মধ্যে একটি যাচাইকারী সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূলত উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের ব্যাপ্তি হয়েছে ৬০ ও ৭০ এর দশকে।

উত্তর-আধুনিক সময়ের সাহিত্য কেন আমাদের জীবনকে বেশি প্রতিবিম্বিত করছে, তা এখানে বলে শেষ করা যাবে না। তবে এসময়ের সাহিত্য স্বাভাবিকভাবেই বিমূর্ত নীতিকথা থেকে বাস্তবিক অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্বারোপ করে, যদিও তা ত্রুতিপূর্ণ তবু সেটা অধিক সত্য।

আধুনিক সাহিত্য যেখানে বৈজ্ঞানিক দার্শনিক বা ধর্মীয় নীতিমালা দিয়ে প্রায় সবকিছুকেই বিশ্লেষণ করতো, উত্তর-আধুনিকের ‘উত্তর’ সেখানে সবকিছুকেই ‘অতীত’ করে দিয়েছে। চূড়ান্ত সত্য বলতে কিছু নেই – সবকিছুই যাচাইযোগ্য। জন বার্থ (The Sot-Weed Factor, 1960), জোসেফ হেলার (Catch-22, 1961), জন হকস (The Cannibal, 1949) নামগুলো এমূহুর্তে উল্লেখ করতে পারি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s